অঙ্গার



ব্যস্ত ডাক্তারের কৌতুকটা শুনেছেন তো?
এক ডাক্তার খুবই ব্যস্ত থাকেন, মানে ব্যস্ততার ভান করেন আরকি! রোগি আসলে কোন কিছু ভালোমতো না শুনেই ডাইরেক্ট একশনে নেমে যান। ধরো তক্তা মারো পেরেক টাইপ অবস্থা।
.
তো আমাদের এই ব্যস্ত ডাক্তারের চেম্বারে এক দুপুরে এক ছেলেকে নিয়ে আসলো তার বাবা। ছেলে একটু দুরন্ত প্রকৃতির। এই ভরদুপুরে মন্ডলদের পুকুরপাড়ের কাঁচামিঠে আমের গাছে উঠেছিল আম পাড়তে। ডাল ভেঙ্গে নিচে পড়ে ছেলে হাত ভেঙ্গে ফেলেছে। হেড়ে গলায় চিৎকার করে যাচ্ছে … ‘ও বাবারে! ও মারে !
.
ব্যস্ত ডাক্তার তৎক্ষণাৎ ছেলেটার হাত প্লাস্টার করা শুরু করল। প্লাস্টার যখন প্রায় শেষ তখন ছেলের বাবা আবিষ্কার করলেন ছেলের বাম হাত ভেঙ্গেছে আর ডাক্তার সাহেব প্লাস্টার করে দিয়েছেন ডান হাত! ব্যস্ত ডাক্তারকে বলতেই তিনি খেঁকিয়ে উঠলেন, ‘আমার চেয়ে তুমি বেশি ডাক্তারি জানো’! এসিস্ট্যান্টও যখন কাঁচুমাচু হয়ে বলল, ‘স্যার! আপনি মনে হয় ভুল হাতে প্লাস্টার করে ফেলেছেন’ তখন ডাক্তার সাহেবের টনটনে আত্মবিশ্বাসে কিছুটা চিড় ধরলো। পরীক্ষা করে বুঝলেন উনিই ভুল করেছেন। কিন্তু ডান হাতের প্লাস্টার খুলে বাম হাতে প্লাস্টার করার সময় কোথায় ‘ব্যস্ত ডাক্তারের’ ? তাই চটপট বাম হাতেও প্লাস্টার করে ফেলে বিদায় করে দিলেন। ভেঙ্গেছে বাম হাত,ব্যস্ততার কারণে(!) প্লাস্টার করে ফেললেন দুই হাত !!
.
ধর্ষণ কেন হয়? কেন এদেশে ধর্ষণের প্রকোপ বেড়ে চলেছে?
.
এই প্রশ্নটাকে আমাদের দেশে দুইভাবে ডিল করা হয়। এবং দুইটাই প্রান্তিকতা। কোথাও ধর্ষণের খবর শুনলেই একদল নারীদের পোশাক দায়ী করে বসেন। আবার অন্যদিকে আরেকদল দোষ খুঁজে পান পুরুষের মানসিকতা- আমার দেহ আমি দেখাব! তুমি রেপ করবা কেন?
ধর্ষণের পেছনের কারণগুলো সময় নিয়ে ভালোমতো বিশ্লেষণ করে কোন মতামত দেওয়ার মানসিকতা অনুপস্থিত আমাদের মাঝে। আসলে এতো সময় কোথায়? ব্যস্ত ডাক্তারের মতো তেমনকিছু না ভেবেই আমরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে বসি। উপসংহার টেনে ফেলি।
.
ধর্ষণের জন্যে শুধু নারীর পোশাককে দায়ী করে বসলে ইসলাম বিদ্বেষীদের কোর্টে বল ঠেলে দেওয়া হয়। তারা তখন বাটি চালান দিয়ে হিজাবপরা বা মাদ্রাসার ছাত্রী এমন কোন বোনের নির্যাতনের খবর সামনে নিয়ে আসবে। তারপর দাঁত কেলিয়ে জিজ্ঞাসা করবে, ‘কই কাঠ মোল্লারা! তোমাদের হিজাব/নিকাব কি পারলো নারীর নিরাপত্তা দিতে? ওইসব সব পুরান আমলের রূপকথা! পর্দা নারীকে নিরাপত্তা দিতে পারেনা, এইটা নারীকে চার দেয়ালের মাঝে বন্দী করে রাখার হাতিয়ার। তাছাড়া এটা তো ইসলামের অংশও না! আরবের ‘লু’ হাওয়া থেকে বাঁচার জন্য আরবের নারীরা মাথায় কাপড় দিত!
.
অন্যদল পুরুষের মানসিকতাকে দায়ী করে ফেসবুক,ব্লগ কাঁপিয়ে, Don’t teach me how to dress, teach your son not to rape টাইপ প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিটিং মিছিল করে ক্ষ্যামা দেন। এরা ভুলেও কখনো দেশ এবং জাতির সামনে পরিষ্কার করে বলেন না পুরুষের মানসিকতা কেন বদলে যায়? কেন একজন পুরুষ ধর্ষকে পরিণত হয়? তার ঘরেও তো মা বোন আছে? পুরুষের মানসিকতা কীভাবে পরিবর্তন করতে হবে? কোন তরীকায় আমল করতে হবে? তাদের বলে দেওয়া তরীকা ফলো করে কোন কোন দেশ বা কোন কোন জাতি পুরুষদের মানসিকতা পরিবর্তন করেছে? নারীদের নিরাপত্তা দিতে পেরেছে? তারা উদাহরণ দিক। আমরা সেই সব জাতিদের দেখে অনুপ্রেরণা পাব। কিন্তু আপনি কখনোই দেখতে পাবেননা তারা কনক্রিট, পরীক্ষিত কোন প্ল্যান অফ একশ্যান জাতির সামনে উপস্থাপন করছে।
.
তাহলে ধর্ষণের সমাধান কী?
এককথায় উত্তর – শরীয়াহ।
আল্লাহর জমীনে আল্লাহ্‌র আইন প্রতিষ্ঠিত করা।
.
‘হে মানুষ, তোমাদের কাছে তোমাদের মালিকের পক্ষ থেকে নসীহত এসেছে। এটা মানুষের অন্তরে যেসব ব্যাধি আছে তার নিরাময় এবং মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত’। (সূরা- ইউনূস: ৫৭)
.
আল্লাহ্‌ (সুবঃ) আমাদের সৃষ্টি করেছেন। আমাদের মনোজগত,আমাদের সাইকোলজি আল্লাহ্‌র চেয়ে আর কে বেশি বুঝবে? তিনিই আমাদের পথ বলে দিয়েছেন সেই পথে পথচলাতেই আমাদের মুক্তি। শরীয়াহ আইন যেমন নিশ্চিত করবে নারীরা এমন পোশাক পরিধান করছে, যেন স্বসস্মানে সবাই পথ ছেড়ে দেয়,নারীকে দেয় রাণীর সম্মান। ঠিম তেমনিই খুঁজে খুঁজে বের করবে কেন পুরুষ পরিণত হয় ধর্ষকে। সমাজের অতি যৌনায়ান, আইটেম সং,পর্নোগ্রাফি , ড্রাগস, নারী পুরুষের ফ্রি মিক্সিং, সুন্দরী প্রতিযোগিতা, নাটক,সিনেমা,গানের মাধ্যমে তরুণ,তরুণীদের ব্রেইনওয়াশ,স্বেচ্ছাচারিতা,ধরাকে সরা জ্ঞান করা, পেশিশক্তির দাপট,মাফিয়াগিরি সব বন্ধ করবে। আপনি শরীয়াহর এক অংশ নিবেন আর যেটা আপনার পছন্দ হবেনা সেটা বাদ দিবেন তাহলে হবেনা।
.
“তবে কি তোমরা কিতাবের এক অংশের উপর ঈমান আনবে আর বাকী অংশকে অস্বীকার করবে? তোমাদের মধ্যে যারাই এরূপ করবে তাদের জন্য এ ছাড়া আর কি শাস্তি হতে পারে যে, দুনিয়ার জীবনে অপমান ও লাঞ্ছনা ভোগ করবে এবং আখিরাতে তাদেরকে কঠিন আযাবের দিকে ঘুরিয়ে দেয়া হবে। আর তোমরা যা কিছু করছো সে বিষয়ে আল্লাহ বেখবর নন।” (সূরা বাকারা: ৮৫)
.
আপনি পুরো শরীহায় বাস্তবায়ন করে দেখুন। নারীরা ঢেকে যাবে অলৌকিক এক নিরাপত্তার চাদরে।
প্রমাণ ?
একটু কষ্ট করে সাহাবী এবং তাবেঈগনদের যামানার ইতিহাস ঘেঁটে দেখুন
.
ফেসবুক পেইজঃ www.facebook.com/lostmodesty
#শুভ্রতার_ব্যাকরণ
#মুক্ত_বাতাসের_খোঁজে

source

Leave a Reply