আল্লাহর কিতাব আকড়ে ধরুন



উত্তরে সুবিশাল রোমান সাম্রাজ্য, দক্ষিণে পারসিয়ানদের বনেদি রাজ্য। মাঝখানের রুক্ষ ধূ ধূ অনুরবর প্রান্তর। মরুভূমি। কঠোর,কর্কশ এর বাসিন্দারা। আরব।
সিরিয়া, ইয়েমেনসহ নিজেদের অধিকাংশ ভূমির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছ রোমান আর পারসিয়ানদের কাছে। আরবদের নীচু চোখে দেখত রোমান আর পারসিয়ানরা। বিজিত জাতি চিরকাল যেভাবে দেখে পরাজিতদের। বর্বর, যাযাবর, দুর্গন্ধযুক্ত ।
.
এই সময় আরবের সবচেয়ে বনেদি পরিবারে জন্ম নিলেন মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ﷺ। মক্কার আরবদের আশা আকাঙ্ক্ষার উৎস। পরম ভরসার জায়গা। আল আমিন। আস সাদিক। আমানতদার, সত্যবাদী। হাজারে আসওয়াদ পাথর স্থাপনের সম্মান অর্জন করবে কোন গোত্র? এই নিয়ে মক্কায় যখন যুদ্ধ বাঁধার উপক্রম, তখন তাঁকেই ﷺ দায়িত্ব দেওয়া হয় এই জটিল সমস্যার সমাধানের। তাঁর ﷺ দেওয়া সিদ্ধান্ত কোন প্রশ্ন ছাড়াই মেনে নিল সবাই।
.
মুহাম্মাদের ﷺ সামনে সুযোগ ছিল আরবের অবিসংবাদিত নেতা হবার। নিজেদের মধ্যে মারামারি,কাটাকাটিতে লিপ্ত আরবের গোত্রগুলোকে আরব জাতীয়তাবাদের পতাকাতলে এক করার। তারপরের কাজ তো সংক্ষিপ্ত; উত্তরের রোমানদের কচুকাটা করা আর দক্ষিণের পারসিয়ানদের আরব ভূমি থেকে খেদিয়ে দেওয়া।
আরব ভূমিকে রোমান আর পারসিয়ানমুক্ত করার পর, রাষ্ট্র ক্ষমতা পাওয়ার পর আল্লাহ্র শরীয়াহ কায়েম করা।
কিন্তু তিনি সেটা করেননি। মক্কার কুরাইশদের অত্যাচার, নির্যাতন সহ্য করে গেছেন বছরের পর বছর।
.
মক্কাতে ছিল তীব্র মাত্রার শ্রেণী বৈষম্য। সমাজের গুটিকয়েক লোকের হাতে সমস্ত ধন সম্পদ কুক্ষিগত ছিল। বাকিরা ছিল দারিদ্র্যতার কশাঘাতে জর্জরিত। মুহাম্মাদ ﷺ হতে পারতেন ধন সম্পদের বড় ‘খেলাড়ি’। ধনীদের থেকে ধনসম্পদ ছিনিয়ে নিয়ে বিলি করে দিতে পারতেন গরীবদের মাঝে। অনেকটা রবিন হুড স্টাইল। শ্রেণী বৈষম্যের বিরুদ্ধে শুরু করতে পারতেন তীব্র আন্দোলন। খুব অল্প সময়েই তিনি সমাজের অধিকাংশ মানুষদের নায়কে পরিণত হতে পারতেন। তারপর সবাইকে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে কায়েম করতে পারতেন শরীয়াহ।
কিন্তু তিনি সেটা করেননি। মক্কার কুরাইশদের অত্যাচার, নির্যাতন সহ্য করে গেছেন বছরের পর বছর।
.
অশ্লীলতা আর বেহায়াপনায় ডুবে ছিল মক্কা। নারীদের কোন সম্মান ছিলনা। কন্যা সন্তান হলে মানুষ লজ্জায় মুখ দেখাতে পারতোনা, উপহাসের শিকার হত। জীবন্ত পুঁতে ফেলা হতো কন্যাশিশুদের। মদ, জুয়া, ব্যভিচার তাদের কাছে ছিল অতি সাধারণ ঘটনা।
.
মুহাম্মাদ ﷺ মক্কাতে নারীদের অধিকার আদায়ের জন্যে আন্দোলন করতে পারতেন। সভা সমাবেশ আর মিছিলের মাধ্যমে মদ,জুয়া,ব্যভিচার সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করতে পারতেন। তারপর সমাজে মোটামুটি শেকড় গাড়ার পর ইসলামের দাওয়াত দিতে পারতেন সবাইকে। প্রতিষ্ঠা করতে পারতেন শরীয়াহ।
কিন্তু তিনি ﷺ সেটা করেননি। মক্কার কুরাইশদের অত্যাচার, নির্যাতন সহ্য করে গেছেন বছরের পর বছর। তায়েফে রক্ত ঝরিয়েছেন। অর্থনৈতিক, সামাজিক অবরোধের শিকার হয়েছেন। নিজ শহর ছেড়ে পাড়ি জমাতে হয়েছে মদীনায় ।
.
এর পর পাশার দান বদলে গেছে খুব দ্রুত। অতি অল্প সময়ের ব্যবধানে মুহাম্মাদ ﷺ আর তাঁর অনুসারীরা বদলে দিয়েছেন আরবের ল্যান্ডস্কেপ; ভুল বললাম, সমগ্র পৃথিবীর ল্যান্ডস্কেপ। মক্কার কুরাইশরা পরাজিত হয়েছে, রোমানদের আভিজাত্য আর অহংকে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে, কিসরার মুকুট শোভা পেয়েছে বেদুইন সুরাকাহ’র মাথায়। পৃথিবী শিখেছে ন্যায়-অন্যায়,ইনসাফ,মানবাধিকারের মৌলিক সংজ্ঞা।
.
কি ছিল মুহাম্মাদ ﷺ এর ম্যানুয়াল? কীভাবে মুসলিমরা এই অশান্ত, তৃষ্ণার্ত পৃথিবীতে এনেছিল শান্তির অঝোর বৃষ্টি? কেন মুসলিমদের পতন হল? কীভাবেই বা তাঁদের উত্থান সম্ভব? ফিতনা ফ্যাসাদের এই যুগে মুসলিম জাতির কম্পাস কি হওয়া উচিত ?
.
#KnowYourDeen

source

Leave a Reply