আল্লাহর নৈকট্য অর্জন



কিভাবে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা যায়? মোটামুটি আমরা অনেকেই এ প্রশ্নের উত্তর খুজি। এটা স্বাভাবিক। একেবারে পাপী মুসলিমের মনেও ইচ্ছা থাকে আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হবার। আমরা নানা জায়গায় এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজি। কেউ পীরের কাছে ছোটে, কেউ উস্তাদের কাছে যায়, কেউ সেলিব্রিটি দা’ঈদের কাছে সলিউশান চায়, কেউ লাইফস্টাইল কোচ খোঁজে। নানা বইয়ের মধ্যে উত্তর খুঁজে বেড়ান।
.
ইসলামের অজস্র সৌন্দর্যের মধ্যে একটি হল, ও দ্বীন সরল ও সম্পূর্ণ। এখানে কোন গোপন রহস্য নেই, মিস্টিসিযম নেই। যা কিছু আমাদের জানা দরকার, তার সবই সহজ সরল ইন্সট্রাকশান সহ আমাদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে। কোন গোপন কোর্স, বই কিংবা কারিকুলাম নেই। যা কিছু জানা প্রয়োজন আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন। আর সাহাবীগণ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া আজমাইন, ইন্সট্রাকশান কিভাবে ফলো করতে হবে সেটাও আমাদের উদাহরন সহ দেখিয়ে গেছেন। কিন্তু সহজ কথা সহজে বুঝতে কেন জানি আমাদের ভালো লাগে না।
.
একথা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের ক্ষেত্রেও সত্য। কিভাবে তাঁর নৈকট্য পাওয়া যায়, সেটা আল্লাহ আমাদের বলে দিয়েছেন। স্পষ্টভাবে। খুব সিম্পল ইন্সট্রাকশান দিয়ে। কঠিন কিছু না। অনেক কষ্টের, অনেক পরিশ্রমের কোন কাজ না। শুধু প্রয়োজন স্বদিচ্ছা, আন্তরিকতা, ধারাবাহিকতা এবং সামঞ্জস্য।
.
অর্থাৎ আসলেই আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের ইচ্ছা থাকতে হবে, শুধু মুখে বললে হবে না। আন্তরিক ভাবে চেষ্টা করতে হবে, অজুহাত দেয়া যাবে না। ধারাবাহিক ভাবে কাজ করতে হবে। একদিন বা এক মাস অনেক করলাম, তারপরের মাস গা ছেড়ে বসে থাকলাম – এমন করা যাবে না। আর আপনার নিয়্যাত, কথা ও কাজে সামঞ্জস্য থাকতে হবে। আপনি ভালো আমল করলেন কিন্তু খারাপ কাজ ছাড়লেন না, তাহলে হবে না। নিজে ভালো হবার চেষ্টা কছেন কিন্তু অসৎ সঙ্গ ছাড়লেন না, এমন করা যাবে না। আপনি ভালো কাজের প্রতি আহবান করলেন, কিন্তু খারাপ কাজে নিষেধ করলেন না – তাহলে হবে না। অর্থাৎ ইসলাম যতোটুকু বলেছে ততোটুকুই করতে হবে। কিছু নিলেন, কিছু ছেড়ে দিলেন – এমন করা যাবে না। কোন কিছু যোগবিয়োগ করা যাবে না।
.
যদি আপনি এ বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে পারেন, আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ﷺ দেয়া ইন্সট্রাকশান ফলো করেন তাহলে অবশ্যই আপনি আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করবেন বি’ইযনিল্লাহ। কারণ এটা আল্লাহরই প্রতিশ্রুতি। কোন “বিশেষ” ইবাদাত করতে হবে না। কার মুরিদ হতে হবে না। অমুক উস্তাদ, অমুক বড় ভাই কিংবা অমুক সেলিব্রিটির কাছে ধরনা দিতে হবে না। মাসে মাসে টাকা খরচ করে নতুন নতুন বই কিনতে হবে না। নেট থেকে লেকচারের পর লেকচার নামাতে হবে না। কোন তরিকায় নাম লেখাতে হবে না। জাস্ট আল্লাহ যা বলেছেন তা শুনতে হবে, আর সাধ্যমত নিজের সবটূকু দিয়ে মানার চেষ্টা করতে হবে। ওয়ামা তাউফিক্বি ইল্লাহ বিল্লাহ।
.
তো কিভাবে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করবেন?
এই নিন প্রেসক্রিপশান

source

Leave a Reply