কবরের ৩ প্রশ্ন



Bangla Islami Reminder

তিন বছর আগে ক্যান্সার ধরা পড়ে অস্ট্রেলিয়ার আলি বানাতের। আপনি বড়জোর আর ৭ মাস বাঁচবেন, সম্ভবত চেহারায় মায়ার ছাপ ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করতে করতে ডাক্তাররা বলেছিল। ভাই আলি বানাত মারা যান গত ২৮শে মে রাতে। ডাক্তারদের ঠিক করে দেয়া টাইমফ্রেইমে না, আসমান ও যমীনের অধিপতির নির্ধারিত সময়ে। ভাই আলির কাহিনী নিয়ে একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে বেশ জনপ্রিয়তা পায়। ওয়ানপাথ – এর এই ভিডিওতে চোখ মুছতে মুছতে তিনি খুব অদ্ভুত একটা কথা বলেছিলেন। বলেছিলেন ক্যান্সার আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর জন্য গিফট।
.
অদ্ভূত কথাটার ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন আলি। ক্যান্সার জীবনের ব্যাপারে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দিয়েছিল। সফল ব্যবসায়ী আলিকে আল্লাহর সম্পদ দিয়েছিলেন। সবসময় লুই ভুটনের জুতো আর সানগ্লাস ব্যবহার করতেন। হাজার হাজার টাকা দামের স্লিপার পরতেন। ছিল গুচির ক্যাপের বিশাল কালেকশান। ব্যবহার করতেন লাখ টাকা দামের ঘড়ি আর ব্রেইসলেট। উদয়অস্ত আমরা যে মরীচিকার পেছনে ছুটে বেড়াই, ভাই আলি তা ছুতে পেরেছিলেন।
.
কিন্তু ক্যান্সারের মাধ্যমে আলি দুনিয়ার আসল মূল্য উপলব্ধি করেছিলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন একটা ফেরারি স্পাইডারের চেয়ে খালি পায়ে আফ্রিকায় দৌড়ে বেড়ানো একটি শিশুর জন্য এক জোড়া জুতোর দাম বেশি। ক্যান্সার আলিকে বুঝিয়েছিল এ দুনিয়া আর এর মাঝের সবকিছুই মুছে যাবে। আর কাফনের কাপড়ে কোন পকেট থাকবে না। যখন কবরের প্রশ্নকারীরা আসবে, দুনিয়া এবং এর সমস্ত সম্পদ আমাদের বাঁচাতে পারবে না। মাটির এ খাঁচা মাটিতেই মিশে যাবে, রয়ে যাবে শুধু তাওহিদ, ইমান, তাক্বওয়া আর নেক আমল।
.
দুনিয়া ছেড়ে যাবার আগে তাই ভাই আলি দুনিয়াকে ছাড়তে উদগ্রীব হয়ে উঠেছিলেন। নশ্বর দুনিয়াকে বিক্রি করে আখিরাত কিনতে সচেষ্ট হয়েছিলেন। ক্যান্সার ছিল ভাই আলির জন্য হিদায়াত। সত্যিই ক্যান্সার ছিল তাঁর জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে গিফট। আল্লাহ তাঁর গুনাহ মাফ করে দিন, তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন, তাঁর ওপর রহম করুন। [ভাই আলির গল্প দেখত ক্লিক করুন – ]
.
অনেক সময় বড় কোন বিপর্যয়ের পরই মানুষ চিরন্তন সত্যকে চিনতে পারে। সহজ জীবন আমাদের অনেককে সত্য সম্পর্কে ভুলিয়ে রাখে। আল্লাহর নিয়ামতের মধ্যে ভাসতে থাকা এই অকৃতজ্ঞ আমরা আল্লাহকেই ভুলে যাই। ভাই আলির মতোই – সব ক্ষয়িষ্ণু আনন্দের ধ্বংসকারী মৃত্যু – আমাদের জন্যও অপেক্ষা করছে। আপনার-আমার জন্য সময় নির্ধারিত হয়ে গেছে, আর সমগ্র সৃষ্টি মিলেও একে ন্যানোসেকেন্ডও পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখে না। কিন্তু আমরা কি জানি আমরা কবরে কী নিয়ে যাচ্ছি? আমরা কি জানি আমরা কবরের প্রশ্নকারীদের প্রশ্নের জবাব দিতে পারবো কি না?

source

Leave a Reply