তিনি নিকটবর্তী…



মক্কার ক্বুরাইশরা আল্লাহকে বিশ্বাস করতো। এ তথ্যটা আমরা অনেকেই জানি না। বিশেষ করে ইসলাম সম্পর্কে যাদের জ্ঞানের মূল উৎস ক্লাস ওয়ান থেকে টেনের ইসলাম শিক্ষা বই আর লোকমুখে শোনা কথা, তাদের এ তথ্যটা না জানার চ্যান্স বেশি। ক্বুরাইশরা শুধু আল্লাহর উপর বিশ্বাসই করতো না তারা আল্লাহর নামে কসমও করতো। আল্লাহর জন্য ক্বুরবানীও করতো। তারা বিশ্বাস করতো আল্লাহই সমগ্র সৃষ্টির মালিক। তাদের সমস্যা ছিল তারা আল্লাহকে বিশ্বাস করলেও একমাত্র আল্লাহকে বিশ্বাস করতো না। তারা আল্লাহর সাথে শরীক করতো।
.
এই একটা কারনে তাদের বিশ্বাস, ক্বুরবানী, দান-খয়রাত, কসম – কোন কিছুই তাদের কাজে আসেনি। ব্যাপারতা শূন্য দিয়ে গুণের মতো।
.
আমাদের বিশ্বাস ও কাজের মধ্যেও এরকম কিছু মৌলিক সমস্যা আছে যেগুলো হয়তোবা আমাদের ইমানকে শূন্য দিয়ে গূন করে দেয় না, কিন্তু আমাদের সার্বিক অবস্থাকে শূন্যের বেশ কাছাকাছি নিয়ে যায়। যেমনঃ
.
আমরা আল্লাহর আযাবকে ভয় পাবার দাবি করি কিন্তু গুনাহ থেকে বিরত হই না।
.
আমরা আল্লাহর কাছ থেকে উত্তম পুরষ্কারের আশা করি কিন্তু শরীয়াহ অনুযায়ী ভালো কাজ করতে সচেষ্ট হই না।
.
আমরা ভালো করার আকাঙ্ক্ষা করি, কিন্তু খাঁটি নিয়্যাত করি না।
.
আমরা দু’আ করি আল্লাহ যেন আমাদের নেক আমল করার তাওফিক্ব দেন, কিন্তু আমরা নিজেরা চেষ্টা-সাধনা করি না।
.
আমাদের গুনাহর ব্যাপারে আমরা মুখে মুখে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, কিন্তু সত্যিকারভাবে লজ্জিত হই না।
.
আমরা মানুষের সামনে সতর্কতা ও গুরুত্বের সাথে নেক আমল করি, কিন্তু নির্জনে গুনাহ করি।
.
আমরা ভালো কাজ করি, কিন্তু আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার নিয়্যাতে করি না।
.
আমরা নিজেদের মুসলিম বলে মনে করি কিন্তু আল্লাহর বিধান মানি না। মানতে চাইও না। যারা মানে তাদের মধ্যযুগীয়, ব্যাকডেইটেড, হুজুর, জঙ্গি ইত্যাদি বলি।
.
আমরা আল্লাহকে বিশ্বাস করার দাবি করি কিন্তু আল্লাহর আইন মানি না। আল্লাহর আইনকে বাদ দিয়ে মানুষের বানানো আইনের অনুসরণ করি। আর এ নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তাও করি না।
.
.
যেদিন কবরে প্রশ্নোত্তর হবে, যেদিন আল্লাহ ‘আযযা ওয়া জাল এর সামনে দাড়াতে হবে, যেদিন পুলসিরাত পাড় হতে হবে সেইদিন এধরনের আমল আর এধরনের বিশ্বাস আমাদের কতোটুক কাজে লাগবে আল্লাহই ভালো জানেন।
.
দুনিয়ার তুচ্ছ মানুষ হেলাফেরা, অমনোযোগ, আন্তরিকতার অভাবকে অপছন্দ করে। অপমানিত বোধ করে। কিন্তু রাজাধিরাজ, আসমান ও যমীনের মালিকের ব্যাপারে আমরা হেলাফেরা করি, অমনোযোগী থাকি, দায়সারা ভাবে দায়িত্ব পালন করতে চাই – অথচ আশা করি জান্নাতের। অথচ আল্লাহ ‘আযযা আমাদের ক্ষমা করতে চান। পুরস্কৃত করতে চান। সম্মানিত করতে চান। তিনি চান আমরা আন্তরিকভাবে তার প্রতি আত্মসমর্পণ করি। কিন্তু আমরা দুনিয়ার পেছনে ছুটতে ছুটতে, অভ্যাসের দাস হয়ে, অলসতার দাস হয়ে, খেয়ালখুশির দাস হয়ে, শয়তানের ফাঁদে পড়ে বছরের পর বছর কাঁটিয়ে দেই কিন্তু আন্তরিকভাবে আল্লাহর দিকে ফিরি না।
.
“যারা বিশ্বাসী, তাদের জন্য কি আল্লাহর স্মরণে ও যে সত্য অবতীর্ণ হয়েছে তার কারণে হৃদয় বিগলিত হবার সময় আসেনি? তারা তাদের মতো যেন না হয়, যাদেরকে পূর্বে কিতাব দেওয়া হয়েছিলো। তাদের উপর সুদীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হয়েছে, অতঃপর তাদের অন্তঃকরণ কঠিন হয়ে গেছে। তাদের অধিকাংশই পাপাচারী।” [সূরা হাদীদ১৬]
.
আর-রাহমান আপনাকে সতর্ক করছেন, আর-রাহমান প্রশ্ন করছেন – একটু কি চিন্তা করার সময় হবে না?
.
যারা বিশ্বাসী, তাদের জন্য কি আল্লাহর স্মরণে ও যে সত্য অবতীর্ণ হয়েছে তার কারণে হৃদয় বিগলিত হবার সময় আসেনি?
.
#KnowYourDeen
.
https://web.facebook.com/KnowYourDeenBD/

source

Leave a Reply