নিভে যাই অবেলায়



ভিডিওর ছেলেগুলোর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। তারা যে সমস্যাগুলোর কথা বলছে, তার অধিকাংশই খুব সহজে সলভ হয়ে যেতো (আসলে সমস্যার সৃষ্টিই হতোনা) যদি বাবা মা বা অভিভাবকদের জেনারেশনের সঙ্গে কমিউনিকেশন গ্যাপ না থাকতো, যদি বাবা মা তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতেন। দায়িত্বটুকু ঠিকভাবে পালন করতেন। বয়ঃসন্ধিকালের প্রয়োজনীয় জ্ঞানটুকু বিতরণের জন্য ছেলের বন্ধু বা অন্য কারো ওপর নির্ভর না করতেন । যদি এই সমাজে, যদি এই ভূমিতে আল্লাহ্‌র দ্বীন কায়েম থাকতো। ঘৃণ্য, তুচ্ছ তরল থেকে সৃষ্ট মানুষ মহাবিশ্বের অধিপতির আইন ছুঁড়ে ফেলানোর দুঃসাহস না দেখাতো। মানব রচিত তন্ত্রে মন্ত্রে সমাধান খুঁজে না বেড়িয়ে সমাধান খুঁজতো কুরআনের পাতায়।
.
আমাদের বাবা মাদের অধিকাংশেরই পর্ন, হস্তমৈথুন, চটিগল্প বা আইটেম সং আসক্তির ভয়াবহতা সম্পর্কে জ্ঞান ভাসা ভাসা। এগুলো দেখা খারাপ, দেখা পাপ, দেখা উচিত না। এগুলো বখাটে,লুচ্চা পোলাপান দেখে-আমার ভালো, ভদ্র ছেলে এগুলো কখনো দেখবেনা, যদি দেখে তাহলে ধোলাই দিতে হবে, বকাঝকা করতে হবে- পর্ন ,হস্তমৈথুন,চটিগল্পের আসক্তির ব্যাপারে মোটামুটি এরকমই তাদের ধারণা।
.
জেনারেশনের এই মহামরীর মতো ছড়িয়ে পড়া পর্ন,হস্তমৈথুন আসক্তির জন্যে যে কেবল এই জেনারেশনই দায়ী নয়, তাদের নিজেদের জেনারেশনও অনেকাংশে দায়ী, এ কথা তারা বোঝেন না। প্রথম আলো, নকশা, অধুনা, বিনোদন পেইজ, সালমান মুক্তাদির গ্যাং, ফারূকী ব্রো, ক্লোজআপ প্রজন্মের যৌনতা উস্কে দিয়েছে প্রতিটি সুযোগে, রাজনৈতিক বড় ভাইয়েরা দিয়েছে লাইসেন্স টু রেইপ, সন্ত্রাসী মিডিয়া, রক্তচোষা এনজিও মগজধোলাই করেছে, পাশ্চাত্যের ভাদ্র মাসের কুকুরের জীবন চাপিয়ে দিয়েছে, বিয়েকে কঠিন করে ফেলেছে, লুচ্চামিকে সহজ করে ফেলেছে সরকারীভাবে – সেটা তাঁদের অনেকেই বোঝেননা, বা বুঝলেও নিজেদের দায়িত্ব কর্তব্য পালন না করে নীরবতা বেছে নিয়েছেন। বাবামার জেনারেশনের সর্বগ্রাসী লোভেই হারিয়ে গিয়েছে এই প্রজন্মের খেলার মাঠগুলো, অবসরে খেলাধুলা করে যে নিজেকে সতেজ করে নিবে সেই সুযোগও তো এই প্রজন্মের নেই। প্রজন্মের তো অবসরই নেই। বাবা মা ইঁদুর বিড়াল প্রতিযোগিতায় নামিয়ে দিয়েছেন পাশের বাসার ভাবীদের কাছে নিজেদের জাহির করার জন্য, পড়ার চাপ, কোচিঙের চাপ, প্রজন্মকে বিধ্বস্ত করে ছেড়েছে। জীবনীশক্তি শুষে নিয়েছে। নিভিয়ে দিয়েছে। খেলার সুযোগ নেই, ঘোরার জায়গা নেই, দম ফেলার জায়গা নেই, ঘুরে ফিরে সেই স্মার্টফোন, সেই ইন্টারনেট, সেই পর্ন,আইটেম সং, হস্তমৈথুন, মদ, গাঁজা, ইয়াবা…।
.
প্রজন্মের পর্ন আসক্তির জন্য শুধু কি এই প্রজন্মই দায়ী?
.
ব্লেইম গেইম খেলতে চাচ্ছিনা। কিন্তু বাস্তবতা আসলে এমনই। দোষী হোক বা না হোক ঢালাওভাবে কেবল এই জেনারেশনকে দোষারোপ করা হয় সব ক্ষেত্রেই। হোক সেটা ‘আই এম জিপিএ ফাইভ’ বা ঢাকা ভার্সিটির এডমিশনে ইংলিশে ফেইল করা … সব দোষ কেবল এই প্রজন্মেরই, যেন দেশের শিক্ষাব্যবস্থা খুব উন্নত! সন্তানদের নিয়ে বাবা মার অসুস্থ প্রতিযোগিতা বলে কোনো বিষয়ই এই ধরাধামে নেই! যেন প্রজন্মকে মদ,গাঁজা,ইয়াবা, ফেন্সি,হিরো, পর্ন,হস্তমৈথুন, জিনা ব্যাভিচার, সমকামিতায় আসক্ত করে দেওয়ার জন্য সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো আর তাদের পা চাটা গোলামেরা কোটি কোটি টাকা ঢালছেনা! কুটিল চক্রান্ত বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেনা!

এভাবেই কতো ছেলে প্রতিনিয়ত একটু একটু করে মরে যায়, বুক ভরা বড় বড় ব্যাথা নিয়ে হেঁটে বেড়ায় ফুটপাতে, পেছনের বেঞ্চিতে বসে উদাস হয়ে তাকিয়ে থাকে জানালার বাহিরে বা স্মার্টফোনের স্ক্রীনে। শুধু আপনার একটু সহানূভুতি, একটু ঘাড়ে হাত রেখে জানতে চাওয়া। ‘কী হয়েছে খুলে বল আমাকে, তোমার কোনো ভয় নেই’, কতো ছেলেকে যে অবেলায় নিভে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে পারে তা বোধহয় আপনি বুঝতে পারেননি।
এই ছেলেগুলোর যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই।কোনো জায়গা নেই। সবাই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এদের থেকে।
প্লিজ এগিয়ে আসুন।
এই ছেলেগুলোর যাবার কোনো জায়গা নেই।
.

প্রজন্মকে রক্ষা করার জরুরী এই কাজে আলোর মশাল হাতে আপনিও যোগদিন ভাইদের সাথে। পড়ুন- http://lostmodesty.com/onupomuthan/
.
#BanPorn
#BanItemSong
#SaveHumanity
#MakeMarriageEasy
#LostModesty
#মুক্ত_বাতাসের_খোঁজে
#অনুপম_উত্থান

source

Leave a Reply