পরকাল ১ এর বাকি

আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া অধিক পরিমাণে আল্লাহর কাছে দোয়া করা। তাঁর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা। কারণ, তিনি ব্যতীত রক্ষাকারী কেউ নেই। নবী করীম সা. বলতেন,

 “হে আল্লাহ, আমি আপনার আশ্রয় চাচ্ছি অপারগতা, অলসতা, কাপুরুষতা, ব্যয়কুণ্ঠতা, বার্ধক্য এবং কবরের আযাব হতে।” (মুসলিম-৭০৪৮)

সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাস রা. বলেন, হাতের লেখা যেমন শেখানো হয়, ঠিক-তেমন নবী করীম সা. আমাদেরকে এ কথাগুলো শিক্ষা দিতেন | (অর্থঃ-) “হে আল্লাহ! নিশ্চয় 

আমি আপনার আশ্রয় চাচ্ছি কৃপণতা থেকে। আপনার আশ্রয় চাচ্ছি ভয় থেকে এবং আশ্রয় চাচ্ছি অতি-বার্ধক্যে উপনীত হওয়া থেকে। আশ্রয় চাচ্ছি দুনিয়ার ফেতনা এবং কবরের শাস্তি থেকে।” (বুখারী-৬০২৭) * আয়েশা রা. বলেন, “বেশীর ভাগ সময় নবী করীম সা. এ দোয়াগুলো বলতেন, “হে আল্লাহ, আমি আশ্রয় চাচ্ছি আপনার কাছে অগ্নিপরীক্ষা, জাহান্নামের শাস্তি, কবরের পরীক্ষা, কবরের শাস্তি, দাজ্জালের ভয়ানক ফেতনা, দারিদ্র্যের পরীক্ষা এবং ধনৈশ্বর্যের পরীক্ষার অনিষ্ট থেকে।” (ইবনে মাজা-৩৮৩৮)। ঠিক তেমনি মৃতকে কবরের শাস্তি হতে মুক্ত করতে দোয়ার কথা বলা হয়েছে। 

নবী করীম সা. এক জানাযার দোয়ার মধ্যে বলছিলেন, 

 “হে আল্লাহ, তাকে দয়া করুন, ক্ষমা করুন ও তার ত্রুটিগুলো মার্জনা করুন। তার জন্য উত্তম ঠিকানা নির্ধারণ করুন। তার কবর প্রশস্ত করে দিন। বরফের শীতল পানি দিয়ে তাকে ধুয়ে দিন। কাপড় যেমন ময়লা থেকে পরিষ্কার করা হয়, তাকেও তেমন পাপ থেকে ধুয়ে পবিত্র করে দিন। তাকে দুনিয়ার জীবন অপেক্ষা উত্তম জীবন, দুনিয়ার পরিবার অপেক্ষা উত্তম পরিবার। এবং দুনিয়ার স্ত্রী অপেক্ষা উত্তম স্ত্রী দান করুন। তাকে জান্নাত দিন। কবরের আযাব থেকে তাকে রক্ষা করুন। জাহান্নামের 

শাস্তি হতে তাকে মুক্তি দিন।” (মুসলিম-২২৭৬) 

কবরের আযাব হতে মুক্তিপ্রাপ্ত যারা.. কবরের আযাব থেকে মুক্তির আমল বর্ণনার পাশাপাশি নবী করীম সা. কবরের শাস্তি হতে মুক্তিপ্রাপ্ত লোকদের কথাও বলে। গেছেনঃ

 ১। শহীদ 

কেবল আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করতে যে মুজাহিদ যুদ্ধ করতে করতে নিহত হলো, সেই শহীদ।।একব্যক্তি নবী করীম সা. কে জিজ্ঞেস করল, সকল মুমিনকেই কবরে পরীক্ষা করা হবে, কিন্তু শহীদদেরকে করা হবে না কেন? নবীজী উত্তর দিয়েছিলেন, “যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের মাথার উপর তরবারির ঝলকানি-ই তাদেরকে কবরের পরীক্ষা থেকে মুক্তি দেবে।” (বায়হাকী-২১৮০)। হাদিসের মর্ম হলো, যুদ্ধক্ষেত্রে মুজাহিদের অবিচলতার দ্বারাই তার ঈমানের পরীক্ষা হয়ে যায়। আমৃত্যু দ্বীনের উপর অটল থাকার নিশ্চয়তা পাওয়া যায়। ফলে দ্বিতীয়বার আর তাকে পরীক্ষা করার প্রয়োজন হয় না। কবরে প্রশ্নোত্তরের দরকার হয় না। 

২। আল্লাহর পথের প্রহরী 

অর্থাৎ পাহারা দিতে গিয়ে গুহায় অবস্থান করা। 

শত্রুদের প্রবেশ রুখতে ইসলামের সীমান্ত পাহারা দেয়া। ঘরবাড়ী ত্যাগ করে যারা ইসলামের জন্য লড়াই করছে, মুসলমানদের ইজ্জত-সম্মান রক্ষার্থে যুদ্ধ করছে, আল্লাহর নিকট তাদের মর্যাদা অপরিসীম। 

নবী করীম সা. বলেন, “মৃত ব্যক্তির আমল মৃত্যুর সাথে সাথে। শেষ হয়ে যায়। তবে আল্লাহর রাস্তায় থাকাকালীন মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তির আমলনামা কেয়ামত পর্যন্ত লিপিবদ্ধ হতে থাকে। কবরের আযাব থেকে তাকে মুক্তি দেয়া হয়।” (তিরমিযী-১৬২১) 

 নবী করীম সা. বলেন, “একদিন একরাত্রি আল্লাহর রাস্তায় পাহারা দেওয়া একমাস বিরামহীন রোযা ও তাহাজ্জুদ অপেক্ষা উত্তম।” (মুসলিম-৫০৪৭) 

৩। উদর ব্যাধিতে মৃত্যুবরণকারী

 বিপদে পাপ মুছন হয় এবং আল্লাহর নিকট ব্যক্তির মর্যাদা উন্নীত হয়। রোগব্যাধিতে মৃত্যুবরণ দেহের জন্য অন্যতম বিপদ। 

নবী করীম সা. বলেন, “উদর যাকে হত্যা করল, কবরে কখনই তার শাস্তি হবে না।” (তিরমিযী, নাসাঈ)। অর্থাৎ পেটে সৃষ্ট রোগ যথা হৃদরোগ, কিডনি রোগ ইত্যাদি ব্যাধিতে যাদের মৃত্যু হলো। বুখারী শরীফে বর্ণিত অপর হাদিসে 

 “পেটে সৃষ্ট ব্যাধিতে মৃত্যুবরণকারী শহীদ” বলা হয়েছে। 

৪। প্রতিরাতে ‘সূরা মুলক’ পাঠ 

আল-কুরআন সবটুকুই কল্যাণবাহী। কিছু কিছু সূরাকে নবী করীম সা. বিশেষ মর্যাদাবান বলে আখ্যা দিয়েছেন। সূরায়ে তাবারাক’কে কবরের শাস্তি হতে মুক্তিদায়ক বলা হয়েছে, 

“সূরায়ে মুলক কবরের আযাবকে প্রতিরোধ করে” (ইবনে মারদুয়াই, সহীহ)

 আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা. বলেন, “প্রতিরাতে যে ব্যক্তি সূরায়ে তাবারাক পাঠ করবে, তার উপর থেকে আল্লাহ কবরের আযাব উঠিয়ে নেবেন। রাসূলের জামানায় আমরা এ সূরাকে ‘প্রতিরোধক সূরা’ বলতাম। আরও বলতাম, আল্লাহর কিতাবে এমন একটি সূরা রয়েছে, যে প্রতিরাতে তা পাঠ করবে, সে অনেক পুণ্য অর্জন করবে এবং উত্তম বস্তু লাভ করবে।” (নাসাঈ-১০৫৪৭) 

ফায়দা, |

 কবর প্রত্যেক কবরস্থকে একবার আলিঙ্গন করবে। 

যেমনটি সা’দ বিন মুয়ায রা, সম্পর্কে নবী করীম সা. 

বলেছেন,  “এই সেই ব্যক্তি যার জন্য আরশ কেঁপে উঠেছে। আসমানের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়েছে। সত্তর হাজার ফেরেশতা তার জন্য সাক্ষী হয়েছে। একবার তাকে আলিঙ্গন করে পরক্ষণেই ছেড়ে দেয়া হয়েছে।” (নাসাঈ) 

কবরের আযাব থেকে মুক্তিদায়ক আমলসমূহ আদায় করুন, সুখী হবেন, অনুগ্রহপ্রাপ্ত হবেন। 

যে সকল সৃষ্টি ধ্বংস হবে না। 

আল্লাহ তা’লা ব্যতীত সকল কিছুই একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে। যেমনটি আল্লাহ নিজেই বলেছেন, 

که 

و كل من عليها قاي ي ويبقى وجه يك واكل والإكرام الرحمن: 26 – 27 

“ভূপৃষ্ঠের সকল কিছুই ধ্বংসশীল। একমাত্র আপনার মহিমায় ও মহানুভব পালনকর্তার সত্তা ছাড়া।” (সূরা আর-রাহমান ২৬-২৭) হ্যাঁ. পৃথিবীর সকল বস্তুই ধ্বংসের সম্মুখীন হয়ে নিঃশেষ হয়ে যাবে। তবে কুরআন-হাদিসে কোনো কোনো সৃষ্টির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম বর্ণিত হয়েছে। 

* তবে কোনো সেই সৃষ্টি? * ধ্বংস হবে না মানে কী? 

ভূমিকা আল্লাহ তা’লা যাকে ইচ্ছা করবেন ধ্বংস করে দেবেন। যাকে ইচ্ছা করবেন জীবিত রাখবেন। ইচ্ছা ও ক্ষমতার মালিক 

একমাত্র আল্লাহ। আটটি বস্তু ব্যতীত সকল কিছুই তিনি ধ্বংস করে দেবেন। 

১। মেরুদণ্ডের নিম্নাংশ মানুষের এ অঙ্গটি ছাড়া সকল কিছুই মাটি খেয়ে ফেলবে। এ থেকেই আল্লাহ তাকে পুনরুজ্জীবিত করবেন। 

মেরুদরে নিম্নাংশ 

নবী করীম সা. বলেন, “মেরুদণ্ডের নিম্নদেশ ব্যতীত আদম সন্তানের প্রতিটি অঙ্গই মাটি খেয়ে ফেলবে। এ থেকেই মানুষের সৃষ্টি এবং এ থেকেই তার দেহ পুনর্গঠিত হবে।” (মুসলিম ৭৬০৩) 

২। রূহ 

রূহ বা আত্মার প্রকৃতি সম্পর্কে আল্লাহ ব্যতীত কেউ অবগত নয়। তবে দেহের আন্দোলন ও জীবন কেবল রূহের অস্তিত্বের কারণেই হয়ে থাকে। রূহ দেহ-বিচ্ছেদ করে আসমানে চলে গেলে তা মৃত সাব্যস্ত হয়। সৎ হলে আসমানের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়। অসৎ হলে সকল দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়। সর্বাবস্থায়ই রূহ পুনরায় দেহে ফিরে আসে। রূহ কখনই ধ্বংস হবে না। যেমনটি নবী করীম সা. শহীদদের বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন, 

 “শহীদদের রূহগুলো সবুজ পাখির দেহে প্রবেশ করানো হয়। আরশের সাথে বহু উজ্জ্বল ঝুলন্ত প্ৰদীপ রয়েছে, জান্নাতে বিচরণ করে তারা পুনরায় ঐ প্রদীপসমূহের কাছে ফিরে আসে।” (মুসলিম-৪৯৯৩) আর মুমিনদের রূহের ব্যাপারে বলেন, 

নবী করীম সা. বলেন, “নিশ্চয় মুমিনের রূহ জান্নাতের বৃক্ষসমূহে বিচরণ করে। শেষপর্যন্ত পুনরুত্থান দিবসে তাদেরকে নিজ নিজ দেহে প্রবেশ করানো হবে।” (নাসাঈ-২২০০) 

৩। জান্নাত ও জাহান্নাম। 

আনুগত্যশীল বান্দাদের পুরস্কৃত করতে এবং অবাধ্যদের শাস্তি দিতে আল্লাহ তা’লা জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টি করেছেন। 

এতদুভয় কখনই ধ্বংস হবার নয়। যেমনটি আল্লাহ নিজেই বলেছেন, 

و لدين فيها أبداه النساء: 122 

“সেখানে তারা চিরকাল বাস করবে” (সূরা নিসা-৫৭) 

৪। আরশ আরবী ‘আরশ’ এর আভিধানিক অর্থ সিংহাসন, যার উপর রাজা-বাদশাহগণ উপবেশন করেন। আমাদের মহান প্রতিপালকের জন্যও একটি আরশ রয়েছে, যা আপন সত্তার মহত্ব ও বড়ত্বের সহিত অতি-মানানসই। আল-কুরআনের সাতটি স্থানে তিনি আরশে সমাসীন হওয়ার বিষয় বর্ণনা। করেছেন, 

و التهم على العرش آشتی چه طه:5 

“তিনি পরম দয়াময়, আরশে সমাসীন হয়েছেন।” (সূরা ত্বাহা-৫) 

و استوى على التمش که الأعراف: 54 | 

“অতঃপর আরশে সমাসীন হয়েছেন” (সূরা আ’রাফ-৫৪)। আরশ হলো প্রথম সৃষ্টি। স্থায়ী রূপেই তাকে আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। কেয়ামতের ফুকারে অন্যসব সৃষ্টির মতো তা ধ্বংস 

হবে না। 

৫। কুরসি

 ইবনে আব্বাস রা. এর বর্ণনানুযায়ী কুরসি হলো আল্লাহর দুই। কদম মুবারক রাখার স্থান। কুরসি কখনো ধ্বংস হবে না। 

৬। হুর

 হুর হলো জান্নাতবাসীর বিনােদনের জন্য তৈরি অনিন্দ্য সুন্দর রমণীসকল। অন্যসব সৃষ্টির মতো কখনই তারা ধ্বংস হবে না। 

৭। লাওহ

 লাওহ হলো সংরক্ষিত ফলক, যেখানে আল্লাহ তা’লা সকল বান্দার ভাগ্য লিখে রেখেছেন। লাওহ কখনই ধ্বংস হবে না। 

৮। কলম

 এটি ঐ কলম, যাকে আল্লাহ সৃষ্টি করে সকল বান্দার ভাগ্য লিখার আদেশ করেছেন। যেমনটি নবী করীম সা. বলেন, 

“সর্বপ্রথম আল্লাহ কলম সৃষ্টি করে বলেছেন, তুমি লেখ! কলম। বলল, হে পালনকর্তা! কী লিখব? পালনকর্তা বললেন, কেয়ামত পর্যন্ত সৃষ্ট সকল কিছুর ভাগ্য লিখে রাখ!” (মুস্তাদরাকে হাকিম 

আক্কীদা,

 সৃষ্টির মালিক আল্লাহ, সুতরাং যাকে ইচ্ছা তিনি জীবিত রাখবেন, যাকে ইচ্ছা ধ্বংস করে দেবেন। 

কবর সম্পর্কে সাতটি মাছআলা 

কবর সম্পর্কে অনেকে কতিপয় ভুল বিশ্বাস পোষণ করেন। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে এগুলো ছড়িয়ে পড়েছে। সুতরাং এগুলো সম্পর্কে সতর্ক না করলেই নয়.. 

* মাছআলাগুলো কী?

* ভুল বিশ্বাসগুলো কী?

 * প্রতিকার কী করে সম্ভব? 

ভূমিকা মানুষকে সরল পথে পরিচালিত করতে আল্লাহ তালা দুনিয়াতে অসংখ্য নবী রাসূল প্রেরণ করেছেন। তারা এসে মানুষকে হেদায়েত করেছেন।সুসংবাদ শুনিয়েছেন। আল্লাহর আযাব থেকে সতর্ক করেছেন। সর্বশেষ নবী মোহাম্মাদ সা.ও কবর সম্পর্কে আমাদেরকে কিছু মাছআলা বলে গেছেন। তন্মধ্যে, 

প্রথম মাছআলা কবরে সুখ বা শাস্তির বিষয়টি অদৃশ্যের বিষয়। জ্ঞান বা যুক্তি দিয়ে তা বোধগম্য করা সম্ভব নয়। অদৃশ্যের বিষয়ে ঈমান 

আনয়ন মুমিনের অবশ্য পালনীয় একটি গুণ। যেমনটি আল্লাহ বলেছেন, 

و الترع ذلك أكتب لا ريب فيه هدى للمتقين ( الذين يؤمئوين يلغي که 

 “আলিফ লাম মীম। ইহা এমন এক গ্রন্থ যাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ নেই।খোদাভিরুদের জন্য তা হেদায়েত। খোদাভীরু তারাই, যারা অদৃশ্যের বিষয়াবলীতে পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করে।” (সূরা বাকারা-১,২,৩)। জেনে রাখা দরকার, কবরে আযাবের বিষয়টি বারযাখী জীবনের অন্তর্ভূক্ত। সুতরাং কোনো অপরাধী মারা গেলে বারযাখী জীবনে সে শাস্তি ভোগ করবেই; কবরস্থ হোক বা না হোক, জীবজন্তু তাকে খেয়ে ফেলুক, আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে বাতাসে উড়িয়ে দেয়া হোক, ক্রুশবিদ্ধ করা হোক, সাগরে ডুবিয়ে দেয়া হোক; সর্বাবস্থায় তার আত্মা ঐ শাস্তিই ভোগ করবে, যা কবরস্থ হলে ভোগ করার কথা ছিল। 

দ্বিতীয় মাছআলা 

মৃত্যুর পর আত্মীয় স্বজনের; বিশেষত মহিলাদের জন্য অধিক আহাজারি নিষিদ্ধ। 

 নবী করীম সা. বলেন, “পেশিতে আঘাত করে, কাপড় ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে ও মূর্খতা-যুগের প্রবাদ বলে যে আহাজারি করল, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।” (বুখারী-১২৩৫)

 নবী করীম সা. আরো বলেন, “মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে রোনাজারিকারী ব্যক্তি মৃত্যুর পূর্বে। তওবা না করলে কেয়ামতের দিন সে আলকাতরার জামা এবং মরিচাযুক্ত বর্ম পরিহিত অবস্থায় উত্থিত হবে।” (বুখারী-২২০৩) সুতরাং আত্মীয় স্বজন বা প্রিয়জন মারা গেলে ব্যথিত না হয়ে ধৈর্যের পথ বেছে নেয়া উচিত।সুসংবাদ গ্রহণ করা উচিত। 

নবী করীম সা. বলেছেন, “আল্লাহ তা’লা বলেন, “প্রিয়জন বিয়োগে যে বান্দা প্রতিপালকের সন্তুষ্টি অর্জন-কল্পে ধৈর্যধারণ করল, তাকে আমার পক্ষ থেকে জান্নাত পুরস্কৃত করা হবে।” (বুখারী-৬০৬০)। 

তৃতীয় মাছআলা

 কবর যিয়ারত করা শরীয়ত সম্মত কাজ। তবে উদ্দেশ্য হতে হবে কবরবাসীকে দেখে উপদেশ । গ্রহণ করা। কবর থেকে বা। কবরের মাটি থেকে বরকত হাসিল করা বা মৃত ব্যক্তি থেকে উপকৃত হওয়া নয়। যিয়ারতের জন্য কোনো বিশেষ দিনকে নির্দিষ্ট করা জায়েয নেই। নবী করীম সা. থেকে এ ব্যাপারে কিছু বর্ণিত নয়।  নবী করীম সা. বলেন, “আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে যে নতুন বিষয় সৃষ্টি করল, তার সৃষ্ট প্রত্যাখ্যাত।” (বুখারী-২৫৫০)। 

অনেকে কবর যিয়ারতকালে সূরায়ে ফাতেহা পাঠ করেন। এটি বিদআত। কবর যিয়ারতকালে নবী করীম সা. এধরণের কিছুই 

HT 

পড়েননি। বরং তিনি মৃতদের জন্য মাগফেরাতের দোয়া করতেন। বিশেষ কোনো কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করা জায়েয নেই।

 নবী করীম সা. বলেন, “এবাদতের উদ্দেশ্যে শুধু তিনটি স্থলেই ভ্রমণ করা যাবে, মক্কার মসজিদ, আমার মসজিদ এবং মসজিদে আকসা (বায়তুল মাকদিস)” (বুখারী-১১৩২)। 

চতুর্থ মাছআলা 

জানাযার সম্প্রতি ভুলসমূহ,

 (১) কফিনে, খাটে অথবা কবরে ফুল দেওয়া। এটি কাফের মুশরেকদের ধর্মের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, 

 নবী করীম সা. বলেন, “ব্যক্তির কার্যকলাপ যে জাতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে।” (আবু দাউদ-৪০৩৩)

(২) নিহত ব্যক্তির স্মরণার্থে তার জন্য নীরবতা পালন করে শোক প্রকাশ করা। এটি একটি জঘন্য বিদআত। কাফের মুশরেকদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ কাজ। নবী করীম সা. মৃতদের জন্য কেবল দোয়া-ইস্তেগফার । ছাড়া আর কিছুই করেননি। 

(৩) মৃতের স্মরণে বাসায়, দোকানে বা অন্য কোনো স্থানে তার ছবি বা মূর্তি স্থাপন করা। 

 নবী করীম সা. আলী রা. কে উদ্দেশ্য 

করে। বলেছিলেন, “কোনো ছবি পেলে। তা মিটিয়ে ফেলবে। কোনো উঁচু কবর পেলে তা ধ্বংস করে মাটির সাথে মিশিয়ে দেবে।” (মুসলিম-২২৮৭)।

 (৪) সজোরে তাকবীর বা সম্মিলিত আওয়াজ দিয়ে জানাযা প্রচার করা। বৈধ পন্থা হলো, নিচু আওয়াজে মৃতের জন্য দোয়া ইস্তেগফার করা।

 (৫) কবরে আযান দেওয়া। নবী করীম সা, বা তাঁর কোনো সাহাবী থেকে এ ধরনের কার্যকলাপ বর্ণিত নয়। 

(৬) অন্যতম বিদআত হলো, জানাযা ও দাফনকার্য শেষে 

সম্মিলিত দোয়া করা। বৈধ পন্থা হলো, জানাযা ও দাফন শেষে। প্রত্যেকেই নিজ থেকে একাকী দোয়া করবে।

 (৭) কফিনে ভরে দাফন করা। বৈধ পন্থা হলো, কাফনের কাপড়ে আবৃত করে বিনা কফিনে মৃতকে কবরস্থ করবে। তবে নিরুপায় হলে যেমন, দুর্ঘটনার কবলে পড়ে লাশ ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে, বহুদিন নিখোঁজ থাকার ফলে লাশ পচে গলে গেছে. তবে কফিনে করে দাফন করা যাবে। 

পঞ্চম মাছআলা ।

কোনো মানুষ যদি শরীয়ত-সম্মত পন্থায় ঈসালে সাওয়াবের উদ্দেশ্যে কোনো সৎকর্ম করে, তবে সমস্যা নেই। যেমন দুয়া করা, হজ্জ্ব করা, উমরা করা, সাদকা করা, কুরবানি করা, মৃতের পক্ষ থেকে রোযা কাযা করা ইত্যাদি..। কিন্তু মৃত ব্যক্তিকে সাওয়াব পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে নামায পড়া জায়েয নেই। এ ধরণের কোনো বর্ণনা নবী করীম সা. থেকে বর্ণিত হয়নি। তেমনি বর্তমান সমাজে প্রচলিত অন্যতম বিদআত হলো, ক্বারী সাহেবদেরকে ভাড়া করে এনে মৃত ব্যক্তিকে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে কুরআন পড়ানো। 

ষষ্ঠ মাছআলা।

 উত্তরাধিকার বণ্টনের পূর্বে মৃতের কাফন-দাফন সংক্রান্ত খরচ। পৃথক করে নেয়া, তার ঋণ পরিশোধ করা এবং তার অসিয়ত পূর্ণ করা আবশ্যক। 

শেষ মাছআলা 

এটি একটি বৃহৎ মাছআলা। বর্তমানকালের এক বিরাট বিশ্বাস-বিপর্যয় এবং বড় শিরক। তা হলো, কবরের পাশে প্রদক্ষিণ (তওয়াফ) করা, কবরস্থ ব্যক্তি থেকে কিছু চাওয়া, বিশ্বাস করা যে, ওলি-আউলিয়া কবরে জীবিত আছেন, তারা মানুষের বিপদ দূর করে দিচ্ছেন। 

و إضى الذين تدعون من دون آل عباد أمثاله فادعوهم 

صدقين ع فيه الأعراف: ۱۹۶| 

لیستجیبوألم 

إن 

আল্লাহ তা’লা বলেন, “আল্লাহকে বাদ দিয়ে তোমরা যাদেরকে ডাক, তারা সবাই তোমাদের মতোই বান্দা। অতএব, তোমরা যাদেরকে ডাক, তখন তাদের পক্ষেও তো তোমাদের সে ডাকে সাড়া দেওয়া উচিত যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক?” (সূরা 

আ’রাফ-১৯৪) 

কতিপয় কবর-পূজারী কবরের পাশে তওয়াফ করে, কবরের খুঁটি ধরে বসে থাকে, দেহ মাছাহ করে, চাদরে চুমু খায়, কবরের সামনে সেজদা করে, কবরের সামনে অতিভক্তি সহকারে দাঁড়ায়, মৃত ব্যক্তি থেকে প্রয়োজন-পূরণ কামনা করে, সুস্থতা কামনা করে, সন্তান কামনা করে। অনেকে আবার সজোরে ক্রন্দন করে বলতে থাকে, হে মনিব, বহুদূর থেকে তোমার কাছে এসেছি, বঞ্চিত করো না গো আমায়! অপরদিকে নামাযের মধ্যে দোয়ায় অলসতা করে। 

ومن أضل ممن يدعو من دوني اليه من لا يستجيب له إلى يؤير 

القيمة وتمر عن ابهتفوت فيه الأحقاف:5 

আল্লাহ বলেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর পরিবর্তে এমন বস্তুর পূজা করে, যে কেয়ামত পর্যন্তও তার ডাকে সাড়া দেবে না, তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে? তারা তো তাদের পূজা সম্পর্কেও। বেখবর” (সূরা আহকাফ-৫)। 

নবী করীম সা. বলেন, “আল্লাহর সমতুল্য সাব্যস্ত করে কারো কাছে আহ্বান করে যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করল, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে” (বুখারী-৪২২৭) হে মুসলিম, অমুক দরবেশ কবরের সামনে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করে বিশাল কিছু পেয়ে গেছে, তমুক অসুস্থ ব্যক্তি কবরের কাছে প্রার্থনা করে সুস্থতা লাভ করেছে, সন্তান পেয়ে গেছে.. এ ধরণের সংবাদ শুনে কখনই প্রতারিত হবেন না; বরং আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। নামাযের পর প্রার্থনা করুন, শেষরাতে উঠে সেজদায় আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করুন। হজ্জ্বে গিয়ে, উমরায় গিয়ে আল্লাহর কাছে চান। বরকত লাভের আশায় কখনই কোনো কবরের পাশে অবস্থান করবেন না। 

কবরের উপর মসজিদ নির্মাণ নিষিদ্ধ 

বরং ঐ মসজিদেও নামায পড়া জায়েয নেই, যে মসজিদের । অভ্যন্তরে, আঙ্গিনায় বা পশ্চিম দিকে কবর রয়েছে নবী করীম সা. বলেন, “শুনে রাখ, তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা তাদের নবী ও সালেহীনের কবরসমূহকে মসজিদ বানিয়ে ফেলত। কখনই কোনো কবরকে তোমরা মসজিদ বানিয়ো না। এ কাজ থেকে আমি তোমাদের নিষেধ করে যাচ্ছি।” (মুসলিম) বরং কবরে কোনো ধরণের স্থাপত্য নির্মাণ করাও হারাম। নবী করীম সা. কবরকে চুনকাম (প্লাস্টার ও ডিজাইন) করা, কবরের উপর বসা এবং কবরে কিছু নির্মাণ করা থেকে নিষেধ করেছেন। (মুসলিম-২২৮৯) 

শরীয়ত-সম্মত পন্থা হলো, যেটুকু মাটি কবর খনন করতে গিয়ে উঠে এসেছে, মৃতকে কবরস্থ করে সেটুকু মাটিই কবরে রেখে দেওয়া। এরচেয়ে বেশি উঁচু না করা। 

তেমনি কবরের উপর গম্বুজ নির্মাণ করা নিষেধ। যেমনটি নবীজী আলী রা. কে উদ্দেশ্যে করে বলেছিলেন, 

ا 

“কোনো ছবি পেলে তা নিশ্চিহ্ন করে দেবে। কোনো উঁচু কবর পেলে তা ধ্বংস করে মাটির সাথে মিশিয়ে দেবে।” (মুসলিম 

تو ايترون ما لايق شيا وهم يخلقون ولا يستطيعون ل ضا ولا أن يصوت ( وإن تدعوهم إلى الهدئ لا يمحور سواء عليكو أوموت أمر أن صيرون و إين الذين تدعون من دون أن عباد أمثاله أدعوهم فليستجيبوا ل ه إن ن صدقين ( ألم أ يمشون بها أم له رأي يبطشون بها أم لفتر أين يبصرون بها أثر له ، اذا يسمعون ا قل أعوا 

ش اء گرديد و لا ظرون ي إ لى أله الى تل التب وهو يتولى الصلچين والذين تدعون من دونه لا يستطيعون تضر ولا أنهم ينصرون ( وإن تدعوهم إلى 

الذي لا يموا وهو ينظرون إليك وهم لا يبصرون ع کی الأعراف: ۱۹۱ – ۱۹۸ 

“তারা কি এমন কাউকে শরীক সাব্যস্ত করে, যে একটি বস্তুও সৃষ্টি করেনি, বরং তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর তারা, না তাদের সাহায্য করতে পারে, না নিজের সাহায্য করতে পারে। আর তোমরা যদি তাদেরকে আহ্বান কর সুপথের দিকে, তবে। তারা তোমাদের আহ্বান অনুযায়ী চলবে না। তাদেরকে আহ্বান জানানো কিংবা নীরব থাকা উভয়টিই তোমাদের জন্য সমান। আল্লাহকে বাদ দিয়ে তোমরা যাদেরকে ডাক, তারা সবাই তোমাদের মতোই বান্দা। অতএব, তোমরা যাদেরকে ডাক, তখন তাদের পক্ষেও তো তোমাদের সে ডাক কবুল করা উচিত যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক! তাদের কি পা আছে, যদ্বারা তারা চলাফেরা করে, কিংবা তাদের কি হাত আছে, যা দ্বারা তারা ধরে! অথবা তাদের কি চোখ আছে যা দ্বারা তারা দেখতে পায়। কিংবা তাদের কি কান আছে যা দ্বারা শুনতে পায়? বলে দাও, তোমরা ডাক তোমাদের অংশীদারদিগকে, অতঃপর আমার অম ঙ্গল কর এবং আমাকে অবকাশ দিও না। আমার সহায় তো হলেন আল্লাহ, যিনি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। বস্তুত; তিনিই সাহায্য করেন সৎকর্মশীল বান্দাদের। আর তোমরা তাঁকে বাদ দিয়ে যাদেরকে ডাক তারা না তোমাদের কোনো সাহায্য করতে পারবে, না নিজেদের আত্মরক্ষা করতে পারবে। আর তুমি যদি তাদেরকে সুপথে আহ্বান কর, তবে তারা তা কিছুই শুনবে না। আর তুমি তো তাদের দেখছই, তোমার দিকে তাকিয়ে আছে, অথচ তারা কিছুই দেখতে পাচ্ছে না।” (সূরা আ’রাফ ১৯১ ১৯৮) 

ঈমানের দাবী, আল্লাহই একমাত্র উপাস্য। তাই কোনো মাধ্যম ছাড়া কেবল। তাঁকেই ডাকা হোক। 

পরকাল 

ভূমিকা শিঙ্গায় ফুৎকার 

পুনরুত্থান। বিচারদিবসের ভয়াবহতা হাশর। আমলনামা বিতরণ, মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ ও হিসাব মীযান স্থাপন। হাউযে কাউসার শাফা’আত (সুপারিশ) প্রত্যেক উম্মত নিজস্ব উপাস্যকে অনুসরণ করবে কাফেরদেরকে জাহান্নামের দিকে একত্রিকরণ 

সীরাত.. সীরাত পারাপার শেষে মুমিনদের কেসাস গ্রহণ মধ্যবর্তী লােকদের অবস্থা 

জাহান্নাম। 

জান্নাত 

ভুমিকা 

বারযাখী জীবন সমাপ্ত হওয়ার পর কেয়ামত সংঘটিত হবে। কেয়ামতের দিন আল্লাহ তা’লা সকল মানুষের পুনরুত্থান। করবেন। শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে। সবাইকে জমায়েত করা 

হবে। 

* কখন সংঘটিত হবে কেয়ামত? * শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়ার কী অর্থ? * কবর থেকে মানুষ কীভাবে বের হবে? * কবরস্থ, যেমন ডুবে গেছে, পুড়ে গেছে.. এদের অবস্থা কী 

হবে? 

* পুনরুত্থান কি কেবল মানুষেরই, নাকি সকল সৃষ্টির? * পুনরুত্থান কীভাবে হবে? * …??? 

এরকম হাজারো প্রশ্ন মনের গহীনে ঘুরপাক খাচ্ছে। আসুন, বিস্তারিত আলোচনা শুরু করি.. 

পরকালের উপর বিশ্বাসের স্তরসমূহ 

ভূমিকা

 পরকালের উপর বিশ্বাস ঈমানের মৌলিক স্তম্ভগুলোর অন্যতম। আল্লাহ তা’লা বলেন, 

اليمن عامين بال. واليوم الآخر والمملكة والكتب 

وول والبيئة البقرة: ۱۷۷ 

“বরং বড় সৎকাজ হলো এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর উপর, কিয়ামত দিবসের উপর, ফেরেশতাদের উপর এবং সকল নবী রাসূলের উপর।” (সূরা বাক্কারা-১৭৭)। আয়াতের ব্যাখ্যায় নবী করীম সা. বলেন, 

“বিশ্বাস করবে আল্লাহর উপর, তাঁর ফেরেশতাগণের উপর, তাঁর প্রেরিত আসমানী গ্রন্থসমূহের উপর, সকল রাসূলের উপর এবং বিচারদিবসের উপর। পাশাপাশি বিশ্বাস করবে তকদীরের ভালো-মন্দের উপর।” (মুসলিম-১০৬) 

পরকালের উপর ঈমানের অর্থ।

 অর্থাৎ বিচারদিবস আসন্ন এবং অবশ্যম্ভাবী, মৃত্যুর পর কবরে সুখ বা শাস্তি অবশ্যম্ভাবী এ কথা বিশ্বাস করা এবং কেয়ামতের নিদর্শনসমূহকে সত্যায়ন করা। 

যে ব্যক্তি বিচারদিবসে অবিশ্বাসী বা সংশয়ী হলো, নিঃসন্দেহে সে মহা-কুফুরী (চরমভাবে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন) করল। এর দ্বারা সে ইসলামের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে যাবে। আল্লাহ তা’লা বলেন, 

ومن ي 

بالله ومې گټه وه وسله واليوم الأخير فقد 

النساء: ۱۳۶ | 

بعيدا 

“যে ব্যক্তি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর গ্রন্থসমূহ, তাঁর প্রেরিতগণ এবং বিচারদিবসে অস্বীকার করল, সে চরমভাবে পথভ্রষ্ট হয়ে গেল।” (সূরা নিছা-১৩৬)। 

পরকাল আসন্ন, এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ নেই। সন্দেহ পোষণকারী নিঃসন্দেহে কাফের এবং আল্লাহ ও রাসূলের প্রকাশ্য মিথ্যারোপকারী। কোন প্রকার সন্দেহ-সংশয় ছাড়াই পরকালের উপর বিশ্বাস অপরিহার্য। চিরসফল মুমিনদের গুণ বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লাহ বলেন, 

تقولين يؤمن بما أنزل إليك وما أنزل من قبلك والآخرة هم 

که البقرة:4 

يوقنون 

“এবং যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে সেসব বিষয়ের উপর যা কিছু তোমার প্রতি অবর্তীণ হয়েছে এবং সেসব বিষয়ের উপর যা তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে। আর আখেরাতকে যারা নিশ্চিত বলে বিশ্বাস করে।” (সূরা বাকারা-৪) বিচার দিবসে কোন সন্দেহ নেই। আল্লাহ বলেন, 

وأين الساعة اتية لا ريب فيها وأن الله يبعث من في القبور چه 

“কেয়ামত অবশ্যম্ভাবী, এতে সন্দেহ নেই এবং এ কারণে যে, কবরে যারা আছে, আল্লাহ তাদেরকে পুনরুত্থিত করবেন” (সূরা হজ্জ্ব-৭) 

পরকাল, পুনরুত্থান ও জান্নাত-জাহান্নামের প্রতি যে অবিশ্বাসী। হলো, সে ইসলামকে অস্বীকার করে কাফের হয়ে গেল। 

পরকালের বৈশিষ্ট্যাবলী 

আল্লাহ তা’লা কুরআন অবতীর্ণ করে তাতে সকল কিছুর বিবরণ দিয়েছেন। রাসূলদেরকে সুসংবাদদাতা ও ভীতিপ্রদর্শনকারী রূপে প্রেরণ করেছেন। আমাদেরকে পরকাল চিনিয়েছেন। পরকালের বৈশিষ্ট্যাবলীর বিবরণ শুনিয়েছেন। 

* পরকালের বৈশিষ্ট্যাবলী কী? * এরকম ভয়ানক বৈশিষ্ট্যাবলী বর্ণনার কারণ কী? * এগুলাে পড়ে একজন মুমিনকে কীরূপে প্রস্তুতি নেয়া উচিত? 

ভূমিকা

পরকাল ওইদিন, যেদিন শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে। বিচারদিবস প্রতিষ্ঠিত হবে। পরকালের কতিপয় বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে সেখানের অবস্থা সম্পর্কে আল্লাহ তা’লা আমাদেরকে অবহিত করেছেন। তন্মধ্যে.. 

চরম সত্য দিবস 

হ্যাঁ.. আল্লাহর শপথ, তা চরম সত্য ও অবশ্যম্ভাবী। আল্লাহ তা’লা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, 

“হে মানুষ, নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। সুতরাং পার্থিব জীবন যেন। তোমাদেরকে প্রতারণা না করে। এবং সেই প্রবঞ্চক যেন কিছুতেই তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে প্রবঞ্চিত না করে।” (সূরা ফাতির-৫) 

 নবী করীম সা. বলেন, “বিচারদিবস সত্য” (বুখারী-১০৬৯) 

কাফেরদের জন্য চরম কঠিন দিন।

 কেননা, সেদিন আমলের সুযোগ থাকবে না। পরিণতি নির্ধারিত হয়ে যাবে। প্রত্যেক ভালো ও মন্দের কর্তাকে তার প্রতিদান। বুঝিয়ে দেয়া হবে। কারো সেখানে কারচুপি করার সুযোগ থাকবে না। আল্লাহ তা’লা বলেন, 

وذلك يومذيوعييون على الكفرين عيرسيره 

المدثر: ۹ – ۱۰ 

“সেদিন হবে কঠিন দিন। কাফেরদের জন্যে এটা সহজ নয়।” (সূরা মুদ্দাছছির-৯, ১০)। 

তবে মুমিনদের জন্য অত্যন্ত সহজ দিন হবে সেটি। আল্লাহ তা’লা তাদেরকে নিরাপদে রাখবেন। অভয় দেবেন। কেউ কেউ আরশের ছায়াতলে স্থান পাবেন। বিস্তারিত বিবরণ সামনে আলোচিত হবে ইনশাআল্লাহ..! 

প্রতিফল দিবস। কৃতকর্মের যথাযথ প্রতিফল দেয়া হবে। ভালো হলে ভালো, মন্দ হলে মন্দ। সকল কিছুই আমলনামায় অনুরূপ লিপিবদ্ধ থাকবে। আল্লাহ তা’লা বলেন, 

ل ته ما 

يوم لا ريب فيه و يت 

و فكيف إذا جمعته 

سبت وهم لايظلمون نه آل عمران: 25 

“কিন্ত তখন কী অবস্থা দাঁড়াবে যখন আমি তাদেরকে একদিন সমবেত করব যে দিনের আগমনে কোন সন্দেহ নেই আর নিজেদের কৃতকর্ম তাদের প্রত্যেকেই পাবে। তাদের প্রাপ্য প্রদানে মোটেই অন্যায় করা হবে না।” (সূরা আলে ইমরান-২৫) 

সুনির্ধারিত দিবস

 যা কখনো ত্বরান্বিত হবে না এবং বিলম্বিতও হবে না। আল্লাহ তালা বলেন, 

وقل كر ميعاد يوم السترون عنه ساعة ولا تقيمونه 

r: : 

“বলুন, তোমাদের জন্যে একটি। দিনের ওয়াদা রয়েছে যাকে । তোমরা এক মুহূর্তও বিলম্বিত করতে পারবে না এবং ত্বরান্বিতও করতে পারবে না।” (সূরা সাবা-৩০)। 

অতি নিকটবর্তী দিবস

 হ্যাঁ. সেদিনটি খুবই নিকটবর্তী, যদিও আমরা তা দূরে ভাবছি। পূর্ববর্তী জাতিসমূহকে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল, আমাদেরকেও দেয়া হচ্ছে।

নবী করীম সা. বলেন, “আমার ও কেয়ামতের মাঝে এরকম সময় অবশিষ্ট!” এ কথা বলার সময় তিনি তর্জুনী ও মধ্যমাঙ্গুলি একত্রিত করে দেখাচ্ছিলেন। (মুসলিম-২০৪২)। আল্লাহ তা’লা বলেন, 

المعارج: 6 -۷ 

إلهيرونه و بعيدا ونه قريبا 

“তারা তা দূরে মনে করছে, আমি তো দেখছি খুবই নিকটবর্তী!” (সূরা মিরাজ-৬,৭) 

হঠাৎ এসে যাবে সেদিন ।

 জ্ঞানের যতই বিকাশ ঘটুক; কেয়ামতের সঠিক সময় যাচাই করা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। এমনকি নবী রাসূলদের থেকেও আল্লাহ তা’লা বিষয়টি গোপন রেখেছেন। এক প্রশ্নের উত্তরে নবীজী বলেছিলেন, “জিজ্ঞেসকারীর চেয়ে জিজ্ঞেসকৃত এ সম্পর্কে অধিক অবগত নয়।” আল্লাহ তা’লা বলেন, 

هاوكهم 

و بل تأتيهم بغتة فتبهرفلايستطيعو 

که الأنبياء:. | 

ظرون 

“বরং তা আসবে তাদের উপর অতর্কিতভাবে, অতঃপর তাদেরকে তা হতবুদ্ধি করে দেবে, তখন তারা তা রোধ করতেও পারবে না এবং তাদেরকে অবকাশও দেয়া হবে না।” (সূরা আম্বিয়া-৪০) আল্লাহ তা’লা আরো বলেন, 

و يتلونك عن الساعة أيا مسها قل إنما علمها عندي لا يجليها لوها إلا هو ثقلت في السموات والأرض لا تأتيكر إلا بغته 

الأعراف: ۱۸۷ 

“তারা আপনাকে জিজ্ঞেস করে, কেয়ামত কখন অনুষ্ঠিত হবে? বলে দিন এর খবর তো আমার পালনকর্তার কাছেই রয়েছে। তিনিই তা অনাবৃত করে দেখাবেন নির্ধারিত সময়ে। আসমান ও জমিনের জন্য সেটি অতি কঠিন বিষয়। যখন তা তোমাদের উপর আসবে অজান্তেই আসবে।” (সূরা আ’রাফ-১৮৭) 

সুদীর্ঘ দিবস

 সৃষ্টির অতিবৃহৎ দিবস সেটি। তার পূর্বে ও পরে এমন দিবস সৃষ্টি হয়নি। সেদিন ভয়ানক সব ঘটনার অবতারণা হবে। আল্লাহ তা’লা বলেন, 

ليؤيرير يوميقوم لاش لرب العلمين (3) المطففين: 0 – 6 

“সেই মহাদিবসে, যেদিন মানুষ দাঁড়াবে বিশ্বপালনকর্তার সামনে।” (সূরা মুতাফফিফীন-৫,৬) 

সূর্যকে মানুষের নিকটবর্তী করা হবে

 সেদিন সবকিছুই পরিবর্তন হয়ে যাবে। জগতের সকল নিয়ম উলট পালট হয়ে যাবে। আকাশ বিদীর্ণ হবে। সূর্যকে সেদিন 

সৃষ্টির অতি-নিকটতবর্তী করা হবে।নবী করীম সা. বলেন, “কেয়ামতের দিন সূর্যকে। মানুষের অতিনিকটবর্তী করা হবে, এমনকি এক মাইল বা দুই মাইল দূরত্বে নিয়ে আসা হবে।সুলাইম রহ. বলেন, এখানে মাইল বলতে কি দূরত্ব উদ্দেশ্য নাকি চোখের কোণায় ব্যবহৃত ‘মীল’ (আরবী অর্থে) উদ্দেশ্য তা 

স্পষ্ট নয়। নবী করীম সা. বলেন, “অতঃপর সূর্য তাদেরকে বিগলিত করে দেবে। আমল অনুপাতে সকলেই নিজ নিজ দেহনির্গত ঘামে অবস্থান করবে। কারো ঘাম জমাট হয়ে পায়ের গোছা পর্যন্ত এসে যাবে। কারো হাটু পর্যন্ত, কারো কোমর পর্যন্ত। আবার কারো গলা পর্যন্ত জমাট হয়ে যাবে।” এ কথা বলার সময় নবীজী কণ্ঠাস্থির দিকে হাতে ইশারা করছিলেন। (মুসনাদে আহমদ-৭৩৩০) 

আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কেউ সেদিন কথা বলার সাহস পাবে না

 সকল সৃষ্টি সেদিন উপস্থিত থাকবে। মানুষ-জ্বিন, পাপাচারী সৎকর্মশীল, ফেরেশতাকুল ও নবী-রাসূল। সকলেই নিশ্রুপ অবস্থান করবে। মহামহিম ও পরাক্রমশালী আল্লাহর সামনে কেউ কথা বলার সাহস পাবে না। যাকে আল্লাহ বলার অনুমতি | দেবেন কেবল সেই বলতে পারবে। আল্লাহ তা’লা বলেন, 

“যেদিন তা আসবে সেদিন আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কেউ কোন কথা বলতে পারবে না। অতঃপর কিছু লোক হবে হতভাগ্য আর কিছু লোক সৌভাগ্যবান।” (সূরা হূদ-১০৫)। 

অন্য আয়াতে বলেন, 

وعين الأصوات النجمن فلام إلاهما) که طه: ۱۰۸ 

“দয়াময় আল্লাহর ভয়ে সব শব্দ ক্ষীণ হয়ে যাবে। সুতরাং মৃদু গুঞ্জন ব্যতীত তুমি কিছুই শুনবে না।” (সূরা ত্বাহা-১০৮) 

যেদিন রাজত্ব হবে কেবল আল্লাহর

সকল প্রতাপশালীর প্রতাপ আর অধিপতিদের রাজত্ব সেদিন ধ্বংস হয়ে যাবে। সেদিন কোন প্রেসিডেন্ট থাকবে না। কোন পরাশক্তির অস্তিত্ব থাকবে না। এক আল্লাহর রাজত্বই কেবল অবশিষ্ট থাকবে। সেদিন বিচার হবে। এক আল্লাহর ইচ্ছাতে। আল্লাহ বলেন, 

که غافر: ۱۹ 

ومن الملك اليوه يه لوحد القهار 

“আজ রাজত্ব কার? এক প্রবল পরাক্রান্ত আল্লাহর” (সূরা গাফির-১৬) 

পাপিষ্ঠদের জন্য মহা পরিতাপ দিবস

 যারা দুনিয়ায় অহংকার করেছে, সীমালঙ্ঘন করেছে, সত্যকে অস্বীকার করেছে, নবী রাসূলদের দাওয়াতকে প্রত্যাখ্যান করেছে, সেদিন তারা চরম লজ্জিত ও অনুতপ্ত হবে। বাম হাতে তাদের আমলনামা দেয়া হবে। আল্লাহ বলেন, 

ليتني أتحدث مع الممول 

و ويوم يعمم الظالم على يديه يقول 

لائ لیلا و لقد أضلني عن 

ويلتى ليتني لم أتج 

سبيلا ألبير 

بعد إذ جاي وكان الشيط للإنسكن ولاية الفرقان: 

“জালেম সেদিন আপন হস্তদ্বয় দংশন করতে করতে বলবে, হায় আফসোস! আমি যদি রাসূলের সাথে পথ অবলম্বন করতাম। হায় আমার দুর্ভাগ্য, আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম।” (সুরা ফুরকান ২৭-২৯) 

সেদিনের বৈশিষ্ট্যই সেদিনের প্রকৃতি ভয়াবহতা স্পষ্ট করে দিয়েছে। 

কেয়ামত কখন? 

কোনো সৃষ্টিই কেয়ামতের সঠিক মুহূর্ত সম্পর্কে অবগত নয়। এর চূড়ান্ত জ্ঞান কেবল আল্লাহর কাছেই। আল্লাহ বলেন, 

ألغيث ويعل ما في 

و إ الله عندهو علم الساعة و 

ام که لقمان: ۳۶ 

“নিশ্চয় আল্লাহর কাছেই কেয়ামতের জ্ঞান রয়েছে। তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং গর্ভাশয়ে যা থাকে, তিনিই তা জানেন।” (সূরা লুকমান-৩৪) অন্য আয়াতে বলেন, 

ويتلونك عن الساعة أيان ممسلها ( فيد أنت من تنها إلى ربك ممتهنها إنما أنت مؤمن يخشهای النازعات: 42 – 

“আপনাকে জিজ্ঞেস করে, কেয়ামত কখন অনুষ্ঠিত হবে? এর বর্ণনার সাথে আপনার কী সম্পর্ক? এর চূড়ান্ত জ্ঞান আপনার পালনকর্তার কাছে। যে একে ভয় করে, আপনি তো কেবল তাকেই সতর্ক করবেন।” (সূরা নাযিআত ৪২-৪৫) 

* কেয়ামতের সঠিক মুহূর্ত সম্পর্কে অবগত হওয়া কি সম্ভব?

 * কোন দিন কেয়ামত হবে তা কি আমরা জানি? 

ভূমিকা

 একদা জিবরীল আ, নবীজীকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “কেয়ামত কখন?” উত্তরে নবীজী বলেছিলেন, “জিজ্ঞেসকৃত এ বিষয়ে জিজ্ঞেসকারী অপেক্ষা অধিক অবগত নয়।” ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী করীম সা. বলেন 

“অদৃশ্যের বিষয় পাঁচটিঃ অতঃপর তিনি কুরআনুল কারীমের এই আয়াতটি পাঠ করলেন, “নিশ্চয় আল্লাহর কাছেই কেয়ামতের জ্ঞান রয়েছে। তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং গর্ভাশয়ে যা থাকে, তিনিই তা জানেন। কেউ জানে না আগামীকাল সে কী উপার্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন দেশে সে মৃত্যুবরণ করবে। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।” (সূরা লুকমান-৩৪)। 

প্রশ্ন, কেয়ামতের মুহূর্ত জেনে আমাদের কী লাভ? | উত্তরঃ হাদিসে এসেছে, যে মৃত্যু বরণ করল, তার । কেয়ামত ঘটে গেল। মৃত্যু কখন আসে, তাই মানুষ জানে না; তবে কেয়ামত সম্পর্কে জেনে তাদের কী লাভ? ধরুন, আপনি অবগত হলেন যে, এক বৎসর পর কেয়ামত সংঘটিত হবে। তবে এক বৎসর যে আপনি বেঁচে থাকবেন, সেই গ্যারান্টি কোথায়? এ কারণেই নবীজীকে কেয়ামত সম্পর্কে কেউ প্রশ্ন করলে তিনি উল্টো সতর্কতামূলক প্রশ্ন করে বলতেন, সেজন্য তুমি কী প্রস্ততি নিয়েছ? আনাছ রা. বলেন, গ্রাম্য এক লোক নবীজীর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল, কেয়ামত কখন সংঘটিত হবে? উত্তরে তিনি বললেন, ধিক তোমার! সে জন্য তুমি কী প্রস্তুতি নিয়েছ? সে বলল, কিছুই না! তবে আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসি। নবীজী বললেন, যাকে তুমি ভালোবাস তার সাথেই তোমার পরিণাম সাব্যস্ত হবে। আমরা সকলেই বললাম, আমাদের পরিণামও কি সেরকম হবে? নবীজী বললেন, হ্যাঁ..! রাসূলের উত্তর শুনে সেদিন আমরা অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছিলাম। (বুখারী-৫৮১৫)। 

মাছআলা 

কোন দিন কেয়ামত সংঘটিত হবে? উত্তরঃ একাধিক হাদিসের বর্ণনামতে শুক্রবার দিন কেয়ামত সংঘটিত হবে।। 

 নবী করীম সা. বলেন, “জুমুআর দিনেই কেয়ামত সংঘটিত হবে।” (মুসলিম-২০১৪)। এ কারণেই সকল সৃষ্টজীব এ দিনটিকে ভয় পায়। নবী করীম সা. বলেন, “শ্রেষ্ঠ দিন হলো জুমুআর দিন। এ দিনেই আদমের সৃষ্টি। এ দিনেই তাকে দুনিয়ায় অবতরণ করা হয়েছিল। এ দিনেই তার তাওবা গৃহিত হয়েছিল। এ দিনেই তিনি মৃত্যুবরণ করেছিলেন। এ দিনেই কেয়ামত সংঘটিত হবে। 

মানুষ ও জ্বিন ব্যতীত জগতের সকল সৃষ্টি এ দিনের সূর্যোদয় থেকে দিবসের প্রথম প্রহর পর্যন্ত ভীত-সন্ত্রস্ত থাকে।” (আবু । দাউদ-১০৪৮) 

দিনের দৈর্ঘ্য

 কেয়ামতের দিবস অত্যন্ত কঠিন ও সুদির্ঘ দিবস।এদিনের দৈর্ঘ্য পঞ্চাশ হাজার বছর। এদিন সকল সৃষ্টির বিচারকার্য সম্পাদন হবে।

নবী করীম সা. বলেন, “স্বর্ণ-রূপার অধিকারী যারাই এগুলোর হক আদায় করেনি, কেয়ামতের দিন তাদের জন্য আগুনের বিছানা পেতে দেয়া হবে। অতঃপর সেই বিছানা জাহান্নামের আগুনে ভরে দেয়া হবে। ফলে ব্যক্তির চেহারা, পার্শ্ব ও পিঠ ঝলসে যাবে। যখনই একটু শীতল হবে, তখনই আবার তাকে এ শাস্তি দেয়া হবে। সেদিনের দৈর্ঘ্য হবে পঞ্চাশ হাজার বছর। শেষপর্যন্ত সকল সৃষ্টির বিচারকার্য সম্পাদন করা হবে। পরিণাম হয়ত জান্নাত নয়ত জাহান্নাম সাব্যস্ত হবে।” (মুসলিম-২৩৩৭) 

তবে মুমিনদের জন্য সে দিনটি হবে অত্যন্ত সহজ।তাদের জন্য তা জুহর ও আসরের মধ্যবর্তী সময়ের মত মনে হবে। যেমনটি আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে, 

 “মুমিনদের জন্য কেয়ামতের দিনটি জুহর ও আসরের মধ্যবর্তী সময়ের মতো মনে হবে।” (মুস্তাদরাকে হাকিম-২৮৪) 

কেয়ামত কখন? প্রশ্নটি প্রাসঙ্গিক; প্রস্তুতি কী? সে প্রশ্নের উত্তর খোঁজ! 

পরকাল দিবসের নামসমূহ 

পরকাল হলো সৃষ্টির জন্য অতি-দীর্ঘ এক কাল। অতিশয় ভয়াবহ ও সুকঠিন এক সময়। এ দিনের বড়ত্ব ও ভয়াবহতা বুঝাতে তার অনেকগুলো নাম ব্যবহৃত হয়েছে। এ নামসমূহ জানলে এর ভয়াবহতা সম্পর্কে কিছুটা ধারণা লাভ করা যায়, 

* পরকাল দিবসের নামগুলো কী কী? 

* কেন এত নাম দেওয়া হলো? 

ভূমিকা

 বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলীর আরবী ভাষায় অনেকগুলো নাম থাকে।বস্তু যত বড়, নামও তত অধিক। তরবারী’র অনেকগুলো নাম আরবী ভাষায় প্রসিদ্ধ। যেমন- সাইফ, মুহান্নাদ, হুছাম, সারিম.. ইত্যাদি। তেমনি সিংহেরও অনেগুলো নাম এসেছে। যেমন, হিযাবর, লাইছ, গাদানফার.. ইত্যাদি। পক্ষান্তরে ক্ষুদ্র ও গুরুত্বহীন বিষয়ের নাম থাকে অল্প। এ দিবসের প্রসিদ্ধ নাম হলো ‘কেয়ামত দিবস’। কেয়ামত শব্দের আরবী অর্থ হলো, দণ্ডায়মান হওয়া। নামকরণের কারণ হলো, সেদিন সকল সৃষ্টি প্রতিপালকের সামনে দাঁড়াবে। আল্লাহ 

তা’লা বলেন, 

ولا أقيم يوم القيمة 2 که القيامة: ۱ 

“শপথ কেয়ামত দিবসের” (সূরা কিয়ামাহ-১)

 কেয়ামত দিবসে মানুষের দণ্ডায়মান হওয়ার বিষয়টি আল্লাহ এভাবে বলেছেন, 

“যেদিন মানুষ জগতসমূহের প্রতিপালকের সামনে দণ্ডায়মান। হবে” (সূরা মুতাফফিফীন-৬)। 

কেয়ামত দিবসের নামসমূহ (১) (পরকাল দিবস)। কারণ, তার পর আর কোনো দিবস নেই। আল্লাহ তা’লা বলেন, 

و من امن بالله واليوم آخر وعيل صلحا فلهم أجرهم عند بهة البقرة: 62 

“যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে সৎকর্ম করবে, তাদের জন্য রয়েছে তাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান।” (সূরা বাক্বারা-৬২)

 (২) (বিচারদিবস)। কারণ, সেদিন সকল মানুষের হিসাব ও বিচারকার্য সম্পাদন করা হবে। 

(৩) )(সমাবেশ দিবস)। কারণ, আল্লাহ তা’লা সেদিন। পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রতিদানের জন্য একত্রিত করবেন।। 

و يوم يجمع كر ليوم الجمع اليوم التغابن و التغابن: ۹ 

“সেদিন অর্থাৎ সমাবেশের দিন আল্লাহ তোমাদেরকে সমবেত করবেন। এ দিন হার-জিতের দিন।” (সূরা তাগাবুন-৯) 

(৪) (নিরীক্ষণ ও শুনানি দিবস)। কারণ, সেদিন মানুষের পরিণতি (নির্ণয়) করা হবে। আল্লাহ বলেন, 

ولا هم ينظرون 

وقل يوم الفتح لاينقع الذين كفروا إيم 

 “বলুন, ফয়সালার দিনে কাফেরদের ঈমান তাদের কোনো কাজে আসবে না এবং তাদেরকে অবকাশও দেওয়া হবে না।” (সূরা সাজদা-২৯)

 (৫) (চরম বাস্তব দিবস)। কারণ, নিঃসন্দেহে সেদিন কেয়ামত বাস্তবায়িত হয়ে আল্লাহর সকল প্রতিশ্রুত বিষয় সামনে এসে যাবে। 

(৬) (পার্থক্য বিধানকারী দিবস)। কারণ, সেদিন আল্লাহ তা’লা কৃতকর্ম অনুযায়ী বান্দাদের মাঝে পার্থক্য বিধান করে দেবেন। আল্লাহ বলেন, 

 “এসব বিষয় কোন দিবসের জন্যে স্থগিত রাখা হয়েছে? বিচার দিবসের জন্য। আপনি কি জানেন বিচার দিবস কী?” (সূরা মুরসালাত ১২-১৪)।

 (৭) (প্রলয়ঙ্করী দিবস)। কারণ, কেয়ামতের সেই বজ্রকঠিন নিনাদ কর্ণসমূহকে বধির করে দেবে। 

(৮) (মহা সংকট দিবস)। আল্লাহ বলেন, 

“অতঃপর যখন মহাসংকট এসে যাবে।” (সূরা নাযিআত-৩৪) 

(৯)  (করাঘাতকারী)। আল্লাহ বলেন, 

“করাঘাতকারী, করাঘাতকারী কী?” (সূরা কারিআ ১-২)

 (১০) (সুনিশ্চিত দিবস)। কারণ, কেয়ামতের সকল কিছুই সেদিন সুনিশ্চিতরূপে সকলের সামনে চলে আসবে। আল্লাহ বলেন, 

و الحاقة يما الحاقي به الحاقة: 1-2 | 

“সুনিশ্চিত, সুনিশ্চিত কী?” (সূরা আল-হাক্কা ১-২)

 (১১)(শেষ দিবস)। সেদিনের পর আর কোনো দিন নেই। আল্লাহ বলেন, 

ولايت ومون بما أنزل إليك وما أنزل من قبلي وباخرة هم يوقون ( که 

| : .JI “যারা আপনার প্রতি এবং আপনার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবতরণকৃত বিষয় সত্য জানে এবং শেষ দিবসে বিশ্বাস করে।” (সূরা বাক্বারা-৪)। 

(১২) (হার-জিত দিবস)। জান্নাতবাসী চির-সফল 

আর জাহান্নামবাসী চির দুর্ভাগা সাব্যস্ত হবে।

 (১৩)(পরিতাপ দিবস)। অপরাধীরা সেদিন নিজেদের কৃতকর্মের জন্য চির-লজ্জিত এবং চরম অনুতপ্ত হবে। আল্লাহ বলেন, 

: “আপনি তাদেরকে পরিতাপের দিবস সম্পর্কে হুশিয়ার করে দিন যখন সব ব্যাপারে মীমাংসা হয়ে যাবে। এখন তারা অসাবধানতায় আছে এবং তারা বিশ্বাস স্থাপন করছে না।” (সূরা মারিয়াম-৩৯) এ ধরণের আরও নাম বর্ণিত রয়েছে। প্রতিটি নামই সে দিবসের বৈশিষ্ট্য এবং সেদিনে সৃষ্টির ভয়াবহ অবস্থার বিবরণ দেয়। 

কেয়ামত দিবসের পরিস্থিতি সমূহ

 কেয়ামত দিবস এক সুদীর্ঘ দিবস। সেদিন পরিস্থিতি নানান রূপ নেবে। আমল ও অবস্থা ভেদে প্রেক্ষাপট 

পরিবর্তন হবে। একই ব্যক্তি একাধিক পরিস্থিতির সম্মুখিন হতে পারে। কোনো কোনো পরিস্থিতিতে কৃতকর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে না; বরং কৃতকর্মই তার অবস্থার বিবরণ দেবে। আল্লাহ বলেন, 

إنش ولاجانم به الرحمن: ۳۹ 

و فيومي عند 

“সেদিন না মানুষ তার অপরাধ সম্পর্কে জিজ্ঞেসিত হবে, না জ্বিন।” (সূরা আর রাহমান-৩৯) আবার কোনো কোনো পরিস্থিতিতে অপকীর্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। অপরাধসমূহ প্রকাশ করে তাকে লাঞ্ছিত করা হবে। আল্লাহ বলেন, 

6 الصافات: 24 

ووقتموهم إنه شولون 

“এবং তাদেরকে থামাও, তারা জিজ্ঞাসিত হবে।” (সূরা সাফফাত-২৪) অন্য আয়াতে বলেন, 

و قلين 

الذين أرسل إليه ولكل المرسلين جه الأعراف: ۲ 

“অতএব, আমি অবশ্যই তাদেরকে জিজ্ঞেস করব যাদের কাছে রসূল প্রেরিত হয়েছিল এবং আমি অবশ্যই জিজ্ঞেস করব রসূলগণকে।” (সূরা আ’রাফ-৬)। আবার কোনো কোনো পরিস্থিতিতে কৃতকর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। সকলেই নিজেদের কৃতকর্মের যথাযথ স্বীকারোক্তি দেবে; কিছুই গোপন করবে না। আল্লাহ বলেন, 

و النساء: 2 

و يكون الله حديثا 

“আল্লাহর সামনে তারা কিছুই গোপন করবে না।” (সূরা নিছা ৪২) কোনো এক পরিস্থিতিতে কাফেরদেরকে জিজ্ঞেস করা হলে তারা মিথ্যারোপ করবে, কুফুরির কথা অস্বীকার করবে। কিন্তু তাদের এই মিথ্যারোপ সর্বজ্ঞানী প্রতিপালকের সামনে তাদের অপমান আর লাঞ্ছনা ছাড়া কিছুই বৃদ্ধি করবে না। আল্লাহ বলেন, 

“অতঃপর তাদের কোন অপরিচ্ছন্নতা থাকবে না; তবে এটুকুই যে তারা বলবে, আমাদের প্রতিপালক আল্লাহর কসম, আমরা মুশরিক ছিলাম না। দেখুন তো, কীভাবে মিথ্যা বলছে তারা। নিজেদের বিপক্ষে? এবং যেসব বিষয় তারা আপনার প্রতি 

| মিছামিছি রচনা করত, তা সবই উধাও হয়ে গেছে।” (সূরা 

আনআম- ২৩,২৪) আরেক পরিস্থিতিতে কাফেরদের মুখ বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে তারা অস্থির ও ভীত হয়ে যাবে। পরস্পর কথা বলার সাহস পাবে না। আল্লাহ বলেন, 

المرسلين في فييت 

وووم ياديه فيقول ماذا أجب عليهم الأنبا مذهلا يتساءلون ( که القصص: 65 – 66 

“যেদিন আল্লাহ তাদেরকে ডেকে বলবেন, তোমরা রসূলগণকে কী জওয়াব দিয়েছিলে? অতঃপর তাদের কথাবার্তা বন্ধ হয়ে যাবে এবং তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। না।” (সূরা কাসাস ৬৫,৬৬) প্রতিপালকের সামনে যুক্তি ভুলে যাবে।কী বলবে, চিন্তা করে পাবে না। সেদিন তাদের মুক্তির কোন উপায় থাকবে না। 

রহমত, চরম ভয়াবহ ও সুদীর্ঘ দিবস হওয়া সত্তেও মুমিনদের জন্য সেদিনটি হবে অত্যন্ত সহজ.. 

শিঙ্গায় ফুক 

শিঙ্গায় ফুক-দান হলো কেয়ামতের সূচনা, যার মাধ্যমে বিশ্ব জগতের সকল ব্যবপস্থাপনা ধ্বংসের সম্মুখীন হবে। 

* শিঙ্গা কী? কে দেবেন ফুৎকার?

 * কতবার ফুক দেবেন? ফুক-দানের সাথে সাথে কী ঘটবে?

 * ফুৎকার শুনে কি সকল সৃষ্টিই মৃত্যুবরণ করবে? 

ভূমিকা 

ফুক-দানকারী

 শিঙ্গায় ফুৎকার সংক্রান্ত প্রমাণ

ফুকার সংখ্যা 

উভয় ফু-র মধ্যবর্তী সময়

 ফুৎকার দিবস। 

ফুৎকার শ্রবণকারী প্রথম ব্যক্তি 

মুমিনদের জন্য আল্লাহর অপার অনুগ্রহ 

ভূমিকা

 পরিভাষায় শিঙ্গা বলতে আমরা ছাগলের শিংকে বুঝি।

 একদা জনৈক বেদুইন এসে । নবী করীম সা. কে “সূর কী? জিজ্ঞেস করলে তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, “শিং, যার সাহায্যে ফুঁৎকার দেয়া হবে।” (মুসনাদে 

আহমদ-৬৫০৭)। 

দুনিয়াতে আমাদের ব্যবহৃত শিঙ্গা, তব হাদিসের দ্বারা এটা উদ্দেশ্য নয়। 

শিঙ্গায় ফুক-দানকারী

 শিঙ্গায় ফুঙ্কারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতা হলেন ইসরাফীল আ.। শিঙ্গা হাতে প্রতিপালকের আদেশের অপেক্ষায় সদা দণ্ডায়মান। সৃষ্টির পর থেকেই তিনি এভাবে দাঁড়ানো।

নবী করীম সা. বলেন, “আদেশ পালনে যদি বিন্দুমাত্র বিলম্ব হয়ে যায় সেই আশঙ্কায় দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে শিঙ্গা নিয়ে দাঁড়ানো ফেরেশতার দৃষ্টি সর্বক্ষণ আরশের দিকে। তার দৃষ্টি যেন দু’টি উজ্জ্বল বৃহৎ নক্ষত্র।” (মুস্তাদরাকে হাকিম-৮৬৭৬)। কেয়ামতের অতি-নিকটবর্তী এ সময়ে শিঙ্গায় ফুৎকার দিতে নিশ্চয় তিনি অধিক প্রস্তুত রয়েছেন। 

নবী করীম সা. বলেন, “কীভাবে আমি বিশ্রাম করব.. অথচ শিঙ্গা নিয়ে দাঁড়ানো ফেরেশতা শিঙ্গা মুখে নিয়ে নিয়েছে। কপাল ভাঁজ করে আদেশের অপেক্ষায় কান খাড়া করেছে। মুসলিমগণ বললেন, আমরা কী বলব হে আল্লাহ রাসূল? বললেন, তোমরা বল, আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং কতইনা উত্তম তত্ত্বাবধায়ক তিনি। প্রতিপালক আল্লাহর উপরই আমরা ভরসা করলাম।” (তিরমিযী-৩২৪৩)। 

শিঙ্গায় ফুৎকার সম্পর্কিত প্রমাণ 

ফুকার বলতে প্রকৃত ফুৎকারই উদ্দেশ্য, যা শুনে সকল সৃষ্টি মুহূর্তের মধ্যে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে মৃত্যুমুখে পতিত হবে। কুরআন-হাদিসে বিষয়টি একাধিকবার বর্ণিত হয়েছে, * আল্লাহ বলেন, 

ووف في الورفع من في التموين ومن في الأرض إلا من 

و الزمر: ۱۸ 

بن فيه أخرى فإذا هترقيا ينظرون 

شاء الله 

“শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে, ফলে আসমান ও যমীনে যারা আছে সবাই বেহুশ হয়ে যাবে, তবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন। অতঃপর আবার শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে, তৎক্ষণাৎ তারা দণ্ডায়মান হয়ে দেখতে থাকবে।” (সূরা যুমার-৬৮) * আল্লাহ বলেন, 

و ويوم ينف في التمور ففزع من في الموت ومن في الأرض إلامن 

النمل: ۸۷ 

شاء الله 

“যেদিন শিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়া হবে, অতঃপর আল্লাহ যাদেরকে ইচ্ছা করবেন, তারা ব্যতীত নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলে যারা আছে, সবাই ভীত-বিহবল হয়ে পড়বে।” (সূরা নামল-৮৭) * আল্লাহ বলেন, 

ووف في الطور فإذا هم من الأجداث إلى هرنیونی که 

پس: ۵۱ 

“শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে, তখনই তারা কবর থেকে তাদের পালনকর্তার দিকে ছুটে চলবে।” (সূরা ইয়াছিন-৫১)

নবী করীম সা. বলেন, “অতপর শিঙ্গায় ফুক দেয়া হবে। তা শুনার সাথে সাথে সকলের কানের পর্দা ফেটে যাবে। কান চেপে ধরে সবাই এদিক-ওদিক লুটিয়ে পড়বে। সর্বপ্রথম যে ব্যক্তি 

শুনবে, সে উটের আস্তাবলে কর্মরত থাকবে। তৎক্ষণাৎ সে। | বেহুশ হয়ে যাবে; সাথে সাথে সকল মানুষও।” (মুসলিম 

৭৫৬৮) 

ফুকার সংখ্যা শিঙ্গায় দু’বার ফুঁক দেয়া হবে, 

প্রথম ফুঁক । এ ফুকে সকলেই ভীত বিহ্বল হয়ে মৃত্যুর সম্মুখীন হবে। পৃথিবীর বিনাশ ঘটবে।মানুষ, জ্বিন, ফেরেশতা, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ সকল কিছু ধ্বংস হয়ে যাবে। মহা প্রতাপশালী এক আল্লাহর সত্তাই কেবল অবশিষ্ট থাকবে।

 * দ্বিতীয় ফুক..। এ হলো পুনরুত্থান এর জন্য ফুঁৎকার। উভয় প্রকার ফুকার সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, 

في الصور فصعق من في السموات ومن في الأرض إلا من 

و 

که الزمر: ۱۸ 

فيه أخرى فإذا هر قيام ينظرون 

شاء الله 

“শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে, ফলে আসমান ও যমিনে যারা আছে সবাই বেহুঁশ হয়ে যাবে, তবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন। অতঃপর আবার শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে, তৎক্ষণাৎ তারা দণ্ডায়মান হয়ে দেখতে থাকবে।” (সূরা যুমার-৬৮) দ্বিতীয় ফুৎকারের সময় কবর থেকে মানুষের উত্থানের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লাহ বলেন, 

وفة في الورقإذا همين الأجداث إلى بهترينيون ( که پس 

“শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে, তখনই তারা কবর থেকে তাদের পালনকর্তার দিকে ছুটে চলবে।” (সূরা ইয়াছিন-৫১) 

প্রথম ফুকারকে ‘রাজিফা’ (প্রকম্পিতকারী) এবং দ্বিতীয় ফুৎকারকে ‘রাদিফা’ (পরক্ষণে ঘটিত) নামে কুরআনে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ বলেন, 

يوم تجه الراجفة تتبعها الاوقة تي النازعات: 6 -۷ 

“যেদিন প্রকম্পিত করবে প্রকম্পিতকারী, অতঃপর পশ্চাতে আসবে পশ্চাদগামী।” (সূরা নাযিআত ৬,৭)। অন্য আয়াতে প্রথম ফুকারকে ‘সাইহা’ (বজ্র নিনাদ) আর দ্বিতীয় ফুৎকারকে ‘সূর’ (শিঙ্গা) বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। 

আল্লাহ বলেন, 

وما ينظرون إكصيح وحدة تأځه ور يخون ( قلا يستطيعون توصيه ولا إلى أهلهيجتموين وين في ألور 

جدا إلى هدینیو (ي که پس: 49 – 51 | 

فإذا همين 

“তারা কেবল একটা ভয়াবহ শব্দের অপেক্ষা করছে, যা তাদেরকে আঘাত করবে তাদের পারস্পরিক বাক-বিতণ্ডাকালে। তখন তারা অসিয়ত করতেও সক্ষম হবে না এবং তাদের পরিবার পরিজনের কাছেও ফিরে যেতে পারবে না।” (সূরা ইয়াছিন ৫০,৫১) 

উভয় ফুৎকারের মাঝে ব্যবধান। 

এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট কিছু বর্ণিত নয়।তবে আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত হাদিসে উভয় ফু-র মধ্যবর্তী কাল সম্পর্কে কিঞ্চিত। ধারণা পাওয়া যায়, আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সা. বলেন, “দুই ফুৎকারের মাঝে চল্লিশ। সকলেই জিজ্ঞেস করল, হে আবু হুরায়রা! চল্লিশ দিন? বললেন, না। সবাই বলল, চল্লিশ মাস? বললেন, না। বলল, চল্লিশ বৎসর? বললেন, না।। উপরোক্ত বর্ণনায় প্রখ্যাত সাহাবী আবু হুরায়রা রা, চল্লিশের ব্যাখ্যা দেননি। কারণ, নবী করীম সা. থেকে এ ব্যাপারে তিনিও সুস্পষ্ট কিছু শুনেননি। কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবু হুরায়রা বলতে লাগলেন, 

 অতঃপর আসমান থেকে আল্লাহ বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। ফলে সকলেই কবর থেকে উঠতে থাকবে, ঠিক যেমন বৃক্ষ উৎপন্ন। হয়ে থাকে। আরো বলেন, 

 একটি হাড় ব্যতীত মানবদেহের সকল অঙ্গই মাটি খেয়ে ফেলে। সেটি হলো মেরুদণ্ডের নিম্নাংশ। কেয়ামতের দিন এ থেকেই মানুষের দেহ পুনর্গঠিত হবে।” (বুখারী-৪৬৫১)। 

কোন দিন ফুক দেয়া হবে? 

উভয় ফুঁৎকারই জুমুআর দিন (শুক্রবারে) দেয়া হবে।নবী করীম সা. বলেন, “সর্বোত্তম দিন হলো জুমুআর দিন। এ দিনেই আদমের সৃষ্টি। এ দিনেই তার মৃত্যু হয়েছে। এ দিনেই। কেয়ামতের প্রথম ফুৎকার। এ দিনেই সকল সৃষ্টির ধ্বংস। সুতরাং এ দিনে বেশী করে তোমরা আমার উপর দরূদ পাঠ কর! কারণ, তোমাদের দরূদসমূহ আমার কাছে উপস্থাপিত হয়। সকলেই জিজ্ঞেস করল, কবরে মাটি হয়ে যাওয়ার পর কী করে আমাদের দরূদগুলো আপনার কাছে উপস্থাপিত হবে? উত্তরে তিনি বললেন, নিশ্চয় আল্লাহ মাটির জন্য নবীদের দেহভক্ষণ হারাম করেছেন।” (নাসাঈ ১৬৬৬) 

অন্য হাদিসে নবী করীম সা. বলেন, “জুমুআর দিনই কেয়ামত সংঘটিত হবে।” (মুসলিম-৯৪০৯)। 

 অপর হাদিসে বলেন, “প্রতিটি সৃষ্টিই জুমুআর দিন নিজেদের কর্ণ চেপে ধরে কেয়ামতের অপেক্ষা করতে থাকে।” (সহিহ ইবনে হিব্বান-২৭৭২)। 

প্রথম ফুকার শ্রবণকারী সর্বপ্রথম ব্যক্তি

 মানুষ সেদিন তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনে ব্যস্ত থাকবে। কেউ বাজারে আর কেউ বস্ত্র বিতানে। কেউ বা উটের আস্তাবলে দুধ দহনে।আবার কেউ বাড়ীতে দুধ নিয়ে গিয়ে পানের অপেক্ষায়..। কেউ ঊটকে পানি পান করানোর জন্য বর্তন প্রস্তুত করতে থাকবে। আবার কেউ খাবারের প্লেট সামনে নিয়ে আহার মুখে দেয়ার অপেক্ষায় থাকবে..। 

হঠাৎ ইসরাফীল আ, শিঙ্গায় ফুক দেবেন। আওয়াজের তিব্রতা ও চরম শঙ্কায় অন্তরাত্মা কেঁপে উঠবে। মুহূর্তেই সকল সৃষ্টি মৃত্যুর । কোলে ঢলে পড়বে। নবী করীম সা. বলেন, “কাপড়-বিক্রেতা ক্রেতার সামনে কাপড় প্রসারিত করেছে, তাদের কথাবার্তা চূড়ান্ত হওয়া আর কাপড় ভাঁজ করার পূর্বেই কেয়ামত শুরু হয়ে যাবে। দহন শেষে উটের দুধ বাড়ীতে নিয়ে পান করার পূর্বেই কেয়ামত শুরু হয়ে যাবে। উটকে পান করানোর উদ্দেশ্যে পানি প্রস্তুত করবে, উট সেখান থেকে পান করার পূর্বেই কেয়ামত শুরু হয়ে যাবে। প্রস্তুতকৃত আহার মুখের দিকে উঠাবে, কিন্তু মুখে দেয়ার পূর্বেই কেয়ামত শুরু হয়ে যাবে।” (বুখারী-৬১৪১)। 

মুমিনের জন্য রহমত

 কেয়ামতের ফুঁৎকার হবে কাফের মুশরেকদের জন্য এক বিরাট আযাব। এ কারণে মুমিনদের রূহগুলোকে আল্লাহ পূর্বেই হস্তগত করে নেবেন। ফলে পৃথিবীতে তখন কেবল অনিষ্ট লোকেরাই 

অবশিষ্ট থাকবে।

উক্ত ফুঁৎকারের পূর্বে ও উভয় ফুঙ্কারের মধ্যবর্তী সময়ের বিবরণ নবী করীম সা. সবিস্তারে বর্ণনা করেছে

 “আমার উম্মতের মধ্যে দাজ্জাল আত্মপ্রকাশ করে চল্লিশ দিন। অবস্থান করবে। অতঃপর আল্লাহ ঈসা বিন মারিয়াম আ. কে 

 প্রেরণ করবেন। তিনি দেখতে ঠিক উরওয়া বিন মাসুদের মতো। তিনি দাজ্জালকে খুঁজে বের করে হত্যা করবেন। অতঃপর মানুষ। সাত বৎসর জীবনযাপন করবে, সেসময় শত্রুতা বলতে কিছু থাকবে না। অতঃপর শামের দিক থেকে আল্লাহ একপ্রকার। শীতল বায়ু প্রেরণ করবেন। অণু পরিমাণ ঈমান যার ভেতরে আছে, শীতল বাতাস এসে তার রূহ বের করে নেবে। এমনকি তোমাদের কেউ যদি সেদিন পাহাড়ের গহীন গুহায় প্রবেশ করে, তবে সুবাতাস সেখানেও পৌঁছুবে এবং রূহ কবজা করবে। অতঃপর পৃথিবীতে শুধু জীবজন্তুর চরিত্রধারী দুষ্কৃতকারী লোকেরা অবশিষ্ট থাকবে। যারা ভালোমন্দ কিছুই বুঝবে না। শয়তান তাদের কাছে এসে বলবে, তোমরা কি আমার কথা শুনবে না? তারা বলবে, কী আদেশ তোমার বল! অতঃপর শয়তান তাদেরকে মূর্তিপূজার আদেশ করবে। এভাবেই তারা সুখে শান্তিতে জীবনযাপন করতে থাকবে। অতঃপর শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে। যেই শুনবে, উভয় হাতে কান চেপে ধরে এদিক-ওদিক লুটিয়ে পড়বে। সর্বপ্রথম যে ব্যক্তি ফুৎকার শুনবে, সে উটের আস্তাবলে কর্মরত থাকবে। সেই প্রথম নিনাদ শুনে অজ্ঞান হবে। পরক্ষণে সকল মানুষও। অতঃপর আল্লাহ মৃদু বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। ফলে মানুষের দেহগুলো কবর থেকে উঠতে থাকবে। অতঃপর দ্বিতীয় ফুৎকার দেওয়া হলে সকল মানুষ দাঁড়িয়ে এদিক সেদিক তাকাতে থাকবে। অতঃপর ঘোষণা হবে, হে লোকসকল! তোমরা। 

তোমাদের প্রতিপালকের দিকে এসো! তোমাদেরকে প্রশ্ন করা হবে। অতঃপর ফেরেশতাদেরকে বলা হবে, জাহান্নামের। লোকদেরকে পৃথক কর! তারা বলবে, কতজন করে পৃথক করব? বলা হবে, প্রত্যেক হাজার থেকে নয়শত নিরানব্বই জন। এটাই সেই দিবস, যা শিশুকে বৃদ্ধ করে দেবে। এটাই সেই দিন, যে দিন গোছা পর্যন্ত পা খোলা হবে।” (মুসলিম-৭৫৬৮)। 

আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং কতইনা উত্তম তত্ত্বাবধায়ক তিনি..! বেশি করে আল্লাহর কাছে কেয়ামতের ভয়াবহতা এবং বিপদ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা..। 

পুনরুত্থান 

দ্বিতীয় ফুৎকারের পর সকল মানুষ পুনরুজ্জীবিত হবে। 

* পুনরুত্থান কী?

 * পুনরুত্থান বিষয়ে প্রমাণ কী?

 * পুনর্জীবন বলতে কী বুঝায়?

 * কীভাবে হবে পুনরুত্থান?

 * অকবরস্থদের পুনরুত্থান কীভাবে? 

ভূমিকা

 পুনরুত্থান সংক্রান্ত দলীল।

 পুনরুত্থান সম্ভাব্যতার প্রমাণ

 অকবরস্থদের অবস্থা।

 পুনরুত্থানের রূপ

 সর্বপ্রথম যার কবর উন্মোচিত হবে। 

পুনরুত্থান অস্বীকারকারীর বিধান 

ভূমিকা

 পুনরুত্থান হলো সকল মৃতকে কবর থেকে জীবিত উঠানো। এমনকি যারা দগ্ধ হয়ে বা ডুবে মারা গেছে অথবা জীবজন্তু তাদের খেয়ে ফেলেছে.. তাদেরকেও পুনর্জীবিত করা হবে। আল্লাহ সকল কিছুর উপরই ক্ষমতাবান। 

পুনরুত্থানের পক্ষে দলীল

 পুনরুত্থানে বিশ্বাস হলো ইসলামের 

মৌলিক আক্কিদাগুলোর একটি। পুনরুত্থান অস্বীকার করার অর্থ আল্লাহকে অস্বীকার করা। আল্লাহ বলেন, 

که 

و بل گدوا بالساعة وأعتدنا لمن كذب بالساعة سعيرا 

الفرقان: ۱۱ 

“বরং তারা কেয়ামতকে অস্বীকার করে এবং যে কেয়ামতকে অস্বীকার করে, আমি তার জন্যে অগ্নি প্রস্তুত করেছি।” (সূরা ফুরকান-১১)

 কুরআনুল কারীমের একাধিক আয়াতে আল্লাহ তা’লা এ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তন্মধ্যে, 

و يوم طوي الشماء طي السجل الب 

گما بدأنا أول ځق 

ا افلين ( که الأنبياء: ۱۰۶ 

يده و وداليا 

“সেদিন আমি আকাশকে গুটিয়ে নেব, যেমন গুটানো হয় লিখিত কাগজপত্র। যেভাবে আমি প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলাম, সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করব। আমার ওয়াদা নিশ্চিত, আমাকে তা পূর্ণ করতেই হবে।” (সূরা আম্বিয়া-১০৪)। * আল্লাহ বলেন, 

ل بكره إلى وجعون 

وقل يتوفر ملك الموت الذي و 

 “বলুন, তোমাদের প্রাণ হরণের দায়িত্বে নিয়োজিত ফেরেশতা তোমাদের প্রাণ হরণ করবে। অতঃপর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।” (সূরা সাজদা-১১)। * অন্য আয়াতে বলেন, 

لتنبؤ بما 

لورم الذين كفوا أن لن يبعثوا ل بل وربي لتبع عمل وذلك على أمل يسيرة 

التغابن: ۷ | 

“কাফেফরা দাবী করে যে, তারা কখনও পুনরুত্থিত হবে না। বলুন, অবশ্যই হবে, আমার পালনকর্তার কসম, তোমরা নিশ্চয় পুনরুত্থিত হবে। অতঃপর তোমাদেরকে অবহিত করা হবে যা তোমরা করতে। এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ।” (সূরা তাগাবুন, ৭) 

নবী করীম সা. বলেন, “প্রত্যেক বান্দাকে তার মৃত্যুর অবস্থার উপর পুনরুত্থান করা হবে।” (মুসলিম-৭৪১৩) 

নবী করীম সা. বলেন, “মানুষকে পুনরুত্থান করা হবে তাদের নিয়তের ভিত্তিতে।” (ইবনে মাজা-৪২২৯) 

পুনরুত্থান সম্ভাব্যতার প্রমাণ 

আল্লাহ তালা আমাদের সামনে। অসংখ্য নিদর্শন ও প্রমাণ রেখেছেন, যেন সেগুলো দেখে আমরা মৃত্যুর পর পুনরুত্থানে বিশ্বাস করি। তন্মধ্যে.. 

(১) বৃষ্টি বর্ষণের ফলে মৃত ভূমি সম্পূর্ণ সজীব হয়ে উঠে। আমরা কত অনুর্বর ও মৃত ভূমির পাশ দিয়ে অতিক্রম করি। কোন বৃক্ষ নেই, ঘাস নেই.. সম্পূর্ণ মরা জমি। যখনই আল্লাহ তাতে বৃষ্টি 

বর্ষণ করেন, তখনই সে জীবন ফিরে পায়।সজিব হয়ে ওঠে। তাতে ঘাস ও বৃক্ষ জন্মায়। দেখতে দেখতে চারিদিক সবুজ শ্যামল প্রান্তরে পরিণত হয়। সেই ভূমিগুলো একসময় ছিল মৃত। ছিল শুষ্ক। অনুর্বরতার পর আবার সে সজীব হয়েছে। মৃত্যুর পর আবার সে জীবন ফিরে পেয়েছে। ঠিক তেমনি মৃত মানুষকেও আল্লাহ জীবিত করবেন। পচে গলে যাওয়া হাড়গুলো আবার একত্রিত হবে। শুষ্ক দেহগুলো পুণরায় মিলিত হয়ে দেহের আকৃতি ধারণ করবে। যেমনটি আল্লাহ বলেন, 

و وهو الذي يريي آلي بشرا بين يدى رميه حتى إذا أقل ساباقالاقته بكير بنيتي فانزلا به آلماء أخراپه منځ 

ها 

م 

تذگرون 

ل 

اليك تخرج الموتى 

التمرين 

 “তিনিই বৃষ্টির পূর্বে সুসংবাদবাহী বায়ু পাঠিয়ে দেন। এমনকি যখন বায়ূরাশি পানিপূর্ণ মেঘমালা বয়ে আনে, তখন আমি এ মেঘমালাকে একটি মৃত শহরের দিকে হাঁকিয়ে দেই। অতঃপর এ মেঘ থেকে বৃষ্টিধারা বর্ষণ করি। অতঃপর পানি দ্বারা সব রকমের ফল উৎপন্ন করি। এমনিভাবে মৃতদেরকে বের করব যাতে তোমরা চিন্তা কর।” (সূরা আরাফ-৫৭)। 

 আবু রাযান রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জিজ্ঞেস করলাম হে আল্লাহর রাসূল, মৃতদেরকে আল্লাহ কীভাবে পুনর্জীবিত করবেন? বললেন, তুমি কি কোনো মৃত ভূমির পাশ দিয়ে অতিক্রম করনি? দেখবে, কিছুদিন পর সজীব হয়ে উঠেছে। আবার কিছুদিন পর গিয়ে দেখবে, অনুর্বর ও মৃত হয়ে পড়ে আছে। আবার কিছুদিন পর গিয়ে দেখবে পুণরায় সবুজ শ্যামল হয়ে উঠেছে। ঠিক তেমনি মৃতদেরকেও আল্লাহ জীবিত করবেন।” (মুসনাদে আহমদ-১৬২৩৮) 

(২) যৌক্তিক প্রমাণ

 যে প্রতিপালক প্রথমবার সকল জীবকে সৃষ্টি করেছেন। তাদেরকে অস্তিত্বে এনেছেন। নিশ্চয় তিনি দ্বিতীয়বারও যখন যেখানে ইচ্ছা তাদের সৃষ্টি করতে পারবেন। কারণ প্রথমবারের তুলনায় দ্বিতীয়বার সৃজন অতি-সহজ। 

আল্লাহ বলেন, 

و يوم طوي الشماء طي السجل الب 

گما بدأنا أول ځق 

و الأنبياء: ۱۰۶ 

ا يمافيريين 

يدو وداليا 

“সেদিন আমি আকাশকে গুটিয় নেব, যেমন গুটানো হয় লিখিত কাগজপত্র। যেভাবে আমি প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলাম, সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করব। আমার ওয়াদা নিশ্চিত, আমি তা পূরণ করবই।” (সূরা আম্বিয়া-১০৪)। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, 

يعيده، وهو أهون عليه الروم: 27 

وهو الذي يبدأ الخلق 

“তিনিই প্রথমবার সৃষ্টিকে অস্তিত্বে আনয়ন করেছেন, অতঃপর তিনিই পুনরায় সৃষ্টি করবেন। এটা তাঁর জন্যে সহজতর।” (সূরা রূম-২৭) 

(৩) অনেক মৃতকে পৃথিবীতেই জীবিত করা হয়েছে। 

পূর্ববর্তীদের মধ্যে আল্লাহ তা’লা অনেক ঘটনা ঘটিয়ে আমাদের সতর্ক করেছেন। যেমন বনী ইসরাইলের এক মৃতকে গরুর একাংশ দিয়ে প্রহারের পর জীবিত করেছেন। আল্লাহ বলেন, 

و فلا ضوه يبعضها كذلك يحي آل الموتى وريكر ايء أعلم 

تعقلون ( که البقرة: ۷۳ | 

“অতঃপর আমি বললাম, গরুর একটি খণ্ড দ্বারা মৃতকে আঘাত কর। এভাবে আল্লাহ মৃতকে জীবিত করেন এবং তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনসমূহ প্রদর্শন করেন যাতে তোমরা চিন্তা কর।” (সূরা বাক্বারা-৭৩) 

বনী ইসরাইলে এক নিঃসন্তান ছিল। ছিল তার অঢেল সম্পদ। সেগুলোর একমাত্র উত্তরাধিকারী ছিল তার আপন ভাতিজা।দ্রুত উত্তরাধিকার লাভের আশায় সেই ভাতিজা তার চাচাকে হত্যা করে তার লাশ রাত্রিবেলায় জনৈক ব্যক্তির ঘরের সামনে। রেখে চলে এলো। পরদিন সকালে দাবী করল, অমুক ব্যক্তি তাকে হত্যা করেছে। এ নিয়ে তাদের পরস্পর ঝগড়া বেঁধে গেল। অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে বেরিয়ে পড়লে তাদের কেউ কেউ বলল, আল্লাহর রাসূল জীবিত থাকতে তোমাদের যুদ্ধ করার কী দরকার! তার কাছে গিয়ে মীমাংসা করে নাও! অতঃপর তারা মুসা আ. এর কাছে এসে ঘটনার বিবরণ শুনালে আল্লাহ তা’লা একটি গরু জবাইয়ের আদেশ করে ওহি পাঠালেন। আল কুরআনের ভাষায় 

وإذ قال موسى لقومه إتي الله يأمر 

أن تبوأبقة قالوا 

به 

أنتا 

هوا قال أعو بالله أن أكون من أهلين 

البقرة: 17 

“যখন মুসা স্বীয় সম্প্রদায়কে বললেন, আল্লাহ তোমাদেরকে একটি গরু জবাই করতে বলেছেন। তারা বলল, তুমি কি আমাদের উপহাস করছ? মুসা আ. বললেন, মূর্খদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে আমি আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি।” (সূরা বাক্কারা-৬৭)

 তারা যদি কথা না বাড়িয়ে একটি গরু জবাই করে দিত, তবে তাদের জন্য তাই যথেষ্ট হয়ে জেত।কিন্তু তারা বাড়াবাড়ি করলে আল্লাহও তাদের উপর জটিলতা চাপিয়ে দিলেন। শেষপর্যন্ত বর্ণিত গুণবিশিষ্ট গরু জবাইয়ের নির্দেশ হলে ঐ গুণের অধিকারী একমাত্র গরু তারা এমন এক লোকের কাছে পেল, যার কাছে। এটি ছাড়া আর কোনো গরু নেই। সে বলল, এটি যদি তোমরা জবাই করতে চাও, তবে বিনিময়ে এর চামড়াভর্তি স্বর্ণ দিয়ে মূল্য পরিশোধ করতে হবে। এ মূল্য দিয়েই তারা গরুটি কিনে নিল।অতঃপর জবাই করে তার একটি অংশ দিয়ে মৃতকে আঘাত করলে সাথে সাথে মৃত জীবিত হয়ে উঠল। জিজ্ঞেস করা হলও, কে তোমাকে হত্যা করেছে? সে তার ভাতিজার দিকে ইঙ্গিত করে পূণরায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। (তাফসীরে ইবনে কাসীর দ্রষ্টব্য)

 তেমনি এক নবী কোনো এক ধ্বংসপ্রাপ্ত এলাকার পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে ঘটিত কাহিনীতেও পুনর্জীবন সত্য হওয়ার। বিষয়টি পরিষ্কার বুঝা যায়। আল্লাহ তা’লা বলেন, 

وأوكالي متر قرية وهى خاوية على وشها قال أن يخيء 

م 

هو أنه بعد موتها مماته الله مائة عاوثه بعث و قال 

يوما أو بعض يوم قال بل آيت يأكة عامر 

قال لي 

لي فانظر إلى طعامك وشرايك ليه وانظر إلى جمارك وتجعلك ، اة إلا وأنظر إلى العظايف شهام 

محل 

الله على 

ت وها لما فلما تبين له قال أعلأ 

شیء قدیم که البقرة: 259 

“তুমি কি সে লোককে দেখনি যে, এমন এক জনপদ দিয়ে যাচ্ছিল যার বাড়ী-ঘরগুলো ভেঙ্গে ছাদের উপর পড়ে ছিল? বলল, কেমন করে আল্লাহ একে জীবিত করবেন? অতঃপর আল্লাহ তাকে মৃত অবস্থায় রাখলেন একশ বছর। তারপর তাকে উঠালেন। বললেন, কতকাল এভাবে ছিলে? বলল, একদিন কিংবা একদিনের কিছু কম সময়।বললেন, তা নয়; বরং তুমি তো একশ বছর ছিলে। এবার চেয়ে দেখ নিজের খাবার ও পানিয়ের দিকে, সেগুলো পচে যায়নি এবং দেখ নিজের গাধাটির দিকে। আর আমি তোমাকে মানুষের জন্য দৃষ্টান্ত বানাতে চেয়েছি। আর হাড়গুলোর দিকে চেয়ে দেখ যে, আমি এগুলোকে কেমন করে জুড়ে দেই এবং সেগুলোর উপর মাংসের আবরণ। পরিয়ে দেই। অতঃপর যখন তার উপর এ অবস্থা প্রকাশিত হলো, তখন বলে উঠল, আমি জানি নিঃসন্দেহে আল্লাহ সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল।” (সূরা বাক্বারা-২৫৯)। 

তেমনি ইবরাহীম আ. এর ঘটনার মাধ্যমেও পুনর্জীবনের সত্যতা উপলব্ধি করা যায়। আল্লাহ বলেন, 

من قال 

قال أول 

حي المؤ 

كيف 

وقال إبره رب أرني 

أربعة بين الطيرفضه إليك 

بلى ولكن يظمي قلبي قال في 

ا ادعه يأتينك سعيا وألم 

ه 

جبل 

تراجع على 

که البقرة: 260 

أين الله عزیي 

“স্মরণ কর, যখন ইব্রাহীম বলল, হে আমার পালনকর্তা, আমাকে দেখান, কেমন করে আপনি মৃতকে জীবিত করবেন। বললেন, তুমি কি বিশ্বাস কর না? বলল, অবশ্যই বিশ্বাস করি, কিন্তু অন্তরে প্রশান্তি লাভের আশায় দেখার আগ্রহ প্রকাশ করছি। বললেন, তাহলে চারটি পাখী ধরে নাও! পরে সেগুলোকে নিজের পোষ মানিয়ে নাও। অতঃপর সেগুলোর দেহের একেকটি অংশ বিভিন্ন পাহাড়ের উপর রেখে দাও! তারপর সেগুলোকে ডাক; তোমার নিকট দৌড়ে চলে আসবে। আর জেনে রেখ, নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, অতি জ্ঞানসম্পন্ন।” (সূরা বাকারা-২৬০) 

(৪) আল্লাহর ক্ষমতার অন্যতম নিদর্শন হলো, কোন এক বস্তু থেকে তার বিপরীত বস্তু তৈরি করা 

অর্থাৎ আল্লাহ তা’লা জীবিত দেহকে মৃত হাডিড থেকে সৃষ্টি করেছেন। তেমনি সবুজ বৃক্ষ থেকে আগুন সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ বলেন, 

خلق و قال من يحي العطوهی رميه 

و وب لام و 

الذي 

لق عليه 

قل يخييها الذي أنشأها أول م وهوب جعل لكرين الشكر لأيرارا فإذا أمر ينه ودون ( که 

A – VA : 

“সে আমার সম্পর্কে এক অদ্ভুত কথা বর্ণনা করে, অথচ সে নিজের সৃষ্টি রহস্য ভুলে যায়। সে বলে, পচে গলে যাওয়ার পর অস্থিসমূহকে কে জীবিত করবে? বলুন, যিনি প্রথমবার সেগুলো সৃষ্টি করেছেন, তিনিই জীবিত করবেন। তিনি সর্বপ্রকার সৃষ্টি সম্পর্কে সম্যক অবগত। যিনি তোমাদের জন্যে সবুজ বৃক্ষ থেকে আগুন উৎপন্ন করেন। আর তোমরা তা থেকে আগুন জ্বালাও!” (সূরা ইয়াছিন ৭৮-৮১)। 

() নভোমণ্ডল ভূমণ্ডল সৃষ্টিতে আল্লাহর ক্ষমতা

নভোমণ্ডল, ভূমণ্ডল ও তার মাঝে যত অসংখ্য অগণিত সৃষ্টি রয়েছে, সকল সৃষ্টিকে সুনিপুণভাবে তিনিই সৃষ্টি করেছেন। এত বিশল জগত যিনি সৃষ্টি করতে পেরেছেন, নিঃসন্দেহে তিনি ছোট বিষয়গুলোও সৃষ্টি করতে পারবেন। যেমনটি আল্লাহ নিজেই বলেছেন, 

أولي الذي خلق السموات والأرض بقدر عل أن يخلق مثلهم بلى وهو الحلق العلييه ( که پس: ۷۸ – ۸۱ 

“যিনি নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডল সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি তাদের অনুরূপ সৃষ্টি করতে সক্ষম নন? হ্যাঁ, অবশ্যই তিনি মহাস্রষ্টা, সর্বজ্ঞ।” (সূরা ইয়াছিন-৮১) 

* অকবরস্থদের অবস্থা

যে ব্যক্তি পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণ করল, অতঃপর মাছ তার। মাংস খেয়ে ফেলল অথবা লাশ পুড়িয়ে ফেলার দরুন হাড়-মাংস ছাই হয়ে গেল অথবা জীবজন্তু তাকে ছিড়ে-ফেঁড়ে খেয়ে ফেলল অথবা যেকোনো ধরনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ফলে সে অকবরস্থ রয়ে গেল। তাকেও আল্লাহ পুনর্জীবিত করবেন। 

নবী করীম সা. পূর্ববর্তী এক লোকের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, “তাকে আল্লাহ সম্পদ ও সন্তান দিয়েছিলেন। মৃত্যুর সময় সে তার সন্তানদেরকে ডেকে বলল, আমি তোমাদের জন্য কেমন পিতা ছিলাম? তারা বলল, শ্রেষ্ঠ পিতা! বলল, আমি কখনো কোন সৎকর্ম করিনি। আমি মরে গেলে আমার লাশ তোমরা জ্বালিয়ে দিয়ো! মাংসগুলো কয়লায় রূপান্তরিত হলে। সেগুলো চূর্ণ করে কোন এক ঝা-বায়ু প্রবাহের দিন সেগুলো সমুদ্রে উড়িয়ে দিয়ো। কারণ, আল্লাহর শপথ, প্রতিপালক যদি আমাকে পান, তবে এমন শাস্তি দিবেন যা তিনি কখনো কাউকে দেননি। এভাবে সে সন্তানদের থেকে প্রতিশ্রুতি নিল। পিতার মৃত্যুর পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তারা সেটাই করল। প্রচণ্ড বাতাস প্রবাহের দিন তারা তা উড়িয়ে দিল। অতঃপর আল্লাহ 

ভূমিকে আদেশ করলেন, তার অঙ্গের যতটুকু তোমার কাছে। আছে একত্রিত কর। ভূমি তাই করল। অতঃপর তাকে পুনর্জীবিত করার পর প্রতিপালক জিজ্ঞেস করলেন, এ রকম কেন করলে? উত্তরে সে বলল, “হে প্রতিপালক! আমি আপনাকে প্রচণ্ডরকম ভয় করেছি।” পরবর্তীতে সেই ভয়ের দরুন তাকে। ক্ষমা করা দেয়া হলো। (মুসলিম-৭১৫৭)

 হ্যাঁ.. সকল সৃষ্টি সেদিন জীবিত হয়ে উঠবে। হিসাব নিকাশ ও কৃতকর্মের প্রতিফল দেয়ার জন্য কেয়ামতের দিন সমাবেশস্থলের দিকে তাদের তাড়িয়ে নেয়া হবে। 

* পুনরুত্থান পরিস্থিতি 

অদৃশ্যের সকল বিষয় কেবল ওহি’র মাধ্যমেই আমাদের বুঝতে হবে। অসংখ্য হাদিসের দ্বারা নবী করীম সা. পুনরুত্থান। পরিস্থিতি সম্পর্কে আমাদের অবহিত করেছেন। বলেছেন,  “দুই ফুৎকারের মধ্যবর্তী সময় হলো চল্লিশ। অতঃপর বললেন, এরপর আসমান হতে আল্লাহ বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। ফলে সকল সৃষ্টি উদ্ভিতসদৃশ উৎপন্ন হতে থাকবে। মৃত্যুর পর একটি হাড় ব্যতীত মানুষের সকল অঙ্গ ধ্বংস হয়ে যায়। সেটি হলো মেরুদণ্ডের নিম্নাংশ। কেয়ামতের দিন এ থেকেই মানবদেহ পুনর্গঠিত হবে।” (বুখারী-৪৬৫১) কবরস্থ হোক, সমুদ্রে নিমজ্জিত হোক, মরুপ্রান্তর কিংবা পর্বতে ধ্বসিত হোক.. যখন সৃষ্টির দেহ-পুনর্গঠনপ্রক্রিয়া সমাপ্ত হবে, যেমনটি আল্লাহ বলেছেন, 

افعلين ( که 

وكما بدأن آل خلق نمیده و وداليا إا 

 “প্রথমবার যেভাবে সৃষ্টি করেছিলাম, সেভাবেই পুনরায় সৃষ্টি করব। এটি আমার প্রতিশ্রুতি, আমি তা পূরণ করবই।” (সূরা আম্বিয়া-১০৪) 

তখন দ্বিতীয়বার শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে। অতঃপর সকল সৃষ্টির দেহে আত্মা ফিরে আসার ফলে তারা জীবিত হয়ে উঠবে। কবর ফেটে যাবে। দলে দলে তারা কবর থেকে বের হতে থাকবে। আল্লাহ বলেন, 

ويوم تشقق الأعمیراا لك شليتایره که ق: کا 

“যেদিন ভূমণ্ডল বিদীর্ণ হয়ে মানুষ ছুটাছুটি করে বের হয়ে আসবে। এটা এমন সমবেতকরণ, যা আমার জন্যে অতি সহজ।” (সূরা কাফ-৪৪) অন্য আয়াতে বলেন, 

ونفخ في الصور فإذا همين أجداث إلى تهدینو ته يست 

“শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে, তখনই তারা কবর থেকে তাদের পালনকর্তার দিকে ছুটে চলবে।” (সূরা ইয়াছিন-৫১)। 

নবী করীম সা. বলেন, “অতঃপর শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে। শুনার সাথে সাথে সকলেই কানে আঙ্গুল চেপে ধরে হেলতে দুলতে থাকবে। সর্বপ্রথম শ্রবণকারী উটের আস্তাবলে কর্মরত থাকবে, শুনার সাথে সাথে সে.. অতঃপর সকলেই মৃত্যুমুখে পতিত হবে। অতঃপর আসমান হতে আল্লাহ মৃদু বৃষ্টিবর্ষণ করবেন, ফলে সকল সৃষ্টি মাটি থেকে উৎপন্ন হবে। অতঃপর দ্বিতীয় ফুস্কার দেওয়া হলে সকলেই দাঁড়িয়ে পরস্পরকে দেখতে থাকবে। অতঃপর বলা হবে, হে লোকসকল, তোমরা পালনকর্তার দিকে এসো, তোমাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে!” (মুসলিম-৭৫৬৮)। 

। 

* উদ্ভিতের ন্যায় সকল সৃষ্টির দেহসমূহ উৎপন্ন হবে

 হ্যাঁ.. উদ্ভিত যেমন বীজ থেকে উৎপন্ন হয়, তেমনি মৃদু বৃষ্টির পর মানুষের দেহগুলোও মেরুদণ্ডের নিম্নাংশ থেকে উৎপন্ন হবে। আল্লাহ বলেন, 

و وهو الي تربية الريح بشرا بين يدى رميه حتى إذا أقل 

سحابا قاشقته لبكيريني فانزلا به آلماء فخرجا به من 

تون 6 

خرج الموت لمم 

ذلك 

التي الأعراف: ۰۷ 

“তিনিই বৃষ্টির পূর্বে সুসংবাদবাহী বায়ু পাঠিয়ে দেন। এমনকি যখন বায়ুরাশি পানিপূর্ণ মেঘমালা বয়ে আনে, তখন আমি এ মেঘমালাকে একটি মৃত শহরের দিয়ে হাঁকিয়ে দেই। অতঃপর এ মেঘ থেকে বৃষ্টিধারা বর্ষণ করি। অতঃপর পানি দ্বারা সব রকমের ফল উৎপন্ন করি। এমনিভাবে মৃতদেরকে বের করব, যাতে তোমরা চিন্তা কর।” (সূরা আ’রাফ-৫৭) 

পূর্বে যেমন বর্ণিত হয়েছে.“দুই ফুৎকারের মধ্যবর্তী সময় হলো চল্লিশ। এরপর আসমান হতে আল্লাহ বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। ফলে সকল সৃষ্টি উদ্ভিতসদৃশ উদগত হতে থাকবে। মৃত্যুর পর একটি হাড় ব্যতীত মানুষের সকল অঙ্গ নিঃশেষ হয়ে যায়। সেটি হলো মেরুদণ্ডের নিম্নাংশ। 

কেয়ামতের দিন এ থেকেই মানবদেহ পুনর্গঠিত হবে।” (বুখারী ৪৬৫১) 

প্রশ্ন, দ্বিতীয় সৃষ্টিতে দৈহিক কোন পরিবর্তন ঘটবে কি? 

উত্তর- কুরআন-হাদিসের বিবরণসমূহে গবেষণা করলে বুঝা যায় যে, পুনরুত্থানের পর মানুষের প্রকৃতিতে কিছুটা পরিবর্তন ঘটবে। তার শক্তি, সামর্থ্য, ক্ষমতা.. ইত্যাদিতে। উদ্দেশ্য এটা নয় যে, সম্পূর্ণ ভিন্ন দেহের উপর হিসাব নেয়া হবে এবং প্রতিদান দেয়া হবে; বরং দুনিয়ায় অবস্থানকৃত দেহকেই আল্লাহ পুনর্গঠন করবেন। তবে সেখানে স্বভাবগত কিছু পরিবর্তন সাধিত হবে। যেমন, (১) মানুষের দৃষ্টিশক্তিতে.. দুনিয়াতে তারা জ্বিন ও ফেরেশতাদের দেখতে পেত না। সেখানে তারা সকলকে দেখতে পাবে। যেমনটি আল্লাহ বলেন, 

ك اليومدید 

ف 

ولقد كنت في غفلة من هذا فكشفنا عنك غطاء 

“এখন তোমার কাছ থেকে যবনিকা সরিয়ে দিয়েছি। ফলে আজ তোমার দৃষ্টি সুতীক্ষ।” (সূরা ক্বাফ-২২)। 

(২) জান্নাতবাসী কখনো থুথু নিক্ষেপ করবে না ও সেখানে। তাদের মল-মূত্র ত্যাগের প্রয়োজন হবে না। 

(৩) কেয়ামতের সেই দীর্ঘ দিনে ক্ষুধা ও পিপাসায় তারা। মৃত্যুবরণ করবে না।

 (৪) জাহান্নামবাসী আগুনের প্রবল শাস্তিতেও ধ্বংস হবে না। আল্লাহ বলেন, 

ويأتي الموت من كل مكان وماهوه إبراهيم: ۱۷ 

“সবদিক থেকে তার কাছে মৃত্যু আগমন করবে অথচ সে মরবে। 

।” (সূরা ইবরাহীম-১৭)। 

* সর্বপ্রথম কবর উন্মোচিত হবে যার

 দ্বিতীয় ফুৎকারের সাথে সাথে মানবদেহ পুনর্গঠিত হওয়ার পর কবরসমূহ ফেটে উন্মোচিত হয়ে যাবে। সর্বপ্রথম কবর উন্মোচিত হবে শেষনবী মুহাম্মাদ সা. এর। যেমনটি তিনি নিজেই বলেছেন, “কেয়ামতের দিন আমিই হব আদম-সন্তানদের নেতা। সর্বপ্রথম কবর উন্মোচিত হবে আমার। আমিই প্রথম সুপারিশকারী এবং আমার সুপারিশই সর্বপ্রথম গৃহীত হবে।” (মুসলিম-৬০৭৯) আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা এক মুসলিম ও এক ইহুদী পরস্পর ঝগড়ায় লিপ্ত হলো। কথা প্রসঙ্গে মুসলিম বলল, ওই সত্তার শপথ, যিনি মুহাম্মাদকে বিশ্ববাসীর। উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। অতঃপর ইহুদী বলে উঠল, ওই সত্তার শপথ, যিনি মুসাকে বিশ্ববাসীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। একথা শুনে মুসলিম ইহুদীর গালে সজোরে চপেটাঘাত করল। ইহুদী নবী করীম সা. এর কাছে এ বিষয়ে নালিশ করলে নবীজী বললেন,  “মুসার উপর আমাকে প্রাধান্য দিয়ো না; সেদিন মানুষ কঠিন। নিনাদে মৃত্যুবরণ করবে। সর্বপ্রথম আমিই পুনরুত্থিত হয়ে। দেখব মুসা আরশের এক পার্শ্ব ধারণ করে আছে। আমি জানি না, সে কি ফুৎকারের আওয়াজে মৃত্যুবরণ করেছিল নাকি আল্লাহ তাকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন! (বুখারী-৩২৬০)।” অপর বর্ণনায়- অতঃপর শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে। ফলে নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের সবকিছু মৃত্যুমুখে পতিত হবে; তবে আল্লাহ যাদের বাঁচিয়ে রাখতে চান। অতঃপর দ্বিতীয় ফুঁৎকার দেওয়া হলে সর্বপ্রথম আমিই জেগে উঠব। দেখব, মুসা আরশের এক পার্শ্ব ধারণ করে আছে। আমি জানি না, তুর পর্বতে বেঁহুশ 

Leave a Reply

Address
304 North Cardinal St.
Dorchester Center, MA 02124

Work Hours
Monday to Friday: 7AM - 7PM
Weekend: 10AM - 5PM