পরকাল ৩

দণ্ডায়মান হব। অতঃপর প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সেজদায় লুটিয়ে পড়ব। অতঃপর আল্লাহ আমার মনে তার প্রশংসাসমূহ ঢেলে দেবেন। আমার জন্য তাঁর যাবতীয় গুণ, স্তুতি ও তারিফ উন্মোচন করে দেবেন, যা ইতিপূর্বে কারো জন্য উন্মোচন করেননি। অতঃপর বলা হবে, হে মোহাম্মাদ, মাথা উঠাও! চাও, তোমাকে দেওয়া হবে! সুপারিশ কর, গৃহীত হবে! আমি বলব, হে প্রতিপালক, আমার উম্মত.. আমার উম্মত..! হে প্রতিপালক, আমার উম্মত.. আমার উম্মত..! হে প্রতিপালক, আমার উম্মত.. আমার উম্মত..! অতঃপর বলা হবে, “আপনার উম্মত থেকে যাদের হিসাব নেই, তাদেরকে ডানদিকের দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করান।” অন্য দরজা দিয়েও তারা প্রবেশ করতে পারবে। অতঃপর আল্লাহ তা’লা বিচারকার্য শুরু করবেন। (তিরমিযী-২৪৩৪)

 এই হলো হাশরের ময়দানে সৃষ্ট পরিস্থিতি। শ্রেষ্ঠনবী মোহাম্মাদ সা, সর্বপ্রথম সুপারিশ করবেন। সকল সম্প্রদায় তাঁর কাছে। এসে সুপারিশের আকুতি জানাবে। 

দ্বিতীয় সুপারিশ 

প্রবেশাধিকার দেওয়ার পর জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি প্রদানে। সুপারিশ করতে জান্নাতবাসী একজন সুপারিশকারী খুঁজবে। 

আদম আ. এর কাছে এসে বলবে, হে আমাদের পিতা, আমাদের জন্য জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা করুন! 

নবী করীম সা. বলেন, “আল্লাহ সকল মানুষকে একত্রিত করবেন। অতঃপর মুমিনদের জন্য জান্নাত নিকটবর্তী করা হবে। তারা আদমের কাছে এসে বলবে, হে আমাদের পিতা, আমাদের জন্য জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা করুন! তিনি বলবেন, তোমাদেরকে তো এই পিতার ভুলের কারণেই জান্নাত থেকে বের করা হয়েছিল! এ সুপারিশের যোগ্য আমি নই। তোমরা আমার সন্তান ইবরাহীমের কাছে যাও! ইবরাহীম বলবে, এ সুপারিশের যোগ্য আমি নই। আমি তো কেবল পর্দার পেছন থেকে আল্লাহর বন্ধু ছিলাম। তোমরা বরং মুসা’র কাছে যাও, দুনিয়াতেই আল্লাহ তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন। অতঃপর মুমিনগণ 

মুসা’র কাছে আসলে মুসা বলবে, এ সুপারিশের যোগ্য আমি নই। তোমরা ঈসা’র কাছে যাও! তিনি তো আল্লাহর কালিমা ও 

তাঁর রূহ। ঈসা বলবে, এ সুপারিশের যোগ্য আমি নই। অতঃপর  তারা মোহাম্মদের (সা.) এর কাছে আসলে তিনি তাদের পক্ষে 

দাঁড়াবেন এবং তাঁকে সুপারিশের অনুমতি দেয়া হবে।” (মুসলিম-৫০৩)

 নবী করীম সা. জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনার জন্যও সুপারিশ করবেন। সেটিও মাক্কামে মাহমুদ থেকে। এ সুপারিশও নবী মোহাম্মাদ সা. এর জন্য নির্দিষ্ট। নবী করীম সা. বলেন, কেয়ামতের দিন আমি জান্নাতের দরজায় এসে তাতে প্রবেশের অনুমতি চাইব। প্রহরী বলবে, আপনি কে? বলব, আমি মোহাম্মাদ। সে বলবে, আপনার জন্যই অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আপনার পূর্বে অন্য কারো জন্যে নয়।” (মুসলিম-৫০৭)। 

তৃতীয় সুপারিশ 

এটি যেসকল মুমিনের হিসাব ও আযাব নেই, তাদের জন্য জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি প্রদানের সুপারিশ। 

নবী করীম সা. বলেন, “কেয়ামতের দিন আমিই হব মানুষের নেতা। কেন জানো? পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল মানুষকে আল্লাহ একটি প্রশস্ত সমতল ভূমিতে জমায়েত করবেন।আল্লাহ্‌র কথা সেদিন সকলেই শুনতে পাবে। সকলকে তিনি একসাথে দেখতে পাবেন। সূর্যকে অতি-নিকটবর্তী করা হবে। সেদিন মানুষ অতিশয় দুশ্চিন্তা এবং চরম দুর্ভোগে থাকবে..!” 

হাদিসের শেষদিকে তিনি বলেন, “অতঃপর বলা হবে, হে মোহাম্মাদ, মাথা উঠান! চান, আপনাকে দেওয়া হবে! সুপারিশ করুন, গৃহীত হবে! আমি বলব, হে প্রতিপালক, আমার উম্মত..! হে প্রতিপালক, আমার উম্মত..! হে প্রতিপালক, আমার উম্মত..! অতঃপর বলা হবে, আপনার 

উম্মত থেকে যাদের হিসাব নেই, তাদেরকে ডানদিকের দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করান। অন্য দরজা দিয়েও তারা প্রবেশ করতে পারবে। ওই সত্তার শপথ যার । হাতে আমার প্রাণ, নিশ্চয় জান্নাতের দরজাসমূহের এক কপাট থেকে অপর কপাটের দূরত্ব মক্কা থেকে হিময়ার অথবা মক্কা থেকে বসরা’র দূরত্বসম বিস্তৃত।” (বুখারী-৪৪৩৫) 

 উপরোক্ত সুপারিশও নবী করীম সা. এর জন্য নির্দিষ্ট, যা তিনি মাকামে মাহমুদ থেকে করবেন। 

চতুর্থ সুপারিশ

 আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দাদের জন্য অতিশয় দয়ার বহিঃপ্রকাশ। হলো, তাদের জন্য তিনি ক্রোধ এবং শাস্তির পূর্বে দয়া ও সহনশীলতার আচরণ করেন। সৃষ্টির প্রতি আল্লাহর মহা অনুগ্রহের নিদর্শন হলো, গুনাহের কারণে জাহান্নামে প্রবেশকারী মুমিনদের মুক্তির জন্য নবী করীম সা. কে তিনি সুপারিশ করার অনুমতি দেবেন। শাফা’আতের হাদিসের মধ্যে এ বিষয়টিও নবীজী উল্লেখ করেছেন.. 

 “. অতঃপর আমি গিয়ে প্রতিপালকের কাছে অনুমতি চাইব। আমাকে অনুমতি দেওয়া হবে। প্রতিপালককে দেখার সাথে সাথে আমি সেজদায় পড়ে যাব। অতঃপর আল্লাহ তা’লা আমাকে এভাবেই রাখবেন যত সময় রাখার। অতঃপর বলা হবে, হে মোহাম্মাদ, মাথা উঠান! বলুন, শুনা হবে। চান, দেওয়া হবে। সুপারিশ করুন, গৃহীত হবে। অতঃপর আমি প্রতিপালকের। শেখানো যাবতীয় প্রশংসা ও গুণ বলতে থাকব। অতঃপর সুপারিশ করব। তিনি আমার জন্য সীমা নির্ধারণ করে দেবেন। অতঃপর আমি তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাব। ফিরে এসে প্রতিপালককে দেখার সাথে সাথে আবার সেজদায় পড়ে যাব। অতঃপর আল্লাহ তা’লা আমাকে এভাবেই রাখবেন যতসময় রাখার। অতঃপর বলা হবে, হে মোহাম্মাদ মাথা উঠান! বলুন, শুনা হবে। চান, দেওয়া হবে। সুপারিশ করুন, গৃহীত হবে। অতঃপর আমি প্রতিপালকের শেখানো যাবতীয় প্রশংসা ও গুণ বর্ণনা করব। অতঃপর সুপারিশ করব। তিনি আমার জন্য সীমা নির্ধারণ করে দেবেন। অতঃপর আমি তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাব। ফিরে এসে প্রতিপালককে দেখার সাথে সাথে পুনরায় সেজদায় লুটিয়ে পড়ব। অতঃপর আল্লাহ তা’লা আমাকে এভাবেই রাখবেন যতসময় রাখার। অতঃপর বলা হবে, হে মোহাম্মাদ মাথা উঠান! বলুন, শুনা হবে। চান, দেওয়া হবে। সুপারিশ করুন, গৃহীত হবে। অতঃপর আমি প্রতিপালকের শেখানো যাবতীয় প্রশংসা ও গুণ বর্ণনা করব। অতঃপর সুপারিশ করব। তিনি আমার জন্য সীমা নির্ধারণ করে দেবেন। অতঃপর আমি তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাব। অতঃপর ফিরে এসে বলব, হে প্রতিপালক, জাহান্নামে কেবল তারাই অবশিষ্ট, যাদেরকে কুরআন রুদ্ধ করে রেখেছে এবং যাদের জন্য চিরস্থায়ী জাহান্নাম লিপিবদ্ধ হয়েছে। অতঃপর নবীজী বলেন, যে ব্যক্তি “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলবে, তার অন্তরে যবের দানা পরিমাণ ঈমান থাকলেও সে জাহান্নাম থেকে বের হয়ে যাবে। যে ব্যক্তি “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলবে, তার অন্তরে গমের দানা পরিমাণ ঈমান থাকলেও সে জাহান্নাম থেকে বের হয়ে যাবে। যে ব্যক্তি “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলবে, তার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ ঈমান থাকলেও সে জাহান্নাম। থেকে বের হয়ে যাবে।” (বুখারী-৭০০২)। 

অন্য হাদিসে নবী করীম সা. বলেন, “আমার সুপারিশ কেবল আমার উম্মতের কবীরা গুনাহকারীদের জন্য।” (মুসনাদে আহমদ-১৩২২২) 

 অপর হাদিসে বলেন, “.. অতঃপর বলা হবে, যান, যার অন্তরে যব অথবা গমের দানা পরিমাণ ঈমান রয়েছে তাকে জাহান্নাম থেকে বের করুন। অতঃপর আমি গিয়ে তাদেরকে বের করব। ফিরে এসে প্রতিপালকের সকল গুণকীর্তন করব। অতঃপর সেজদায় লুটিয়ে পড়ব। অতঃপর বলা হবে, হে মোহাম্মাদ, মাথাও উঠাঃন! বলুন, আপনার কথা শুনা হবে। চান, দেয়া হবে। সুপারিশ করুন, গৃহীত হবে। আমি বলব, আমার উম্মত.. আমার উম্মত..! বলা হবে, যান, যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ ঈমান রয়েছে, তাকে জাহান্নাম থেকে বের করুন। অতঃপর আমি গিয়ে। তাদেরকে বের করব। 

অতঃপর ফিরে এসে আল্লাহর সকল প্রশংসা ও স্তুতি গাইব অতঃপর সেজদায় পড়ে যাব। অতঃপর বলা হবে, হে মোহাম্মাদ, মাথা উঠান! বলুন, আপনার কথা শুনা হবে। চান, দেয়া হবে। সুপারিশ করুন, গৃহীত হবে। আমি বলব, হে প্রতিপালক! আমার উম্মত.. আমার উম্মত..! তখন বলা হবে, যান, যার অন্তরে অণু পরিমাণ, ক্ষুদ্র পরিমাণ, সামান্য পরিমাণ, সরিষার দানা পরিমাণ ঈমানও রয়েছে, তাকে জাহান্নাম থেকে বের করুন। অতঃপর আমি গিয়ে তাদেরকে বের করব। হাদিসের শেষাংশে বলা হয়েছে,

 “অতঃপর আমি বলব, হে প্রতিপালক, যারা “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলেছে, তাদের ব্যাপারে আমাকে সুপারিশের অনুমতি দিন। বলবেন, সেটি আপনার জন্য নয়; তবে আমার মর্যাদা ও অহংকারের শপথ, আমার মহত্ব ও বড়ত্বের শপথ, যে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলেছে, অবশ্যই তাকে জাহান্নাম থেকে বের করব।” (মুসলিম-৫০০) 

সুপারিশের প্রেক্ষিতে জাহান্নাম থেকে মুক্তিপ্রাপ্তদের বৈশিষ্ট্য 

নবী করীম সা. জাহান্নাম থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত কতিপয় মুমিন গুনাহগারের অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, 

 “সুপারিশের প্রেক্ষিতে তারা জাহান্নাম থেকে বের হবে। আগুনে পুড়ে তারা শুকনো শসার মতো হয়ে যাবে।” (বুখারী-৬১৯০)। পাপ অনুপাতে শাস্তি প্রদানের পর একত্ববাদে বিশ্বাসী অনেক মুমিনকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে। নবীজী বলেন, “আগুনের পুড়ে কয়লা-সদৃশ হয়ে যাওয়ার পরও অনেককে জাহান্নাম থেকে বের করে জান্নাতে দেওয়া হবে। জান্নাতবাসীগণ তাদেরকে জাহান্নামী’ বলে ডাকবে।” (বুখারী ৬১৯১)

 এ ধরনের সুপারিশ মুশরিক ব্যতীত অন্যদের জন্য। অপরাধের শাস্তি ভোগ করার পর সুপারিশের প্রেক্ষিতে তাদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করা হবে। এ ধরণের সুপারিশ নবী করীম সা. এর জন্য নির্দিষ্ট নয়; বরং আল্লাহর অনুমতিপ্রাপ্ত সকল নবী-রাসূল এবং সকর্মশীল মুমিন করতে পারবেন। তবে নবী মোহাম্মাদ সা. এর বেলায় তা সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হবে। 

পঞ্চম সুপারিশ

 এটি কেবল নবী মোহাম্মাদ সা. এর জন্য আপন চাচা আবু তালিবের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট; অন্য কাফেরদের ক্ষেত্রে নয়।তাদের ব্যাপারে আল্লাহ বলেন, 

و فانتفهم شفعه الفعين (5) نكتة المدثر: ۶۸ 

“সুপারিশকারীদের সুপারিশ তাদের কোনােই কাজে আসবে 

।” (সূরা মদ্দাছছির-৪৮)

 আবু তালিবের বিষয়টি আল্লাহ তা’লা একটু আলাদা করে দেখবেন। জাহান্নাম থেকে মুক্ত করতে নয়; বরং জাহান্নামে তার শাস্তি লাঘব করতে নবী করীম সা. সুপারিশ করবেন। তার অবস্থান হবে পায়ের গোছা বরাবর আগুনের মধ্যে। জাহান্নামে এটিই হবে সর্বনিম্ন শাস্তি। অপর হাদিসে আবু তালিবের অবস্থা বিশদভাবে এসেছে। নবীজী তাঁর চাচা আবু তালিবকে জাহান্নামের মধ্যস্থলে প্রচণ্ড আগুনের মধ্যে দেখেছিলেন। অতঃপর সুপারিশ করে তাকে জাহান্নামের সর্বনিম্ন শাস্তিতে নিয়ে আসেন, যেখানে শুধু পায়ের গোছা পর্যন্ত। 

অগ্নিশাস্তি দেওয়া হয়। 

জাহান্নাম থেকে বের করতে নয়; বরং নবী করীম সা. তার শাস্তি লাঘবের সুপারিশ করেন। কারণ, আবু তালিব কাফের অবস্থায়। মৃত্যুবরণ করেছে। আর কাফেরের জন্য আল্লাহ জান্নাতকে চির নিষিদ্ধ করেছেন। আবু তালিবের মৃত্যুর সময় নবীজী তাকে মুসলমান বানাতে প্রাণপণ চেষ্টা করেছিলেন। তার মাথার পাশে দাঁড়িয়ে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” উচ্চারণ করছিলেন। আবু তালিব অস্বীকার করে বলছিল, আমি আব্দুল মুত্তালিবের ধর্মের উপর আছি। মৃত্যুর পর তার শাস্তি লাঘবের সুপারিশ করলে আল্লাহ তাঁর সুপারিশ গ্রহণ করেন। কারণ, ইসলামের প্রাথমিক যুগে নবী করীম সা. কে সে অনেক সহযোগিতা করেছে। তাঁকে শত্রুদের অনিষ্ট হতে রক্ষা করেছে। তবে আল্লাহ বলেন, 

له يهدي من يشاء وهو أعلم 

و إنك لا تهدي من أحببت ول بالمهتين :: القصص: 56 

“আপনি যাকে পছন্দ করেন, তাকে সৎপথে আনতে পারবেন 

, তবে আল্লাহ তা’লাই যাকে ইচ্ছা সৎপথে আনয়ন করেন। 

কে সৎপথে আসবে, সে সম্পর্কে | তিনিই ভালো জানেন।” (সূরা 

কাসাস-৫৬)। 

অন্য আয়াতে বলেন, 

الله يهدي من يشاء که 

ليس عليك هله و 

البقرة: 272 

“তাদেরকে সৎপথে আনার দায় আপনার নয়। বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সৎপথে পরিচালিত করেন।” (সূরা বাক্বারা-২৭২)। নবী করীম সা. বলেন, “জাহান্নামীদের মধ্যে সর্বনিম্ন শাস্তি হবে আবু তালিবের; তাকে দুটি (আগুনের) জুতো পরিয়ে দেয়া হবে, যার তাপে মাথার মস্তক পর্যন্ত বিগলিত হয়ে যাবে।” (মুসলিম) 

ষষ্ঠ সুপারিশ 

তা হলো অপরাধের দরুন জাহান্নাম অবধারিত ব্যক্তিদের মুক্তির জন্য সুপারিশ। এ ধরণের সুপারিশ শুধু নবী মোহাম্মাদ সা. এর জন্য নির্দিষ্ট নয়; বরং তা সকল নবী-রাসূল, ফেরেশতা, সিদ্দিকীন, শুহাদা ও সালেহীনই করতে পারবেন। তারা জাহান্নাম অবধারিত ব্যক্তিদের ব্যাপারে সুপারিশ করে তাদেরকে মুক্ত করবেন। 

সপ্তম সুপারিশ 

জান্নাতে প্রবিষ্ট মুমিনদের স্তরবৃদ্ধি ও পদোন্নতির সুপারিশ। নবী করীম সা. আবু সালামা’র মৃত্যুর পর তার জন্য দোয়া করে বলেন,  “হে আল্লাহ, আবু সালামাকে ক্ষমা করুন। হেদায়েতপ্রাপ্তদের মধ্যে তার স্তর উন্নীত করুন। তার পেছনে উত্তম প্রতিনিধির ব্যবস্থা করুন। হে প্রতিপালক, তাকে এবং আমাদেরকে মাফ করুন। তার কবর প্রশস্ত করে তা আলোকিত করুন।” (মুসিলম) 

অষ্টম সুপারিশ

 যারা মদিনাতে স্থায়ীভাবে বাস করবে। বিপদে মদিনা ছেড়ে চলে যাবে না, তাদের ব্যাপারে সুপারিশ.. নবী করীম সা. বলেন, “আমার উম্মতের যে কেউ মদিনায় বসবাস করে মদিনার যাবতীয় কষ্ট ও দুর্ভোগ সহ্য করবে, 

কেয়ামতের দিন আমি তার জন্য সুপারিশকারী অথবা সাক্ষী হব।” (মুসলিম-৩৪১৩)। 

নবম সুপারিশ 

মদিনায় মৃত্যুবরণকারী মুমিনদের জন্য সুপারিশ। নবী করীম সা. বলেন

“যে ব্যক্তি মদিনায় মৃত্যুবরণ করার ইচ্ছা করে, সে যেন মদিনাতেই ইন্তেকাল করে, কারণ মদিনায় মৃত্যুবরণকারীদের জন্য আমি নিজে সুপারিশ করব।” (মুসনাদে আহমদ-৫৮১৮) 

সুতরাং মদিনাবাসীর জন্য সুসংবাদ! সাধুবাদ, যারা মদিনায় ইন্তেকাল করেছে। কেয়ামতের দিন আরও অনেক ক্ষেত্রে সুপারিশ হবে। সুপারিশকারীগণও হবেন অধিক। বিস্তারিত বিবরণ সামনে আসছে.. 

(২) ফেরেশতা মুমিনগণ

 ফেরেশতা এবং মুমিন বান্দাগণ আল্লাহর কাছে সম্মান ও মর্যাদার পাত্র।

নবী করীম সা. বলেন, “.. অতঃপর নবী, ফেরেশতা এবং মুমিনগণ সুপারিশ করবেন।অতঃপর প্রতাপশালী আল্লাহ বলবেন, বাকি রইল আমার সুপারিশ। অতঃপর জাহান্নামে হস্তক্ষেপ করে তা থেকে অনেক সম্প্রদায়, যারা আগুনে পুড়ে অঙ্গার হয়ে গিয়েছিল বের করে জান্নাতের প্রবেশমুখে বহমান একটি নদীতে নিক্ষেপ করবেন। সেই নদীর পানিকে জীবন পানি বলা হবে। অতঃপর তারা নদীর উপকুল থেকে দ্রুত উৎপন্ন হতে থাকবে; ঠিক যেমন প্রবাহিত পানিতে জমাট মাটি থেকে দ্রুত চারা উৎপন্ন হয় এবং তোমরা পাথর ও বৃক্ষের আশপাশে এগুলো অধিক পরিমাণে দেখে থাক, যেগুলোতে সূর্যের আলো পড়ে, সেগুলো সবুজ এবং যেগুলো আলো-বঞ্চিত থাকে সেগুলো সাদা হয়ে যায়। সেই নদী থেকে তারা উজ্জ্বল মোতি-সদৃশ বের হবে। তারা হবে কেবল দয়াময় আল্লাহর অনুগ্রহে মুক্তিপ্রাপ্ত সম্প্রদায়। কোনোপ্রকার আমল ও কল্যাণ কাজ ছাড়াই আল্লাহ তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। তাদেরকে বলা হবে, তোমরা যা দেখছ তা এবং ততসদৃশ ভোগ্য তোমাদের জন্য বরাদ্দ।” (বুখারী-৭০০১) 

() শহীদগণ

 যারা আল্লাহর পথে প্রাণ উৎসর্গ করেছে, তাওহীদের পতাকা উডডীন করেছে, তাদের সুমহান ত্যাগ ও একনিষ্ঠ জিহাদের কল্যাণেই জমিনে আল্লাহর 

উপাসনা টিকে ছিল, পরিবার, মাতৃভূমি, বন্ধুদের ছেড়ে পরম করুণাময় আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে তারা দূরদেশে পাড়ি জমিয়েছিল, পুরষ্কারস্বরূপ কেয়ামতের দিন আল্লাহ তা’লা তাদেরকে সুপারিশকারীদের অন্তর্ভুক্ত করবেন। 

নবীজী বলেন, “একজন শহীদ তার পরিবারস্থ সত্তর-জন ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করতে পারবে।” (আবু দাউদ-২৫২৪) 

() সৎকর্মশীলগণ

যারা আল্লাহকে ভালোবেসেছে এবং আল্লাহও তাদেরকে ভালোবেসেছেন, তাদেরকে নৈকট্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। যারা আল্লাহর সাহায্য চেয়েছে, আল্লাহও তাদের সহযোগিতা করেছেন। সম্মানার্থে কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাদেরকে সুপারিশের অনুমতি দেবেন। 

জনৈক সাহাবী নবী করীম সা. কে বলতে শুনেছেন- “আমার উম্মতের একজন ব্যক্তির সুপারিশে বনিতামীম গোত্র অপেক্ষা অধিক পরিমাণ লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে। জিজ্ঞেস করা হলো, সে কি আপনি ছাড়া অন্য কেউ? বললেন, হ্যাঁ.. অন্যজন। বর্ণনাকারী বলেন, নবী করীম সা. উঠে যাওয়ার পর আমি বললাম, সে কে হতে পারে? সবাই বলল, সে হলো আব্দুল্লাহ বিন আবুল জাদআ।” (তিরমিযী-২৪৩৮)। 

() আলকুরআন

 আল-কুরআন হলো আল্লাহর বাণী।। আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের শ্রেষ্ঠ উপায়। কুরআনের পাঠককে প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে নেকী দেওয়া হয়। দুনিয়াতে আল কুরআন সম্মান ও আখেরাতে মুক্তির মাধ্যম। 

নবী করীম সা. বলেন, “তোমরা অধিক পরিমাণে আল কুরআন পড়, কেননা কেয়ামতের দিন সে তার সাথীদের জন্য সুপারিশকারী হবে।” (মুসলিম-১৯১০)

নবীজী আরও বলেন, “কেয়ামতের দিন আল-কুরআন এসে বলবে- হে আল্লাহ, তাকে (আমার সঙ্গী) শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট দিয়ে সজ্জিত করুন! অতঃপর তাকে সজ্জিত করা হবে। কুরআন বলবে, হে পালনকর্তা, তাকে আরো বেশি সজ্জিত করুন! অতঃপর তাকে শ্রেষ্ঠত্বের অলংকার পরানো হবে। কুরআন। বলবে, হে আল্লাহ, আপনি তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন! পালনকর্তা তখন সন্তুষ্ট হবেন। অতঃপর বলা হবে, পড় এবং উন্নীত হও! প্রতিটি আয়াতের বিনিময়ে তোমাকে সকর্মফল দেওয়া হবে।” (তিরমিযী-২৯১৫)

নবী করীম সা. বলেন, “কেয়ামতের দিন কবর উন্মোচিত হওয়ার পর ব্যক্তি মলিন চেহারা নিয়ে কবর থেকে উঠবে।তখন কুরআন তার সঙ্গে সাক্ষাত করে জিজ্ঞেস করবে, চিনতে পেরেছ আমায়? বলবে, না.. তোমাকে চিনি না। সে বলবে, আমি তোমার সঙ্গী আল-কুরআন। কত দ্বিপ্রহর তোমাকে তৃষ্ণার্ত রেখেছি! কতরাত তোমাকে জাগিয়ে রেখেছি! নিশ্চয় প্রত্যেক ব্যবসায়ী আপন ব্যবসার পেছনে লেগে থাকে। অবশ্যই আজ তুমি সকল ব্যবসাকে জয় করেছ। অতঃপর সে তার ডান হাতে রাজত্ব দেবে, বাম হাতে স্থায়িত্ব দেবে। মাথায় শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরিয়ে দেবে। তার পিতামাতাকে উত্তম সাজে সজ্জিত করা হবে, যা দুনিয়াতে তারা পায়নি। উভয়ে বলবে, কীসের বিনিময়ে আমাদেরকে এসব পরানো হচ্ছে? বলা হবে, তোমার সন্তান কুরআনকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করার দরুন। অতঃপর বলা হবে, পড় এবং জান্নাতের কক্ষসমূহে পদোন্নতি লাভ কর! এভাবে সে যতক্ষণ হাদর বা তারতীলের সাথে পড়তে থাকবে, ততক্ষণ সে উপরে উঠতে থাকবে।” (মুসনাদে আহমদ)

 বুঝা গেল, কেয়ামতের দিন আল-কুরআন সুপারিশকারীরূপে আসবে। ঠিক তেমনি সূরা বাক্কারা ও আলে ইমরান তাদের পাঠককে জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্যে যুক্তি পেশ করবে। সুতরাং যে ব্যক্তি অধিক পরিমাণে আল-কুরআন; বিশেষত উক্ত সূরাদ্বয় পাঠ করবে, কেয়ামতের দিন সে সুপারিশ প্রাপ্তির অধিকারী হবে। 

নবী করীম সা. বলেন, “তোমরা আল-কুরআন পড়, কেননা সে তার সঙ্গীদের ব্যাপারে সুপারিশকারী হবে। দুটি বড় সূরা বাক্কারা ও আলে ইমরান- পাঠ কর। কেননা এতদুভয় কেয়ামতের দিন দুটি ছায়াদানকারী মেঘমালার ন্যায় আসবে অথবা মনে হবে তারা দুটি সারিবদ্ধ পাখির বহর। তাদের সঙ্গীদের পক্ষে যুক্তি দাঁড় করাবে।” (মুসলিম-১৯১০)। 

() শৈশবে মৃত্যুবরণকারীগণ

 শিশুসন্তানের মৃত্যু পিতামাতার হৃদয়ে বিরাট মানসিক আঘাত। এক্ষেত্রে উভয়ে যদি ধৈর্যধারণ করে আল্লাহর কাছে উত্তম প্রতিদান আশা করে, তবে অবশ্যই তারা পুরস্কারপ্রাপ্ত হবে। নবীযুগে একব্যক্তি সবসময় নবীজীর সাথে দেখা করতে এলে ছেলেকে সাথে নিয়ে আসত। একদিন সাক্ষাতকালে ছেলেকে দেখতে না পেয়ে নবীজী জিজ্ঞেস করলেন, ছেলের কী হলো? সবাই বলল, সে মারা গেছে হে আল্লাহর রাসূল! তখন নবীজী তার পিতাকে লক্ষ্য করে বললেন, তুমি কি চাও না, জান্নাতের প্রবেশদ্বারে সে তোমার অপেক্ষায় থাকবে? একব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল, এটি কি শুধু তার সন্তানের জন্যই, নাকি আমাদের সন্তানের জন্যও? বললেন, বরং সকলের সন্তানের। জন্য।” (মুসনাদে আহমদ-১৫৫৯৫) 

সন্তানের দোয়া

 কেয়ামতের দিন পিতামাতার জন্য সন্তানের দোয়া উপকারে আসবে। মৃত্যুর পর তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করবে। 

নবী করীম সা. বলেন, “নিশ্চয় জান্নাতে আল্লাহ বান্দার পদোন্নতি ঘটাবেন।সে বলবে, হে প্রতিপালক, কীসের দরুন আমার এই পদোন্নতি? বলা হবে, তোমার জন্য তোমার সন্তানের। ক্ষমাপ্রার্থনার দরুন।” (মুসনাদে আহমদ-১০৬১০) 

() রোযা

 রোযা সবচেয়ে মহান, মর্যাদাবান এবং বান্দার জন্য সর্বোপকারী এবাদত।

 নবী করীম সা. এর ভাষ্য, আল্লাহ তা’লা বলেন, “আদমসন্তানের প্রতিটি সৎকর্মই দশগুণ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়। তবে রোযার বেলায় একটু ভিন্ন, কারণ তা একমাত্র আমার জন্যই পালিত হয় এবং এর প্রতিদানও আমি নিজে দেব। কেবল আমার জন্য সে পানাহার ও মনোবৃত্তি ত্যাগ করেছে।” রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দঘন মুহূর্ত রয়েছে- (১) ইফতারকালে। (২) প্রতিপালকের সাক্ষাতকালে। রোজাদারের মুখনির্গত গন্ধ আল্লাহর কাছে কস্তুরীর সুঘ্রাণ অপেক্ষা অধিক। পছন্দনীয়। (বুখারী-৩৪২৩)। ‘ ** অন্য হাদিসে বলেন, “আল্লাহর রাস্তায় যে একদিন রোযা রাখল, ওই দিনের বিনিময়ে আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে সত্তর বৎসর দূরত্বে নিয়ে যাবেন।” (মুসলিম-২৭৬৭)

জান্নাতের একটি ফটক রয়েছে, যার নাম রাইয়ান। কেবল রোজাদারগণই সে ফটক দিয়ে প্রবেশ করবে। প্রবেশান্তে সে দরজা চিরতরে বন্ধ করে দেয়া হবে; অন্য কারো জন্য খোলা 

হবে না। কেয়ামতের দিন রোযা বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। 

নবী করীম সা. বলেন, “রোযা এবং কুরআন কেয়ামতের দিন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোযা বলবে, হে প্রতিপালক, দিনের বেলায় আমি তাকে পানাহার ও মনোবৃত্তি থেকে বিরত রেখেছি, সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ করুন। কুরআন বলবে, রাত্রিকালে তাকে বিনিদ্র রেখেছি, সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ করুন। এভাবে তাদের সুপারিশ গৃহীত হবে।” (মুসনাদে আহমদ-৬৬২৬) 

মৃত ব্যক্তির জন্য জানাযায় উপস্থিত লোকদের সুপারিশ

 এক মুসলিমের উপর অপর । মুসলিমের সাধারণ অধিকারসমূহের একটি হলো, মৃত্যুর পর তার জানাযায় শরীক হওয়া। জানাযায় অংশগ্রহণের প্রতিদান অনেক। 

নবী করীম সা. বলেন, “যে ব্যক্তি কারো জানাযায় উপস্থিত হয়ে জানাযার নামায আদায় করল, তার জন্য এক ‘কীরাত’। আর যে জানাযার নামায পড়ে দাফনকার্য সমাধা হওয়া পর্যন্ত উপস্থিত থাকল, তার জন্য দুই কীরাত’। দুই কীরাত কী জিজ্ঞেস করা হলে নবীজী বললেন, বিশাল দুটি পাহাড়-সদৃশ (পুণ্য)।” (মুসলিম-২২৩৯) 

 নবীজী আরো বলেন, “মুসলিমদের কেউ মারা গেলে যদি একশতজন জানাযায় উপস্থিত হয়ে তার মাগফেরাতের সুপারিশ করে, আল্লাহ তাদের সুপারিশ গ্রহণ করেন।” (মুসলিম-২২৪১) 

* নবী করীম সা. এর সুপারিশ লাভের উপায়

 কেয়ামতের দিন নবীজীর সুপারিশপ্রাপ্তি হবে বিরাট অর্জন ও মহাসফলতা। নবী করীম সা. কেয়ামতের দিন তাঁর সুপারিশ লাভের কিছু আমল বলে গেছেন। যেন এসব আমল পূর্ণ করে কেয়ামতের দিন তারা তাঁর সুপারিশপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তন্মধ্যে… 

() আযানের পর জিকির 

অধিক পরিমাণে জিকিরের ফযিলত অনেক। নবী করীম সা. নির্দিষ্ট কিছু জিকির বলে গেছেন, যেগুলো প্রত্যেক আযানের পর আদায় করলে সে কেয়ামতের দিন নবীজীর সুপারিশ-প্রাপ্তির অধিকারী হবে। 

 নবী করীম সা. বলেন, “আযান শুনে যে ব্যক্তি বলবে, (অর্থঃ-) হে আল্লাহ; এই পরিপূর্ণ আহ্বান ও শাশ্বত নামাযের প্রভু! মোহাম্মাদ সা. কে দান করুন পবিত্র অবলম্বন এবং সুমহান মর্যাদা। তাঁকে অধিষ্ঠিত করুন প্রশংসনীয় স্থানে; যার প্রতিশ্রুতি তাঁকে দিয়েছেন। নিশ্চয় আপনি 

প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম করেন না।) কেয়ামতের দিন সে আমার সুপারিশ লাভ করবে।” (বুখারী-৪৪৪২)। 

() নবীজীর উপর বেশি করে দরূদ পাঠ

 নবী করীম সা. সা, হলেন আমাদের সর্বজন শ্রদ্ধেয়, সর্বপ্রিয় ও আদর্শ ব্যক্তিত্ব; বরং আমাদের আত্মা, আমাদের সন্তান অপেক্ষা অধিক প্রিয়।বেশি করে তাঁকে স্মরণ করা, তাঁর জীবনচরিত আলোচনা করা, তাঁর উপর দরূদ পাঠ করা তাঁর প্রতি ভালোবাসার বড় প্রমাণ এবং তাঁর সুপারিশ লাভের শ্রেষ্ঠ উপায়। 

 নবী করীম সা. বলেন, “যে ব্যক্তি সকালে দশবার এবং বিকালে দশবার আমার উপর দরূদ পাঠ করবে, কেয়ামতের দিন সে আমার সুপারিশ লাভ করবে।” (তাবারানী) 

() অধিক পরিমাণে নফল নামায 

নামায আল্লাহর প্রিয় আমল। নবী করীম সা. বলেন, 

 “জেনে রেখো, তোমাদের শ্রেষ্ঠ আমল হলো নামায।” (মুসনাদে আহমদ-২২৩৭৮)

 ফরয ও অধিক পরিমাণে নফল নামায কল্যাণ ও সুপারিশ লাভের অন্যতম উপায়। নবী করীম সা. এর সেবা করতে গিয়ে রাবিআ বিন কা’ব রা. বলেন, 

“. কেয়ামতের দিন আপনার সুপারিশ আমার খুব বেশি দরকার হবে। তখন নবীজী বলেছিলেন, তবে অধিক পরিমাণে সেজদা (নামায আদায় করে তোমার বাসনা পূরণে আমাকে সহায়তা কর।” (মুসনাদে আহমদ-১৬০৭৬) 

() মুসলিমদের প্রয়োজন পূরণ

 মানুষকে আল্লাহ বিভিন্ন স্তরে ও নানান বৈশিষ্ট্য দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। কাউকে উচ্চবিত্ত আর কাউকে নিম্নবিত্ত করেছেন। কেউ ধনী কেউ গরিব। কেউ শাসক কেউ শাসিত। সম্পদের যাকাতের ন্যায় সম্ভ্রমেরও যাকাত নির্ধারণ করেছেন। আর তা হলো, দরিদ্র মুসলিমদের প্রয়োজন পূর্ণ করা ও সুখে-দুঃখে তাদের পাশে থাকা।

নবী করীম সা. বলেন, “যে ব্যক্তি অপর ভাইয়ের কোনো প্রয়োজন পূর্ণ করল, মীযানের পাশে তার জন্য আমি দাঁড়িয়ে থাকব। সৎকর্মের পাল্লা ভারী না হলে আমি তার জন্য সুপারিশ করব।” (হুলিয়া, আবু নুআইম) 

() আল্লাহর জন্য ভ্রাতৃত্ব

 মুমিনদেরকে আল্লাহ ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করেছেন। বলেছেন, 

و إنما المؤمنون إخوة فصلوا بين أخويه واتقوا اله لعلك 

تون ) الحجرات: ۱۰ 

“মুমিনরা তো পরস্পর ভাই ভাই। অতএব, তোমরা তোমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে মীমাংসা করবে এবং আল্লাহকে ভয় করবে, যাতে তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হও।” (সূরা হুজরাত-১০)

 আল্লাহর জন্য ভ্রাতৃত্ব হলো ঈমানের সর্বোত্তম সঙ্গী। দেহ ভিন্ন হলেও সকল মুমিনের আত্মাগুলো এক। যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য কাউকে ভালোবাসল, তাকে ভাই বানিয়ে নিলো, কেয়ামতের দিন সে নবী করীম সা. এর সুপারিশ লাভ করবে। 

 নবী করীম সা. বলেন, “কেয়ামতের দিন কেবলই আল্লাহর জন্য ভালোবাসা পোষণকারী ব্যক্তিদ্বয়ের জন্য আমি সুপারিশকারী হব।” (হুলিয়া, আবু নুআইম) 

* অধিক অভিশাপ শাফাআত থেকে বঞ্চিত করে দেয় 

নবী করীম সা. বলেন, “অভিশাপকারীরা কেয়ামতের দিন ।সাক্ষীও হতে পারবে না। সুপারিশকারীও হতে পারবে না।” (মুসলিম-৬৭৭৭) 

* নবীজীর সুপারিশ লাভের সর্বাধিক হকদার

 এ ব্যাপারে আবু হুরায়রা রা. নবীজীকে জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসূল, কেয়ামতের দিন আপনার সুপারিশ লাভের সর্বাধিক হকদার কে? উত্তরে নবীজী বলেন, “হাদিস গ্রহণে তোমার অতি আগ্রহ থেকেই আমি অনুমান করেছিলাম, এ প্রশ্ন তোমার আগে অন্য কেউ করবে না। আমার সুপারিশ লাভের সর্বাধিক হকদার ওই ব্যক্তি যে অন্তর থেকে পূর্ণ একনিষ্ঠতার সাথে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে।” নবীজী আরও বলেন, “এখলাসের সাথে যে ব্যক্তি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। “ইখলাস কী হে আল্লাহর রাসূল!” জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ইখলাস হলো, | বাক্যটি তাকে আল্লাহ কর্তৃক সকল নিষিদ্ধ বিষয় থেকে বিরত 

রাখবে।” (আল-মু’জামুল কাবীর-৫০৭৪)। 

মুমিনের উচিত, কেবল সুপারিশ লাভের আশা নয়; বরং সুপারিশকারী হওয়ার জন্য চেষ্টা করা। 

প্রত্যেক সম্প্রদায় স্বীয়                  উপাস্যকে অনুসরণ করবে 

হাশরের ময়দান সমাপ্তির মধ্য দিয়ে সকলের চিরস্থায়ী ঠিকানা | নির্ধারণ হয়ে যাবে। হয়তো জান্নাত নয়তো জাহান্নাম। মৃত্যুর পর 

এ দুই ঠিকানা ব্যতীত আর কোনো আশ্রয়স্থল নেই। দিবসের শেষ পর্যায়ে প্রত্যেক সম্প্রদায়কে দুনিয়াতে তাদের পূজ্য উপাস্যের অনুসরণ করতে বলা হবে। তখন অসংখ্য উপাস্য প্রকাশ করা হবে। উপাসনাকারীরা তাদের পেছনে পেছনে যাবে। যে সূর্যের পূজা করত, সে সূর্যের পেছনে পেছনে যাবে। যে চন্দ্রের পূজা করত, সে চন্দ্রের পেছনে পেছনে যাবে। যারা মূর্তিপূজা করত, তাদের সামনে মূর্তি আনা হবে, তারা ওই মূর্তির পেছনে পেছনে যাবে। যারা ফেরাউনের উপাসনা করত, তারা ফেরাউনের পেছনে পেছনে চলবে। এভাবে সকলেই চলতে চলতে জাহান্নামে গিয়ে নিপতিত হবে। আল্লাহ বলেন, 

آلورد المؤژوڈ 

قومه و يوم القيمة فأورده النار ويش 

فريق 

“কেয়ামতের দিন সে তার জাতির লোকদের আগে আগে থাকবে এবং তাদেরকে জাহান্নামের আগুনে পৌঁছে দেবে। আর সেটা অতীব নিকৃষ্ট স্থান, যেখানে তারা পৌঁছেছে।” (সূরা হূদ ৯৮) 

এরপর মুমিন ও আহলে কিতাব (ইহুদী-খৃস্টান) ছাড়া কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। নবী করীম সা. এর সুস্পষ্ট বিবরণ দিয়েছেন, 

“কেয়ামতের দিন এক ঘোষক প্রত্যেক সম্প্রদায়কে স্বীয় উপাস্যের অনুসরণ করতে ঘোষণা করবেন, অতঃপর আল্লাহ ব্যতীত অন্যের উপাসনাকারী সকল সম্প্রদায় তাদের উপাস্যের অনুসরণ করে জাহান্নামে গিয়ে নিপতিত হবে। শেষপর্যন্ত সৎ ও পাপিষ্ঠ আল্লাহর উপাসনাকারী এবং পথভ্রষ্ট আহলে কিতাব সম্প্রদায় অবশিষ্ট থাকবে। তখন ইহুদীদেরকে ডেকে বলা হবে, তোমরা কীসের উপাসনা করতে? তারা বলবে, আমরা আল্লাহর সন্তান উযাইর এর উপাসনা করতাম। বলা হবে, তোমরা মিথ্যা বলছ; আল্লাহ কোনো স্ত্রী-সন্তান গ্রহণ করেননি! এখন তোমরা কী চাও? বলবে, হে প্রতিপালক, আমরা বেজায় তৃষ্ণার্ত আমাদের পানি দিন। অতঃপর তাদেরকে ইঙ্গিত করে বলা হবে যে, তোমাদের পরিতৃপ্ত করা হবে না। অতঃপর তাদেরকে জাহান্নামের দিকে একত্রিত করা হবে, জাহান্নামকে তারা মরীচিকা-সদৃশ মনে করবে, যার একাংশ অপর অংশের মধ্যে মিশে গেছে। অতঃপর তারা জাহান্নামে নিপতিত হবে।” অতঃপর খৃষ্টানদের ডেকে বলা হবে, তোমার কীসের উপাসনা  করতে? তারা বলবে, আমরা আল্লাহর পুত্র মাসীহের উপাসনা করতাম। তাদেরকে বলা হবে, তোমরা মিথ্যা বলছ; আল্লাহ কোনো স্ত্রী-সন্তান গ্রহণ করেননি! এখন তোমরা কী। চাও? বলবে, হে প্রতিপালক, আমরা অতিপিপাসিত; আমাদের পানি দিন। অতঃপর তাদেরকে ইঙ্গিত করে বলা হবে যে, তোমাদের পরিতৃপ্ত করা হবে না। অতঃপর তাদেরকে জাহান্নামের দিকে একত্রিত করা হবে, জাহান্নামকে তারা মরীচিকা-সদৃশ মনে করবে, যার একাংশ অপর অংশের মধ্যে মিশে গেছে। অতঃপর তারা জাহান্নামে নিপতিত হবে।” 

শেষপর্যন্ত যখন সৎ ও পাপিষ্ঠদের মধ্যে কেবল আল্লাহর উপাসনাকারীরা অবশিষ্ট থাকবে, তখন জগতসমূহের প্রতিপালক ইতিপূর্বে তারা তাঁকে যেমন দেখেছিল, তা থেকে ছোট আকৃতিতে এসে বলবেন, এখন তোমরা কীসের অপেক্ষা করছ? সবাই তো নিজ নিজ উপাস্যের পেছনে পেছনে চলে গেছে! তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক, দুনিয়াতে আমরা আপনার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পরিবারকে অতি-দরিদ্রতায় রেখে চলে এসেছিলাম। তাদেরকে সময় দিতে পারিনি। তিনি বলবেন, আমিই তোমাদের প্রতিপালক। তারা বলবে, আল্লাহর কাছেই আমরা তোমার থেকে আশ্রয় চাই, আল্লাহর সঙ্গে আমরা কাউকে অংশীদার সাব্যস্ত করব না (এভাবে দুই থেকে তিনবার বলবে)। কেয়ামতের সেই পরীক্ষার মুখে অনেকেই সত্য থেকে বিচ্যুত হওয়ার উপক্রম হবে।তিনি বলবেন, তোমাদের ও তাঁর। মধ্যে কি কোনো নিদর্শন রয়েছে, যা দ্বারা তাঁকে চিনতে পার? তারা বলবে, হ্যাঁ..! অতঃপর পরিস্থিতি আরো কঠিন আকার ধারণ করবে। অতঃপর প্রতিপালক আপন জ্যোতি প্রকাশ করবেন। অতঃপর প্রতিপালককে দেখে সকলেই সেজদায় পড়ে যাবে। অতঃপর দুনিয়াতে যারা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নামায আদায় করত, তাদেরকে সেজদার শক্তি দেবেন। পক্ষান্তরে যারা আত্মপ্রদর্শন বা খোদাভীতি জাহির করার মানসে নামায পড়ত, তাদের পিঠকে আল্লাহ শক্ত ও কঠিন বানিয়ে দেবেন। ফলে যখনই তারা সেজদা করতে চাইবে উপুড় হয়ে পড়ে যাবে। অতঃপর সেজদাকারীগণ মাথা উঠাবে। দেখবে, প্রতিপালক স্বরূপে ফিরে গেছেন। তিনি বলবেন, আমিই তোমাদের প্রতিপালক। সকলেই বলবে, হ্যাঁ..! আপনিই আমাদের প্রতিপালক। অতঃপর জাহান্নামের উপরে সেতু (সিরাত) স্থাপন করা হবে এবং সুপারিশের অনুমতি দেওয়া হবে। সবাই বলতে থাকবে, হে আল্লাহ, নিরাপত্তা দিন! নিরাপত্তা দিন! জিজ্ঞেস করা হলো, সেতু কী হে আল্লাহর রাসূল? বললেন, অতি-পিচ্ছিল পথ; যাতে বাঁকা পেরেক, ধারালো লোহা এবং সা’দান নামক কাঁটা বিছানো থাকবে। মুমিনগণ তার উপর দিয়ে কেউ চোখের পলকে, কেউ বিদ্যুৎগতিতে, কেউ পাখির উড়ন্ত গতিতে, কেউ দ্রুতগামী অশ্ব ও বাহনের গতিতে নিরাপদে পার হয়ে যাবে। আবার কেউ ক্ষতবিক্ষত দেহ নিয়ে আহত অবস্থায় কোনোরকমে পার হয়ে যাবে। আর কেউ চলতে না পেরে জাহান্নামের আগুনে পতিত হবে।” (মুসলিম-৭০০১)। 

| সিরাতে উঠার পূর্বে এই হবে মানুষের অবস্থা। তখন হাশরের ময়দানে মুমিন মুসলমান ছাড়া কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। তাদের মধ্যে কেউ থাকবে পাপী, কেউ মুনাফিক, কেউ বিদ’আতী আবার। কেউ নির্ভেজাল মুমিন। 

* তারপর কী হবে?

 * সিরাত কীভাবে পার হবে?

 * কাফেরদেরকে কীভাবে জাহান্নামে একত্রিত করা হবে? 

সামনের অধ্যায়গুলোতে বিস্তারিত বিবরণ আসছে.. 

—— 

মুক্তি,

 যে নিষ্ঠার সাথে কাউকে শরীক না করে আল্লাহর এবাদত করবে, সেই কেবল কেয়ামতের দিন মুক্তি পাবে, অবশিষ্টদের পরিণতি হবে জাহান্নাম। 

কাফেরদেরকে যেভাবে জাহান্নামে একত্রিত করা হবে 

মুমিনদেরকে জান্নাতে একত্রিত করার বিষয়টি আল্লাহ তা’লা আমাদেরকে জানিয়েছেন। জান্নাতের সুখ-শান্তি, আরাম-আয়েশ, সম্মান-মর্যাদা সম্পর্কে আমাদের অবহিত করেছেন। পক্ষান্তরে কাফেরদেরকে জাহান্নামে একত্রিত করার বিষয়েও আমাদেরকে অবহিত করেছেন। তাদের দুঃখ-দুর্দশা, অপমান-লাঞ্ছনা সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন। এসবই কুরআনুল কারীমে লিপিবদ্ধ রয়েছে। 

* কীভাবে কাফেরদেরকে জাহান্নামে একত্রিত করা হবে? 

* তাদের উপাস্যগুলোর কী পরিণাম হবে?

 * জাহান্নামে নিক্ষেপের পর তাদের সঙ্গে অগ্নির কীরূপ আচরণ হবে? 

প্রথম প্রেক্ষাপট

 দ্বিতীয় প্রেক্ষাপট 

তৃতীয় প্রেক্ষাপট 

চতুর্থ প্রেক্ষাপট 

পঞ্চম প্রেক্ষাপট

 ষষ্ঠ প্রেক্ষাপট 

সপ্তম প্রেক্ষাপট 

কুরআনুল কারীম অধ্যয়নকারী এ বিষয়ে একাধিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অবহিত হয়। তন্মধ্যে.. 

* প্রথম প্রেক্ষাপট

 তাদেরকে দলবদ্ধ ছাগলের ন্যায় একত্রিত করা হবে এবং সেখানে তারা চিৎকার করতে থাকবে। আল্লাহ বলেন, 

ماله الزمر: ۷۱ | 

ويق الذين كفروا إلى جه 

“কাফেরদেরকে জাহান্নামের দিকে দলে দলে হাঁকিয়ে নেয়া হবে।” (সূরা যুমার-৭১) 

অন্য আয়াতে বলেন, 

ويوم دون إلى تاير جهداه 

الطور: ۱۳ 

“সেদিন তোমাদেরকে জাহান্নামের অগ্নির দিকে ধাক্কা মেরে মেরে নিয়ে যাওয়া হবে।” (সূরা তুর-১৩)

 অন্যত্র বলেন, 

“যেদিন আল্লাহর শত্রুদেরকে অগ্নিকুণ্ডের দিকে ঠেলে নেওয়া হবে এবং ওদেরকে বিন্যস্ত করা হবে বিভিন্ন দলে।” (সূরা ফুসসিলাত-১৯)। 

* দ্বিতীয় প্রেক্ষাপট

 দুনিয়াতে যেমন পায়ে হেঁটে চলত তেমন নয়; বরং উপুড় করে চেহারায় টেনে হেঁচড়ে তাদেরকে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়া হবে। আল্লাহ বলেন, 

كانا 

و الذين يخشون على وجوههم إلى جهر أوليكش 

هو الفرقان: ۳۶ 

وأضل سبيلا 

“যাদেরকে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা অবস্থায় জাহান্নামের দিকে একত্রিত করা হবে, তাদেরই স্থান হবে নিকৃষ্ট এবং তারাই পথভ্রষ্ট।” (সূরা ফুরকান-৩৪)। 

 একব্যক্তি নবী করীম সা. এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল, কেয়ামতের দিন কাফেরদেরকে উপুড় করে কীভাবে একত্রিত করা হবে? নবীজী উত্তরে বললেন, দুনিয়াতে যে সত্তা মানুষকে পায়ে হেঁটে চলার সামর্থ্য দিয়েছেন, কেয়ামতের দিন সে সত্তা কি তাদেরকে চেহারা দিয়ে চলার ক্ষমতা দিতে পারেন না?!” (বুখারী-৪৪৮২)। এবং তাদেরকে একত্রিত করা হবে অন্ধাবস্থায়, ফলে তারা দেখতে পাবে না। মুক অবস্থায়, ফলে তারা বলতে পারবে না। বধির অবস্থায়, ফলে তারা শুনতে পাবে না। মহান প্রতিপালক বলেন, 

يا كما وما تناولهم 

ووته يوم القيمة على وجوههم 

لماب زن سيارة الإسراء: ۹۷ 

جه 

“আমি কেয়ামতের দিন তাদের সমবতে করব তাদের মুখে ভর দিয়ে চলা অবস্থায়, অন্ধ অবস্থায়, মুক অবস্থায় এবং বধির অবস্থায়। তাদের আবাসস্থল জাহান্নাম। যখনই নির্বাপিত হওয়ার উপক্রম হবে আমি তখন তাদের জন্যে অগ্নি আরও বৃদ্ধি করে দেব।” (সূরা ইসরা-৯৭) 

* তৃতীয় পেক্ষাপট

 আবার অনেককে তাদের নকল উপাস্য, সহযোগী এবং দোসরদের সহিত একত্র করা হবে।আল্লাহ বলেন, 

الأخوة الذين ظلئوأ وأوجر وما گائوأيعبدون ( من دون ال 

قدوم إلى صير جيرج به الصافات: 22 – 23 

“একত্রিত কর গোনাহগারদেরকে, তাদের দোসরদেরকে এবং যাদের তারা এবাদত করত আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে। অতঃপর  তাদেরকে পরিচালিত কর জাহান্নামের দিকে।” (সূরা সাফফাত ২২) 

* চতুর্থ প্রেক্ষাপট 

তাদেরকে তুচ্ছ, হেয়প্রতিপন্নকৃত ও লাঞ্ছিত অবস্থায় একত্রিত করা হবে। আল্লাহ বলেন, । 

وأتغلبون وممحون إلى جهوپ 

قل لين الهادي آل عمران: ۱۳ 

“কাফেরদিগকে বলে দিন, খুব শিগগীরই তোমরা পরাভূত হয়ে জাহান্নামের দিকে হাঁকিয়ে নীত হবে, সেটা কতই না নিকৃষ্টতম অবস্থান।” (সূরা আলে ইমরান-১২) 

* পঞ্চম প্রেক্ষাপট

 জাহান্নামের মধ্যে অগ্নির গর্জন ও হুংকারে তাদের কর্ণসমূহ ফেঁটে পড়ার উপক্রম হবে, ফলে শাস্তির সঙ্গে সঙ্গে তাদের আতঙ্কও দ্বিগুণ বেড়ে যাবে। যেমনটি প্রতিপালক বলেছেন, 

و إذا رأتهم من مكان بعيد سيعوا لها مما وفيرا يه 

الفرقان: 12 

“অগ্নি যখন দূর থেকে তাদেরকে দেখবে, তখন তারা শুনতে পাবে তার গর্জন ও হুংকার।” (সূরা ফুরকান-১২)। 

* ষষ্ঠ প্রেক্ষাপট 

যখন আগুনের কাছে দাঁড়িয়ে ভীতিপ্রদ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করবে, তখন তারা মুমিন হওয়ার আশায় দুনিয়ায় পুনঃপ্রত্যাবর্তন কামনা করবে। আল্লাহ বলেন, 

ایت با 

وأعلى النار فقالوايليتناولانگیز 

ووتى ونكون بين المؤمنين ( که الأنعام: ۲۷ | 

“আর আপনি যদি দেখেন, যখন তাদেরকে জাহান্নামের ওপর দাঁড় করানো হবে। তারা বলবে, কতই না ভালো হতো, যদি আমরা পুনঃপ্রেরিত হতাম; তাহলে আমরা স্বীয় পালনকর্তার নিদর্শনসমূহে মিথ্যারোপ করতাম না এবং আমরা বিশ্বাসীদের। অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতাম।” (সূরা আনআম-২৭)

 কিন্তু কোনোভাবেই তারা আগুন থেকে রেহাই পাবে না। আল্লাহ 

বলেন, 

سورة المجرمون التاروا أنهم وقعوها ولم يجدوا عنها مضراب الكهف: ۵۳ 

“অপরাধীরা আগুন দেখে বোঝে নেবে যে, তাদেরকে তাতে পতিত হতে হবে এবং তারা তা থেকে রাস্তা পরিবর্তন করতে পারবে না।” (সূরা কাহফ-৫৩) 

* সপ্তম প্রেক্ষাপট

 চরম অপমান ও লাঞ্ছনা সহকারে তাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। আর সেটা কতইনা নিকৃষ্ট অবস্থানস্থল। আল্লাহ 

বলেন, 

موی 

ځلين فيها فل 

جه 

لو قادوا أبواب المتين (يه النحل: 29 

“অতএব, জাহান্নামের দরজাসমূহে প্রবেশ কর, এতেই অনন্তকাল বাস কর। আর অহংকারীদের আবাসস্থল কতই নিকৃষ্ট।” (সূরা নাহলো-২৯) 

আল্লাহ তা’লা কুরআনের আয়াতসমূহে এ সকল প্রেক্ষাপট তুলে। ধরেছেন, যেন আমরা সতর্ক হই, মুক্তির জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নিই। 

সিরাত 

কেয়ামত দিবসের কঠিন প্রেক্ষাপটসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো সিরাত অতিক্রম। সে এক দুষ্কর পারাপার। ভীতিপ্রদ দৃশ্য। দুনিয়াতে যারা ঈমানের ওপর অবিচল ছিল, তাদেরকে আল্লাহ তালা দৃঢ়পদ রাখবেন। আর যারা সত্য ও ন্যায়কে অস্বীকার করেছিল, সেসব ক্ষতিগ্রস্তদের পদস্খলন ঘটাবেন। সে এক কঠিন পরীক্ষা। যে মুক্তি পেয়ে যাবে, সে চিরসফল। যে গ্রেফতার হয়ে যাবে, সে মহাদুর্ভাগা। 

* কী সেই সিরাত?

 * বৈশিষ্ট্য কী?

 * অবস্থান কোথায়?

 * তাতে অতিক্রমকারী মানুষের অবস্থা কীরূপ? 

ভূমিকা

 সিরাতের বৈশিষ্ট্য 

সিরাতের অবস্থান 

মুশরিকরা সিরাত অতিক্রম করবে না

মুনাফিক সম্প্রদায় ও সিরাত

 মুমিনের জ্যোতির ব্যাপকতা

 সিরাতে মুমিনদের দোয়া

 সিরাত অতিক্রমকারীদের ধরণ

সিরাত অতিক্রমে দ্রুতগতি 

সর্বপ্রথম যে সিরাত অতিক্রম করবে

 নবী করীম সা. সিরাতের ওপর উম্মতকে আহ্বান করবেন সিরাতের পার্শ্বদ্বয়ে আত্মীয়তার বন্ধন এবং বিশ্বস্ততা 

ভূমিকা 

নবী করীম সা. কেয়ামতের ভয়াবহ পরিস্থিতির বিবরণ দিয়েছেন। হাশরের প্রেক্ষাপটসমূহ বর্ণনা করেছেন, যার একটি হলো সিরাত অতিক্রম। নবী রাসূলগণও সেদিন ভয় ও আশার দুলাচলে থাকবে। উম্মতে মোহাম্মাদী স্বীয় নবীর সুপারিশে ধন্য হবে। এই সিরাতের কিছু ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য থাকবে। তার ওপর দিয়ে অতিক্রমকারীদেরও অবস্থা হবে বিভিন্নরকম। – আরবী ‘সিরাত’ এর শাব্দিক অর্থ, পরিস্কার ও সুস্পষ্ট পথ। – পরকালে ‘সিরাত’ বলতে জাহান্নামের উপরিভাগে স্থাপিত দীর্ঘ সেতু, যা সকল মুমিনকে অতিক্রম করতে হবে। 

* সিরাতের বৈশিষ্ট্য

 এটি হলো জাহান্নামের উপরিভাগে স্থাপিত দীর্ঘ সেতু, যা তরবারীর চেয়ে ধারালো, চুলের চেয়ে চিকন। যাতে বিছানো থাকবে সাদান নামক কাঁটা। তাতে প্রোথিত থাকবে বড়শির ন্যায় ধারালো চিকন লোহা। যদ্দরুন অনেকে আহত ও ক্ষতবিক্ষত হয়ে যাবে। যা একমাসের পথ। সেখানে রয়েছে মহা 

অন্ধকার। 

নবী করীম সা. বলেন, “.. অতঃপর জাহান্নামের মধ্য-উপরিভাগে সেতু স্থাপিত হবে। জিজ্ঞেস করলাম, সেতু কী হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন, অতিপিচ্ছিল পথ; যাতে বাঁকা মাথাবিশিষ্ট পেরেক, ধারালো লোহা এবং নাজদ এলাকার সা‘দান নামক। ভয়ঙ্কর কাঁটা বিছানো থাকবে।” (বুখারী-মুসলিম) 

 আবু সাইদ রা. বলেন, “আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, সেতু হবে চুলের চেয়ে সূক্ষ্ম এবং তরবারীর চেয়ে ধারালো।” (মুসলিম-৪৭৩)। 

* সিরাত স্থাপনমুহূর্ত

 আমলনামা বিতরণ, কৃতকর্ম পরিমাপ, কতিপয় সুপারিশ সম্পাদন, হাউযে অবতরণ, হিসাব গ্রহণ এবং মানুষের বিচারকার্য সমাপ্ত হওয়ার পর সিরাত স্থাপন করা হবে। 

* মুশরিকরা সিরাত অতিক্রম করবে না

 কারণ, কেয়ামতের দিন মানুষ বিভিন্ন দলে বিভক্ত থাকবে। (১) নিষ্ঠাবান মুমিন, যারা একনিষ্ঠতা সহকারে আল্লাহর এবাদত করেছে। আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করেনি। (২) মুনাফিক। (৩) এবং মুশরিক, যারা আল্লাহর সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করেছে। মুশরিকরা সিরাত অতিক্রম করবে না; সিরাত স্থাপনের পূর্বেই তারা জাহান্নামে নিপতিত হবে। যাদের মুমিন ও মুসলিম 

বলা হতো, একবার হলেও যারা কালেমা উচ্চারণ করেছে কেবল তারাই সিরাতে উঠবে।

* মুনাফিক সম্প্রদায় এবং সিরাত 

একত্ববাদের দিকে আহ্বানকারী নবী রাসূলদের অনুসারীগণ দাঁড়িয়ে যাবে। তাদের মধ্যে গুনাহগার ও মুনাফিকরাও থাকবে। সিরাতে উঠার পূর্বে মহাঅন্ধকার নামিয়ে দেওয়া হবে। অতঃপর ঈমান ও সৎকর্ম অনুপাতে প্রত্যেকের মাঝে নূর (জ্যোতি) বিতরণ করা হবে। 

 আয়েশা রা. বলেন, নবীজীকে জিজ্ঞেস করা হলো- যেদিন নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলকে তৎসদৃশ অপর বস্তু দিয়ে পরিবর্তন করা হবে, সেদিন মানুষ কোথায় অবস্থান করবে? উত্তরে তিনি বললেন, সেদিন তারা সেতুর পার্শ্বে মহাঅন্ধকারে অবস্থান করবে।” (মুসলিম-৭৪২)। 

এ স্থলেই মুমিনদের থেকে মুনাফিকরা পৃথক হয়ে যাবে। তারা | পেছনে থেকে যাবে। মুমিনগণ অগ্রসর হয়ে সামনে চলে যাবে। 

অতঃপর উভয় দলের মাঝে প্রাচীর স্থাপন করে দেওয়া হবে, ফলে মুমিনদের সাথে তারা গিয়ে মিলিত হতে পারবে না। আল্লাহ বলেন, 

ويوم يقول المفقون والمتفق للذين ء موا أنظرونا نقتبس من ورگر قيل أرجعوا وراء كثر التوا را قرب بينهم بشورله با باطر 

الحديد: ۱۳ 

من قبل العذاب ( 

فيه الموظه 

“যেদিন কপটবিশ্বাসী পুরুষ ও কপটবিশ্বাসী নারীরা মুমিনদেরকে বলবে, তোমরা আমাদের জন্যে অপেক্ষা কর, আমরা কিছু আলো নেবো তোমাদের জ্যোতি থেকে। বলা হবে, তোমরা পেছনে ফিরে যাও এবং আলোর খোঁজ কর। অতঃপর উভয় দলের মাঝখানে খাড়া করা হবে একটি প্রাচীর, যার একটি দরজা হবে। তার অভ্যন্তরে থাকবে রহমত এবং বাইরে থাকবে আযাব।” (সূরা হাদীদ-১৩)

 কোরআন-সুন্নাহর অনুসারী মুমিনদেরকে কেয়ামতের দিন আলো প্রদান করা হবে, যা কেয়ামতের সেই মহা অন্ধকারে তাদের জন্য জ্যোতি নিয়ে আসবে এবং সিরাতে পদস্খলন থেকে রক্ষা করবে। পক্ষান্তরে কুরআন-সুন্নাহ থেকে বিমুখতা প্রদর্শনকারী মুনাফিকরা কেয়ামতের দিন সেই মহাঅন্ধকারে নিমজ্জিত থাকবে। মুমিনদের দূর থেকে সামান্য সংগ্রহের জন্য তাদের অপেক্ষা করতে বলবে। অতঃপর তাদেরকে বলা হবে, তোমরা পেছনে গিয়ে আলো খোঁজো! অতঃপর মুনাফিকরা পেছনে চলে গেলে মুমিনগণ সামনে অগ্রসর হয়ে যাবে। এভাবেই উভয় দল বিভক্ত হয়ে গেলে আল্লাহ তাদের মাঝে প্রাচীর দাঁড় করিয়ে দেবেন। বাহ্যত দেখা যাবে শাস্তি, কিন্তু ভেতরে কেবলই শান্তি। এভাবে মুমিন নর নারীগণ জান্নাতে এবং মুনাফিক নর-নারীরা জাহান্নামে চলে যাবে। 

* মুমিনের নূর

 সিরাত অতিক্রমকারী মুমিন-মুনাফিক সকলকেই নূর দেওয়া হবে। যেমন নবী করীম সা. আল্লাহর দর্শনের বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন, “অতঃপর তিনি তাদের সামনে হাস্যোজ্জ্বল প্রকাশিত হবেন। তাদের নিয়ে চলবেন, সবাই তাঁকে অনুসরণ করবে। মুমিন মুনাফিক সকলকে নূর দেওয়া হবে। জাহান্নামের ওপর স্থাপিত সেতুতে কাঁটাযুক্ত ধারালো লোহা থাকবে; আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী সেগুলো অনেককে আহত করে ফেলবে। অতঃপর মুনাফিকদের নূর নির্বাপিত হয়ে যাবে। মুমিনগণ মুক্তি পাবে। মুমিনদের মধ্যে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম দলের লোকদের চেহারাগুলো হবে পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল। সংখ্যায় তারা হবে সত্তরহাজার। বিনা হিসাবে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (মুসলিম-৪৮৯)

 অপর হাদিসে নবী করীম সা. বলেন, “কারো কারো সামনে সেদিন পবর্তসদৃশ বিশাল নূর দেওয়া হবে। আর কাউকে 

এর চেয়ে বেশি। আবার কারো কারো ডানদিকে খর্জুর বৃক্ষ সদৃশ নূর দেওয়া হবে। কাউকে এর চেয়ে কম। সর্বশেষ নূর দেওয়া হবে ব্যক্তির পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলিতে; একবার জ্বলবে তো আরেকবার নিভে যাবে। প্রজ্বলিত হলে সামনে চলবে, নিভে গেলে দাঁড়িয়ে যাবে। নবীজী বলেন, এভাবে তারা সিরাতের ওপর দিয়ে চলতে থাকবে।” (আল মু’জামুল কাবীর-৯৭৬৩) 

* সিরাতে মুমিনদের দোয়া

 আল্লাহ কুরআনুল কারীমে নূর লাভের পর সিরাতে মুমিনদের কৃত দোয়াটি উল্লেখ করেছেন। 

به 

أتمم لكا ورنا واغفرلنا إنك على كل شيء قدير 

و 

التحريم: ۸| 

“হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের নূরকে পূর্ণ করে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয় আপনি সবকিছুর ওপর সর্ব শক্তিমান।” (সূরা তাহরীম-৮) 

* সিরাতে অতিক্রমকারীগণ জাহান্নামের ওপর দিয়ে অতিক্রমকারী লোকজন তিন ধরনের হবে

 (১) নিরাপদে মুক্তিপ্রাপ্ত 

(২) আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মুক্তিপ্রাপ্ত 

(৩) অতিক্রমে ব্যর্থ হয়ে জাহান্নামে নিপতিত 

-নবী করীম সা. বলেন, “জাহান্নামের উপরিভাগে সিরাত স্থাপিত হবে। তাতে সাদান বৃক্ষের কাঁটা সদৃশ অনেক কাঁটা থাকবে। অতঃপর মানুষকে অতিক্রম করতে বলা হলে কেউ নিরাপদে পার হয়ে মুক্তি পেয়ে যাবে। কেউ আহত ও আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মুক্তি পেয়ে যাবে। আবার কেউ কেউ ব্যর্থ হয়ে জাহান্নামে পতিত হবে।” (ইবনে মাজা-৪২৮০) 

আবু সাইদ রা. থেকে বর্ণিত হাদিসে সেতু সম্পর্কে নবী করীম সা. বলেন, “. সেতুর ওপর অনেক লোহাজাতীয় ধারালো পেরেক, বড়শির ন্যায় বাঁকা কণ্টক এবং সাদান বৃক্ষের কাঁটা সদৃশ অসংখ্য কাঁটা থাকবে। মুমিনগণ তার ওপর দিয়ে কেউ চোখের পলকে, কেউ 

সা’দান কাঁটা বিদ্যুৎগতিতে, কেউ বাতাসের বেগে 

এবং কেউ দ্রুতগামী অশ্ব ও বাহনের বেগে পার হয়ে যাবে। কেউ নিরাপদে পার হয়ে মুক্তি পেয়ে যাবে। কেউ আহত ও আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মুক্তি পেয়ে যাবে। আবার কেউ ব্যর্থ হয়ে জাহান্নামে পতিত হবে। সর্বশেষজন (আহত হয়ে পড়ে থাকবে, সামনে চলতে পারবে না। ফলে) টেনে হেঁচড়ে তাকে পার করানো হবে।” (বুখারী-৭০০১)। 

সিরাতে স্থাপিত কণ্টকের আকৃতি হবে বিশাল। 

নবী করীম সা. বলেন, “জাহান্নামে সা’দান কাঁটাসদৃশ ধারালো কণ্টক থাকবে। তোমরা কি সাদান দেখেছ? সবাই বলল, জ্বি.. হে আল্লাহর রাসূল! বলেন, সেগুলোও হবে সাদান কাঁটাসদৃশ। তবে তার বিশালতা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। আমল অনুপাতে অতিক্রমকারীকে আঘাত করবে। কেউ আঘাতের কারণে ধ্বংসপ্রায়; কিন্তু আমলের দরুন বেঁচে থাকবে। কেউ অধিক আমলের দরুন পূর্ণ অক্ষত থাকবে। আবার কেউ টুকরো টুকরো হয়ে যাবে বা শাস্তিপ্রাপ্ত হবে ইত্যাদি..।” (বুখারী-৭০০০) 

* অতিক্রমকারীদের গতিসীমা 

সম্মুখে উদ্ভাসিত নূর অনুযায়ী অতিক্রমকারীদের গতিতে তারতম্য থাকবে। নবী করীম সা. তাদের অবস্থা এভাবে বর্ণনা করেছেন,  

 “.সিরাত হলো তরবারীর চেয়ে ধারালো। অতি পিচ্ছিল পথ। বলা হবে, নূরের ঔজ্জ্বল্য অনুপাতে তোমরা চলতে থাক! সুতরাং কেউ উল্কাপিণ্ডের ন্যায় চলে যাবে। কেউ বাতাসের বেগে পার হয়ে যাবে। কেউ চোখের পলকে অতিক্রম করে ফেলবে। কেউ আমল অনুপাতে দ্রুতগতিতে ঘন পদক্ষেপে হাঁটতে থাকবে। এমনকি যার নূর পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলিতে অল্প পরিমাণ থাকবে, সে চলতে গিয়ে এক হাত সরে যাবে তো অন্য হাতে ধরে রাখবে, এক পা পিছলে যাবে তো অন্য পা আটকে রাখবে; তার দেহের পার্শ্বগুলো আগুনে ঝলসে যাবে। এভাবে তারা মুক্তি পেয়ে যাবে। মুক্তির পর (জাহান্নামকে উদ্দেশ্য করে) বলবে, সকল প্রশংসা আল্লাহর যিনি তোমাকে দেখানোর পর তোমার শাস্তি হতে আমাদের মুক্ত করেছেন। তিনি আমাদেরকে যা দিয়েছেন, তা কখনো অন্য কাউকে দেননি।” (আল মুস্তাদরাক-৩২৪) 

* সিরাত অতিক্রমকারী প্রথম ব্যক্তি 

সেতু স্থাপনের পর সর্বপ্রথম নিরাপদে ও নিঃসংশয়ে পার হবেন। নবী মুহাম্মাদ সা.। অতঃপর তাঁর উম্মত তাঁর পেছনে পেছনে পার হবে। যেমন, নবী করীম সা. বলেন, “জাহান্নামের উপরিভাগে সিরাত স্থাপন করা হবে। সর্বপ্রথম আমি এবং আমার উম্মত তা পার হবো। সেদিন নবীগণ ছাড়া কেউ কথা বলতে পারবে না। নবীদের মুখে থাকবে একটিই বাক্য.. “হে আল্লাহ! নিরাপদে রাখুন! নিরাপদে রাখুন!” (বুখারী 

৭০০০) 

* সিরাতে নবীজী স্বীয় উম্মতকে ডাকবেন

 সিরাতে ব্যক্তির আমলই তাকে পার করবে। আমল অনুযায়ী কারো গতি হবে বিদ্যুতের ন্যায় আবার কারো বাতাসের ন্যায়। অপরদিকে নবী করীম সা. সিরাতে দাঁড়িয়ে বলতে থাকবেন, হে আল্লাহ! মুক্তি দিন! মুক্তি দিন!

 নবীজীর ভাষ্য- “তোমাদের প্রথমদল বিদ্যুৎবেগে পার হয়ে যাবে। অপরদল বাতাসের গতিতে.. অপরদল পাখির চলার ন্যায়.. অপরদল উট চলার গতিতে। তাদের আমলই তাদেরকে পার করবে। তোমাদের নবী সিরাতের ওপর দাঁড়িয়ে বলতে থাকবে, হে প্রতিপালক, মুক্তি দিন! মুক্তি দিন! শেষপর্যন্ত কারো কারো আমল দুর্বল হওয়ায় চলতে পারবে না। ফলে হামাগুড়ি দিতে থাকবে।” (মুসলিম-৫০৩) 

* সিরাতের পার্শ্বদ্বয়ে আত্মীয়তার বন্ধন বিশ্বস্ততা

 কতিপয় সৎকর্ম সিরাতে উপস্থিত হয়ে ব্যক্তিকে সহায়তা করবে। তন্মধ্যে.. আমানত (বিশ্বস্ততা) এবং আত্মীয়তার বন্ধন সিরাতের দুইপাশে ডানদিকে ও বামদিকে এসে দাঁড়াবে। যেমনটি আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত হাদিসে বলে হয়েছে, “.. আমানত ও আত্মীয়তার বন্ধন-মিলন এ দুটোকে পাঠানো হবে। তারা এসে সিরাতের দুই পাশে ব্যক্তির ডানদিকে ও বামদিকে দাঁড়িয়ে যাবে।” (মুসলিম-৫০৩) 

পরিশেষে.. 

চোখ বন্ধ করে সিরাতের সেই ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা ভাবুন.. মনে করুন আপনি সিরাতের ওপর দাঁড়িয়ে। নীচে জাহান্নামের আগুন ধাউ ধাউ করে জ্বলছে। চারপাশে ঘোর অন্ধকার। কখনো আপনি হাঁটছেন আবার কখনো পড়ে গিয়ে হামাগুড়ি খাচ্ছেন। আপনার সামনে-পেছনে ডানে-বামে অসংখ্য মানুষ পা পিছলে পড়ে যাচ্ছে, কাঁটা দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছে, আগুন তার পার্শ্বগুলো ঝলসে দিচ্ছে। আপনার চোখের সামনে কেউ কেউ জাহান্নামের আগুনে পড়ে যাচ্ছে। হায়.. কী ভয়াবহ পরিস্থিতি.!! 

বাস্তবতা, 

একত্ববাদে বিশ্বাসী মুমিনগণ ব্যতীত কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না। অবশিষ্ট সকলেই জাহান্নামের আগুনে পতিত হবে। 

সিরাত পার হওয়ার পর মুমিনদের  পরস্পর কেসাস গ্রহণ 

মুমিনগণ সিরাত পার হওয়ার পর দুনিয়াতে তাদের হক ও অবিচারের পরস্পর বদলা (কেসাস) গ্রহণ করবে। মহান আল্লাহ জান্নাতে প্রবেশের পূর্বে সবাইকে স্বচ্ছ ও পবিত্র করে দিবেন। যেন কারো কোনো দাবী বাকি না থাকে। আল্লাহ বলেন, 

امنين ( ونتاما في صدورهم من غير إخوانا به الحجر: 46 – 47 

و آئوها على سرر متقبلين 

“বলা হবে, এগুলোতে নিরাপত্তা ও শান্তি সহকারে প্রবেশ কর। তাদের অন্তরে যে ক্রোধ ছিল, আমি তা দূর করে দেব। তারা ভাই-ভাই হয়ে সামনা-সামনি আসনে বসবে।” (সূরা হিজর ৪৬,৪৭) 

* কীভাবে তাদের পরস্পর কেসাস নেয়া হবে?

 * এটা কি তবে নতুনরূপে হিসাবগ্রহণ? 

* এর দরুন কি তাদের শাস্তি হবে? 

ভূমিকা 

জান্নাতে প্রবেশের পূর্বে মুমিনদের পারস্পরিক কেসাস গ্রহণের বিষয়টি নবীজী এভাবে বর্ণনা করেছেন, 

“জাহান্নাম (সিরাত) থেকে মুক্ত হওয়ার পর জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী একটি সরু স্থানে মুমিনদেরকে থামানো হবে। অতঃপর সেখানে দুনিয়াতে। হরণকৃত অধিকারের পারস্পরিক কেসাস নেয়া হবে। শেষপর্যন্ত সম্পূর্ণ পূত-পবিত্র হয়ে গেলে তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। ওই সত্তার শপথ যার হাতে মোহাম্মাদের প্রাণ, জান্নাতে তারা নিজ বসতি নিয়ে অনেক প্রমাণ পেশ করবে (গর্ব করবে)।” (বুখারী-২৩০৮) 

* কেসাসের স্বরূপ

 জান্নাতে প্রবেশের পূর্বে সেখানেও মুমিনদের অন্তর ভীত-সন্ত্রস্ত থাকবে। সেদিন কোনো সম্পদ থাকবে না, কোনো সন্তান থাকবে না, টাকা পয়সার মূল্য থাকবে না। কেসাস হবে কেবল সৎকর্মফল বা অসৎকর্মফল বিনিময়। সুতরাং যারা দুনিয়াতে অপরের মাল হরণ করেছিল, অন্যকে কষ্ট দিয়েছিল, প্রহার করেছিল; অবিচারের মাত্রা বুঝে সেখানে তাদের থেকে সকর্মফল কেটে নেয়া হবে। এভাবে সৎকর্মফল শেষ হয়ে গেলে দ্বিতীয়পক্ষের অসৎকর্মফল তার ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হবে। এটিই আল্লাহর চরম ন্যায়পরায়ণতা, বান্দাদের পরস্পর কোনো অভিযোগ ও অবিচার তিনি অবশিষ্ট রাখবেন না। তাদের কোনো অনুতাপ বাকি রাখবেন না। 

* উভয় পক্ষকে সন্তুষ্টকরণ 

– 

আনাস রা. বলেন, “একদা নবী করীম সা, বসা ছিলেন। হঠাৎ দেখলাম তিনি হাসছেন; হাসির ফলে তার দাঁতগুলো প্রকাশ হয়ে গেল।জিজ্ঞেস করা হলো, কেন হাসছেন হে আল্লাহর রাসূল? উত্তরে তিনি বললেন, আমার উম্মতের দুই ব্যক্তি প্রতিপালকের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পড়বে। একজন বলবে, হে প্রতিপালক, এই ভাই থেকে আমার অবিচারের মূল্য গ্রহণ করুন! দ্বিতীয় ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহ তা’লা বলবেন, তুমি অবিচার পরিমাণ মূল্য পরিশোধ কর! সে বলবে, হে প্রতিপালক, আমার কাছে তো কোনো সৎকর্মফল অবশিষ্ট নেই। প্রথমজন বলবে, হে প্রতিপালক, তাহলে সে আমার অসত্যমগুলো বহন করুক! এ কথা বলার সময় নবীজীর দুই চক্ষু অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল। অতঃপর বলতে লাগলেন, সেদিন মানুষ তাদের পাপের বোঝা নিজের ঘাঁড় থেকে সরাতে অতি-তৎপর থাকবে। অতঃপর আল্লাহ অবিচারের মূল্য-প্রার্থনাকারীকে বলবেন, চোখ তুলে তাকাও! সে মাথা উঠিয়ে দেখে বলতে থাকবে- হে প্রতিপালক, আমি মণিমুক্তায় সুশোভিত স্বর্ণখচিত শহর ও সোনালী প্রাসাদ দেখতে পাচ্ছি! কোন নবীর জন্য এগুলো? কোন সিদ্দীকের জন্য এগুলো? অথবা কোন শহীদের জন্য এগুলো? আল্লাহ বলবেন, বরং যে ওই ব্যক্তির অবিচারের মূল্য পরিশোধ করবে তার জন্য! সে বলবে, কে এর মূল্য আদায় করতে পারবে? বলবেন, তুমি! বলবে, কীভাবে? বলবেন, তাকে ক্ষমা করার মাধ্যমে! সে বলবে, হে প্রতিপালক, আমি তাকে ক্ষমা করে দিলাম। বলবেন, হাতে ধরে তোমার ভাইকে জান্নাতে প্রবেশ করাও! অতঃপর নবীজী বললেন, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং পরস্পর মীমাংসা স্থাপন কর। কেননা কেয়ামতের দিন আল্লাহ মুমিনদের মাঝে মীমাংসা স্থাপন করবেন।” (মুসনাদে আবু ইয়া’লা মুসেলী) 

সংশোধন,

 সংশোধন ও সংস্কারকাজে লিপ্ত হোন! কারণ, স্বয়ং আল্লাহ মুমিনদেরকে জান্নাতে প্রবেশের পূর্বে সংশোধন করে দেবেন। 

মধ্যবর্তীদের অবস্থা 

যারা ইসলাম সম্পর্কে জানেনি অথবা নবী করীম সা. এর আগমনের পূর্বেই দুনিয়া থেকে বিদায় হয়েছে। কোনো নবীর সাহচর্য পায়নি অথবা যাদের কাছে ইসলামকে বিকৃতরূপে উপস্থাপন করা হয়েছে- হাশরের ময়দানে তাদেরকে “মধ্যবর্তী লোক” বলে আখ্যায়িত করা হবে। 

* তারা কারা?

 * কী তাদের যুক্তি?

 * আল্লাহ তাদের সঙ্গে কী আচরণ করবেন? 

* ভূমিকা

 দুনিয়াতে নবী রাসূলদেরকে আল্লাহ তা’লা জান্নাতের সুসংবাদ বাহক ও জাহান্নাম থেকে ভীতিপ্রদর্শনকারী রূপে পাঠিয়েছেন। নবী রাসূলদের সাথে কৃত আচরণের মাত্রা অনুযায়ী তাদের বিচার হবে। আল্লাহ বলেন, 

بين حين بعث ولاية الإسراء: ۱۵ 

وما 

“কোনো রাসূল না পাঠানো পর্যন্ত আমি কাউকেই শাস্তি দান করি না।” (সূরা ইসরা-১৫)

 মানুষকে আল্লাহ অহেতুক ছেড়ে দেননি; বরং তাদের কাছে নবী প্রেরণ করেছেন। গ্রন্থ অবতীর্ণ করেছেন। রাসূল-প্রেরণ এবং ভীতিপ্রদর্শন ব্যতীত কোনো উম্মতকেই আযাব দেওয়া হবে না। কেয়ামতের দিন জাহান্নামের বিবরণ দিতে গিয়ে আল্লাহ বলেন, 

ولما ألقى فيها فسألتها الريادي و قالو بل قد جاء تا که 

“যখনই তাতে কোনো সম্প্রদায় নিক্ষিপ্ত হবে তখন তাদেরকে তার সিপাহীরা জিজ্ঞাসা করবে, তোমাদের কাছে কি কোনো সতর্ককারী আগমন করেনি? তারা বলবে- হ্যাঁ.. আমাদের কাছে সতর্ককারী আগমন করেছিল..” (সূরা মুলক ৮,৯)

 সুতরাং দাওয়াত পৌঁছার পর যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করতঃ আমৃত্যু ঈমানের ওপর অবিচল থাকল, নবী মুহাম্মাদ সা. এর আনীত ‘নূর’ অনুসরণ করল, সেই সঠিক পথ প্রাপ্ত হলো। তার পরিনাম হবে শুভ। পক্ষান্তরে যে সত্য থেকে বিমুখ রইল, সে বরং নিজেকেই অবিচার করল। তার পরিণাম হবে অশুভ ও নিকৃষ্ট। তার অপরাধ সেদিন কেউ বহন করবে না। 

* যাদের কাছে দাওয়াত পৌঁছেনি.

যাদের কাছে দাওয়াত পৌঁছেনি, ইসলাম সম্পর্কে শুনেনি; যেমন, আফ্রিকার জংলী বাসিন্দা ছিল, দূরের কোনো বন-জঙ্গলে জীবনযাপন করেছিল, উত্তর কিংবা দক্ষিন মেরুর পর্বতাঞ্চলে বসবাসরত ছিল অথবা ইসলামকে তার কাছে বিকৃতরূপে উপস্থাপন করা হয়েছে (যেমনটি পশ্চিমা বিশ্বের গণমাধ্যমগুলোতে এবং ইন্টারনেটের বিভিন্ন ওয়েবসাইটে করা হয়ে থাকে), ফলে সে ইসলামকে বিকৃতরূপ বুঝেছে। অথবা হতে পারে সে বধির অবস্থায় জন্মানোর ফলে কিছুই। শুনেনি অথবা নির্বোধ, আকল-বুদ্ধি বলতে কিছুই ছিল না অথবা বয়োবৃদ্ধ, বয়সের ভারে নতজানু, পরিস্থিতি অনুমান করতে 

= পারেনি.. তাদের ওপর আল্লাহর নিম্নোক্ত বাণীটি প্রতিফলিত হবে 

ولو أنا أهلكهربعداپ تین قبل لقالوارا لو أرسلت إليبا 

ی که طه: ۱۳۶ | 

و 

ولا نعاني من قبل أن تیم 

“যদি আমি এদেরকে ইতিপূর্বে কোনো শাস্তি দ্বারা ধ্বংস করতাম, তবে এরা বলত- হে আমাদের পালনকর্তা, আপনি আমাদের কাছে একজন রাসুল প্রেরণ করলেন না কেন? তাহলে তো আমরা অপমানিত ও হেয় হওয়ার পূর্বেই আপনার নিদর্শনসমূহ মেনে চলতাম।” (সূরা ত্বাহা-১৩৪) 

অন্য আয়াতে বলেন, 

يبهريب بما قدمت أيديهدر فولو نالو 

ولولا أن أرسلت إلينا ولا في ايتيك ونگوت من المؤمنين ( 

القصص: 47 

“আর এজন্য যে, তাদের কৃতকর্মের জন্যে তাদের কোনো বিপদ হলে তারা বলত, হে আমাদের পালনকর্তা, তুমি আমাদের কাছে। কোনো রাসূল প্রেরণ করলে না কেন? করলে আমরা তোমার আয়াতসমূহের অনুসরণ করতাম এবং আমরা বিশ্বাস স্থাপনকারী হয়ে যেতাম।” (সূরা কাসাস-৪৭) 

সুতরাং জাহান্নাম সম্পর্কে অবহিতকরণ এবং নবী রাসূল প্রেরণ ব্যতীত কাউকে আল্লাহ শাস্তি দেবেন না। এদেরকে কেয়ামতের ভয়াবহ পরিস্থিতিগুলোতে পরীক্ষা করা হবে। তখন যারা অনুসরণ করবে এবং আল্লাহ যাদের ব্যাপারে সৌভাগ্যের নিদর্শন দেখবেন, তাদেরকে জান্নাতে দেবেন। আর যে তখন অবাধ্য হবে। এবং আল্লাহ তাদের ব্যাপারে দুর্ভাগ্যের নিদর্শন দেখবেন, তাদেরকে জাহান্নামে নিপতিত করবেন। এ মতটিই সর্বজনবিদিত এবং সকল প্রমাণের সমন্বয়ক। 

সৃষ্টির প্রতি আল্লাহর ন্যায়বিচার.. “রাসূল না পাঠানো পর্যন্ত আমি কাউকেই শাস্তি প্রদান করি না”। 

জাহান্নাম 

আল্লাহ তা’লার প্রণীত মহাপ্রজ্ঞা হলো, তিনি বান্দাদের জন্য দুটি পথ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। হয়তো কৃতজ্ঞ হয়ে জান্নাতের পথ ধরবে, নয়তো অকৃতজ্ঞ হয়ে জাহান্নামের দিকে চলে যাবে। সুতরাং যে ব্যক্তি সৎপথপ্রাপ্ত হলো, সে নিজের জন্যই লাভবান হলো। আর যে পথভ্রষ্ট হলো, সে নিজেকেই চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করল। 

* কী সেই জাহান্নাম?

 * বৈশিষ্ট্য কী? 

* অগ্নিবাসী কারা?

 * কেন তারা এতে প্রবেশ করবে? 

ভূমিকা

 জাহান্নামের নামসমূহ 

জাহান্নাম থেকে মুক্তির আমল

 জাহান্নামের প্রহরীবৃন্দ 

জাহান্নামের দরজাসমূহ 

জাহান্নামের ইন্ধন।

 আগুনের উত্তাপ ও জাহান্নামের প্রকট শীত

 জাহান্নামের বিশালতা ও গভীরতা 

জাহান্নামীদের শাস্তিতে তারতম্য।

 জাহান্নামীদের পানিয়।

 জাহান্নামবাসীদের কতিপয় খাদ্য

 তাদের পোশাক ও শয্যা 

জাহান্নামীদের আকৃতি ও বিভৎসতা

 আযাবের কিছু ভিন্নরূপ ।

 নারী সম্প্রদায়, জান্নাত জাহান্নামের অধিকাংশ বাসিন্দা জাহান্নামীদের পরস্পর বিবাদ

 সর্বপ্রথম যাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

 যেসকল অপরাধে জাহান্নাম প্রতিশ্রুত

 জাহান্নাম থেকে সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি 

জান্নাত ও জাহান্নামবাসীর কিছু পারস্পরিক আহবান কেয়ামতের দিন ইবলিসের পরিণাম। 

ভূমিকা

 আল্লাহ তা’লা জান্নাতী এবং জাহান্নামীদের অবস্থার মধ্যে সম্পূর্ণ বৈপরিত্য রেখেছেন। আল্লাহ বলেন, 

ولا يستوي أصحب النار وأحب أن أصحاب الجهم 

به الحشر: 20 

الفآپژون 

“জাহান্নামের অধিবাসী এবং জান্নাতের অধিবাসী সমান হতে পারে না। যারা জান্নাতের অধিবাসী, তারাই সফলকাম।” (সূরা হাশর-২০)

 জ্বিন ও ইনসানকে আল্লাহ তা’লা কেবল তাঁরই এবাদতের উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন। তাদেরকে আনুগত্যের আদেশ করেছেন। মুমিনদেরকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। মিথ্যারোপকারীদেরকে জাহান্নামের ভয় দেখিয়েছেন। তাদের হেদায়েতের জন্য অসংখ্য নবী রাসূল প্রেরণ করেছেন

 নবী করীম সা. বলেন, “আমার এবং মানুষের দৃষ্টান্ত হলো এমন এক ব্যক্তির ন্যায়, যে আগুন প্রজ্বলিত করল। অতঃপর আলোৎসাহী পোকাগুলো এসে আগুনে পতিত হচ্ছিল। ওই ব্যক্তি বাঁধা দিয়েও তাদের বারণ করতে পারছিল না; তারা আগুনে ঢুকেই পড়ছিল। আমিও তেমন, তোমাদেরকে আগুন থেকে বারণ করছি। আর তোমরা আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়ছ।” (বুখারী-৩২৪৪) 

* আশ্রয় প্রার্থনা

 নবী করীম সা. আল্লাহর কাছে বেশি করে জাহান্নাম থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। সাহাবীদেরকেও আশ্রয় প্রার্থনার আদেশ করতেন। কুরআনের সূরাগুলোর মতো তাদেরকে নিম্নোক্ত দোয়া শিক্ষা দিতেন..

তোমরা বল… 

হে আল্লাহ, আমরা জাহান্নামের আগুন থেকে আপনার আশ্রয় চাই। কবরের আযাব থেকে আপনার আশ্রয় চাই। দাজ্জালের ফেতনা থেকে আপনার আশ্রয় চাই এবং জীবন ও মৃত্যুর পরীক্ষা থেকে আপনার আশ্রয় চাই।” (মুসলিম-১৩৬১) 

* ভীতি প্রদর্শন

 নবী করীম সা. প্রায়ই জাহান্নামের বিবরণ দিতেন। জাহান্নাম থেকে সতর্ক করতেন। জাহান্নাম থেকে বাঁচার উপায় বলতেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে নবীজীর দোয়া ছিল, 

 “হে আল্লাহ, দুনিয়াতে আমাদেরকে কল্যাণ দিন, আখেরাতেও আমাদেরকে কল্যাণ দিন এবং জাহান্নাম থেকে আমাদের রক্ষা করুন!” (বুখারী)

 নবীজীর এ সতর্ককরণের বিবরণ দিতে গিয়ে আদি বিন হাতিম রা. বলেন, “একদা নবী করীম সা. জাহান্নামের বিবরণ দিয়ে জাহান্নাম থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করলেন। চেহারায় সতর্কতার ছাপ ফুটে উঠল। আবার জাহান্নামের বিবরণ দিয়ে তা থেকে আশ্রয় চাইলেন। চেহারায় সতর্কতার ছাপ ফুটে উঠল। অতঃপর বললেন, জাহান্নাম থেকে বাঁচো! খেজুরের একটি অংশ দিয়ে হলেও! তা না পেলে একটি উত্তম কথা দিয়ে হলেও!” (বুখারী ৩৪০০) 

নুমান বিন বাশীর রা. বলেন, একদা নবী করীম সা. কে ভাষণ দানকালে বলতে শুনেছি, আমি তোমাদেরকে জাহান্নাম থেকে সতর্ক করছি! আমি তোমাদেরকে জাহান্নাম থেকে সতর্ক করছি! আমি তোমাদেরকে জাহান্নাম থেকে সতর্ক করছি! বারবার এভাবে বলছিলেন, এমনকি যদি এখন এ স্থলে থেকে বলতেন, তবে বাজারের লোকেরাও তা শুনতে পেত; বলার সময় তার পায়ের কাছে থাকা একটি পশমের চাদরও পড়ে গিয়েছিল।” (দারেমী-২৮১২) 

========= 

দোয়া, 

হে আল্লাহ, জাহান্নামের আযাব থেকে আমাদের রক্ষা করুন! 

জাহান্নামের নামসমূহ 

অধিক নাম বস্তুর প্রভাব ও গুরুত্ব বুঝায়। 

* জাহান্নামের নামগুলো কী?

 * এ সব নামের পেছনে প্রমাণ কী? 

ভূমিকা  

জাহান্নামের বিশালতা, তার কঠিন শাস্তি এবং তার অধিবাসীদের চরম পরিতাপের দিকে লক্ষ্য করে তার নামও একাধিক বর্ণিত হয়েছে। 

() জাহান্নাম  

এটিই তার প্রসিদ্ধ নাম। জাহান্নাম’ শব্দটি আরবী ‘জাহম’ শব্দ থেকে নির্গত; যার অর্থ- দুর্ভোগ, তীব্রতা, অন্ধকার..। 

আল্লাহ তা’লা জাহান্নামকে একাধিকবার এ নামে ব্যক্ত করেছেন। 

বলেছেন 

ويوم دون إلى نار جهدایه الطور: ۱۳ 

“সেদিন তোমাদেরকে জাহান্নামের অগ্নির দিকে ধাক্কা মেরে মেরে নিয়ে যাওয়া হবে।” (সূরা তুর-১৩) 

() লাযা 

যার অর্থ, অগ্নিশিখা। জাহান্নামের অগ্নিশিখা মানুষের দেহগুলো ঝলসে দেবে। আল্লাহ বলেন, 

لع لوئره المعارج: ۱۰ – 16 

وإنها لظى 

“কখনই নয়। নিশ্চয় এটা লেলিহান শিখা। যা চামড়া তুলে দেবে।” (সূরা মাআরিজ ১৫,১৬) 

() হুতামা 

 শাব্দিক অর্থ, নিঃশেষ করা, ধ্বংস করা, চুর্ণ করা। জাহান্নামের আগুন তার অধিবাসীকে চুর্ণ করে দেবে।আল্লাহ বলেন, 

و لينبت في الحطمة ؟ وما أدري ما أطمه چ باژ الله الموقدة والتي تطل على الأيدة ( إلهاعليهود في عملي 

“কখনও না, সে অবশ্যই নিক্ষিপ্ত হবে পিষ্টকারীর মধ্যে। আপনি কি জানেন, পিষ্টকারী কী? এটা আল্লাহর প্রজ্বলিত অগ্নি, যা হৃদয় পর্যন্ত পৌঁছুবে। এতে তাদেরকে বেঁধে দেওয়া হবে, লম্বা লম্বা খুঁটিতে।” (সূরা হুমাযা ৪-৯) 

() ছাঈর 

শাব্দিক অর্থ, চরম প্রজ্বলন। লাকড়ি দেওয়ার পর আগুন যখন পূর্ণরূপে জ্বলে উঠে, তখন এ শব্দ দিয়ে তাকে ব্যক্ত করা হয়। আল্লাহ বলেন, 

وكذلك أوحينا إليك قانا يا 

نذرأ القرى ومن حولها وذر يوم الجمع لارب فيه فريق في الجنة وفريق في السعيريه الشوری: ۷ 

“এমনিভাবে আমি আপনার প্রতি 

 আরবী ভাষায় কোরআন নাযিল করেছি, যাতে আপনি মক্কা ও তার আশপাশের লোকদের সতর্ক করেন এবং সতর্ক করেন সমাবেশের দিন সম্পর্কে, যাতে কোনো সন্দেহ নেই। একদল জান্নাতে এবং একদল জাহান্নামে প্রবেশ করবে।” (সূরা শূরা-৭) 

() হাবিয়া 

 শাব্দিক অর্থ, কোনো গভীর গহ্বরে নিপতিত হওয়া। আল্লাহ বলেন, “আর যার পাল্লা হালকা হবে, তার ঠিকানা হবে হাবিয়া। আপনি জানেন তা কী? প্রজ্বলিত 

অগ্নি।” (সূরা কারিআ ৮-১১) 

() জাহীম 

 শাব্দিক অর্থ অগ্নির অধিক প্রজ্বলন, যার শিখা অধিক উপরে উঠে। আল্লাহ বলেন, 

ي الجحيصل به الحاقة: ۳۰ – ۳۱ 

و ف 

“ফেরেশতাদেরকে বলা হবে, ধর একে গলায় বেড়ি পরিয়ে দাও! অতঃপর নিক্ষেপ কর জাহান্নামে।” (সূরা আলহাক্কা ৩০,৩১) 

() ছাক্কার 

 সূর্যের প্রচণ্ড তাপকে আরবীতে ‘সাক্কার’ বলা হয়। আল্লাহ বলেন, 

ويؤيحبون في الاعلى وجوهه وقو م سقر : القمر: ۶۸ 

“যেদিন তাদেরকে মুখ হেঁচড়ে টেনে নেয়া হবে জাহান্নামে, বলা হবে, সাক্কার তথা অগ্নির খাদ্য আস্বাদন কর।” (সূরা কামার ৪৮)। অন্য আয়াতে বলেন, 

وما أدرك ما تنقلاتبقى ولا تدري لوحة 

وسأضليه سقر 

عليهاتسعة عشر به المدثر: 26 – ۳۰ 

للبشر 

“আমি তাকে প্রবেশ করাব সাক্কার তথা অগ্নিতে। আপনি কি বুঝলেন সাক্কার কী? এটা অক্ষত রাখবে না এবং ছাড়বেও না। মানুষকে দগ্ধ করবে। এর ওপর নিয়োজিত আছে উনিশ (ফেরেশতা)।” (সূরা মুদ্দাছছির ৩০-৩৬) 

এই ছিল কুরআন-হাদিসে উল্লেখিত জাহান্নামের কতিপয় নাম। সবগুলিই জাহান্নামের বৈশিষ্ট্যের বিবরণ দেয়। 

মনে রাখবেন, জাহান্নামের নামগুলো তার বৈশিষ্ট্যের বিবরণ প্রকাশ করে। 

জাহান্নাম থেকে মুক্তির আমল 

আল্লাহ তা’লা জান্নাত-জাহান্নাম সৃষ্টি করে উভয়ের বৈশিষ্ট্য বলে দিয়েছেন। জান্নাতের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায় নির্ধারণ করেছেন। আল্লাহ কারো ওপর জোর করে কিছু চাপিয়ে দেন না। তিনি পরিষ্কারভাবে সবকিছু বর্ণনা করেছেন। হেদায়েত করেছেন, শিখিয়েছেন, উৎসাহ দিয়েছেন, সতর্ক করেছেন। আর মানুষ স্বেচ্ছায় নিজ পরিণামস্থল ঠিক করে নেয়। 

* কোন কোন আমল জাহান্নাম থেকে রক্ষা করে? 

* প্রকারগুলো কী? 

ভূমিকা 

__ 

একদিকে কুফর চিরস্থায়ী জাহান্নামের পথ। অপরদিকে ঈমান ও সৎকর্ম জাহান্নাম থেকে মুক্তির পথ। এ কারণেই মুসলিমগণ প্রতিপালকের কাছে তাদের ঈমানের ওসিলা দিয়ে জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চান। আল্লাহ বলেন, 

هو الذين يقولون ربنا إناء اما فأغفرلا وباوقا 

که آل عمران: ۱۹| 

عذاب لار 

“যারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা ঈমান এনেছি, কাজেই আমাদের গোনাহ ক্ষমা করে দিন আর আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন!” (সূরা আলে ইমরান 

কুরআন-হাদিসে জাহান্নাম থেকে বাঁচার অনেকগুলো আমল বর্ণিত হয়েছে 

() এখলাস তথা একনিষ্ঠতা সহকারে শাহাদাতদ্বয় পাঠ করে মনে প্রাণে তাতে বিশ্বাস করা

 “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ” (আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল) এ কথার সাক্ষ্য দেওয়া ব্যক্তির ঈমানের লক্ষণ। এটিই জান্নাতের চাবিকাঠি, আল্লাহর রজ্জু এবং তাঁর প্রদর্শিত সরল পথ। এটিই ইসলামের প্রধান শর্ত। 

শান্তিময় এ ধর্মের প্রবেশপথ। জাহান্নাম থেকে মুক্তির প্রধান। উপায় এবং দয়াময় আল্লাহর করুণা লাভের শ্রেষ্ঠ উপকরণ।  নবী করীম সা. বলেন, “যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল- তার ওপর আল্লাহ তা’লা জাহান্নামকে নিষিদ্ধ করে দেবেন।” (মুসলিম-১৫১) 

(২) আল্লাহ তাঁর রাসূলের প্রতি ভালোবাসা পোষণ ভালোবাসা হলো হৃদয়সম্পৃক্ত বিষয়, যা দ্বারা বান্দা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করে। বান্দা পরকালে প্রতিপালকের দর্শন লাভের আশায় তাঁর ভালাবাসাকে সত্য প্রতীয়মান করে। যেকোনো ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসবে, অবশ্যই সে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে মনোনিবেশ করবে। 

 আনাস রা. থেকে বর্ণিত, একব্যক্তি নবীজীকে ‘কেয়ামত কখন জিজ্ঞেস করলে উত্তরে তিনি বললেন, “সে জন্য তুমি কী প্রস্তুতি নিয়েছ?” সে বলল, কিছুই না, তবে আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসি। নবীজী বললেন, যাকে তুমি ভালোবাসবে, তার সঙ্গেই তুমি থাকবে। আনাছ রা. বলেন, এ কথা শুনে আমরা সেদিন এত খুশি হয়েছিলাম, ইতিপূর্বে কোনোদিনই এত খুশি হইনি। আনাছ রা. বলেন, আমি ভালোবাসি নবীকে, আবু বকর ও উমরকে। তাদের মতো আমল না করতে পারলেও ভালোবাসা পোষণকারী হিসেবে তাদের সঙ্গে থাকব বলে আশা রাখি।” (বুখারী-৩৪৮৫) 

() দান সাদকা 

দান একটি উৎকৃষ্ট আমল, যা মানুষকে পবিত্র করে।মর্যাদা বৃদ্ধি করে।

নবী করীম সা. বলেন, “একটি খেজুরের টুকরা দিয়ে হলেও যদি কেউ জাহান্নাম থেকে বাঁচতে পারে, সে যেন তাই করে।” (বুখারী-২৩৯৪)। 

 নবীজী আরও বলেন, “কেয়ামতের দিন তোমাদের প্রত্যেকের সাথে আল্লাহ কথা বলবেন। তাঁর ও তোমাদের মাঝে কোনো দুভাষী থাকবে না। তখন বান্দা ডানদিকে তাকিয়ে তার কৃতকর্ম দেখতে পাবে। বামদিকে তাকিয়েও কৃতকর্ম দেখতে পাবে। সামনের দিকে তাকিয়ে জাহান্নাম দেখতে পাবে। সুতরাং খেজুরের একটি অংশ দিয়ে হলেও তোমরা জাহান্নাম থেকে বাঁচো!” (বুখারী-৭০৭৪)

 উপরোক্ত হাদিসে নবীজী সাদকার প্রতি উৎসাহিত করেছেন।সম্পদ অল্প থাকলেও দানে অবহেলা করতে নেই। কারণ, তা জাহান্নাম থেকে মুক্তির অন্যতম মাধ্যম। 

() নফল রোযা

 রোযা হলো গুরুত্বপূর্ণ এবাদত। রোযাদারগণকে আল্লাহ জাহান্নাম থেকে মুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। 

নবী করীম সা. বলেন, “রোযা হলো জাহান্নাম থেকে মুক্তির ঢাল; ঠিকযেমন তোমরা যুদ্ধক্ষেত্রে আত্মরক্ষার জন্য ঢাল ব্যবহার কর।” (মুসনাদে আহমদ-১৭৯০২)

 নফল রোযার অনেক ফযিলত বর্ণিত হয়েছে।

 নবী করীম সা. বলেন, “কেবল আল্লাহর জন্য যে ব্যক্তি একদিন রোযা পালন করবে, বিনিময়ে আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে সত্তর বৎসর দূরত্বে নিয়ে যাবেন।” (মুসলিম-২৭৬৭)। 

() নিয়মিত জামাতে নামায আদায় 

 গুরুত্ব সহকারে নিয়মিত জামাতে নামায আদায় ঈমানের অন্যতম নিদর্শন। আল্লাহ বলেন, 

الله واليوم الأخيرة التوبة: 

مسجدا من ام 

و إنمای 

“নিঃসন্দেহে তারাই আল্লাহর মসজিদ আবাদ করবে যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি ও শেষ দিনের প্রতি..” (সূরা তাওবা-১৮) কেয়ামতের দিন জাহান্নামের অধিবাসীগণকে জিজ্ঞেস করা হবে, 

و المدثر: 42 – 43 

قالو لتر من المصلين 

و ماسلككم في سقر 

“কীসে তোমাদেরকে জাহান্নামে নীত করেছে? তারা বলবে, আমরা নামায পড়তাম না।” (সূরা মুদ্দাছছির ৪২-৪৩)। সুতরাং নামায হলো জাহান্নাম থেকে মুক্তির অন্যতম উপায়। 

 নবী করীম সা. বলেন, “যে ব্যক্তি চল্লিশ দিন আল্লাহর জন্য ‘তাকবীরে উলা’র সাথে জামাতে নামায আদায় করবে, তার জন্য দুটি মুক্তি-সনদ লিখে দেওয়া হবে- জাহান্নাম থেকে মুক্তির এবং মুনাফেকী থেকে পবিত্রতার।” (তিরমিযী-২৪১)

 নামায সম্পর্কে তিনি আরো বলেন, 

 “যে ব্যক্তি নিয়মিত জামাতের সহিত তা আদায় করবে, কেয়ামতের দিন সেটি তার জন্য জ্যোতি, যুক্তি এবং মুক্তির মাধ্যম হবে। আর যে নিয়মিত জামাতকে গুরুত্ব দেবে না, তার জন্য কেয়ামতের দিন কোনো জ্যোতি, যুক্তি এবং মুক্তি হবে না। কেয়ামতের দিন বরং সে ফেরাউন, হামান, কারুন ও উবাই বিন। খালাফের দলে থাকবে।” (ইবনে হিব্বান-১৪৬৭) 

() জামাতে ফজর আসর আদায়

 সব নামাযেরই গুরুত্ব অপরিসীম। পুরুষদের জন্য জামাতে নামায আবশ্যক। বিশেষতঃ ফজর এবং আসর। এ দুই নামাযে মানুষের কর্মঝামেলা এবং ঢিলেমীর সম্ভাবনা বেশি থাকে। 

নবী করীম সা. বলেন, “সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের পূর্বের নামায যে আদায় করবে, সে কখনো জাহান্নামে প্রবেশ করবে না।” (মুসলিম-১৪৬৮)। 

() সকাল সন্ধ্যার আমল 

অধিক পরিমাণে দোয়া ও যিকির জাহান্নাম থেকে মুক্তির অন্যতম উপকরণ। 

 নবী করীম সা. বলেন, “যে ব্যক্তি সকালে ও সন্ধ্যায় নিম্নোক্ত দোয়া একবার পড়বে, আল্লাহ তার এক-চতুর্থাংশ জাহান্নাম থেকে মুক্ত করবেন। যে দুইবার পড়বে, তার অর্ধাংশ মুক্ত করবেন। যে তিনবার পড়বে, তার তিন-চতুর্থাংশ মুক্ত করবেন এবং যে চারবার পড়বে, তাকে আল্লাহ জাহান্নাম থেকে পূর্ণ মুক্ত করে দেবেন,

হে আল্লাহ, নিশ্চয় আমি আজ সকালে আপনাকে, আপনার আরশবাহী ফেরেশতাগণকে, সকল ফেরেশতাদিগকে এবং সমস্ত সৃষ্টিকে সাক্ষী রেখে বলছি, আপনিই আল্লাহ, আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ আপনার বান্দা ও রাসূল!” (আবু দাউদ-৫০৭১) 

() মুক্তির প্রার্থনা 

দোয়া হলো এক ধারালো তরবারী, নির্ভেজাল সম্পদ, মুমিনের অস্ত্র এবং কাফেরের ক্রোধ। মুমিনদের গুণ বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লাহ বলেন, 

والذين يقولون ربنا أضر عينا عذاب جهان عذابهاا 

هو الفرقان: ۹۰ – 16 

غراما و إلهاست 

مستقرا ومقاما 

“এবং যারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের থেকে জাহান্নামের শাস্তি হটিয়ে দিন! নিশ্চয় এর শাস্তি নির্ঘাত বিনাশ; বসবাস ও অবস্থানস্থল হিসেবে তা কত নিকৃষ্ট জায়গা।” (সূরা ফুরকান ৬৫,৬৬)

নবী করীম সা. বলেন, “কোনো মুসলিম যদি আল্লাহর কাছে। তিনবার জান্নাত প্রার্থনা করে, তবে জান্নাত বলে, হে আল্লাহ, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান! পক্ষান্তরে কোনো মুসলিম যদি জাহান্নাম থেকে তিনবার মুক্তির প্রার্থনা করে, তবে জাহান্নাম বলে, হে আল্লাহ, তাকে মুক্তি দিন।” (মুসনাদে আহমদ-১২৪৩৯) অর্থাৎ তিনবার এই দোয়া পড়বে – 

 হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে জান্নাত চাই। হে আল্লাহ, জাহান্নাম থেকে আমাকে মুক্তি দিন। 

(৯) সাতবার আল্লাহুম্মা আজিরনী মিনান্নার’ পড়া 

 আশা করা যায়, নিয়মিত এই দোয়া পাঠকারীকে আল্লাহ মুক্তি দেবেন। নবী করীম সা. বলেন, “ফজরের নামাযের পর কারো সাথে কথা বলার পূর্বে সাতবার বল হে আল্লাহ, জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিন!’ তবে যদি তুমি সেদিনে মারা যাও, তবে আল্লাহ তোমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন। তেমনি মাগরিবের নামাযের পর কারো সাথে কথা বলার পূর্বে সাতবার বল হে আল্লাহ, জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিন! 

যদি তুমি সে রাত্রিতে মারা যাও, তবে আল্লাহ তোমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন।” (মুসনাদে আহমদ-১৮০৫৪)। 

(১০) জুহরের পূর্বের পরের চার রাকাত সুন্নাত

 নামায আল্লাহর প্রিয় আমল। বান্দা যতবেশি নফল আদায় করবে, ততবেশি সে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করবে। আল্লাহর সর্বাধিক প্রিয় আমল হলো ফরয নামায। অতঃপর নফল।

 নবী করীম সা. বলেন, “যে ব্যক্তি জুহরের পূর্বের ও পরের চার রাকাত নিয়মিত আদায় করবে, তার ওপর আল্লাহ জাহান্নাম হারাম করে দেবেন।” (তিরমিযী ৪২৮) 

(১১) আল্লাহর পথে ধূলিমলিন পা 

জিহাদ হলো ইসলামের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ সংগ্রাম। ইসলামী শাসনব্যবস্থা বাস্তবায়নে এর বিকল্প নেই। কোনো ব্যক্তি উটের দুধ দোহন পরিমাণ সময়ও যদি জিহাদ করে, তার ওপর জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়। 

 নবী করীম সা. বলেন, “যার দুই পা আল্লাহর রাস্তায় ধূলিমিশ্রিত হবে, তার ওপর আল্লাহ জাহান্নাম হারাম করে দেবেন।” (বুখারী-৮৬৮) 

অন্য হাদিসে বলেন, “আল্লাহর রাস্তায় ধূলিমিশ্রিত পা কখনো জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না।” (বুখারী-২৬৫৬)। 

(১২) আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন

 সকল প্রজ্ঞার মূল হলো আল্লাহর ভয়। আল্লাহ বলেন, 

ولمن خاف مقام به ج ايي که الرحمن: 46 | 

“যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সামনে উপস্থিত হওয়ার ভয়। রাখে, তার জন্যে রয়েছে দু’টি উদ্যান।” (সূরা । আররাহমান-৪৬)। নবী করীম সা. বলেন, “দুধ যেমন স্তনে ফিরে যাওয়া অসম্ভব, তেমনি আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দনকারী ব্যক্তির জাহান্নামে যাওয়া অসম্ভব। আর আল্লাহর পথের ধূলাবালি ও জাহান্নামের আগুন কখনো একত্রিত হবে না।” (তিরমিযী-১৬৩৩)

নবীজী আরো বলেন, “দুই ধরণের চোখ কখনো আগুন স্পর্শ করবে না- যে চোখ আল্লাহর ভয়ে কেঁদেছে এবং যে চোখ আল্লাহর রাস্তায় সজাগ থেকে পাহারাদারী করেছে।” (তিরমিযী ১৬৩৯) 

(১৩) কৃতদাস মুক্তি

 কৃতদাসকে তার মনিবের আয়ত্তাধীন হতে মুক্ত ও স্বাধীন করে দেওয়া জাহান্নাম থেকে মুক্তির অন্যতম উপায়। নবী করীম সা. বলেন, “যে ব্যক্তি কোনো মুসলিম কৃতদাসীকে মুক্ত করবে, তার প্রতিটি অঙ্গের বিনিময়ে স্বাধীনকারীর অঙ্গসমূহ জাহান্নাম থেকে মুক্ত করে দেওয়া হবে। এমনকি তার লজ্জাস্থানের বিনিময়ে মুক্তকারীর লজ্জাস্থানকে..।” (বুখারী মুসলিম-৬৩৩৭)। 

একদা জনৈক এসে নবীজীকে বলল, এমন আমল সম্পর্কে বলুন, যা আমাকে জান্নাতের নিকটবর্তী করে দেয় এবং জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। নবীজী বললেন, আমি কথা সংক্ষেপ করতে চেয়েছিলাম এমনসময় তুমি এ প্রশ্ন উত্থাপন করেছ! কৃতদাস স্বাধীন কর এবং দাসত্ব মুক্ত কর। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! উভয়টাই কি এক বিষয় নয়? নবীজী বললেন, 

, কৃতদাস স্বাধীন করা মানে তাকে মুক্ত করা। আর দাসমুক্তি মানে দাসত্ব মুক্তির ক্ষেত্রে তার মূল্য পরিশোধে সহায়তা করা। সর্বোৎকৃষ্ট দান হলো, অধিক দুগ্ধবাহী উট প্রদান। সর্বোত্তম আশ্রয়দান হলো, অবিচারকারী আত্মীয় স্বজনকে আশ্রয়দান। এগুলো না পারলে তবে জিহবাকে উত্তম কথা ছাড়া ব্যবহার করো না।” (মুসনাদে আহমদ-১৮৬৪৭) 

(১৪) ইসলামের রুকনসমূহ আদায় 

 একদা নবী করীম সা. ভ্রমণে ছিলেন। এক বেদুইন এসে তাঁর উটের লাগাম ধরে বলতে লাগল, হে আল্লাহর রাসূল, (অথবা বলল, হে মুহাম্মাদ,) এমন বস্তুর কথা বলুন যা আমাকে জান্নাতের নিকটবর্তী করে দেয় এবং জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। তখন নবী করীম সা. থেমে গিয়ে সঙ্গীদের দিকে তাকিয়ে বললেন, অবশ্যই তাকে সৎপথ দেখানো হয়েছে। নবীজী বেদুইনকে বললেন, তুমি কী যেন বলছিলে? তখন বেদুইন তার প্রশ্ন পুনর্ব্যক্ত করলে নবীজী উত্তরে বললেন, আল্লাহর এবাদত করবে, তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবে না, নামায আদায় করবে, যাকাত প্রদান করবে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখবে। অতঃপর বেদুইনকে বললেন, উট ছেড়ে দাও!” (মুসলিম) 

(১৫) অপর মুসলিমের সম্ভ্রম রক্ষা 

এক মুসলিমের ওপর অপর মুসলিমের সাধারণ অধিকার হলো, অনুপস্থিতিতে তার সম্ভ্রম রক্ষা করা। তার পক্ষ থেকে প্রতিরোধ করে তাকে সহায়তা করা। কোনোক্রমেই অন্য মুসলিমের অপমান সহ্য না করা।

নবী করীম সা. বলেন, “অনুপস্থিতিতে যে অপর ভাইয়ের সম্ভ্রম রক্ষা করবে, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো আল্লাহর অধিকার হয়ে যাবে।” (তাবারানী) 

(১৬) জ্বরব্যাধি 

অসুস্থতা এবং বিপদাপদের দরুন বান্দাকে প্রতিদান দেওয়া হবে। তার গুনাহ মাফ করা হবে। 

 নবী করীম সা. বলেন, “জ্বর হলো জাহান্নামের একটি অংশ। যতটুকু পরিমাণ জ্বরে আক্রান্ত হবে, ততটুকু সে জাহান্নাম থেকে মুক্ত হয়ে যাবে।” (মুসনাদে আহমদ-২২২৭৪) 

(১৭) সৎ চরিত্র 

সর্বশ্রেষ্ঠ যে বৈশিষ্ট্যের দরুন মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করবে, তা হলো সৎচরিত্র। তাদেরকে আল্লাহ জাহান্নাম থেকে মুক্ত করে 

দেবেন। সৎচরিত্রবানগণ নবী করীম সা. এর সবচেয়ে নিকটে থাকবে। 

নবী করীম সা. বলেন, “যাদের ওপর জাহান্নাম হারাম হয়ে গেছে তাদের কথা কি বলব? তারা হলো প্রত্যেক সহজ, সরল। ও সৎচরিত্রবান লোক।” (তিরমিযী-২৪৮৮) 

(১৮) ন্যায়ের কথা বলা এবং উচ্ছিষ্ট দান করা

এক বেদুইন এসে নবী করীম সা. কে বলল, জান্নাতের নিকটবর্তী করে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এমন আমলের কথা বলুন! নবীজী বললেন, তা তুমি করতে পারবে তো? সে বলল, হ্যাঁ..! বললেন, সর্বদা ন্যায়সঙ্গত কথা বলবে। এবং উচ্ছিষ্ট দান করে দেবে। সে বলল, আল্লাহর শপথ, সর্বদা আমি ন্যায় বলতে পারব না এবং উচ্ছিষ্ট প্রদান করাও আমার পক্ষে সম্ভব নয়। নবীজী বললেন, তাহলে বেশি করে খাদ্য দান কর এবং সালাম প্রচার কর। সে বলল, এটিও তো অনেক। কঠিন। নবীজী বললেন, তোমার কি কোনো উট আছে? সে বলল, হ্যাঁ..! বললেন, তাহলে দুধবাহী উস্ত্রীর কাছে গিয়ে দুধ দোহন কর। অতঃপর সচরাচর দুধ পায় না এমন পরিবারের কাছে গিয়ে তাদের দুধপান করাও! এর দ্বারা তোমার উষ্ট্রীও নিঃশেষ হবে না এবং তোমার পান করানোও বৃথা যাবে না। এভাবেই তোমার ওপর জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে। অতঃপর বেদুইন চলে গেল। পরবর্তীতে তার উটও নিঃশেষ হয়নি এবং দানও বৃথা যায়নি। শেষপর্যন্ত সে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করে শহীদী মর্যাদা লাভ করেছিল।” (আল-মু’জামুল কাবীর-৪২২) 

(১৯) সন্তানের মৃত্যুতে ধৈর্যধারণ

 বিপদাপদ গুনাহ মুছে দেয়। মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি করে। সবচেয়ে বড় বিপদ হলো সন্তানের মৃত্যু। সন্তান হলো আমাদের কলিজার টুকরা। সন্তানের মৃত্যুতে মানুষ প্রচণ্ড আঘাত পায়। হৃদয় ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। সে কারণেই কেয়ামতের দিন তা জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপকরণ হবে।

নবী করীম সা. বলেন, “কারো যদি তিনটি সন্তান মারা যায় এবং সে ধৈর্যধারণ করে আল্লাহর কাছেই এর প্রতিদান আশা করে, তবে তারা তার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির ঢাল হবে।” মহিলাদেরকে উদ্দেশ্য করে নবীজী বলেছিলেন,“তোমাদের কারোর যদি তিনজন সন্তান মারা গিয়ে থাকে, তবে তারা তার ও জাহান্নামের মধ্যে আবরণ হবে। এক মহিলা বলল, দুজন হলেও? বললেন, দুজন হলেও!” (বুখারী-৬৮৮০) 

(২০) মেয়েদের লালন পালনে ধৈর্যধারণ

 মূখতাযুগে আরব অধিবাসীরা মেয়েসন্তান পালনকে অশুভ মনে। করত। ঘৃণা করত। কারণ, ছেলেসন্তান লালন করলে তারা বড় হয়ে তার উপকারে আসবে। তার মর্যাদা উঁচু করবে। অথচ মেয়েসন্তান বড় হয়ে অন্যের ঘরে চলে যাবে। পরবর্তীতে স্বামী আর সংসার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বে। কিন্তু ইসলাম তাদের এ ভুল ধারণার নিন্দা করে মেয়েদেরকে সম্মানিত করেছে। তাদের অধিকার নিশ্চিত করেছে; বরং ছেলেসন্তান পালন অপেক্ষা মেয়েসন্তান পালনে অধিক পুরষ্কার ঘোষণা করেছে।  নবীজী বলেন, “যার তিনটি মেয়ে আছে অথবা তিনটি বোন। আছে, বা দুটি মেয়ে বা দুটি বোন আছে এবং সে তাদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করেছে এবং উত্তমরূপে তাদের লালন পালন করেছে, এভাবে তারা তার থেকে (বিবাহের ফলে) বিচ্ছিন্ন হয়েছে অথবা মৃত্যুবরণ করেছে, তবে (কেয়ামতের দিন) তারা তার জন্য জাহান্নাম থেকে বাঁচার আবরণ হবে।” (মুসনাদে আহমদ-২৩৯৯১) 

(২১) জাহান্নাম থেকে বাঁচার আরো কতিপয় আমল 

IE 

সকল সৎকাজই জান্নাতে প্রবেশ এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপকরণ। সাহাবীরা নবীজীকে প্রায়ই জাহান্নাম থেকে মুক্তির। আমল জিজ্ঞেস করতেন। 

আবু যর রা. বলেন, জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল, কোন কাজ বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবে? নবীজী বললেন, আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়ন। বললাম, হে আল্লাহর নবী, ঈমানের সাথে আমলও তো লাগবে! তিনি বললেন, আল্লাহ তাকে যে রিযিক দিয়েছেন তা থেকে খরচ করবে। 

বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! দরিদ্র হওয়ার ফলে যদি সে ব্যয়। করার সামর্থ্য না রাখে? বললেন, তবে সৎকাজের আদেশ ও 

অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে। বললাম, অপরাগ হওয়ার ফলে যদি সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধও না করতে পারে? তিনি বললেন, তবে নির্বোধের জন্য (উপকারী) কিছু করবে। বললাম, সে যদি নিজেই নির্বোধ হয়, ফলে কোনো উপকার করতে না পারে? বললেন, তবে নিপীড়িতকে সহায়তা করবে। বললাম, যদি দুর্বল হওয়ার ফলে সে নিপীড়িতকে সহায়তা না করতে পারে? নবীজী বললেন, তুমি দেখছি তোমার সাথীর জন্য পরোপকারজনিত কোনো কল্যাণই অবশিষ্ট রাখছ না? বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, এগুলো করলে কি সে জান্নাতে প্রবেশ করবে? নবীজী বললেন, কোনো মুসলিম যদি উপরোক্ত কোনো একটি বৈশিষ্ট্যকে আঁকড়ে ধরে, (কেয়ামতের দিন) ওই বৈশিষ্ট্যই তাকে হাতে ধরে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেবে।” (আল-মু’জামুল কাবীর-১৬৫০) 

(২২) যিকিরের মজলিস 

 যিকিরের মজলিস ও তা’লিমের হালকা জাহান্নাম থেকে মুক্তির অন্যতম উপকরণ। 

 নবী করীম সা. বলেন, “নিশ্চয় ফেরেশতাগণ পথে পথে ঘুরে আল্লাহর স্মরণকারীদের খোঁজতে থাকে। আল্লাহর স্মরণে লিপ্ত কোনোদলকে পেয়ে গেলে একে অপরকে ডাকাডাকি করতে থাকে, এদিকে এসো, তোমাদের প্রয়োজনের দিকে এসো! তারা এসে সে স্থান হতে আসমান পর্যন্ত তাদেরকে বেষ্টন করে নেয়। অতঃপর প্রতিপালক তাদের জিজ্ঞেস করেন (অথচ প্রতিপালক স্মরণকারী দল সম্পর্কে উত্তমরূপে জ্ঞাত) আমার বান্দারা কী বলছে? তারা বলে, আপনার পবিত্রতা বলছে, আপনার বড়ত্ব বর্ণনা করছে, আপনার প্রশংসা পাঠ করছে, আপনার মহত্বের গুণ গাইছে! তিনি বলেন, তারা কি আমাকে দেখেছে? তারা বলে, আল্লাহর শপথ, না.. তারা আপনাকে দেখেনি। তিনি বলেন, তারা যদি আমাকে দেখে, তবে কী করবে? তারা উত্তর দেয়, আপনাকে দেখলে তারা আরো বেশি করে আপনার এবাদত করবে, আরো বেশি করে প্রশংসা পাঠ করবে, আরো বেশি করে। আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করবে। তিনি বলেন, তবে তারা আমার কাছে কী চায়? তারা উত্তর দেয়, তারা আপনার কাছে জান্নাত চায়। তিনি বলেন, তারা কি জান্নাত দেখেছে? তারা বলে, আল্লাহর শপথ, না.. হে প্রতিপালক, তারা জান্নাত দেখেনি। তিনি বলেন, যদি তারা জান্নাত দেখে, তবে কী করবে? তারা বলে, জান্নাত দেখলে তারা জান্নাতের প্রতি আরো উৎসাহী হয়ে উঠবে। আরো বেশি জান্নাত প্রার্থনা করবে। তিনি বলেন, তারা কী থেকে আশ্রয় চাইছে? তারা বলে, জাহান্নাম থেকে। তিনি বলেন, তারা কি জাহান্নাম দেখেছে? তারা বলে, আল্লাহর শপথ, তারা জাহান্নাম দেখেনি! তিনি বলেন, যদি তারা জাহান্নাম দেখে, তবে কী করবে? তারা বলে, জাহান্নাম দেখলে তারা আরো বেশি ভয় করবে, আরো বেশি জাহান্নাম থেকে পলায়ন করবে। 

অতঃপর আল্লাহ বলেন, সুতরাং আমি তোমাদের সাক্ষ্য রেখে বলছি, তাদের আমি ক্ষমা করে দিলাম। এক ফেরেশতা বলে, অমুক তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং অন্য প্রয়োজনে এসেছে। উত্তরে আল্লাহ বলেন, তারা সকলেই একসঙ্গী। তাদের কেউই এথেকে বঞ্চিত হবে না।” (বুখারী-৬০৪৫) 

(২৩) স্থায়ী সৎকর্মসমূহ

 আল্লাহ বলেন, 

ثوابا وخير أملايه الكهف: 

خیریندر 

والقيت الصلح 

“এবং স্থায়ী সকর্মসমূহ তোমার পালনকর্তার কাছে সওয়াবের দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠ এবং প্রতিদান হিসেবেও শ্রেষ্ঠ।” (সূরা মারিয়াম ৭৬)

 এভাবেই আল্লাহ তা’লা আমাদের সামনে সৎকর্মের ফযিলতগুলো তুলে ধরেছেন। 

নবী করীম সা. বলেন, “তোমরা তোমাদের ঢাল আঁকড়ে ধর! আমরা বললাম, কোনো শত্রুর আগমন ঘটেছে কি হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন, না.. বরং জাহান্নাম থেকে বাঁচার ঢাল! বল, সুবহানাল্লাহ ওয়াল হামদু লিল্লাহ ওয়াল্লাহু আকবার’। এ বাক্যগুলো মুক্তিদানকারী, অগ্রে গমনকারী এবং এগুলোই স্থায়ী সৎকর্মসকল।” (আল মুস্তাদরাক-১৯৮৫) 

এই ছিল জাহান্নাম থেকে মুক্তিদানকারী কতিপয় আমলের সংক্ষিপ্ত বিবরণ.। মুমিন মাত্রই এগুলো বাস্তবয়ানে সচেষ্ট হবে, জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায় খোঁজবে। আল্লাহ সকলকে আমলের তাওফিক দিন। 

মনে রাখবেন,

 সত্যনিষ্ঠ মুমিন কেবল আশ্রয় চেয়েই ক্ষান্ত হয় না; বরং জাহান্নাম থেকে মুক্তিদানকারী আমলসমূহ বাস্তবায়নে মনযোগী হয়। 

জাহান্নামের প্রহরীবৃন্দ 

জাহান্নামে অসংখ্য নির্দয় ও নিষ্ঠুর ফেরেশতা নিয়োজিত থাকবে। বিশাল দেহবিশিষ্ট, শাস্তি প্রদানে তারা কোনোরূপ দয়া প্রদর্শন করবে না। 

* তাদের সংখ্যা কত?

 * তাদের প্রধান কে? 

ভূমিকা

 জাহান্নামের প্রহরী এমন ফেরেশতাদল, যারা আদিষ্ট পালনে কোনোসময় অবাধ্য হয় না। যা আদেশ করা হয়, তাই বাস্তবায়ন। করে। আল্লাহ বলেন, 

و يأتيها الذين ءامنوا قوا أنكر وأقليم 

تارا وقودها التاش 

يعصون الله ما أمره 

غلاظ شداد 

والجار عليها ملكې 

التحريم:6 

ويقعو مايؤمون في 

“মুমিনগণ, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার পরিজনকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও প্রস্তর, যাতে নিয়োজিত আছে পাষাণ হৃদয়, কঠোরস্বভাব ফেরেশতাগণ। তারা আল্লাহ তা’লা যা আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং যা করতে আদেশ করা হয়, তাই করে।” (সূরা তাহরিম-৬) 

তাদের সংখ্যা

 দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতাবৃন্দই হলেন জাহান্নামের প্রহরী। আমাদের ক্ষুদ্র জ্ঞানে তাদের আকার, শক্তি ও সামর্থ্য আন্দাজ করা অসম্ভব। তাদের সংখ্যা উনিশ.. যেমন আল্লাহ বলেন, 

وسأضليه قر وما أرئك ما تنقلابقى ولا تر لوحة 

المدثر: 

البشر عليها تسعة عشر واجعلنا أحب التيار الملتيكة 

 “আমি তাকে দাখিল করব অগ্নিতে। আপনি কি বুঝলেন অগ্নি কী? এটা অক্ষত রাখবে না এবং ছাড়বেও না। মানুষকে দগ্ধ করবে। এর ওপর নিয়োজিত আছে উনিশ (ফেরেশতা)। আমি জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক ফেরেশতাই রেখেছি।” (সূরা মুদ্দাছছির ২৬-৩১)। তারাই জাহান্নামের প্রহরী। আল্লাহ বলেন, 

ي 

دعوأرب 

وقال الذين في التارلخزنة جه تايوان العذاب (که غافر: 49 | 

“যারা জাহান্নামে আছে, তারা জাহান্নামের রক্ষীদেরকে বলবে, তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে বল, তিনি যেন আমাদের থেকে একদিনের আযাব লাঘব করে দেন।” (সূরা গাফির-৪৯) 

তাদের দায়িত্ব

 জাহান্নামে নিযুক্ত পাষাণহৃদয় ফেরেশতাদের কতিপয় দায়িত্ব রয়েছে। তারা জাহান্নামীদের শাস্তির ব্যবস্থা করবে, আদেশানুযায়ী তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক আযাব আস্বাদন করাবে। আগুন প্রজ্বলিত করবে। আগুনের তাপ বৃদ্ধি করবে। জাহান্নামীদের ওপর তারা হবে অতি কঠোর। দয়াভিক্ষা চাইলে শাস্তির মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেবে। কারণ, আল্লাহ তাদেরকে সৃষ্টিই করেছেন কঠোর হৃদয়ের অধিকারী করে। বলিষ্ঠ দেহ করে। অতীব শক্তিমান. অন্তরে তাদের বিন্দুমাত্র দয়া থাকবে না। শাস্তি প্রদানের উদ্দেশ্যেই। তাদের সৃষ্টি।মিনহাল বিন আমর রা. বলেন, “আল্লাহ তা’লা যখন বলবেন, এদেরকে ধরে গলায় বেড়ি পরিয়ে দাও.. তখন সত্তর হাজার ফেরেশতা তৎপর হয়ে যাবে। তাদের একজনই দুই হাতে সত্তর হাজার জাহান্নামীকে উঠিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে।” (ইবনে কাসীর) জাহান্নামের প্রহরীদের বিবরণ দিয়ে আল্লাহ বলেন, 

م ا ك إذا جوها فحث 

وسيق الذين كفروا إلى ك 

ش نگریلو علی، ایت 

أبوبها وقال لفترتها ألتريت 

لمة 

لقاء يومك هذا قالو أبلى ولكن ك 

بگرينزون 

و الزمر: ۷۱ | 

العاب على الكفرين 

“কাফেরদেরকে জাহান্নামের দিকে দলে দলে হাঁকিয়ে নেয়া হবে। তারা যখন সেখানে পৌঁছাবে, তখন তার দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হবে এবং জাহান্নামের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে, 

তোমাদের কাছে কি তোমাদের মধ্য থেকে রাসূলগণ আসেনি, যারা তোমাদের কাছে তোমাদের পালনকর্তার আয়াতসমূহ আবৃত্তি করত এবং সতর্ক করত এদিনের ব্যাপারে? তারা বলবে, হ্যাঁ.. কিন্তু কাফেরদের প্রতি শাস্তির হুকুমই বাস্তবায়িত হয়েছে।” (সূরা যুমার-৭১) 

প্রহরী প্রধান

 তাদের প্রধান হবে দীর্ঘকায় এক ফেরেশতা, যার নাম মালেক। তার বর্ণনা দিতে গিয়ে আল্লাহ বলেন, 

يكون ( که الزخرف: 

وادوأمل ليقض علينا ربك قال إ 

YY 

“তারা ডেকে বলবে, হে মালেক! পালনকর্তা আমাদের কিসসাই শেষ করে দিন। সে বলবে, নিশ্চয় তোমরা চিরকাল থাকবে।” (সূরা যুখরুফ-৭৭) 

দীর্ঘ স্বপ্ন সম্বলিত হাদিসে নবীজী জাহান্নামীদের কতিপয় শাস্তির বিবরণ দিয়েছিলেন। তন্মধ্যে.. “আমরা চলতে চলতে অতিকুৎসিত এক লোকের কাছে এসে উপনীত হলাম, সে আগুন প্রজ্বলিত করে তা বাড়িয়ে দিচ্ছিল এবং আগুনের পাশে প্রদক্ষিণ করছিল। জিজ্ঞেস করলাম, এ কে? তারা বলল, চলুন.. চলুন..। হাদিসের শেষাংশে জিবরীল বলেছিলেন, ঐ অতিকুৎসিত ব্যক্তিটি হচ্ছে জাহান্নামের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতা মালেক। 

এই হলো জাহান্নামের প্রহরীদের কতিপয় বৈশিষ্ট্য… আল্লাহ তা’লা তাদের বিবরণ দিয়ে আমাদের সতর্ক করেছেন। জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেতে আমলের তাগিদ করেছেন। আল্লাহ সকলকে জাহান্নাম থেকে বাঁচার তাওফিক দিন!.. 

আহবান,

 মুমিনগণ, নিজেদেরকে এবং পরিবারকে আগুন থেকে বাঁচাও! 

জাহান্নামের দরজাসমূহ 

আল্লাহ তা’লা জাহান্নামের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন। জাহান্নামের দরজা, জাহান্নামের শিকল ও জাহান্নামের অভ্যন্তরীণ সকলকিছু বর্ণনা করে মানুষকে তা থেকে বাঁচার আদেশ 

করেছেন। 

* জাহান্নামের দরজা কয়টি?

 * তা কি বন্ধ না খোলা?

 * দরজাগুলো কি পাশাপাশি নাকি ওপরনিচ? 

ভূমিকা

 জান্নাতের অনেকগুলো দরজা থাকবে, সেগুলো দিয়ে জান্নাতবাসী আনন্দচিত্তে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের চেহারা হবে পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল। তাদের মাঝে কোনো বিচ্ছিন্নতা বা কোনো প্রতিহিংসা থাকবে না। অপরদিকে জাহান্নামের অধিবাসীরাও জাহান্নামে প্রবেশ করবে। তাদের চেহারাসমূহ হবে কালো। অন্তরগুলো হবে প্রতিহিংসায় ভরপুর। একে অন্যকে তিরস্কার ও অভিশাপ করতে থাকবে। তাদেরকে ধাক্কা দিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। সেখানে তারা দগ্ধ হতে থাকবে। 

দরজাসংখ্যা

 সাতটি দরজা দিয়ে তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে। প্রতিটি দরজার জন্যই রয়েছে নির্দিষ্ট সংখ্যক জাহান্নামী। আল্লাহ বলেন, 

و وان جه لموهم أجمعين ( لها سبعة أبواب أۓ باپ 

“তাদের সবার নির্ধারিত স্থান হচ্ছে জাহান্নাম। এর সাতটি দরজা আছে। প্রত্যেক দরজার জন্যে আছে একেকটি পৃথক দল।” (সূরা হিজর ৪৩,৪৪)

 কাফেররা জাহান্নামে উপনীত হলে জাহান্নামের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করা হবে। অতঃপর তারা চিরকাল অবস্থান করতে তাতে প্রবেশ করবে। আল্লাহ বলেন, 

ما حتی إذا جاه وها يحث 

ويق الذين كفروا إلى جه 

نريون ليكر، ای 

أبوها وقال ل خزنها التي 

لم 

لقاء ويكو هذا قالوأبل ولكن 

تو وينذرون 

قيل أدوا أبواب جه ځلدين فيها 

العاب على الكفرين 

مثوى المتكبرين به الزمر: ۷۱ – ۷۲ | 

في 

“কাফেরদেরকে জাহান্নামের দিকে দলে দলে হাঁকিয়ে নেয়া হবে। তারা যখন সেখানে পৌঁছাবে, তখন তার দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হবে এবং জাহান্নামের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে, তোমাদের কাছে কি তোমাদের মধ্য থেকে রাসূলগণ আসেনি, যারা তোমাদের কাছে তোমাদের পালনকর্তার আয়াতসমূহ আবৃত্তি করত এবং সতর্ক করত এ দিনের সাক্ষাতের ব্যাপারে? তারা বলবে, হ্যাঁ.. কিন্তু কাফেরদের প্রতি শাস্তির হুকুমই বাস্তবয়িত হয়েছে। বলা হবে, তোমরা জাহান্নামের দরজা দিয়ে প্রবেশ কর, সেখানে চিরকাল অবস্থানের জন্যে। কত নিকৃষ্ট অহংকারীদের আবাসস্থল।” (সূরা যুমার ৭১-৭২)। 

দরজাসমূহ ওপরনিচ 

জাহান্নামের দরজাগুলো একটি অপরটির উপরে স্থাপিত।আলী রা. বলেন, “জাহান্নামের দরজাসমূহ একটি অপরটির ওপর স্থাপিত। প্রথমটি পূর্ণ হয়ে গেলে দ্বিতীয়টি, অতঃপর তৃতীয়টি.. এভাবে সবগুলো পূর্ণ করা হবে।” (তাফসীরে তাবারী) 

ইবনে জুরাইজ রহ. বলেন, “প্রবেশান্তে শাস্তির মাত্রা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাহান্নামের সকল দরজা আটকিয়ে দেওয়া হবে।” 

দ্বারবদ্ধ জাহান্নাম

 শাস্তির মাত্রা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে জাহান্নামের দরজাসমূহ বদ্ধ রাখা হবে। আল্লাহ বলেন, 

والذين كابايت هر حب الممة عليها وصدى البلد: 

 “আর যারা আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করে তারাই বামপন্থী। তারা অগ্নিপরিবেষ্টিত অবস্থায় বন্দী থাকবে।” (সূরা বালাদ ১৯,২০)

 যাদের আমলনামা বামহাতে দেওয়া হবে, তাদেরকেই বামপন্থী বলা হয়েছে। অন্য আয়াতে এসব ব্যক্তি সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, 

وأضحت الشمالي ما أحب الشمالية في سوير وميي ( وظل 

تین یخموور ( لاباريولاریچر ( که الواقعة: 41 – 4 | 

“বামপার্শ্বস্থ লোক, কত না হতভাগা তারা। তারা থাকবে প্রখর বাষ্পে, উত্তপ্ত পানিতে এবং ধুম্রকুঞ্জের ছায়ায়, যা শীতল নয় 

এবং আরামদায়কও নয়।” (সরা ওয়াকিআ ৪১-৪৪) 

বর্তমানে জাহান্নামের দরজাগুলো উন্মুক্ত। রমযান মাস এলে সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। নবী করীম সা. বলেন, “রমযান মাস এলে জান্নাতের দরজাগুলো উন্মুক্ত করা হয়, জাহান্নামের সকল দরজা বন্ধ করা হয় এবং শয়তানদের আবদ্ধ করা হয়।” (মুসলিম-২৫৪৭) 

অপরাধী ভেদে ফটকের ভিন্নতা

 জান্নাতীদের যেমন সৎকর্ম অনুযায়ী বিভিন্ন দরজা নির্দিষ্ট রয়েছে। জিহাদের দরজা দিয়ে মুজাহিদগণ প্রবেশ করবে। রাইয়ান দরজা দিয়ে রোযাদারগণ প্রবেশ করবে। তেমন জাহান্নামে প্রবেশের জন্যও অপরাধ অনুযায়ী ফটক নির্দিষ্ট রয়েছে। 

পর্যবেক্ষণ,

 প্রবেশের পর অপরাধীদের শাস্তি বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে জাহান্নামের দরজাগুলো আটকিয়ে দেওয়া হবে.. 

হে আল্লাহ! আমাদেরকে রক্ষা করুন !.. 

জাহান্নামের ইন্ধন 

জাহান্নামের আগুন সর্বদা প্রজ্বলিত; কখনো নির্বাপিত হয় না। তার শাস্তি চিরকাল চলমান। | জাহান্নামের অধিবাসীরা সহায়তা চাইবে, কোনো সহায়ক পাবে না। পালানোর পথ পাবে না। কেননা, দুনিয়াতে তারা। আল্লাহকে অস্বীকার করেছে। তাঁর বিধানাবলীকে মিথ্যারোপ করেছে। সেদিন কোন মুখে তারা রহমত আশা করতে পারে! তাদের স্থায়ী আবাসস্থল তো অগ্নি। 

* জাহান্নামের ইন্ধন কী?

 * মূর্তিসমূহকে জাহান্নামে নিক্ষেপের কারণ কী? 

ভূমিকা

 প্রচণ্ড উত্তাপ ও স্থায়ী প্রজ্বলনের পাশাপাশি জাহান্নামের কিছু ইন্ধন থাকবে। তাছাড়া সেখানে থাকবে মহাঅন্ধকার, সাপ-বিচ্ছু.. আরো কত কী..!! থাকবে জাহান্নামীদের হা-হুতাশ ও প্রচণ্ড আর্ত চিৎকার। 

ইন্ধন

 পাথর ও পাপিষ্ঠ কাফের সম্প্রদায় জাহান্নামের ইন্ধন। আল্লাহ বলেন, 

نارا وقودها الاش 

ويها الذين امنوا قوا أنفسك وأهلي والحجارة التحريم:6 

“মুমিনগণ, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার পরিজনকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও প্রস্তর..” (সূরা তাহরিম-৬)। অন্য আয়াতে বলেন, 

فهو النار التي وقودها الاش وأجار أعدت لأفرين 

 “সেই জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা কর, যার জ্বালানী হবে মানুষ ও পাথর। যা প্রস্তুর করা হয়েছে কাফেরদের জন্য।” (সূরা বাকারা-২৪)

 কীরকম ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করবে জাহান্নামের ভেতরে..! সর্বদা তারা সেখানে জ্বলতে থাকবে। যতদিন মানুষ সেখানে শাস্তি ভোগ করবে, ততদিন সেই কালো পাথরও তাতে প্রজ্বলিত হবে। সেই পাথরগুলো হলো অতি উত্তাপবিশিষ্ট কৃষ্ণপাথর। তাছাড়া দুনিয়াতে আল্লাহকে ছেড়ে যে সকল বস্তুর পূজা হতো, সেগুলোও জাহান্নামে প্রজ্বলিত হবে। আল্লাহ বলেন, 

وما تعبدون من دوني أليه حصب جه ام 

و إ 

و لوات هؤلاء الهة ما وردوها 

لها وارو 

له فيها في وهم فيها لا 

فيها لون 

و 

به الأنبياء: ۹۸ – ۱۰۰| 

شمعون 

“তোমরা এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদের পূজা কর, সেগুলো জাহান্নামের ইন্ধন। তোমরাই তাতে প্রবেশ করবে। এই মূর্তিরা যদি উপাস্য হতো, তবে জাহান্নামে প্রবেশ করত না। প্রত্যেকেই তাতে চিরস্থায়ী হয়ে পড়ে থাকবে। তারা সেখানে চীৎকার করবে এবং সেখানে তারা কিছুই শুনতে পাবে না।” (সূরা আম্বিয়া ৯৮-১০০) 

জিজ্ঞাসা 

মূর্তি কেন জাহান্নামে যাবে? সেগুলো তো নির্জীব। বোধশক্তি নেই। তাছাড়া তাদের তো কোনো অপরাধ 

নে। 

উত্তরঃ মূর্তিসমূহকে আল্লাহ জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন শাস্তি দিতে নয়; বরং ব্যর্থ-উপাস্য প্রতিপন্ন করতে। যখন দেখবে, দুনিয়াতে তাদের পূজ্য উপাস্যগুলোও তাদের সাথে জাহান্নামে জ্বলছে, তখন তাদের পরিতাপ আরো বৃদ্ধি পাবে। 

প্রশ্ন

দুনিয়াতে ঈসা বিন মারিয়াম আ. কেও তো অনেকে 

উপাস্য বানিয়েছে। অনেকে আবার ফেরেশতাদেরকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছে। তারাও কি সেদিন জাহান্নামে যাবে? উত্তরঃ আল্লাহর নবী ঈসা আ., নবী উযাইর আ., ফেরেশতাগণ এবং যে সকল সৎকর্মশীল ওলিদেরকে দুনিয়াতে পূজা করা হতো, পরকালে তারা জাহান্নামে যাবে না, শাস্তিপ্রাপ্ত হবে না। কারণ, আল্লাহ বলেন, 

هو إله 

وما تعبدون من دوني اله حصب جهت أنم 

که الأنبياء: ۹۸ 

لهاواروت 

“তোমরা এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদের পূজা কর, সেগুলো জাহান্নামের ইন্ধন। তোমরাই তাতে প্রবেশ করবে।” (সূরা আম্বিয়া-৯৮) পরের আয়াতেই বলেন, 

إن الذين سبق لمرتيا آي أوبك عنها مبعدون لايسمعون حييها وهم في ما اشتهت أنهڅوځلون 

 “যাদের জন্য প্রথম থেকেই আমার পক্ষ থেকে কল্যাণ নির্ধারিত হয়েছে তারা জাহান্নাম থেকে দূরে থাকবে। তারা তার ক্ষীনতম শব্দও শুনবে না এবং তারা তাদের মনের বাসনা অনুযায়ী চিরকাল বসবাস করবে।” (সূরা আম্বিয়া ১০১,১০২) 

এই ছিল জাহান্নামের ইন্ধন সংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত আলোচনা..। আল্লাহ সবাইকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করুন! 

দায়মুক্তি,

 পূজ্য ও অনুসৃতরা পরকালে তাদের অনুসারীদের থেকে দায়মুক্তি ঘোষণা করবে। সুতরাং যারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যের অনুসারী হলো, তারাই চির-ব্যর্থ ও মহাবঞ্চিত। 

প্রচণ্ড উত্তাপ প্রকট শীত 

আল্লাহ তা’লা মানুষকে তাঁর প্রণীত বিধানাবলী মেনে চলার আদেশ করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধাচরণ থেকে সতর্ক করেছেন। আনুগত্যশীলদের জন্য জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অবাধ্যদেরকে জাহান্নামের প্রচণ্ড উত্তাপ ও প্রকট শীত সম্পর্কে অবহিত করে তাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করেছেন। 

* আগুনের বৈশিষ্ট্য কী? 

* আগুনের ছায়া কী? 

* দুনিয়ার অগ্নির তুলনায় আখেরাতের অগ্নির ক্ষমতা কতটুকু? 

ভূমিকা

 দুনিয়ার আগুনকে আল্লাহ আখেরাতের আগুনের স্মৃতিস্বরূপ সৃষ্টি করেছেন। অল্লাহ বলেন, 

و أفي التيار التي ترون ® أنثق أنشأتم شكتها أم تح 

جعلها ه الواقعة: ۷۱ – ۷۳ 

المنشوئ 

“তোমরা যে অগ্নি প্রজ্বলিত কর, সে সম্পর্কে ভেবে দেখেছ কি? তোমরা কি এর বৃক্ষ সৃষ্টি করেছ, না আমি সৃষ্টি করেছি? আমি সেই বৃক্ষকে করেছি স্মরণিকা..” (সূরা ওয়াকিআ ৭১-৭৩)। 

 নবী করীম সা. বলেন, “আদমসন্তান যে আগুন প্রজ্বলিত করে, তা জাহান্নামের আগুনের উত্তাপের সত্তরভাগের একভাগ। সবাই বলল, আল্লাহর শপথ, যদি এ আগুনই যথেষ্ট হতো হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন, দুনিয়ার আগুনের অনুরূপ আরো ঊনসত্তর গুণ তাতে বৃদ্ধি করা হবে।” (মুসলিম-৭৩৪৪)। 

বামপার্শ্বস্থ লোক

 আল্লাহ বলেন, 

و وأصحاب المال ما أحب ألتيما و في سموي ويي و وظل ممن 

بارد ولاریو رو که 

يخوير 

 “বামপার্শ্বস্থ লোক, কত না হতভাগা তারা। তারা থাকবে প্রখর বাষ্পে, উত্তপ্ত পানিতে এবং ধূম্রকুঞ্জের ছায়ায়, যা শীতল নয় এবং আরামদায়কও নয়।” (সূরা ওয়াকিআ ৪১-৪৪)

 অর্থাৎ বামপার্শ্বস্থ লোক তারাই, যারা দুনিয়াতে সত্য থেকে বিমুখ ছিল। কেয়ামতের দিন তাদের আমলনামা বাম হাতে দেওয়া হবে। হাশরের ময়দানে তাদের অবস্থান হবে বাম দিকে। তাদের অবস্থা কীরূপ হতে পারে?! প্রচণ্ড উত্তাপে তারা সময় অতিবাহিত করবে। তীব্র উষ্ণতায় তাদের দেহের চামড়া খসে পড়বে। জাহান্নামে তারা গরম পূজ পান করবে। তাদের উপরে থাকবে কালো ধোয়া, যা শীতল নয় এবং আরামদায়কও নয়। অন্য আয়াতে আল্লাহ সেই আগুনের ভয়াবহতা স্পষ্ট করেছেন, 

وأمامن موازيو و و ممه هاوية وما أدراك ماهية 

القارعة: ۸ -۱۱ 

ناژحامية 

“আর যার পাল্লা হালকা হবে, তার ঠিকানা হবে হাবিয়া। আপনি জানেন তা কী? প্রজ্বলিত অগ্নি!” (সূরা কারিআ ৮-১১)

 হ্যাঁ.. পরকালে তার ঠিকানা হবে সেই প্রজ্বলিত অগ্নিতে। কারণ, দুনিয়াতে সে আল্লাহর অবাধ্য ছিল। শয়তানের অনুসারী ছিল। 

ধূম্রকুঞ্জ

 আগুন থেকে সৃষ্ট ধূম্রকুঞ্জ না হবে শীতল; না হবে আরামদায়ক। 

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, 

ليلي ولا يعني من الهبي 

وانطلقوا إلى ظل ى ك شعبي ع 

كأنه جمل في المرسلات: ۳۰ 

إلهامي بشرر كالقصر 

“চল তোমরা তিন কুণ্ডলীবিশিষ্ট ছায়ার দিকে, যে ছায়া সুনিবিড় নয় এবং অগ্নির উত্তাপ থেকে রক্ষা করে না। এটা অট্টালিকা সদৃশ বৃহৎ স্ফুলিঙ্গ নিক্ষেপ করবে। যেন তা পীতবর্ণ উষ্ট্ৰশ্রেণী।” (সূরা মুরসালাত ৩০-৩৩) 

সর্বক্ষণ প্রজ্বলিত

 কালের পরিক্রমায় সেই অগ্নি কখনো নির্বাপিত হবে না। তার উত্তাপ কখনো হ্রাস পাবে না। আল্লাহ বলেন, 

وفوقوا فلن زیدم 

إعذابا له النبأ: ۳۰ 

“অতএব, তোমরা আস্বাদন কর, আমি কেবল তোমাদের শাস্তিই বৃদ্ধি করব।” (সূরা নাবা-৩০)

 প্রতিনিয়ত সেই অগ্নির তাপ বৃদ্ধি করা হবে,

আমর বিন আবাসা সুলামী রা. বলেন, “মূখতাযুগে আমি মানুষকে পথভ্রষ্ট ভাবতাম। কারণ, তারা বিনাপ্রমাণে মূর্তিপূজায় লিপ্ত ছিল। এরপর শুনলাম একব্যক্তি মক্কায় আত্মপ্রকাশ করেছে, সে নানান সংবাদ দিচ্ছে। অতঃপর আমি বাহনে উঠে তার কাছে। চলে এলাম। সম্প্রদায়ের অত্যাচারের ভয়ে আল্লাহর রাসূল তখন গোপনে দাওয়াত দিতেন। তার ওপর আমার দয়া হলো। শেষপর্যন্ত আমি মক্কায় তার কাছে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কে? তিনি বললেন, আমি নবী। জিজ্ঞেস করলাম, নবী কী? বললেন, আল্লাহ আমাকে প্রেরণ করেছেন। জিজ্ঞেস করলাম, কী দিয়ে তিনি আপনাকে প্রেরণ করেছেন? বললেন, আত্মীয়তার বন্ধন মিলন, মূর্তি ধ্বংস এবং আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক না করে কেবল তাঁরই একত্ববাদ প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব দিয়ে আমাকে প্রেরণ করেছেন। 

আমর বললেন, আমাকে নামায সম্পর্কে বলুন! তিনি বললেন, প্রভাতের নামায পড়.. অতঃপর সূর্যোদয় থেকে পূর্ণ সূর্যবিকিরণ মুহূর্ত পর্যন্ত নামায থেকে বিরত থাক। কারণ, উদয়কালে তা শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝখান দিয়ে উদিত হয়। আর তখন কাফেররা সূর্যকে সেজদা করে থাকে। অতঃপর তীর সমতুল্য ছায়া থেকে ব্যক্তির ছায়া হ্রাস পাওয়ার মুহূর্ত পর্যন্ত নামায পড়। সেসময়ের নামাযে অনেক ফেরেশতা উপস্থিত থাকে, তারা সাক্ষী থাকে। অতঃপর নামায থেকে বিরত থাক। কারণ (সূর্য ঠিক মাথার উপরে থাকাকালে) জাহান্নামকে উত্তপ্ত করা হয়। অতঃপর সূর্য ঢলে যাবার পর নামায পড়। কারণ, সে সময়ের নামাযে অনেক ফেরেশতা উপস্থিত থাকে, তারা সাক্ষী থাকে। অতঃপর আসরের নামায পড়। অতঃপর সূর্যাস্তের সময় নামায থেকে বিরত থাক। কারণ, তা শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝখান দিয়ে অস্ত যায়। আর তখন কাফেররা তাকে সেজদা করে থাকে।” (মুসলিম-১৯৬৭)

 কেয়ামতের দিন যখন পাপিষ্ঠদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপের সময় হবে, তখনও জাহান্নামকে উত্তপ্ত করা হবে। 

জমিনের উষ্ণতা জাহান্নামের উত্তাপের দরুন

 গ্রীষ্মকালে দুনিয়াতে মানুষ যে তাপদাহ অনুভব করে, তা জাহান্নামের শ্বাস গ্রহণের ফলে হয়ে থাকে। অনেক মানুষ সূর্যের প্রচণ্ড তাপে মৃত্যুবরণ করে বা অসুস্থ হয়ে পড়ে।

 নবী করীম সা. বলেন, “তীব্র গরমকালে তোমরা নামাযকে শীতল (বিলম্ব) করে পড়। কারণ, গরমের তীব্রতা জাহান্নামের শ্বাস গ্রহণের দরুন হয়ে থাকে। জাহান্নাম প্রতিপালকের কাছে আকুতি করে বলেছিল, হে প্রতিপালক, আমার একাংশ অপরাংশকে খেয়ে ফেলছে। ফলে আল্লাহ তার জন্য দুটি শ্বাস নির্ধারণ করেছেন। শীতকালে এক শ্বাস এবং গ্রীষ্মকালে অপর শ্বাস। এর ফলেই দুনিয়াতে তোমরা প্রচণ্ড গরম এবং প্রকট শীত অনুভব করে থাক।” (বুখারী-৫১২) 

নিরাপত্তা,

 নামায হলো জাহান্নাম থেকে নিরাপত্তার গ্যারান্টি, পরকালে আগুনের উত্তাপকালে নামাযের সুযোগ থাকবে না। 

জাহান্নামের বিশালতা গভীরতা 

জাহান্নামের আয়তন বিশাল। তবে তা পাপিষ্ঠদের জন্য অতিসংকীর্ণ হয়ে যাবে। একজন পাপিষ্ঠের দেহকে জাহান্নমে দীর্ঘ ও বিরাট করে দেওয়া হবে, ফলে একজনের দাঁত হবে। উহুদ পর্বতের মতো বড়। তার দুই কাঁধের মাঝে দূরত্ব হবে তিনদিন ভ্রমণের পথ। 

* জাহান্নামের বিশালতা কতটুকু?

 * গভীরতা কেমন?

 * প্রবেশ করার পর কেউ বের হতে পারবে কি? 

ভূমিকা

 আল্লাহ তা’লা বলেন, 

ويوم نقول لجهه آمتي 

که ق: ۳۰ 

وتقول هل من مزيد 

“যেদিন আমি জাহান্নামকে জিজ্ঞাসা করব; তুমি কি পূর্ণ হয়ে গেছ? সে বলবেঃ আরও 

আছে কি?” (সূরা কাফ-৩০)

 এভাবেই আল্লাহ তা’লা জাহান্নামের অবস্থা, তার শাস্তি ও তার অধিবাসীদের দুঃখ-দুর্দশার বিবরণ দিয়েছেন। তার আয়তন সুবিশাল,নবী করীম সা. বলেন, “সেদিন জাহান্নামকে উপস্থিত করা হবে। সত্তরহাজার লাগাম থাকবে তার। প্রত্যেকটি লাগামকে সত্তরহাজার ফেরেশতা টেনে ধরে নিয়ে আসবে।” (মুসলিম ৭৩৪৩)

 কল্পণা করুন, জাহান্নামের আয়তন কত বিশাল হলে এত অধিক সংখ্যক শক্তিশালী ফেরেশতা তাকে টেনে নিয়ে আসবে! 

গভীরতা

 জাহান্নাম হলো অতি অন্ধকারময় সুগভীর এক গহ্বর।নবী করীম সা. বলেন, “জাহান্নামে যদি একটি পাথর নিক্ষেপ করা হয়, তবে তা জাহান্নামের তলানিতে পৌঁছুতে সত্তর বৎসর সময় লেগে যাবে।” (ইবনে হিব্বান-৭৪৬৮) 

জাহান্নামের স্তরসমূহ

 জাহান্নামের অগ্নির তাপ স্তর অনুপাতে তারতম্যপূর্ণ হবে। আল্লাহ বলেন, 

و إن الفقين في التل الأقل من الار ولن تجد لقصيرا ) که 

النساء:145 

“নিঃসন্দেহে মুনাফেকরা রয়েছে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে। আর তোমরা তাদের জন্য কোনো সাহায্যকারী পাবে না।” (সূরা নিসা-১৪৫)। 

জিজ্ঞাসা, 

জাহান্নামী কারা? একবার প্রবেশ করলে বের হওয়ার 

সুযোগ থাকবে কি?

 উত্তরঃ হ্যাঁ..! আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাসী মুমিন, যারা আল্লাহর এবাদতে কাউকে অংশীদার সাব্যস্ত করেনি; তবে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিল। অপরাধ অনুপাতে শাস্তি প্রদানের পর তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে। নবী করীম সা. 

বলেন, 

“শাস্তি গ্রহণের পর আল্লাহ তা’লা অনেক মুমিন বান্দাকে জাহান্নাম থেকে বের করবেন। নবীজী বলেন, মুশরিকদের সঙ্গে আল্লাহ যখন তাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন, তখন মুশরিকরা বলবে, দুনিয়াতে তোমরা তো নিজেদেরকে আল্লাহর নৈকট্যশীল ভাবতে, আজ তবে তোমরা আমাদের সাথে জাহান্নামে কেন? একথা শুনার পর আল্লাহ তাদের ব্যাপারে সুপারিশের অনুমতি দেবেন। নবী ও ফেরেশতাবৃন্দের সুপারিশ ও আল্লাহর অনুমতির প্রেক্ষিতে তারা জাহান্নাম থেকে বের হয়ে আসবে। এরপর মুশরিকরা বলবে, হায়.. আমরাও যদি তাদের মতো হতে পারতাম, তবে তাদের মতো আজ আমাদের। ব্যাপারেও সুপারিশ করা হতো, জাহান্নাম থেকে আমরা বের হতে পারতাম। এটিই আল্লাহর বাণী- “কোনোসময় কাফেররা আকাঙ্খা করবে, কী চমৎকার হতো, যদি তারা মুসলমান 

হতো।” (সূরা হিজর-২) অতঃপর জান্নাতে প্রবিষ্ট হওয়ার পর চেহারা অতিকালো হওয়ায় তাদেরকে জাহান্নামী বলে আখ্যায়িত করা হবে। তারা বলবে, হে প্রতিপালক, আমাদের থেকে এই উপাধি সরিয়ে দিন! অতঃপর তাদেরকে জান্নাতের একটি নদীতে গোসলের আদেশ করা হবে। ফলে তাদের কৃষ্ণতা দূর হয়ে যাবে।” (ইবনে হিব্বান-৭৪৩২) 

 নবীজী আরো বলেন, “. এভাবে সকল মানুষের বিচারকার্য সামাধা করার পর আল্লাহ তা’লা যখন স্বীয় রহমতে অনেক জাহান্নামীকে মুক্ত করার ইচ্ছা করবেন, তখন ফেরেশতাদেরকে যারা আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার সাব্যস্ত করেনি তাদের মধ্যে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” সাক্ষ্যদানকারীদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করতে বলবেন। ফেরেশতারা তাদেরকে সেজদার চিহ্ন দেখে দেখে চিহ্নিত করবে। সেজদার অঙ্গসমূহ ব্যতীত তাদের সর্বাঙ্গই আগুনে খেয়ে ফেলবে। আগুনের ওপর আল্লাহ সেজদার অঙ্গসমূহ ভক্ষণ হারাম করে দেবেন। আগুনে পুড়ে অঙ্গার অবস্থায় তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে। অতঃপর 

তাদের ওপর ‘জীবনপানি ঢালা হবে। ফলে নীচ থেকে তারা এমনভাবে উদগত হবে, যেমন প্রবাহিত পানিতে বৃক্ষচারা উৎপন্ন হয়ে থাকে।” (বুখারী-৭০০০) 

পরিতাপ,

 জাহান্নামে কাফেরদের পরিতাপ আরো বৃদ্ধি পাবে, যখন তারা জাহান্নাম থেকে একত্ববাদে বিশ্বাসীদের মুক্তি প্রত্যক্ষ করবে। 

শাস্তিতে তারতম্য 

জাহান্নামে অনেক স্তর থাকবে। স্তরবিশেষ জাহান্নামীদের শাস্তিতে তারতম্য ঘটবে। এটি। আল্লাহর ন্যায়পরায়ণতার নিদর্শন। 

* তারতম্য বলতে কী উদ্দেশ্য? 

* কাফেরদের শাস্তিতেও কি তারতম্য ঘটবে?

 * কাদের শাস্তি কঠিন আর কাদের শাস্তি হালকা হবে? 

ভূমিকা

 আল্লাহ বলেন, 

که الكهف: 49 

دار 

ووج وأما عملوا حاضرا ولايظر 

“তারা তাদের কৃতকর্মকে সামনে উপস্থিত পাবে। আপনার পালনকর্তা কারও প্রতি জুলুম করবেন না।” (সূরা কাহফ-৪৯)। এভাবেই কেয়ামতের দিন আল্লাহ তা’লা সকল সৃষ্টির যথাযথ প্রতিদান বুঝিয়ে দেবেন। 

হ্যাঁ.. সেদিন যে তার প্রতিদান উত্তম পাবে, সে যেন আল্লাহরই প্রশংসা করে। অনুত্তম পেলে কেবল নিজেকেই যেন তিরস্কার করে।

জাহান্নামীদের শাস্তিতে তারতম্মের প্রমাণ অন্য হাদিসে এভাবে এসেছে.. নবী করীম সা. বলেন, “কেয়ামতের দিন জাহান্নামের সর্বনিম্ন শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আগুনের দুটি পাদুকা পরিয়ে দেওয়া হবে, যার তাপে তার মস্তিষ্ক পর্যন্ত বিগলিত হয়ে যাবে। কারো অন্যান্য শাস্তিসহ হাঁটু পর্যন্ত আগুন প্রজ্বলিত থাকবে। আর কাউকে অন্যান্য শাস্তির সাথে আগুনের চাদর পরিয়ে দেওয়া হবে। কারো অন্যান্য শাস্তির সাথে চুয়াল পর্যন্ত আগুন প্রজ্বলিত থাকবে। আবার কেউ কেউ আগুনের ভেতর নিমজ্জিত থাকবে।” (আল মুস্তাদরাক-৮৭৩৪) 

মুসলিম অপরাধীদের শাস্তিতে তারতম্য 

আমল অনুপাতে একত্ববাদে বিশ্বাসী অপরাধী মুমিনদের শাস্তি নির্ধারিত হবে। কবীরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তিদের শাস্তি সাগীরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তিদের মতো হবে না। অন্যান্য সঙ্কর্মের ফলে কারো কারো শাস্তি লাঘব করা হবে। 

কাফেরদের শাস্তিতে তারতম্য

 পক্ষান্তরে কাফেরদের শাস্তিতেও তারতম্য থাকবে। একজন স্বচ্ছমনা কাফের, যে আল্লাহর সাথে শরীক করেছে, নবী রাসূলদের মিথ্যারোপ করেছে, মনের পূজারী ও শয়তানের অনুগত হয়েছে ঠিক; তবে কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যা করেনি, চুরি করেনি; তার শাস্তি ঐ কাফেরের মতো হবে না যে কুফুরীর সাথে সাথে সীমালঙ্ঘন করেছে, মুমিনদের কষ্ট দিয়েছে, নবীদের হত্যা করেছে। এ কারণেই নবীজীর চাচা আবু তালিবের শাস্তি হবে অল্প। সেই অল্পের মাত্রা হলো, জাহান্নামে তাকে আগুনের দুটি পাদুকা পরিয়ে দেওয়া হবে, যার তাপে তার মস্তিষ্ক পর্যন্ত বিগলিত হয়ে যাবে। 

জাহান্নামের সর্বনিম্ন শাস্তি

 নবী করীম সা. জাহান্নামীদের শাস্তির বিবরণ দিতে গিয়ে সর্বনিম্ন শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তির অবস্থা বর্ণনা করেছেন, 

 তিনি বলেন, “জাহান্নামের সর্বনিম্ন শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আগুনের দুটি পাদুকা পরিয়ে দেওয়া হবে, যার তাপে তার মস্তিষ্ক পর্যন্ত বিগলিত হয়ে যাবে।” (মুসলিম৫৩৬)। 

আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব রা. একদা নবীজীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল, আবু তালিবের কোনো উপকার করতে পেরেছেন? সেতো আপনাকে আশ্রয় দিত, আপনাকে রক্ষনাবেক্ষণ করত! তখন নবীজী বললেন, হ্যাঁ.. সে জাহান্নামের উপরিভাগে অবস্থান করছে, অন্যথায় তার স্থান জাহান্নামের সর্বনিম্ন গহ্বরে হতো।” (মুসলিম-৫৩১) 

জিজ্ঞাসা, 

আল্লাহর নিকট তো কাফেরদের কোনো আমলেরই 

মূল্য নেই, তবে কীরূপে তাদের আমল তাদের উপকার করতে পারে? 

উত্তরঃ আল্লাহর নিকট আমল গৃহীত হওয়ার একমাত্র শর্ত হলো ইসলাম। আল্লাহ বলেন, 

رومن 

ومن يبتغ غير الإشلم دينا فلن يقبل منه وهو في 

الرين ( که آل عمران: ۸۰ 

“যে লোক ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম তালাশ করে, কস্মিনকালেও তা গ্রহণ করা হবে না এবং আখেরাতে সে হবে ক্ষতিগ্রস্ত।” (সুরা আলে ইমরান-৮৫)

 সুতরাং কাফেরদের আমল কখনই তাদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করতে পারবে না। তবে শাস্তির মাত্রা হ্রাস করা হতে পারে। যেমনটি আবু তালিবের ক্ষেত্রে হয়েছে। কেননা সে মূর্তিপূজক ও মুশরিক হওয়া সত্ত্বেও নবীজীকে বিভিন্নক্ষেত্রে সহায়তা করার দরুন তার শাস্তি লাঘব করা হয়েছে। তবে কখনই সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। জাহান্নাম থেকে মুক্ত হতে পারবে না। আল্লাহ বলেন, 

و لاله و من يشرك باير فقدم له علي ألجتة ومأويه التاژ وماليين من أنصاره 

المائدة: 72 | 

“নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থির করে, আল্লাহ তার জন্যে জান্নাত হারাম করে দেন এবং তার বাসস্থান হয় জাহান্নাম। অত্যাচারীদের কোনো সাহায্যকারী নেই।” (সূরা মায়িদা-৭২) 

। 

। 

জাহান্নামীদের পরিতাপ

 পরকালের সুদীর্ঘ জীবনের তুলনায় ইহকালের দৃষ্টান্ত হলো, সমুদ্রের পানিতে কারো আঙুল ডুবিয়ে বের করা হলে আঙুলের অগ্রভাগে যতটুকু পানি অবশিষ্ট থাকে, সেই সামান্য পানি। জাহান্নামের শাস্তি প্রত্যক্ষ করার সাথে সাথে দুনিয়াতে ভোগ্য সকল বিলাসিতার কথা তারা ভুলে যাবে। কুফুরীর দরুন তারা চরম অনুতাপ ও নিদারুণ পরিতাপ করতে থাকবে।

 নবী করীম সা. বলেন, “কেয়ামতের দিন জাহান্নামের সর্বনিম্ন শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আল্লাহ ডেকে বলবেন, দুনিয়াতে তোমার যা কিছু ছিল, তা পরিশোধ করে কি তুমি জাহান্নাম থেকে বের হতে চাও না? সে বলবে, হ্যাঁ..! আল্লাহ বলবেন, তুমি আদমের ঔরসে থাকাকালেই তোমার কাছে এর চেয়ে সামান্য বস্তু চেয়েছিলাম যে, আমার সাথে কাউকে শরীক করো না। কিন্তু তুমি তা না মেনে। আমার সঙ্গে অংশীদার সাব্যস্ত করেছ!” (বুখারী-৬১৮৯) 

ন্যায় বিচার,

 সব কাফের আল্লাহর সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করেছে, তারপরও তাদের শাস্তিতে তারতম্য হবে। 

জাহান্নামীদের পানিয় 

আল্লাহ তা’লা জাহান্নামীদের পানিয়ের বিবরণ দিয়েছেন। সেটিও হবে তাদের জন্য একপ্রকার আযাব। কুরআনুল কারীমের একাধিক স্থানে এর বিবরণ উল্লেখ হয়েছে। 

* পানিয়ের ধরণ কী হবে?

 * কুরআনে সেগুলো উল্লেখের পেছনে কী প্রজ্ঞা? 

* ইচ্ছাকৃতভাবেই কি তারা সেগুলো পান করবে? 

ভূমিকা

 জ্ঞানের দ্বারা মানুষের ঈমান বৃদ্ধি পায়। তার সত্যায়ন সুদৃঢ় হয়। আল্লাহ তা’লা আমাদের সামনে তার মনোনীত ধর্মের বিস্তারিত বিশ্লেষণ দিয়েছেন। বিমুখ ও মিথুকদের পরিণতির ধরণ স্পষ্ট করেছেন। তন্মধ্যে তাদের পানিয়ের কথাও উল্লেখ করেছেন। সেগুলো হলো, 

() হামীম 

 তা হলো জাহান্নামের আগুনের তাপে অতি-উষ্ণ ফুটন্ত পানি। পান করার সাথে পেটের নাড়িভুড়ি বিগলিত হয়ে যাবে। দেহের চামড়া খসে পড়বে। পাকস্থলী বেরিয়ে যাবে। আল্লাহ বলেন, 

وقوا ماء يمافقط ماهر و محمد: ۱۰ | 

“এবং যাদেরকে পান করতে দেওয়া হবে ফুটন্ত পানি অতঃপর তা তাদের নাড়িভুঁড়ি ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দেবে।” (সূরা মুহাম্মাদ 

() গাছছাক্ক 

তা হলো বরফের চেয়ে অতি শীতল পানিয়। অধিক ঠাণ্ডা হওয়ায় তা পানযোগ্য হবে না; বরং অপরাধীর জন্য তা শাস্তির উপকরণ হবে। আল্লাহ বলেন, 

يمي وممتنا هي ص: ۵۷ 

وهذا قلي و 

“এটা উত্তপ্ত পানি ও অতি শীতল, অতঃপর তারা একে আস্বাদন করুক!” (সূরা ছাদ-৫৭)। 

() ছাদীদ 

তা হলো অপরাধী ও কাফেরদের দেহনির্গত পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানিয়। আল্লাহ বলেন, 

يتجهو ولا 

و من وابوه كه ويسقى من ماء صديد يكاد يسيئه. ويبه الموت من كل مكان وما هو بميت 

إبراهيم: ۱۹ – ۱۷ 

وين وراہے عذاب غليظ 

“তার পেছনে রয়েছে জাহান্নাম। তাতে পুঁজ মিশানো পানি পান করানো হবে। ঢোক গিলে তা পান করবে। এবং গলার ভেতরে প্রবেশ করাতে পারবে না। প্রতি দিক থেকে তার কাছে মৃত্যু আগমন করবে এবং সে মরবে না। তার পশ্চাতেও রয়েছে। কঠোর আযাব।” (সূরা ইবরাহীম-১৬,১৭)। 

() গলিত তাম্রসদৃশ পানিয় 

 ইবনে আব্বাস রা. কে এর সংজ্ঞা জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “তৈলের নীচে জমাট গাড় বস্তুর ন্যায়”.. আল্লাহ তা’লা বলেন, 

و إنا أعتدنا للظلمين تارا أحاط به شرايها وإن يتيوأينمائو 

الشراب وساعث متفقا 

ماء المهل يشوى الوجوه ب 

“.. আমি জালেমদের জন্য অগ্নি প্রস্তুত করে রেখেছি, যার বেষ্টনী তাদেরকে পরিবেষ্টন করে থাকবে। যদি তারা পানিয় প্রার্থনা করে, তবে পূজের ন্যায় পানিয় দেওয়া হবে যা তাদের মুখমণ্ডল দগ্ধ করবে। কত নিকৃষ্ট পানিয় এবং খুবই মন্দ আশ্রয়।” (সূরা কাহফ-২৯) 

ভিন্নপদ পানিয় 

জাহান্নামীদের আরও কিছু পানিয়ের বিবরণ কুরআনে এসেছে। তন্মধ্যে.. আল্লাহ বলেন, 

المهاد 

جه يصلونها في و این ش له: أو 

ل ما 

طخين 

وهذا وإن 

هذا لي وقوه ميه وممتنا 

 “এটাতো শুনলেন, এখন দুষ্টদের জন্যে রয়েছে নিকৃষ্ট ঠিকানা তথা জাহান্নাম। তারা সেখানে প্রবেশ করবে। অতএব, কত নিকৃষ্ট সেই আবাসস্থল। এটা উত্তপ্ত পানি ও পূজ; অতএব তারা একে আস্বাদন করুক। এ ধরনের আরও কিছু শাস্তি আছে।” (সূরা ছাদ ৫৫-৫৮)

 ফুটন্ত পানি ও পুঁজ ছাড়াও ভিন্নপদের কিছু পানিয় রয়েছে, যেগুলো অতি পিপাসায় অপারগ হয়ে তারা পান করতে বাধ্য 

হবে। 

পানে বাধ্যকরণ

 অগ্নিবাসীরা এ সকল পানিয় বাধ্য হয়ে পান করবে এক ঢোক এক ঢোক করে। অতিশয় বিস্বাদ ও দুর্গন্ধের ফলে গলদগরণে কষ্ট হবে। পান করার সাথে সাথে পাকস্থলী বিক্ষিপ্ত হয়ে যাবে। 

জিজ্ঞাসা, 

উত্তপ্ত পানিয় পানের দরুন তারা কি মৃত্যুমুখে 

পতিত হবে না?

 উত্তরঃ কৃতকর্ম গৃহীত হওয়ার একমাত্র পথ হলো ইসলাম। আল্লাহ বলেন, 

ومن يبتغ غير الإشكر ديا فلن يقبل منه وهو في الآخرة من 

الخيرين ( که آل عمران: ۸۰ 

“যে লোক ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম তালাশ করে, কস্মিনকালেও তা গ্রহণ করা হবে না এবং আখেরাতে সে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত।” (সূরা আলে ইমরান-৮৫)

 জাহান্নামে তারা বিভিন্নপ্রকার শাস্তির সম্মুখীন হবে। তবে কখনই তারা মৃত্যুবরণ করবে না। চিরস্থায়ী জাহান্নামের আগুনে নিমজ্জিত থাকবে। শাস্তির মাত্রা ও ধরণ প্রতিনিয়ত তীব্র থেকে 

তীব্রতর হতে থাকবে। 

মদ্যপ জাহান্নামে পুঁজ পান করবে 

 ইয়েমেনের ‘জিশান থেকে আগমনকারী এক লোক তাদের অঞ্চলে পেয় ভূট্টা থেকে তৈরি ‘মাযার’ নামক একপ্রকার মদ সম্পর্কে নবীজীকে জিজ্ঞেস করলে তিনি প্রশ্ন করলেন, তা কি নেশাদায়ক? বলল, হ্যাঁ..! বললেন, প্রত্যেক নেশাদায়ক বস্তু নিষিদ্ধ। নেশা উদ্রেককর পানিয় পানকারীর জন্য আল্লাহর প্রতিশ্রুতি যে, অবশ্যই তিনি তাকে জাহান্নামে ত্বীনাতুল খাবাল’ পান করাবেন। সবাই বলল, “ত্বীনাতুল খাবাল’ কী হে আল্লাহর রাসূল? বললেন, জাহান্নামীদের দেহনির্গত দুর্গন্ধযুক্ত পানিয়।” (মুসলিম-৫৩৩৫) 

আল্লাহ আমাদেরকে জাহান্নাম থেকে বাঁচিয়ে জান্নাতে চিরসুখে বসবাসের ব্যবস্থা করে দিন! জান্নাতের সুপেয় পানি, স্বচ্ছ দুধ ও সুমিষ্ট মধু ও পানি পান করার সৌভাগ্য দান করুন। আমীন!!.. 

মদ, 

যে ব্যক্তি দুনিয়াতে তা পান করবে, আখেরাতে তার জন্য ‘ব্দীনাতুল খাবাল’.. 

জাহান্নামীদের খাদ্য 

জাহান্নামবাসী পানিয়ের পাশাপাশি বিভিন্নরকম খাদ্যও আহার করবে। 

* তবে কী সেই খাদ্য?

 * কীভাবে খাবে?

 * খাদ্যের নামগুলো কী? 

ভূমিকা

 অপরাধীরা জাহান্নামে চিৎকার করতে থাকবে। স্বজোরে কাঁদতে থাকবে। আশ্রয় প্রার্থনা করবে। সেখানে তারা ক্ষুধার্ত হবে, তৃষ্ণার্ত হবে। ফলে তাদের ক্ষুধা নিবারণের জন্য এমনসব খাদ্য দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে বস্তুত তাদের শাস্তির মাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে। 

() কাঁটাযুক্ত বস্তু

 আল্লাহ বলেন, 

وليس له طعام إلا من ضريع ولايتي ولا يعني من جوع ع ا 

 “কণ্টক ঝাড় ব্যতীত তাদের জন্যে কোনো খাদ্য নেই।” (সূরা গাশিয়া-৬)

 তারা যখন খাদ্য প্রার্থনা করবে, তখন তাদেরকে এ কণ্টক ঝাড় দেওয়া হবে। যার মাধ্যমে তাদের ক্ষুধাও নিবারণ হবে না, তাদের কষ্টও দূর হবে না; বরং তা তাদের জন্য শাস্তি বৃদ্ধির উপকরণ হবে। 

() জাহান্নামীদের পূজ

 আল্লাহ বলেন, 

يأكله إلا 

ولاطعام إلا من غسيلين 

و ليس له آليم ههنا حمي 

الحين 

( که الحاقة: ۳۵ – ۳۷ 

“অতএব, আজকের দিন এখানে তার কোনো সুহৃদ নেই। এবং কোনো খাদ্য নেই ক্ষত-নিঃসৃত পুঁজ ব্যতীত। অপরাধী ব্যতীত কেউ এটা খাবে না।” (সূরা হাক্কা ৩৫-৩৭)। 

সুতরাং কেয়ামতের দিন কাফেররা কোনো বন্ধু পাবে না, প্রিয়জন খুঁজে পাবে না। কেউ তাদেরকে কঠিন শাস্তি হতে। 

বাঁচাতে পারবে না। সেদিন সকলেই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। জাহান্নামে সেদিন তারা পচা রক্ত ও বিগলিত পুঁজ ব্যতীত আহারের কিছু পাবে না।। দুনিয়াতে যেরকম তারা আল্লাহর নিষিদ্ধ বস্তু আস্বাদন করেছে, প্রতিদানস্বরূপ সেখানে তারা এসব নিকৃষ্ট খাদ্য আহার করবে। আল্লাহ বলেন, 

که 

و إ لدينا أنكالا وجحيما وطعاما الخير 

وعذابا أليما 

المزمل: ۱۴ – ۱۳ 

“নিশ্চয় আমার কাছে আছে শিকল ও অগ্নিকুণ্ড। কাঁটাযুক্ত খাদ্য এবং যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” (সূরা মুযযাম্মিল ১২-১৩)। 

() যাক্কুম

 তা হলো জাহান্নামের গহ্বর থেকে উদগত নিকৃষ্টতম বৃক্ষের ফল। যা বিস্বাদে ভরপুর এবং অতিদুর্গন্ধযুক্ত। অনিহাসত্ত্বেও অপরাধীরা তা ভক্ষণ করবে। 

আল্লাহ বলেন, 

و إ شجرت القوم ع طعام الأيي في كالمهل يغلي في 

علي ألحيييي ځوه قاعية إلى سواء 

الظوي في 

ق 

الجحي ( ه بو فوق رأسه من عذاب الحييو إليك أنت العزي الكريم ( إن هذا ماگم به مترونه 

 “নিশ্চয় যাক্কুমবৃক্ষ পাপীর খাদ্য হবে; গলিত তামের মতো পেটে ফুটতে থাকবে। যেরকম ফুটে পানি। একে ধর এবং টেনে নিয়ে যাও জাহান্নামের মধ্যস্থলে, অতঃপর তার মাথার ওপর ফুটন্ত পানির আযাব ঢেলে দাও, স্বাদ গ্রহণ কর, তুমি তো সম্মানিত, সম্রান্ত। এ সম্পর্কে তোমরা সন্দেহে পতিত ছিলে।” (সূরা দুখান ৪৩-৫০)

 দুনিয়াতে অপরাধীদেরকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে বলেন, 

تموت من شجرین قوم ن که 

وتم إكر أنها المال الكون ( 

“অতঃপর হে পথভ্রষ্ট, মিথ্যারোপকারীগণ! তোমরা অবশ্যই ভক্ষণ করবে যাক্কুমবৃক্ষ থেকে।” (সূরা ওয়াকিআ ৫১-৫২)

 অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, 

و إنها شجرة تخرج في أضل أجير : طلعها كأنه, وش 

لون منها فمالون منها أو يه 

الشيطين في فإن 

 “এটি একটি বৃক্ষ, যা উদগত হয় জাহান্নামের মূলে। এর গুচ্ছ শয়তানের মস্তকের মতো। কাফেররা একে ভক্ষণ করবে এবং এর দ্বারা উদর পূর্ণ করবে।” (৬৪-৬৬) 

প্রশ্ন, 

মানুষ তো শয়তানের মস্তক দেখেনি, তবে কেন এর 

সাথে যাক্কুমবৃক্ষের উপমা? 

উত্তরঃ মানুষ এতটুকু জানে যে, শয়তান অতি কুৎসিত। তাদের আকৃতি অতিশয় বিকৃত। শয়তানের সাথে তুলনা করে মানুষকে আল্লাহ সেই বৃক্ষের কদর্যতা সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন। 

যাক্কুমের কদর্যতা

 নবী করীম সা. যাক্কুমের কদর্যতা ও নিকৃষ্টতার বিবরণ এভাবে দিয়েছেন, 

একদা তিনি নিম্নোক্ত আয়াত পাঠ করলেন, 

وأر اممو 

ويأيها الذين ءامنوا اتقوا الله حق تقاته ولا تموت 

به آل عمران: 102 | 

“হে ঈমানদারগণ, আল্লাহকে যেমন ভয় করা উচিৎ ঠিক তেমন ভয় করতে থাক। এবং অবশ্যই মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না ।” (সূরা আলে ইমরান-১০২)

 অতঃপর বললেন, 

 ঐ সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, যাকুমের এক ফোটা যদি পৃথিবীর কোনো সাগরে পতিত হতো, তবে সমুদ্রকুল বিনষ্ট হয়ে যেত।” আল্লাহ তা’লা আমাদের সকলকে জান্নাত দান করুন! জান্নাতের সুখ-শান্তি আমাদেরকে নসীব করুন! জাহান্নাম, তার শাস্তি এবং তার নিকৃষ্ট খাদ্য থেকে আমাদেরকে রক্ষা করুন। আমীন..!! 

পরিস্থিতি,

 জাহান্নামবাসী পানাহার করবে ঠিকই; তবে কতইনা নিকৃষ্ট হবে তাদের পানাহার..!! 

জাহান্নামীদের পোশাক শয্যা 

অগ্নিবাসীও পানাহার করবে, পরিধেয় গ্রহণ করবে। তাদেরও শয্যা ও বস্ত্র থাকবে; তবে সবই হবে আগুনের, যা কেবল তাদের শাস্তিই বৃদ্ধি করবে। 

* পোশাকের ধরণ কী?

 * কীভাবে পরবে?

 * তাদের বিছানা ও বস্ত্র কী? 

ভূমিকা

 আগুনের পরিধেয় ও সাজ-সজ্জা সম্পর্কে আল্লাহ তালাই সংবাদ দিয়েছেন, 

وهذا ضمان اختصموا في ربه الذين كفروا قطعت 

من فوق ويه الحييه به الحج: ۱۹ 

ل یا تین ارب 

“অতএব যারা কাফের, তাদের জন্যে আগুনের পোশাক তৈরি করা হয়েছে। তাদের মাথার ওপর ফুটন্ত পানি ঢেলে দেওয়া হবে।” (সূরা হজ্ব-১৯)

 অগ্নিবস্ত্র পরিধান ও মাথায় ফুটন্ত পানি ঢালার ফলে তাদের মুখাবয়ব ও দেহ বিগলিত হয়ে যাবে। 

বস্ত্রের পরিমাণে তারতম্য 

নবী করীম সা. বলেন, “অগ্নিবাসীদের কারো কারো পায়ের গোছা পর্যন্ত আগুন প্রজ্বলিত থাকবে। কারো হাঁটু পর্যন্ত, কারো কোমর পর্যন্ত। আবার কারো কারো চোয়াল পর্যন্ত থাকবে।” (মুসলিম-৭৩৪৮)

 নবী করীম সা. আরও বলেন, “মূর্খতাযুগের চারটি অভ্যাস আমার উম্মতের কেউ কেউ ত্যাগ করতে পারবে না- (১) বংশ নিয়ে পরস্পর গর্ব, (২) বংশানুক্রমায় অপবাদ প্রদান, (৩) নক্ষত্রসমূহের কাছে বৃষ্টি প্রার্থনা, (৪) মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে আহাজারি। আহাজারিকারীরা যদি তাওবা না করে মারা যায়, তবে কেয়ামতের দিন তারা উত্তপ্ত আলকাতরার জামা পরে উঠবে। অতঃপর তাদেরকে অগ্নিদাহ্য লৌহ পোশাক পরিয়ে দেওয়া হবে।” (আল মুস্তাদরাক-১৪১৩) 

শয্যা আবরণ

 জাহান্নামীদের দেহের উপরে, নীচে ও সর্বত্রই থাকবে আগুন। আল্লাহ বলেন, 

الهرين جه مها وين فوقه غواش وكذلك نجزي الليبيين ي و 

الأعراف: ۶۱ 

“তাদের জন্যে নরকাগ্নি শয্যা রয়েছে এবং ওপর থেকে চাদর। আমি এমনিভাবে জালেমদেরকে শাস্তি প্রদান করব।” (সূরা আ’রাফ-৪১)। অন্যত্র বলেন, 

ه للة الزمر: ۱۹ 

لهم من فوقهطل من الايروين 

“তাদের জন্যে ওপর দিক থেকে এবং নীচের দিক থেকে আগুনের মেঘমালা থাকবে।” (সূরা যুমার-১৬) 

অগ্নিবাসীদের জন্য সবদিকেই বিশাল স্তুপাকৃতির অগ্নিকুণ্ড থাকবে। 

প্রাসঙ্গিক 

জাহান্নামীদের অবস্থা বিবরণে প্রজ্ঞা 

কেয়ামতের দিন কাফের ও জাহান্নামীদের সার্বিক দুরবস্থার বিবরণ দিয়ে আমাদেরকে সতর্ক করছেন। যেন আমরা কুফর ও অন্যায় থেকে তাওবা করে বিরত হয়ে পরিপূর্ণরূপে আল্লাহর আনুগত্যে প্রবেশ করি। আল্লাহ তালা আমাদেরকে সংশোধন হওয়ার তাওফিক দিন। 

== 

বাস্তবতা,

 দুনিয়াতে মানুষের কৃতকর্মই..

 আখেরাতে তার পরিণাম নির্ধারণ করে দেবে। 

জাহান্নামবাসীর বিভৎস রূপ 

তাদের আকৃতি এবং অবয়ব হবে কালো কুৎসিত। চেহারা হবে অতিশয় বিভৎস। অন্তর হবে যারপরনাই অনুতপ্ত। তাদের কৃতকর্ম হবে বিনষ্ট ও মূল্যহীন। 

* তবে কীরূপ হবে তাদের আকৃতি?

 * দৈহিক কোনো বিবর্তন ঘটবে কি? 

* কী প্রজ্ঞা? 

ভূমিকা

 আল্লাহ ও তাঁর প্রেরিত রাসূলকে মিথ্যারোপ করা, আল্লাহর এবাদতে অংশীদার সাব্যস্ত করা এবং আল্লাহর কিতাবসমূহে অস্বীকার করার ফলে তারা কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হবে। 

জাহান্নামে তাদের আকৃতি

 অগ্নিবাসীরা জাহান্নামে বিরাট আকৃতিতে প্রবেশ করবে। তাদের দৈহিক বিশালতা সম্পর্কে আল্লাহ ব্যতীত কেউ জ্ঞাত নয়। ত্বক দগ্ধকরণ ও শাস্তির মাত্রাবৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদের এ আকৃতি দেওয়া 

হবে। 

 নবী করীম সা. বলেন, “কাফেরের দুই স্কন্ধের মধ্যস্থল দ্রুতগামী আরোহীর তিনদিন। ভ্রমণস্থলের সমপরিমাণ।” (বুখারী ৬১৮৫) 

নবী করীম সা. আরও বলেন, “জাহান্নামী কাফেরের দাঁত উহুদ পর্বত সদৃশ বিরাটকায় এবং তার চামড়ার দূরত্ব তিনদিন ভ্রমণস্থলের সমান।” (মুসলিম-৭৩৬৪)

অন্যত্র নবী করীম সা. বলেন, “নিশ্চয় কাফেরের চামড়ার দূরত্ব বেয়াল্লিশ হাত, তার দাঁত উহুদ পাহাড় সদৃশ এবং জাহান্নামে তার উপবেশনস্থল মক্কা ও মদীনার মধ্যস্থল বরাবর।” (তিরমিযী-২৫৭৭) 

Tr 

বর্ণ 

যন্ত্রণাদায়ক কঠিন আযাব ভোগের ফলে তাদের দেহগুলো কালো ও কুৎসিত হয়ে যাবে। আল্লাহ বলেন, 

الا وهم فيها گلو ( وجه المؤمنون: ۱۰۶ 

تلف وجوه 

“আগুন তাদের মুখমণ্ডল দগ্ধ করবে এবং তারা তাতে বীভৎস আকার ধারণ করবে।” (সূরা মুমিনুন-১০৪)

 এ আয়াতের ব্যাখ্যায় নবী করীম সা. বলেন, “তাদের মুখমণ্ডল এরকমভাবে দগ্ধ হবে যে, উপরের ঠোট আগুনের উত্তাপে মাথার মধ্যস্থলে চলে যাবে এবং নীচের ঠোট নাভী পর্যন্ত নেমে যাবে।” (আল মুস্তাদরাক-২৯৭১)

 সুতরাং মুমিনমাত্রই এসকল ভয়ানক আযাব থেকে পরিত্রাণ পেতে সচেষ্ট হবে। একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর আনুগত্যে মনোনিবেশ করবে। কেননা, আল্লাহর শাস্তি অবশ্যম্ভাবী; যা কখনো প্রতিহত হবার নয়। 

পরিতাপ,

 শাস্তি ভোগ ও একে অন্যের দৈহিক বিবর্ণতা প্রত্যক্ষের ফলে। তাদের অনুতাপ আরো বৃদ্ধি পাবে। 

ভিন্নরকম শাস্তি 

আল্লাহ তা’লা জাহান্নামীদের শাস্তি প্রদানের ধাপগুলো সবিস্তারে বর্ণনা করেছেন। জান্নাতের নেয়ামতসমূহের স্পষ্ট বিবরণ শুনিয়েছেন; যা আল্লাহ তালার চরম ন্যায়-নিষ্ঠার বহিঃপ্রকাশ। ফলে কাফেরদের আর অজুহাত দাঁড় করানোর সুযোগ থাকবে 

।। তবে এটা ঠিক, আল্লাহর দয়া তাঁর ক্রোধের অগ্রগামী, তাঁর ক্ষমা তাঁর শাস্তির অগ্রগামী; কিন্তু তাঁর গ্রেফতার অত্যন্ত কঠিন এবং তাঁর শাস্তি বড়ই যন্ত্রণাদায়ক। 

* জাহান্নামে শাস্তির কী সেই ধাপসমূহ?

 * সবিস্তারে বর্ণনার পেছনে কী প্রজ্ঞা?

 * এতদসত্ত্বেও অগ্নিবাসীর অবস্থা কী? 

ভূমিকা 

জাহান্নামে অপরাধীদের প্রজ্বলন দীর্ঘ ও কঠিন করতে সেখানে আল্লাহ বিভিন্ন রকম শাস্তির ব্যবস্থা করেছেন। কুরআনুল কারীমে সেগুলো তিনি স্পষ্টরূপে বর্ণনা করেছেন, 

বিশাল হাতুড়ি দিয়ে আঘাত 

আল্লাহ বলেন, 

كفوا عث لهم ثياب تین ارب من فوقي 

هو الذين ژويه الحييه و يضه به ما في بطونهم والجود ولهم 

قيمة من حديدة الحج: ۱۹ – 21 

“অতএব যারা কাফের, তাদের জন্যে আগুনের পোশাক তৈরি করা হয়েছে। তাদের মাথার ওপর ফুটন্ত পানি ঢেলে দেওয়া হবে। ফলে তাদের পেটে যা আছে, তা এবং চর্ম গলে বের হয়ে যাবে। তাদের জন্যে আছে লোহার হাতুড়ি।” (সূরা হজ্ব ১৯-২১) সুতরাং জাহান্নামে কাফেরদেরকে চাবুক এবং লোহার গরম ও ভারী হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে তাদের দেহ ছিন্নবিচ্ছিন্ন করা হবে। পুনরায় দেহ গঠন করে আবার একইভাবে আঘাত করে তাকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করা হবে। এভাবেই চলতে থাকবে তার। 

দগ্ধ হওয়ার পর নতুন চামড়া পুনস্থাপন

 আগুনে দগ্ধ হবার ফলে অগ্নিবাসীর দেহের চামড়া পুড়ে যাবে। চামড়া ব্যথা অনুভবের অন্যতম অঙ্গ। তাই পুনদগ্ধ করতে তদস্থলে নতুন চামড়া পুনস্থাপন করা হবে। আল্লাহ বলেন, 

ليه نارا لما نضجت جلودهم 

و إن الذين كفروا بایاشوف 

ه جلودا غيرها ليوقو العذاب الله الله كان عزیز ا یمان کا 

ب النساء: 56 | 

“এতে সন্দেহ নেই যে, আমার নিদর্শনসমূহের প্রতি যেসব লোক অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করবে, আমি তাদেরকে আগুনে নিক্ষেপ করব। তাদের চামড়াগুলো যখন জ্বলে-পুড়ে যাবে, তখন আবার তা পাল্টে দেব অন্য চামড়া দিয়ে, যাতে তারা আযাব আস্বাদন করতে থাকে।নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।” (সূরা নিসা-৫৬) 

উপরোক্ত আয়াতটি চিকিৎসা বিজ্ঞানে আল-কুরআনের 

বিস্ময়কর এক বৈশিষ্ট্যরূপে সুপ্রসিদ্ধ হয়েছে। গবেষণায় জানা গেছে, দেহের উপরিভাগ হওয়ায় চামড়াই ব্যথা যন্ত্রণা অনুভবের একমাত্র অঙ্গ। চামড়া যদি তিন ডিগ্রির উপরে দগ্ধতার শিকার হয়, তবে তা অনুভূতি শক্তি হারিয়ে ফেলে। ফলে শাস্তি অব্যাহত থাকা দগ্ধ চামড়ায় কোনো প্রভাব ফেলে 

। এ কারণেই ব্যথার অনুভূতি অব্যাহত রাখার উদ্দেশ্যে আল কুরআনে নতুন চামড়া পুনস্থাপনের কথা বলা হয়েছে। 

শিকল পরিয়ে টেনে হেঁচড়ে নেয়া হবে

 আল্লাহ বলেন, 

وطعاما ڈاة 

وعذابا أليما ی به 

و إن لدينا أنكالا وجحيما 

“নিশ্চয় আমার কাছে আছে শিকল ও অগ্নিকুণ্ড। গলগ্রহ হয়ে যায় এমন খাদ্য এবং যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” (সূরা মুযযাম্মিল ১২,১৩)

 অন্য আয়াতে বলেন, 

في التخييير 

و إذ أغل في أعقه والكل يتنكبوت 

که غافر: ۷۱ – ۷۲ | 

ثم في الاريسكوت 

“যখন বেড়ি ও শৃঙ্খল তাদের গলদেশে পড়বে।তাদেরকে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে ফুটন্ত পানিতে, অতঃপর তাদেরকে আগুনে 

জ্বালানো হবে।” (সূরা গাফির-৭১,৭২)

 অপর আয়াতে, 

ر يو يسحبون في الاعلى وجوههم 

كل و 

و إن المجرمين في 

قرية القمر: ۶۷ – ۶۸ 

وقو م 

“নিশ্চয় অপরাধীরা পথভ্রষ্ট ও বিকারগ্রস্ত। যেদিন তাদেরকে মুখ হেঁচড়ে টেনে নেয়া হবে জাহান্নামে, বলা হবে- অগ্নির খাদ্য আস্বাদন কর।” (সূরা কামার-৪৭,৪৮) 

উপুড় করে হেঁচড়ে নেয়া হবে

 আল্লাহ বলেন, 

وإن المجرمين في كل وغيره ويكون في النار على وجوههم 

القمر: ۶۷ – ۸ 

وقو م سقر 

“নিশ্চয় অপরাধীরা পথভ্রষ্ট ও বিকারগ্রস্ত। যেদিন তাদেরকে মুখ হেঁচড়ে টেনে নেয়া হবে জাহান্নামে, বলা হবে- অগ্নির খাদ্য আস্বাদন কর।” (সূরা কামার-৪৭,৪৮)

 এসময় তাদের হাত-পা বাঁধা থাকবে, যা তাদের যন্ত্রণাকে আরো বাড়িয়ে দেবে। আল্লাহ বলেন, 

يضرون في البنين 

هو ألم تر إلى الذين يحيين في البي اللي أ گوا بالبيت وبما أرسلنا بوه شكا فسوف يعلمون ( إذ 

يسحبوب و في الحميير ثم في 

الأغل في أعقه والشك 

“আপনি কি তাদেরকে দেখেননি, যারা আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে বিতর্ক করে, তারা কোথায় ফিরছে? যারা কিতাবের প্রতি এবং যে বিষয় দিয়ে আমি রাসূলদেরকে প্রেরণ করেছি, সে বিষয়ের প্রতি মিথ্যারোপ করে। অতএব, সত্বরই তারা জানতে পারবে। যখন বেড়ি ও শৃঙ্খল তাদের গলদেশে পড়বে। তাদেরকে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে ফুটন্ত পানিতে অতঃপর তাদেরকে আগুনে 

জ্বালানো হবে।” (সূরা গাফির ৬৯-৭২)। 

ফুটন্ত পানি দিয়ে বিগলিতকরণ

 অপরাধীদের শরীরে ফুটন্ত পানি ঢেলে দেওয়া হবে, ফলে তাদের নাড়িভুড়ি ও পাকস্থলী গলে ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। আল্লাহ বলেন, 

عث لهم ثياب بين نار يصب من فوق 

هو الذين كفوا ويه الخيريه يه بو ماف ونه والجود و الحج: 

• – ১৭ “অতএব যারা কাফের, তাদের জন্যে আগুনের পোশাক তৈরি করা হয়েছে। তাদের মাথার ওপর ফুটন্ত পানি ঢেলে দেওয়া হবে। ফলে তাদের পেটে যা আছে, তা এবং চর্ম গলে বের হয়ে। যাবে।” (সূরা হজ্ব-১৯,২০) 

মুখবয়ব দগ্ধকরণ 

 চেহারা মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ অঙ্গ। আর তাই নবী করীম সা, কারো চেহারায় আঘাত করতে নিষেধ করেছেন। জাহান্নামে অপরাধীদের চেহারাসমূহ আগুনে দগ্ধ করা হবে। আল্লাহ বলেন, 

الا وهم فيها 

وتل وجوه 

و المؤمنون: ۱۰۶ 

گليكون 

“আগুন তাদের মুখমণ্ডল দগ্ধ করবে এবং তারা তাতে বীভৎস আকার ধারণ করবে।” (সূরা মুমিনুন-১০৪)

 অন্য আয়াতে বলেন, 

وجوههم في الترهل تجرون إلاماكن 

ومن جاء بالبيئة في 

النمل: ۹۰ 

تعملون ( 

“এবং যে মন্দ কাজ নিয়ে আসবে, তাকে অগ্নিতে অধঃমূখে নিক্ষেপ করা হবে। তোমরা যা করছিলে, তারই প্রতিফলন 

তোমরা পাবে।” (সূরা নামল-৯০)

 অন্যত্র বলেন, 

الان إبراهيم: 50 

سرابيمرقن قطراني وتغشى وجوه 

“তাদের জামা হবে দাহ্য আলকাতরার এবং তাদের মুখমণ্ডলকে আগুন আচ্ছন্ন করে ফেলবে।” (সূরা ইবরাহীম-৫০)

 আল্লাহ বলেন, 

و أفمن يتقی بوجهده شوء العذاب يوم القيم وقيل اليمين وق 

كه الزمر: 24 

تكسبون 

ما 

“যে ব্যক্তি কেয়ামতের দিন তার মুখ দ্বারা অশুভ আযাব ঠেকাবে এবং এরূপ জালেমদেরকে বলা হবে, তোমরা যা করতে তার স্বাদ আস্বাদন কর! সে কি তার সমান, যে এরূপ নয়?” (সূরা যুমার-২৪)

 ওপরন্তু কেয়ামতের ময়দানে তাদেরকে অন্ধ, বধির ও মূক করে উঠানো হবে। আল্লাহ বলেন, 

و و هو يوم القيمة على وجوههم مما وكما وما تناولهم 

لماب زن سيارة الإسراء: ۹۷ 

جه 

“আমি কেয়ামতের দিন তাদের সমবেত করব তাদের মুখে ভর দিয়ে চলা অবস্থায়, অন্ধ অবস্থায়, মুক অবস্থায় এবং বধির অবস্থায়। তাদের আবাসস্থল হবে জাহান্নাম। যখনই নির্বাপিত হওয়ার উপক্রম হবে আমি তখন তাদের জন্যে অগ্নি আরও বৃদ্ধি করে দেব।” (সূরা ইসরা-৯৭)। 

জাহান্নামের শৃঙ্গে উঠতে বাধ্য করা হবে 

 এটাও হবে একপ্রকার অগ্নি-শাস্তি। আল্লাহ বলেন, 

وسأريه وصممواكه المدثر: ۱۷ 

“আমি সত্ত্বরই তাকে শাস্তির পাহাড়ে আরোহণ করাব।” (সূরা মুদ্দাছছির-১৭) 

চেহারা কালো কুৎসিত করে দেওয়া হবে

 পরকালে অগ্নিবাসীর চেহারাগুলো কালো কুৎসিত করে দেওয়া হবে। আল্লাহ বলেন, 

وجوه وتسود وجوه أما الذين اشوت وجوههم 

و يوم تبي أكثر بعد إيمي و فوق العذاب بما كنت تكون ي مه آل عمران: ۱۰۹ 

“সেদিন কোনো কোনো মুখ উজ্জ্বল হবে, আর কোনো কোনো মুখ হবে কালো। বস্তুতঃ যাদের মুখ কালো হবে, তাদের বলা হবে, তোমরা কি ঈমান আনার পর কাফের হয়ে গিয়েছিলে? এবার সে কুফরীর বিনিময়ে আযাবের স্বাদ গ্রহণ কর।” (সূরা আলে ইমরান-১০৬)

 সেই বীভৎস ও কুৎসিত চেহারা দেখে মনে হবে, তাদের চেহারায় যেন রাত্রির ঘন অন্ধকার নেমে এসেছে। আল্লাহ বলেন, 

و والذين كتبوأ أليا جا سة بيلها وترههم لما لهم 

ظيا أوليك 

من الله من اينما أغيث جوه قطعاقب الي أصحاب الارهم فيهاځيرون ( که يونس: 27 | 

“আর যারা সঞ্চয় করেছে অকল্যাণ অসৎ কর্মের বদলায় সে পরিমাণ অপমান তাদের চেহারাকে আবৃত করে ফেলবে। কেউ নেই তাদেরকে বাঁচাতে পারে আল্লাহর হাত থেকে। তাদের 

মুখমণ্ডল যেন ঢেকে দেওয়া হয়েছে আঁধার রাতের টুকরো দিয়ে। এরা হলো জাহান্নামবাসী। এরা এতেই থাকবে অনন্তকাল।” (সূরা ইউনুস-২৭)। 

আগুন কাফেরদের বেষ্টন করে রাখবে

 সামনে-পেছনে উপরে-নীচে সবদিক থেকেই আগুন তাদেরকে পরিবেষ্টন করে রাখবে। আল্লাহ বলেন, 

ويوم يغشه العاب من فوقه ومن تحتي أجلهم ويقول و وأما کش موته 

العنكبوت: 55 

“যেদিন আযাব তাদেরকে ঘেরাও করবে মাথার ওপর থেকে এবং পায়ের নীচ থেকে। আল্লাহ বলবেন, তোমরা যা করতে, তার স্বাদ গ্রহণ কর।” (সূরা আনকাবুত-৫৫)

 অন্যত্র বলেন, 

لار وين تته كل لك و له بده باد و 

لهون وهتك 

که الزمر: 16 | 

با اون 

“তাদের জন্যে ওপর দিক থেকে এবং নীচের দিক থেকে আগুনের মেঘমালা থাকবে। এ শাস্তি দ্বারা আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে সতর্ক করছেন যে, হে আমার বান্দাগণ, আমাকে ভয় কর!” (সূরা যুমার-১৬)

 আরও বলেন, 

لمحيطة بالكفرين ( که 

جه 

و يستعجلونك بالعذاب وا العنكبوت: 54 | 

“তারা আপনাকে আযাব ত্বরান্বিত করতে বলে; অথচ জাহান্নাম কাফেরদেরকে ঘেরাও করছে।” (সূরা আনকাবুত-৫৪)। 

আগুনের প্রাচীর

 জাহান্নামে আগুনের প্রাচীর কাফেরদেরকে অবরোধ করে রাখবে, ফলে তারা সেখান থেকে কখনই বের হতে পারবে না। আল্লাহ বলেন, 

وإني أعتدنا لليمين تارا أحاط به شرايها وإن يشتيوا يغاوا 

که 

الشراب وساءت تفقا 

ماء المهل يشوى الوجوه ب 

“আমি জালেমদের জন্যে অগ্নি প্রস্তুত করে রেখেছি, যার বেষ্টনী তাদেরকে পরিবেষ্টন করে থাকবে। যদি তারা পানিয় প্রার্থনা করে, তবে পুঁজের ন্যায় পানিয় দেওয়া হবে যা তাদের মুখমণ্ডল দগ্ধ করবে। কত নিকৃষ্ট পানিয় এবং খুবই মন্দ আশ্রয়।” (সূরা কাহফ-২৯) 

হৃদয় জ্বালিয়ে দেবে 

জাহান্নামে অপরাধীদের দেহ বিশালকায় হবে, এতদসত্ত্বেও আগুন তাদের অন্তরীক্ষে গিয়ে পৌঁছুবে। আল্লাহ বলেন, 

ولا لينبت في الخطمة ؟ وما أدراك ما الحكمة في تاژ الله 

التي تطل على الأفدة ع الهمزة: 4 -۷ 

الموقد 

“কখনও না, সে অবশ্যই নিক্ষিপ্ত হবে পিষ্টকারীর মধ্যে। আপনি কি জানেন, পিষ্টকারী কী? এটা আল্লাহর প্রজ্বলিত অগ্নি, যা হৃদয় পর্যন্ত পৌঁছুবে।” (সূলা হুমাযা ৪-৭)

 পুড়তে পুড়তে যখন অন্তর পর্যন্ত পৌঁছুবে, তখন তার দেহ পুনর্গঠন করে দেওয়া হবে। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, 

لواحه 

وما أدرنك ما قرة تبقى ولا تدر 

وسأضليه سقر البشرة 

المدثر: 21 – 29 

“আমি তাকে দাখিল করব অগ্নিতে। আপনি কি বুঝলেন অগ্নি কী? এটা অক্ষত রাখবে না এবং ছাড়বেও না।মানুষকে দগ্ধ করবে।” (সূরা মুদ্দাছছির ২৬-২৯)

 এখানে ‘অক্ষত রাখবে না’ অর্থ, হাড়, মাংস ও মস্তিষ্ক সবকিছুই আগুন দগ্ধ করে ফেলবে।

 নবী করীম সা. থেকে বর্ণিত একটি হাদিসেও উপরোক্ত বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত পাওয়া যায়। 

তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি ছুরিকাঘাতে আত্মহত্যা করল, জাহান্নামে সে অনন্ত-অসীমকাল তার পেটে ছুরিকাঘাত করতে থাকবে। যে বিষপানে আত্মহত্যা করল, জাহান্নামে সে অনন্ত-অসীমকাল বিষপান করে মৃত্যুর যন্ত্রণা ভোগ করতে থাকবে। যে পর্বত-চূড়া 

থেকে পড়ে আত্মহত্যা করল, জাহান্নামে সে অনন্ত-অসীমকাল আগুনে নিপতিত হতে থাকবে।” (মুসলিম-৩১৩) 

লজ্জা পরিতাপ

 পরকালে কাফেররা যখন অগ্নি প্রত্যক্ষ করবে, তখন তারা নিদারুণ লজ্জিত ও চরম অনুতপ্ত হবে। কিন্তু সেখানে তাদের 

পরিতাপ কোনোই কাজে আসবে না। আল্লাহ বলেন, 

فتدث به أسوأ الندامة 

ولو أن كل تقی ظلمت ما في الأرض لما رأوا العذاب وقضى بينهم بالقسط وهم لا يظلمون ( که 

یونس: 54 

“বস্তুতঃ যদি প্রত্যেক অপরাধী যখন আযাব দেখবে, তখন তার কাছে যদি এত পরিমাণ থাকে যা আছে সমগ্র জমিনের মাঝে, তবে অবশ্যই সেগুলো নিজের মুক্তির বিনিময়ে দিতে চাইবে আর গোপনে গোপনে অনুতাপ করবে। বস্তুতঃ তাদের জন্য সিদ্ধান্ত হবে ন্যায়সঙ্গত এবং তাদের ওপর জুলুম হবে না।” (সূরা ইউনুস-৫৪) 

নবী করীম সা. বলেন, “কেয়ামতের দিন কাফেরকে সামনে এনে বলা হবে, তোমার যদি জমিন-ভর স্বর্ণ ভাণ্ডার থাকত, তুমি কি আজ সেগুলো তোমার মুক্তিপণ হিসেবে দিতে চাইতে? সে বলবে, হ্যাঁ..! তাকে বলা হবে, আমি তো দুনিয়াতে তোমার কাছে এর চেয়েও ক্ষুদ্র ও সামান্য বস্তু চেয়েছিলাম..” (বুখারী-৬১৭৩)

 অর্থাৎ দুনিয়াতে আল্লাহ তোমার কাছে ঈমান ও আল্লাহর একত্ববাদের সত্যায়ন চেয়েছিলেন। একনিষ্ঠভাবে তাঁরই এবাদত কামনা করেছিলেন; যা তোমার জন্য অতি সামান্য ও অনেক সহজ ছিল, আর তুমি তা না করে মিথ্যারোপ করেছ ও বিমুখ। থেকেছ। সুতরাং তোমার কোনো মুক্তিপণই আজ গৃহীত হবে না। 

আগুনে নাড়িভুঁড়ি ছিড়ে পড়বে

 আত্মপ্রদর্শনের উদ্দেশ্যে সৎকাজের আদেশকারী অসদুদ্দেশ্যবান লোকদের ক্ষেত্রে এরূপ শাস্তি প্রযোজ্য হবে। নিজের খোদাভীরুতা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে সে লোকদের মাঝে সকথা বলে বেড়াত, কিন্তু গোপনে সে নিজেই অসৎকাজে লিপ্ত হতো। 

 নবী করীম সা. বলেন, “কেয়ামতের দিন ব্যক্তিকে এনে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে, অতঃপর তার পেটের নাড়িভুড়ি ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে, গাঁধা যেমন চাকার পেছনে ঘুরতে থাকে, সেও এগুলোর পেছনে ঘুরতে থাকবে। অগ্নিবাসী তার কাছে। সমবেত হয়ে বলবে, হে অমুক, তুমি কি সৎকাজের আদেশ ও অকাজ থেকে নিষেধ করতে না? সে বলবে, হ্যাঁ.. করতাম। তবে অপরকে সৎকাজের আদেশ করে আমি তা পালন করতাম না এবং অন্যকে নিষেধ করে নিজে তাতে লিপ্ত হতাম।” (মুসলিম-৭৬৭৪)। 

 নবী করীম সা. বলেন, “আমি আমর বিন আমের খুযায়ীকে আগুনে তার নাড়িভুড়ি ছিড়ে ফেলতে দেখেছি। দুনিয়াতে সে সর্বপ্রথম জন্তু ছেড়েছিল।” (বুখারী-৪৩৪৭) 

অর্থাৎ সে মূর্তির নামে পশু ছেড়ে দিত, কেউ সেগুলো ব্যবহার ও তাতে আরোহণ করতে পারত না। আমর বিন লুহাই সে-ই সর্বপ্রথম এ কুসংস্কার চালু করে এবং মানুষ পরবর্তীতে তা অনুসরণ করতে শুরু করে। কঠিন আযাবের ফলে তার নাড়িভুড়ি ছিড়ে পড়বে এবং সে তার চারপাশে প্রদক্ষিণ করতে থাকবে। 

জাহান্নামে উপাস্যও উপাসনাকারীর সঙ্গী হবে

 কাফের ও মুশরেকরা তাদের পূজ্য মূর্তি ও উপাস্যগুলোকে মহান মনে করত। তাদের নামে পশু বলি দিত। তাদের খুশি করতে জান-মাল ব্যয় করত। মনে করত, তারা উপকার ও অপকারের প্রভূ। কেয়ামতের দিন আল্লাহ তা’লা তাদের সাথে তাদের উপাস্যদেরকেও জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। তারা তো নিজেরাই মুক্ত হতে পারবে না, তবে অন্যদের কী করে মুক্ত করবে? 

আল্লাহ বলেন, 

و إله وما تعبدون من دوني اله حصب جهانم لها وارون ي لوكان هؤلاء ، الهة ما وردوها 

“তোমরা এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদের পুজা কর, সেগুলো জাহান্নামের ইন্ধন। তোমরাই তাতে প্রবেশ করবে। এই মূর্তিরা যদি উপাস্য হতো, তবে জাহান্নামে প্রবেশ করত না। প্রত্যেকেই তাতে চিরস্থায়ী হয়ে পড়ে থাকবে।” (সূরা আম্বিয়া ৯৮-৯৯) 

চিৎকার আর্তনাদ

 জাহান্নাম থেকে বের হওয়ার আশায় তারা সেখানে চিৎকার করতে থাকবে। আল্লাহ বলেন, 

لگا غير الذي 

مل 

و وه يضطرون فيها ربنا أخرجنا 

فيه من تذر 

وجاء دور الذي 

اقم أول عبيرگرايتد وأما الظليين من نير که فاطر: ۳۷ 

“সেখানে তারা আর্ত-চিৎকার করে বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা, বের করুন আমাদেরকে, আমরা সকাজ করব, পূর্বে যা করতাম, তা করব না। (আল্লাহ বলবেন) আমি কি তোমাদেরকে এতটা বয়স দেইনি, যাতে যা চিন্তা করার বিষয় চিন্তা করতে পারতে? ওপরন্তু তোমাদের কাছে সতর্ককারীও আগমন করেছিল। অতএব আস্বাদন কর। জালেমদের জন্যে কোনো সাহায্যকারী নেই।” (সূরা ফাতির-৩৭)

 হায় নিয়তি! কোথায় মূর্তির সামনে তোমাদের সেই ক্রন্দন ও মিনতি?! রাসূলদের মিথ্যাচারণ কী উপকার করেছে তোমাদের?! 

পাপের স্বীকারোক্তি

 শাস্তি প্রত্যক্ষ করে তারা তাদের ভ্রষ্টতা ও কুফুরী স্বীকার করে নেবে। আল্লাহ বলেন, 

اغتشو بدنه 

وقالو لوا مع أو نعقل ماكا في أضب الشعير 

الأضحي الشعيريه الملك: ۱۰ -۱۱ 

“তারা আরও বলবে, যদি আমরা শুনতাম অথবা বুদ্ধি খাটাতাম, তবে আমরা জাহান্নামবাসীদের মধ্যে থাকতাম না। অতঃপর তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করবে। জাহান্নামীরা দূর হোক!” (সূরা মুলক ১০-১১)

 অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, 

ا 

قوما ضالين و ربا 

و قالوا را لبث عليا شقوا و أخرج اونها فإن عدناقااظليمون (که المؤمنون: ۱۰۹ – ۱۰۷ 

“তারা বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা দুর্ভাগ্যের হাতে পরাভূত ছিলাম এবং আমরা ছিলাম বিভ্রান্ত জাতি। হে আমাদের পালনকর্তা, এ থেকে আমাদেরকে উদ্ধার করুন; আমরা যদি পুনরায় তা করি, তবে আমরা গোনাহগার হব।” (সূরা মুমিনুন ১০৬-১০৭)

 সেদিন তাদের কোনো মিনতিই কবুল হবে না, বরং বলা হবে, 

المؤمنون: ۱۰۸ 

وقال اخوافيهاولالمون ( 

“তোমরা ধিকৃত অবস্থায় এখানেই পড়ে থাক এবং আমার সাথে কোনো কথা বলো না।” (সূরা মুমিনুন-১০৮) 

জাহান্নামের প্রহরীদের কাছে তাদের দয়াভিক্ষা 

আল্লাহর কাছে দয়াপ্রার্থনা করে যখন তারা নিরাশ হয়ে যাবে, 

তখন জাহান্নামের প্রহরীদের। কাছে তারা দয়াভিক্ষা চাইবে। শাস্তি লাঘব করতে আল্লাহর কাছে তাদের সুপারিশ কামনা করবে। আল্লাহ বলেন, 

 “যারা জাহান্নামে আছে, তারা জাহান্নামের রক্ষীদেরকে বলবে, তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে বল, তিনি যেন আমাদের থেকে একদিনের আযাব লাঘব করে দেন। রক্ষীরা বলবে, তোমাদের কাছে কি সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ তোমাদের রাসূল আসেননি? তারা বলবে, হ্যাঁ..! রক্ষীরা বলবে, তবে তোমরাই দোয়া কর। বস্তুতঃ কাফেরদের দোয়া নিস্ফলই হয়।” (সূরা গাফির ৪৯-৫০) 

মৃত্যু কামনা 

শত আকুতির পরও যখন শাস্তি লাঘব হবে না, তখন তারা নিস্কৃতির উদ্দেশ্যে মৃত্যুকামনা করবে। আল্লাহ বলেন, 

و الزخرف: 

واد واملك ليقض علينا ربك قال إكر ميون 

“তারা ডেকে বলবে, হে মালেক, পালনকর্তা আমাদের কিসসাই শেষ করে দিন। সে বলবে, নিশ্চয় তোমরা চিরকাল থাকবে।” (সূরা যুখরুফ-৭৭)

 তাদের বলা হবে, 

“এতে প্রবেশ কর অতঃপর তোমরা সবর কর অথবা না কর, উভয়ই তোমাদের জন্য সমান। তোমরা যা করতে তোমাদেরকে কেবল তারই প্রতিফল দেওয়া হবে।” (সূরা তুর-১৬)। 

অতি সংকীর্ণ স্থলে নিক্ষিপ্ত হবে, নড়াচড়ার সুযোগ থাকবে না

 জাহান্নাম সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, 

“অগ্নি যখন দূর থেকে তাদেরকে দেখবে, তখন তারা শুনতে পাবে তার গর্জন ও হুঙ্কার। যখন এক শিকলে কয়েকজনকে বাঁধা অবস্থায় জাহান্নামের কোনো সংকীর্ণ স্থানে নিক্ষেপ করা হবে, তখন সেখানে তারা মৃত্যু ডাকবে। বলা হবে, আজ তোমরা এক মৃত্যুকে ডেকো না অনেক মৃত্যুকে ডাক।” (সূরা ফুরকান ১২-১৪) 

মিনতি ক্রন্দন 

আল্লাহ বলেন, 

“সেখানে তারা আর্তনাদ ও চীৎকার করতে থাকবে।” (সূরা হূদ ১০৬) 

উপদেশ, 

জাহান্নাম থেকে বাঁচো.. খেজুরের একটি অংশ দান করে হলেও!.. 

জান্নাত জাহান্নামের              অধিকাংশ অধিবাসী নারী 

একাধিক হাদিস দ্বারা প্রমাণিত যে, জান্নাতে পুরুষদের চেয়ে নারীদের সংখ্যা বেশি হবে । ঠিক তেমনি জাহান্নামেও। 

* কীভাবে?

 * কী প্রমাণ?

 * কী প্রজ্ঞা? 

ভূমিকা 

এবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহ তা’লা নারী-পুরুষ সকলকে একই স্তরে রেখেছেন। তবে  স্বভাবগত কিছু বিষয়ে উভয়ের মধ্যে পার্থক্য দিয়েছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের পালনীয় একই; যেমন পাঁচওয়াক্ত নামায, রমযানের রোযা, সামর্থ্য থাকলে হজ্জ্বে গমন, যাকাত প্রদান ইত্যাদি।উভয়ের জন্যই ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া, মিথ্যা বলা, মদপান করা..ইত্যাদি যেমন হারাম করেছেন, তেমনি উভয়ের জন্যই জান্নাতের সুখরাজির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। 

জিজ্ঞাসা

 জান্নাতে কারা সংখ্যাগরিষ্ঠ হবে, পুরুষ নাকি নারী? 

উত্তরঃ প্রখ্যাত সাহাবী আবু হুরায়রা রা, এর সম্মুখে একবার কতিপয় লোক এ নিয়ে আলোচনা করছিল। তাদের আলোচনা শুনে তিনি বললেন, নবী করীম সা. কি বলেননি.. – 

“সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশকারী দল পূর্নিমার চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল হবে। দ্বিতীয়দল আকাশে নক্ষত্রসমূহের ন্যায় আলোকিত হবে। তাদের প্রত্যেকের জন্য থাকবে দু’জন করে স্ত্রী, মাংসের নীচে তাদের মস্তিষ্কের অংশগুলোও দেখা যাবে। জান্নাতে কেউ অবিবাহিত থাকবে না।” (মুসলিম-৭৩২৫)

 উপরোক্ত হাদিস স্পষ্টতই প্রমাণ করে, জান্নাতে নারীগণ সংখ্যাগরিষ্ঠ হবে। তারা পুরুষদের চেয়ে দ্বিগুণ সংখ্যক বা ততোধিক হবে। জান্নাতে নারীদের শ্রেষ্ঠত্ব হুরদের চেয়েও অধিক হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে ইনশাআল্লাহ। 

জিজ্ঞাসা 

অপর হাদিসে জাহান্নামে নারীদের সংখ্যাগরিষ্ঠ 

হওয়ার বিষয়টি পরিস্কারভাবে বর্ণিত হয়েছে! এতদুভয়ের মাঝে সামঞ্জস্য কী করে সম্ভব? উত্তরঃ দুনিয়াতে মূলত পুরুষদের চেয়ে নারীদের সংখ্যাই বেশী। হাদিসে এসেছে, কেয়ামতের পূর্বমুহূর্তে নারীদের সংখ্যা এত বেশী হবে যে, পঞ্চাশজন নারীর দায়িত্বভার একজন পুরুষ গ্রহণ করবে।বর্তমান সমাজে নারী জন্মের হার দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্প্রতি কোনো কোনো দেশে প্রতি পাঁচ নারীর বিপরীতে একপুরুষ অধিষ্ঠিত। এভাবেই সৃষ্টির ইতিহাসে নারীসম্প্রদায় অধিক থাকবে। অতঃপর দুনিয়ার অর্ধেক পুরুষ এবং অর্ধেক নারী যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখনও নারীদের সংখ্যা অধিকই থেকে যাবে। এভাবে জাহান্নামেও নারীদের সংখ্যা বেশী হয়ে যাবে। “জাহান্নামে নারীদের সংখ্যা বেশী হবে” কথা দ্বারা নারী সম্প্রদায়কে অপমান করা উদ্দেশ্য নয়; বরং নারীদের অপরাধে  লিপ্ত হওয়া পুরুষদের তুলনায় অধিক ক্ষতিকর বিধায় সেটি বলা 

হয়েছে। 

বুদ্ধিদীপ্ত অধ্যয়ন,

 হাদিস অধ্যয়নে বুঝা যায়, নারীরাই জান্নাতে সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকবে। 

জাহান্নামীদের ঝগড়া 

দুনিয়াতে তারা গুনাহ ও অপরাধের ক্ষেত্রে পরস্পর সহায়তা করত। কিন্তু পরকালে জাহান্নামে তাদের পরস্পর সম্পর্ক হবে  সম্পূর্ণ বিপরীত।। 

* কী অবস্থা হবে তাদের কেয়ামতের দিন?

 * কোথায় তাদের বন্ধুত্ব?

 * তারা কি পরস্পর বিবাদে লিপ্ত হবে? 

ভূমিকা

 পাপ ও অপরাধের ভিত্তিতে সৃষ্ট সম্পর্ক কেয়ামতের দিন শত্রুতা ও বিদ্বেষে রূপ নেবে। দুনিয়ায় আপন ও অন্তরঙ্গ বন্ধু সেদিন চরম শত্রুতে পরিণত হবে। 

পরস্পর অভিশাপ দান

 এদের পরিণামের বিবরণ দিতে গিয়ে আল্লাহ বলেন, 

له يوم القيمة يف بعگر بعض ولع بعضم 

کی 

م 

تین صرین 

ألا وما ل 

بعضا ومأوي العنكبوت: 25 

“এরপর কেয়ামতের দিন তোমরা একে অপরকে অস্বীকার করবে এবং একে অপরকে অভিশাপ দেবে। তোমাদের ঠিকানা জাহান্নাম এবং তোমাদের কোনো সাহায্যকারী নেই।” (সূরা আনকাবুত-২৫)

 হ্যাঁ.. একে অপরকে অভিসম্পাত করতে থাকবে। পাপিষ্ঠ যখন দুনিয়ায় তাকে পাপাচারে প্ররোচনাকারী বন্ধুকে দেখবে, তখন রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে উঠবে। কারণ, তার কারণেই আজ তার এই 

পরিণতি। অতঃপর একে অপরকে অভিশাপ দিতে থাকবে। 

নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ

 মানুষ নেতৃত্ব ও কর্তৃত্বের ক্ষেত্রে বিভেদপ্রবণ হয়ে থাকে। কেউ দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব-যোগ্যতার বলে অনুসৃত হয়ে যায়। আবার কেউ দুর্বল মেধা ও অদক্ষতার ফলে অনুসারী রয়ে যায়। কেয়ামতের দিন পাপাচারে সকল অনুসারী তাদের অনসৃতদেরকে লানত করবে। একে অপরকে তিরষ্কার করবে। আল্লাহ বলেন, 

وبروا يل جميعا فقال العؤأ للذين آشتك إاا 

لك تبعا فهل أنتم متنوعا من عذاب الله من شنو قالوا لو هدلتا نه لهديه 

سواء علينا أجزنا أم صبرنا مالا من 

و إبراهيم: 21 

تمحيص 

“সবাই আল্লাহর সামনে দন্ডায়মান হবে এবং দুর্বলেরা বড়দেরকে বলবেঃ আমরা তো তোমাদের অনুসারী ছিলাম অতএব, তোমরা আল্লাহর আযাব থেকে আমাদেরকে কিছুমাত্র রক্ষা করবে কি? তারা বলবেঃ যদি আল্লাহ আমাদেরকে সৎপথ দেখাতেন, তবে আমরা অবশ্যই তোমাদেরকে সৎপথ দেখাতাম। এখন তো আমরা ধৈর্যচ্যুত হই কিংবা সবর করি-সবই আমাদের জন্যে সমান আমাদের রেহাই নেই।” (সূরা ইবরাহীম-২১) 

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, 

قو و يكون في التيار فيقول العأ للذين 

لك تبعا فهل أرون مما يبا 

اشتكبروا إنا بين التاري قال لبيين آشتبوا إال فيها إثر الله قد 

که غافر: ۶۷ – ۶۸ 

گر بين العباد 

“যখন তারা জাহান্নামে পরস্পর বিতর্ক করবে, অতঃপর দুর্বলরা অহংকারীদেরকে বলবে, আমরা তোমাদের অনুসারী ছিলাম। তোমরা এখন জাহান্নামের আগুনের কিছু অংশ আমাদের থেকে নিবৃত করবে কি? অহংকারী বলবে, আমরা সবাই তো জাহান্নামে আছি। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ফয়সালা করে দিয়েছেন।” (সূরা গাফির ৪৭-৪৮) 

অন্যত্র বলেন, 

“যেদিন অগ্নিতে তাদের মুখমণ্ডল ওলট পালট করা হবে; সেদিন। তারা বলবে, হায়! আমরা যদি আল্লাহর আনুগত্য করতাম ও রাসূলের আনুগত্য করতাম। তারা আরও বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা আমাদের নেতা ও বড়দের কথা মেনেছিলাম, অতঃপর তারা আমাদের পথভ্রষ্ট করেছিল। হে আমাদের পালনকর্তা, তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দিন এবং তাদেরকে মহা অভিসম্পাত করুন।” (সূরা আহযাব- ৬৬-৬৮) এই হলো পথভ্রষ্টদের পরিণতি। তারা তাদের আদর্শ ব্যক্তিদের অনুসারী ছিল। অন্যায় কাজে তাদের সাদৃশ্যতা অবলম্বন করত। 

ফলে নিজেরা পথভ্রষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অনুসারীদেরকেও পথহারা করে ফেলত। তাদেরকে পিতা-মাতার প্রতি আনুগত্য থেকে বিমুখ রাখত। সন্তানদের সুশিক্ষা প্রদান ভুলিয়ে দিত। নামায আদায় ও রোযা পালন থেকে বারণ করত। কেয়ামতের দিন তাদের সবার অপরাধ প্রকাশ করা হবে। সেদিন সকল অনুসৃত তাদের অনুসারীদের গালমন্দ ও তিরষ্কার করবে। সকলেই সেদিন চরম অনুতপ্ত হবে; কিন্তু তাদের সেই অনুতাপ শাস্তি বৃদ্ধি ছাড়া কোনো উপকারে আসবে না। 

সমাপ্তি,

 আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনুদ্দেশ্য ব্যতীত সকল বন্ধুত্ব কেয়ামতের দিন শত্রুতায় রূপ নেবে। 

সর্বপ্রথম যাদের নিক্ষেপ করে জাহান্নামের আগুন প্রজ্বলিত করা হবে 

জাহান্নামের আগুন সর্বদা প্রজ্বলনশীল। সৃষ্টির পর থেকেই সে অবিরাম জ্বলছে।কেয়ামতের দিন যখন সকল সৃষ্টির হিসাব হবে, তখন কিছু ব্যক্তিকে আল্লাহ নিয়ে আসবেন, যাদের মাধ্যমে জাহান্নামের আগুন পুন-প্রজ্বলিত করবেন। সর্বপ্রথম তাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। 

* তারা কারা? 

* কী তাদের অপরাধ? 

ভূমিকা

 কৃতকর্ম গৃহীত হওয়ার প্রধান শর্ত হলো, কেবল আল্লাহর জন্য হওয়া এবং শরীয়তসম্মত পন্থায় হওয়া। পাশাপাশি লৌকিকতা ও অভিনব পদ্ধতি মুক্ত হওয়া। মানুষের কৃতকর্ম যদি সেমতে হয়, তবেই তার কাজ গৃহীত হবে, ব্যক্তি মুক্ত ও সফল হয়ে 

শুফাই আল-আসবাহী থেকে বর্ণিত, 

 “একদা মসজিদে নববীতে প্রবেশ করে দেখলাম, একজন লোকের পাশে অনেকলোক জমায়েত হয়েছে। জিজ্ঞেস করলাম, কে উনি? বলল, আবু হুরায়রা! অতঃপর আমি গিয়ে তার সামনে বসলাম, তিনি মানুষের কাছে হাদিস বর্ণনা করছিলেন। বর্ণনা শেষে নির্জন হলে জিজ্ঞেস করলাম, সত্য ও সত্যের প্রতিপালকের দোহাই দিয়ে বলছি, আমাকে এমন একটি হাদিস বলুন যা আপনি নবী করীম সা. এর মুখ থেকে শুনেছেন এবং 

উত্তমরূপে জেনেছেন ও বুঝেছেন! আবু হুরায়রা বললেন, হ্যাঁ.. অবশ্যই আমি তোমাকে এমন একটি হাদিসই শুনাব, যা নবী করীম সা. আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আর আমি তা উত্তমরূপে বুঝেছি ও জেনেছি। অতঃপর তিনি একটি দীর্ঘশ্বাস টেনে কিছুক্ষণ নীরব রইলেন। অতঃপর স্বাভাবিক হয়ে বলতে লাগলেন, আমি তোমাকে এমন একটি হাদিস বলব, যা আল্লাহর রাসূল আমাকে বলেছেন, “সেদিন আমি এবং তিনি একটি কক্ষে বসা ছিলাম। সাথে তৃতীয় কেউ ছিল না।” অতঃপর আবু হুরায়রা আরো একটি দীর্ঘশ্বাস টেনে কিছুক্ষণ নীরব রইলেন। অতঃপর স্বাভাবিক হয়ে নিজের চেহারা মুছলেন। বললেন, হ্যাঁ..! আমি তোমাকে এমন একটি হাদিস বলব, যা আল্লাহর রাসূল আমাকে বলেছেন, “সেদিন আমি এবং তিনি একটি কক্ষে বসা ছিলাম। সেখানে তৃতীয় কেউ ছিল না।” অতঃপর তিনি পুনরায় 

কর্কশ আওয়াজে দীর্ঘশ্বাস টেনে চেহারায় উপুড় হয়ে পড়ে | গেলেন। এভাবে তার অবস্থা অস্বাভাবিক রূপ নিচ্ছিল। কিছুক্ষণ 

পর স্বাভাবিক হয়ে বলতে লাগলেন, নবী করীম সা. আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, “নিশ্চয় কেয়ামতের দিন আল্লাহ তা’লা বিচারকার্য সম্পাদনের জন্য অবতরণ করবেন। সকল উম্মত সেদিন নতজানু থাকবে। সর্বপ্রথম যাদের ডাকা হবে, তারা হলো কুরআন সংরক্ষণকারী, আল্লাহর রাস্তায় নিহত এবং অঢেল ধনৈশ্বর্যের অধিকারী। 

আল্লাহ তা’লা কুরআনের পাঠককে বলবেন, আমার রাসূলের ওপর অবতরণকৃত কিতাব কি আমি তোমাকে শেখাইনি? সে বলবে, অবশ্যই হে প্রতিপালক! আল্লাহ বলবেন, তবে তুমি তোমার জ্ঞান অনুপাতে কী আমল করেছ? সে বলবে, আমি রাত-দিন নামাযে দাঁড়িয়ে কুরআন পড়তাম। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছ! ফেরেশতাগণও বলবে, তুমি মিথ্যা বলেছ! আল্লাহ বলবেন, বরং তুমি তো এই উদ্দেশ্যে পড়েছ যে, লোকে তোমাকে কারী বলবে; আর তা তো তোমাকে বলা হয়েছে! অতঃপর ধনৈশ্বর্যের অধিপতিকে সামনে এনে আল্লাহ বলবেন, আমি কি । তোমাকে ধন সম্বদ দিয়ে অমুখাপেক্ষী করিনি? সে বলবে, অবশ্যই হে প্রতিপালক! তবে তুমি আমার দেওয়া সম্পদ পেয়ে কী আমল করেছ? সে বলবে, আমি আত্মীয়দের দেখাশুনা করেছি, দান সাদকা করেছি! আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ! ফেরেশতাগণও বলবে, তুমি মিথ্যা বলছ! আল্লাহ বলবেন, বরং তোমার উদ্দেশ্য ছিল, লোকে যেন তোমাকে দানবীর বলে; আর সেটা তোমাকে বলা হয়েছে! অতঃপর আল্লাহর পথে নিহত ব্যক্তিকে উপস্থিত করে বলা হবে, কী উদ্দেশ্যে তুমি যুদ্ধ করেছ? সে বলবে, জিহাদের আদেশ হয়েছে, তাই আমি আপনার পথে যুদ্ধ করতে করতে নিহত হয়েছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ! ফেরেশতাগণও বলবে, তুমি মিথ্যা বলছ! আল্লাহ বলবেন, বরং তোমার উদ্দেশ্য ছিল, লোকে যেন বলে, অমুক অত্যন্ত সাহসী যোদ্ধাউ আবু হুরায়রা বলেন, অতঃপর আল্লাহর রাসূল আমার হাঁটুতে হাত দিয়ে মৃদু আঘাত করে বললেন, হে আবু হুরায়রা, কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম এই তিনব্যক্তিকে নিক্ষেপ করে জাহান্নামের আগুন প্রজ্বলিত করা হবে।” (তিরমিযী-২৩৮২)। 

বুঝা গেল, কৃতকর্মে নিয়তের গুরুত্ব অপরিসীম। সকল কাজের পূর্বে নিয়তকে সংশোধন করে নেয়া অপরিহার্য। সবসময় অন্তরিচ্ছা নির্ভেজাল রাখা উচিত। 

বুদ্ধিদীপ্ত বাণী, 

প্রকৃত নিষ্ঠাবান সে, যে আপন সৎকর্মগুলোও গোপন রাখে। ঠিকযেমন তার অসৎকর্মের কথা গোপন রাখে। 

যে সকল অপরাধে জাহান্নাম প্রতিশ্রুত 

আল্লাহ তা’লা মানুষের হেদায়েতের জন্য দুনিয়াতে অসংখ্য নবী রাসূল প্রেরণ করেছেন। রাসূল কোনোসময় নিজের মন থেকে বানিয়ে কিছু বলেন না; যা বলেন, সবই আল্লাহর প্রেরিত ওহি। মানুষের কৃত অপরাধ বিভিন্ন ধরণের হয়ে থাকে, কিছু আল্লাহর অধিকারের সাথে সংশ্লিষ্ট আর কিছু বান্দার অধিকারের সাথে সম্পৃক্ত। সকল অপরাধই লিপিবদ্ধ হচ্ছে; ছোট-বড় কোনো গুনাহই বাদ যাচ্ছে না। কতিপয় অপরাধীদের ব্যাপারে ভয়াবহ শাস্তির হুশিয়ারী বর্নিত হয়েছে। 

* সেই অপরাধগুলো কী?

 * কারা সেই অপরাধী?

 * অন্যান্য অপরাধের তুলনায় এগুলোর শাস্তি কঠিন কেন? 

ভূমিকা 

পালনকর্তা মানুষের বাহ্যিক-আভ্যন্তরীণ সকলকিছু সম্পর্কে জ্ঞাত। বিচারে আল্লাহ থেকে অধিক ন্যায়পরায়ণ কেউ নয়। তিনিই দ্রুত বিচার সম্পাদনকারী, তিনিই সকল বিচারকের বিচারক। যেসব অপরাধে কঠিন শাস্তির কথা বর্ণিত হয়েছে, সেগুলো হলো 

বিচারকার্যে দুর্নীতিকারী

 ন্যায়সঙ্গতরূপে মানুষের মাঝে বিচারকার্য সম্পাদনকল্পে আল্লাহ তা’লা শরীয়ত (ইসলামী বিচারব্যবস্থা) অবতরণ করে বান্দাদেরকে ন্যায়বিচারের আদেশ করেছেন, 

له يأمر بالعدل والإحسان وإيتاي ذي القرى وينهی عني 

و إ الماء والمنكر والبغي يعظك لعلم 

تنگرون و که 

 “আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ এবং আত্মীয়-স্বজনকে দান করার আদেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, অসঙ্গত কাজ এবং অবাধ্যতা করতে বারণ করেন। তিনি তোমাদের উপদেশ দেন। যাতে তোমরা স্মরণ রাখ।” (সূরা নাহলো-৯০)

 সুতরাং যে ব্যক্তি বিচারকার্যে দুর্নীতি করল, অবিচার করল, অন্যায় করল, ঘুষ নিয়ে অসত্যকে সমর্থন করল, অবশ্যই সে নিজের ঠিকানা জাহান্নামে নির্ধারণ করল। 

 নবী করীম সা. বলেন, “বিচারকবৃন্দ তিনদলে বিভক্ত- একদল জান্নাতে এবং দুইদল জাহান্নামে যাবে। যে বিচারক ন্যায় জেনে তদনুযায়ী রায় দিয়েছে, সে জান্নাতে যাবে। যে বিচারক সত্য জেনেও অবিচার করেছে, সে জাহান্নামে যাবে। যে বিচারক না জেনে না বুঝে বিচার করেছে, সেও জাহান্নামে যাবে।” (আবু দাউদ-৩৫৭৫) 

নবীজীর ওপর মিথ্যারোপ

 জালহাদিস বর্ণনা করে তা আল্লাহর রাসূলের বাণী বলে প্রচার করা চরম অপরাধ ও নিদারুণ গর্হিত কাজ। এর ক্ষতির ব্যাপকতা বলার অপেক্ষা রাখে না; শরীয়তের বিধিবিধানে গরমিল দেখা দেবে। ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলীতে সংশয় প্রকাশ পাবে। এ কারণেই নবী করীম সা. এ ধরণের অপরাধীর জন্য জাহান্নামের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। 

বলেছেন, “আমার নামে মিথ্যা বলো না! যে আমার নামে মিথ্যা বলবে, অবশ্যই সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।” (বুখারী-১০৬)। 

অন্যায়ভাবে হত্যা

 হত্যা একটি নির্মম অপরাধ। কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম মানুষের রক্তের ফায়সালা হবে। আল্লাহ বলেন, 

خلا 

ومن يقتل مؤما ممتدا جاؤ. جه فيها وضب الله علي وله، وأعد له عذابا عظيما كيكة النساء: ۹۳ 

“যে ব্যক্তি স্বেচ্ছাক্রমে মুসলমানকে হত্যা করে, তার শাস্তি জাহান্নাম, তাতেই সে চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তার প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছেন, তাকে অভিসম্পাত করেছেন এবং তার জন্যে ভীষণ শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন।” (সূরা নিসা-৯৩)

 নবী করীম সা. বলেন, “সকল জ্বিন-ইনসান যদি একজন মুমিনকে হত্যা করতে একত্র হয়, তবে সকলকেই আল্লাহ 

জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। হত্যাকারী ও হত্যার আদেশদাতার জন্য আল্লাহ জান্নাত হারাম করেছেন।” (আল মুস্তাদরাক-৮০৩৬ 

সুদ ভক্ষক সম্প্রদায় ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। ধর্ম, সমাজ, অর্থনীতি.. সকল বিষয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনা ইসলামে বিদ্যমান। যার একটি সুদ নিষিদ্ধ হওয়া। আল্লাহ বলেন, 

এ 

ولم 

التربوا فمن جاه موعظه ن به 

و أحل له البيع و 

لي أصحاب الایر 

انتهى قلو ماسلف وأم إلى أنه ومن عاد 

که البقرة: 275 

هم فيهاخل ون 

“আল্লাহ তা’লা ক্রয়-বিক্রয় বৈধ করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন। অতঃপর যার কাছে তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে উপদেশ এসেছে এবং সে বিরত হয়েছে, পূর্বে যা হয়ে গেছে, তা তার। তার ব্যাপার আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল। আর যারা পুনরায় সুদ নেয়, তারাই জাহান্নামে যাবে। তারা সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে।” (সূরা বাক্বারা-২৭৫) 

নবী করীম সা. বলেন, “তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক বিষয় থেকে বেঁচে থাকো। সকলেই জিজ্ঞেস করল, সেগুলো কী হে আল্লাহর রাসূল? বললেন, আল্লাহর সঙ্গে শিরিক, জাদু, অন্যায়ভাবে আল্লাহর অবৈধকৃত পন্থায় কোনো মানুষকে হত্যা, সুদ ভক্ষণ..” (বুখারী-২৬১৫)। 

অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ ভক্ষণকারী

 আল্লাহ বলেন, 

 “হে ঈমানদারগণ, তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না। কেবলমাত্র তোমাদের পরস্পরের সম্মতিক্রমে যে ব্যবসা করা হয় তা বৈধ। আর তোমরা নিজেদের কাউকে হত্যা করো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা’লা তোমাদের প্রতি দয়ালু। 

আর যে কেউ সীমালঙ্ঘন কিংবা জুলুমের বশবর্তী হয়ে এরূপ  করবে, তাকে খুব শীঘ্রই আগুনে নিক্ষেপ করা হবে। এটা আল্লাহর পক্ষে খুবই সহজসাধ্য।” (সূরা নিসা ২৯-৩০)

জালেমদের পক্ষে অবস্থানকারী

 জুলুম বা অবিচারের পরিণাম খুবই ভয়াবহ। আল্লাহ তালা । জুলুমকে নিজের ওপর হারাম করেছেন। পাশাপাশি বান্দাদের ওপরও তা নিষিদ্ধ করেছেন। সুতরাং কাউকে তার রিযিক, সম্মান, প্রসিদ্ধি কিংবা চাকুরীর ক্ষেত্রে অবিচার করা অথবা অবিচারকের পক্ষে অবস্থান নেয়া কঠিন অপরাধ। আল্লাহ বলেন, 

التار ما ت مرین 

ولا ت وا إلى الذين ظلموا فتمو دوني الله من أولياء لا صوت (ن) که هود: ۱۱۳ 

“আর পাপিষ্ঠদের প্রতি ঝুঁকবে না। নতুবা তোমাদেরকেও আগুনে ধরবে। আর আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের কোনো বন্ধু নেই। অতএব, কোথাও সাহায্য পাবে না।” (সূরা হূদ-১১৩) অর্থাৎ জালেমদের থেকে কোনোরূপ সহায়তার আশা করো না। তাদের দ্বারা প্রতারিত হয়ো না। যদি তোমরা তা কর, তবে অবশ্যই জাহান্নাম তোমাদের পাকড়াও করবে। আল্লাহর আযাব থেকে কেউ তোমাদের রক্ষা করতে পারবে না। 

জীবজন্তুকে শাস্তি প্রদান

নবী করীম সা. বলেন, “জনৈক মহিলা একটি বিড়াল ছানাকে বন্দি করেছিল। এমতাবস্থায় মহিলার মৃত্যু হলে মহিলা জাহান্নামে প্রবেশ করেছিল। বন্দি করে সে বিড়ালছানাকে। কোনো খাদ্য দেয়নি, পানি দেয়নি। জমিন থেকে ঘাষ (বা পোকামাকড়) খাওয়ার জন্য ছেড়েও দেয়নি।” (বুখারী-২২৩৬) 

বস্ত্রবাহী নগ্নদেহ বিশিষ্ট নারী এবং মানুষকে প্রহারকারী সম্প্রদায়

 অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা সমাজে অনৈতিক কর্মকাণ্ড উস্কিয়ে দেয়। এ থেকে রক্ষা পেতে আল্লাহ তা’লা মানুষকে পর্দা পালন ও সতিত্ব বজায় রাখার আদেশ করেছেন। বেপর্দা ও অর্ধনগ্ন নারীদের ব্যাপারে নবীজী জাহান্নামের সংবাদ দিয়েছেন। তেমনি মানুষকে কষ্ট প্রদানকারী, লাঠি ও চাবুক দিয়ে 

প্রহারকারীদের ব্যাপারেও একই বাণী শুনিয়েছেন। 

তিনি বলেন, “জাহান্নামী দু’টি দল এখনো আমি দেখিনি; একদলের সাথে ষাঁঢ়ের লেজসদৃশ চাবুক থাকবে, যা দিয়ে সে মানুষকে প্রহার করবে। আর বস্ত্রবাহী নগ্ন নারী সম্প্রদায়, যারা নিজেরাও হেলেদুলে থাকবে এবং অন্যদেরও আকৃষ্ট করবে, তাদের মুণ্ডু একপেশে লম্বা স্কন্ধ বিশিষ্ট উষ্ট্রীর কুঁজের মতো হবে; জান্নাত দূরের কথা, জান্নাতের সুঘ্রাণও তারা পাবে না, অথচ জান্নাতের সুগন্ধি তো এত এত দূর থেকেই অনুভব করা যায়।” (মুসলিম-৫৭০৪)।

 এখানে প্রহার বলতে অন্যায়ভাবে প্রহার উদ্দেশ্য। ন্যায়সঙ্গতভাবে শিষ্টাচার শিক্ষাদানকল্পে প্রহার বৈধ। আল্লাহ বলেন, 

النور: 2 

و الرايني الراي جلو گل وجيرا 

يا جلد 

“ব্যভিচারিণী নারী ও ব্যভিচারী পুরুষ; তাদের প্রত্যেককে একশ’ করে বেত্রাঘাত কর।” (সূরা নূর-২)। 

আত্মহত্যা

 আত্মহত্যা করা চরম অপরাধ। যে কোনো পন্থায় মানুষ 

নবী করীম সা. বলেন, “যে পর্বতচূড়া থেকে পড়ে আত্মহত্যা করল, জাহান্নামে সে অনন্ত-অসীমকাল আগুনে নিপতিত হতে থাকবে। যে বিষপানে আত্মহত্যা করল, জাহান্নামে সে অনন্ত অসীমকাল বিষপান করে মৃত্যুর যন্ত্রণা ভোগ করতে থাকবে। যে ব্যক্তি ছুরিকাঘাতে আত্মহত্যা করল, জাহান্নামে সে অনন্ত অসীমকাল তার পেটে ছুরিকাঘাত করতে থাকবে।” (মুসলিম ৫৪৪২) 

জ্ঞান অন্বেষণে অনিষ্ঠা 

এখলাছ ও সুন্নতের অনুসরণই আমল কবুল হওয়ার মূল শর্ত। দ্বীনী জ্ঞান অন্বেষণ হলো সর্বোৎকৃষ্ট আমল; কারণ তা নবীদের ত্যাজ্যসম্পদ এবং মুমিনদের হেদায়েতের পথ। নিষ্ঠা ও সৎনিয়তের ফলে তা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু এ জ্ঞান অন্বেষণে যার ভিন্ন উদ্দেশ্য থাকে, আত্মপ্রদর্শন কিংবা প্রসিদ্ধি অর্জনকল্পে যে এ পথ বেছে নেয়, নিঃসন্দেহে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত। 

নবী করীম সা. বলেন, “কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যে জ্ঞান অর্জন করা হয়, তা যদি কেউ দুনিয়ার তুচ্ছ লাভের আশায় অর্জন করে, তবে কেয়ামতের দিন সে জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে  না।” (আবু দাউদ-৩৬৬৬)। 

স্বর্ণরূপার পাত্রে পান

 আল্লাহ তা’লা মানুষের জন্য উৎকৃষ্ট বিষয়সমূহ বৈধ করেছেন। মানুষের খাদ্যগ্রহণের জন্য অগণিত ফল-ফসল তৈরি করে দিয়েছেন। সুতরাং স্বর্ণরূপার পাত্র ব্যতীত সকল পবিত্র পাত্র দিয়ে এগুলো পানাহার বৈধ। 

নবী করীম সা. বলেন, “যে ব্যক্তি স্বর্ণ ও রূপার পাত্রে পান। করল, নিশ্চয় সে তার পেটে আগুন প্রবেশ করাল।” (ইবনে হিব্বান-৫৩৪২) 

অহংকার

 অহংকার হলো, অন্যকে ছোট, হেয় ও তুচ্ছ মনে করা। অহংকার মানুষকে অপরের অধিকার স্বীকৃতি দানে বাঁধা সৃষ্টি করে। অহংকার আত্মীয়তার বন্ধন মিলনে অন্তরায় হয়। কখনো কখনো অহংকার সাধারণ দরিদ্র মানুষদের সাথে মিলে জামাতে নামায আদায় করা থেকেও বিরত রাখে। 

হাদিসে কুদসী বর্ণনা করতে গিয়ে নবীজী বলেন, “আল্লাহর বাণী, অহংকার হলো আমার চাদর, মহত্ব হলো আমার আঁচল। 

এতদুভয়ের কোনো একটি নিয়ে যদি কেউ টানাটানি করে, তাকে আমি জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। যে আমার দিকে এক বিঘা আসবে, আমি তার দিকে একহাত নিকটবর্তী হব। যে আমার দিকে একহাত নিকটবর্তী হবে, আমি তার দিকে দুইহাত 

নিকটবর্তী হব। যে আমার দিকে হেটে আসবে, আমি তার দিকে। দ্রুত যাব। যে আমার দিকে দ্রুত আসবে, আমি তার দিকে দৌড়ে যাব। যে আমাকে মনে মনে স্মরণ করবে, আমিও তাকে মনে মনে স্মরণ করব। যে আমাকে জনসমাবেশে স্মরণ করবে, আমি তাদের চেয়ে উন্নত ও উৎকৃষ্ট সমাবেশে তাকে স্মরণ করব।” (ইবনে হিব্বান-৩২৮)। 

বাস্তবতা,

 যে সৎকর্ম করল, তা নিজের জন্যই করল। যে অসৎ করল, তার শাস্তি তাকেই ভোগ করতে হবে। 

জাহান্নাম থেকে মুক্ত সর্বশেষ ব্যক্তি 

নবী করীম সা. কেয়ামতের বিস্তারিত বিবরণ শুনিয়েছেন। মুমিন মাত্রই এগুলো পড়ে অধিক পরিমাণে আনুগত্য ও এবাদতে মনোনিবেশ করবে। অসঙ্কর্ম পরিত্যাগ করবে। নবী করীম সা. সর্বশেষ জাহান্নাম থেকে মুক্ত ও সর্বশেষ জান্নাতে প্রবেশকারী লোকের বিবরণ শুনিয়েছেন! 

* কী তার বিবরণ? 

* জাহান্নাম থেকে কীভাবে মুক্তি পাবে?

 * জান্নাতে তার সুখ কীরূপ হবে? 

ভূমিকা

 নবী করীম সা, কখনো নিজ থেকে তৈরি করে কিছু বলেননি। সাহাবীগণ তাঁকে প্রশ্ন করতেন, তিনি উত্তর দিতেন। একদা তারা জান্নাতে মুমিনদের আল্লাহর দর্শন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন।  

 আবু হুরায়রা রা, হাদিসটি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, “কিছু লোক জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল, কেয়ামতের দিন আমরা কি আমাদের প্রতিপালককে দেখতে পাব? উত্তরে তিনি বললেন, আকাশে যখন কোনো মেঘ না থাকে, তখন সূর্য দেখতে তোমাদের কোনো কষ্ট হয়? বলল, না হে আল্লাহর রাসূল! বললেন, আকাশে যখন কোনো জলধর না থাকে, পূর্ণিমার রাত্রিতে তখন চাঁদ দেখতে তোমাদের অসুবিধা হয়? তারা বলল, না হে আল্লাহর রাসূল! বললেন, নিশ্চয় পালনকর্তাকে তোমরা সেভাবেই পরিষ্কাররূপে দেখবে। কেয়ামতের দিন সকল মানুষকে একত্র করে আল্লাহ বলবেন, যারা বস্তুর পূজা করত, তারা যেন তাদের পেছনে পেছনে চলে যায়! অতঃপর যারা সূর্যের পূজা করত তারা সূর্যের পেছনে, যারা চন্দ্রের পূজা করত তারা চন্দ্রের পেছনে, যারা শয়তানের অনুসারী ছিল তারা শয়তানের পেছনে পেছনে (জাহান্নামে) চলে। যাবে। অবশেষে এই উম্মত অবশিষ্ট থাকবে, যাদের মাঝে মুনাফিকরাও অবস্থান করবে। অতঃপর প্রতিপালক অপরিচিত আকৃতিতে এসে বলবেন, আমিই তোমাদের প্রভূ! অতঃপর তারা বলবে, আমরা আল্লাহর কাছে তোমার থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। এই আমরা আমাদের প্রতিপালক না আসা পর্যন্ত এখানেই দাঁড়ালাম। আমাদের প্রতিপালক এলে আমরা ঠিকই চিনতে পারব। অতঃপর আল্লাহ তাদের পরিচিত আকৃতিতে তাদের সামনে আসবেন।বলবেন,  আমিই তোমাদের প্রতিপালক! অতঃপর তারা বলবে, আপনিই আমাদের প্রতিপালক! অতঃপর তারা তাঁর অনুসরণ করবে। সিরাত স্থাপন করা হবে। সর্বপ্রথম আমিই (নবীজী) তা অতিক্রম করব। সেদিন সকল রাসূলের মুখে থাকবে, হে আল্লাহ! রক্ষা করুন! হে আল্লাহ! রক্ষা করুন! সিরাতের ওপর ধারালো লোহা, পেরেক ও সাদান বৃক্ষের ন্যায় কাঁটা বিছানো থাকবে। তোমরা কি সাদান বৃক্ষের কাঁটা দেখেছ? সবাই বলল, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! বললেন, সেগুলো হবে সাদান বৃক্ষের কাঁটার মতো; তবে সেগুলোর বড়ত্ব সম্পর্কে আল্লাহ ছাড়া কেউ অবগত নয়। আমল অনুযায়ী সেগুলো মানুষকে আঘাত করবে।কেউ অসৎকর্মের দরুন ধ্বংস হয়ে 

যাবে। কেউ আঘাতপ্রাপ্ত হয়েও মুক্তি পেয়ে যাবে। অতঃপর যখন আল্লাহ সকল মানুষের বিচারকার্য সমাধা করবেন এবং জাহান্নাম থেকে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ সাক্ষ্যদানকারীদের মধ্যে যাদের বের করার ইচ্ছা; বের করতে চাইবেন, তখন ফেরেশতাদেরকে তাদের বের করার আদেশ করবেন। ফেরেশতাগণ তাদেরকে সেজদার চিহ্ন দেখে চিহ্নিত করে বের করবেন। জাহান্নামের জন্য আল্লাহ সেজদার চিহ্ন দগ্ধকরণ হারাম করে দিয়েছেন। আগুনে পুড়ে অঙ্গার অবস্থায় তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে। অতঃপর তাদের ওপর ‘জীবনপানি’ নামক এক পানিয় ঢালা হবে। ফলে তারা বহমান পানিতে উদগত চারাগাছের মতো উঠতে থাকবে। একব্যক্তি জাহান্নামে উপুড় হয়ে মুখের ওপর আগুনে দগ্ধ হতে থাকবে। সে বলবে, হে প্রতিপালক! জাহান্নামের দুর্গন্ধ আমার জন্য বিষাক্ত হয়ে গেছে। তার প্রজ্বলন আমাকে দগ্ধ করে দিয়েছে। সুতরাং আমার চেহারাটুকু জাহান্নামের আগুন থেকে সরিয়ে দিন। এভাবে সে অবিরাম দোয়া করতে থাকবে। প্রতিপালক বলবেন, আমি যদি তোমার দোয়া গ্রহণ করে নিই, তবে আর কিছু চাইবে না তো? সে বলবে, আপনার মর্যাদার শপথ, এছাড়া আর কিছুই চাইব না। অতঃপর তিনি তার চেহারা আগুন থেকে ফিরিয়ে দেবেন। এরপর সে বলতে থাকবে, হে প্রতিপালক, আমাকে জান্নাতের দরজার নিকটবর্তী করুন! প্রতিপালক বলবেন, তুমি তো বলেছিলে, আর কিছু চাইবে না? ধিক হে আদমসন্তান! কত অবিশ্বস্ত তুমি! অবিরাম আল্লাহর কাছে সে এভাবে দোয়া করতে থাকবে। অতঃপর আল্লাহ বলবেন, যদি তোমার আবেদন পূর্ণ করি, তবে আর কিছু চাইবে না তো? সে বলবে, না হে প্রতিপালক, আপনার মর্যাদার শপথ, আমি আর কিছুই চাইব না। অতঃপর আল্লাহ তার কাছ থেকে ওয়াদা ও বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি নেবেন যেন আর কিছু না চায়। অতঃপর তিনি তাকে জান্নাতের দরজার নিকটবর্তী করবেন। অতঃপর সে জান্নাতের সুখ-শান্তি প্রত্যক্ষ করে কিছুকাল (যতদিন আল্লাহ চান) চুপ থাকবে। অতঃপর বলবে, হে প্রতিপালক! আমাকে জান্নাত প্রবেশ করান! তখন প্রতিপালক বলবেন, তুমি কি ইতিপূর্বে প্রতিশ্রুতি দাওনি- আর কিছুই চাইবে না? ধিক তোমার হে আদমসন্তান, কত অবিশ্বস্ত তুমি! সে বলবে, হে প্রতিপালক, আমাকে সৃষ্টির অভাগা বানাবেন না। এভাবে সে দোয়া করতে থাকবে। শেষপর্যন্ত প্রতিপালক হাসবেন। আর তিনি কারো জন্য হাসলে তাকে জান্নাতের অনুমতি দিয়ে দেবেন। জান্নাতে প্রবেশ করার পর তাকে বলা হবে, তুমি এসব থেকে কিছু চাও! সে চাইবে। অতঃপর বলা হবে, তুমি ওসব থেকে কিছু প্রার্থনা কর, সে প্রার্থনা করবে। চাইতে চাইতে তার সকল আশা পূরণ হয়ে যাবে। অতঃপর প্রতিপালক তাকে বলবেন, তুমি যা চেয়েছ, তা তোমার, সাথে আরও দশগুণ! আবু হুরায়রা রা. বলেন, এই ব্যক্তিটিই সর্বশেষ জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (বুখারী-৬২০৪) 

জাহান্নামে প্রবেশ করার পর মুক্তি প্রাপ্ত

 নবী করী সা. বলেন, “আল্লাহ বলবেন, যে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলেছে এবং তার অন্তরে গমের দানা পরিমাণ ঈমান আছে, তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত কর! যে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলেছে এবং তার অন্তরে যবের দানা পরিমাণ ঈমান আছে, তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত কর! যে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলেছে এবং তার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ ঈমান আছে, তাকেও জাহান্নাম থেকে মুক্ত কর!” (মুসলিম-৪৯৯) 

জাহান্নামের চিরস্থায়ী বাসিন্দা

 জাহান্নামে যারা অনন্ত অসীমকাল অবস্থান করবে, তারা হলো কাফের ও মুশরেক সম্প্রদায়। আল্লাহ বলেন, “আর যারা কাফের হয়েছে, তাদের জন্যে রয়েছে জাহান্নামের আগুন তাদেরকে মৃত্যুর আদেশও দেওয়া হবে না যে, তারা মরে যাবে এবং তাদের থেকে তার শাস্তিও লাঘব করা হবে না। আমি প্রত্যেক অকৃতজ্ঞকে এভাবেই শাস্তি দিয়ে থাকি।” (সূরা ফাতির-৩৬)

 অন্য আয়াতে বলেন, “আর যে লোক তা অস্বীকার করবে এবং আমার নিদর্শনগুলোকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার প্রয়াস পাবে, তারাই হবে জাহান্নামবাসী; অনন্তকাল সেখানে থাকবে।” (সূরা বাক্বারা-৩৯)। 

ভরসা,

 আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসাই ব্যক্তিকে উত্তম কাজের উৎসাহ দেয়। এবং বিপদে ধৈর্যের প্রেরণা দেয়। 

জান্নাতজাহান্নামবাসীর পরস্পর সম্বোধন 

মুমিনগণ যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে, জান্নাতের সুখ-শান্তি, মধু, পানিয় ও যাবতীয় বিলাসিতায় তারা মগ্ন থাকবে, আল্লাহর দর্শন লাভে ধন্য হবে, অপরদিকে জাহান্নামবাসীও জাহান্নামে প্রবেশ করে সেথায় কঠিন শাস্তি ভোগ করতে থাকে,যাক্কুম আহরণ করবে, সেসময় তাদের পরস্পর কিছু কথাবিনিময় হবে। 

* কী সেই সম্বোধন? 

* উভয় দলের অবস্থা কীরূপ হবে? 

* কীভাবে সেই আহ্বানের সমাপ্তি হবে? 

ভূমিকা

 আল্লাহ তা’লা মুমিনদেরকে জান্নাতের অঢেল সুখ-শান্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সেখানে তারা যা চাইবে, তাই পাবে। তাদের নয়ন প্রীত হবে। আশা পূরণ হবে। তাদের সন্তুষ্ট করতে দুনিয়াতে যারা তাদেরকে ঠাট্টাবিদ্রুপ করত, কষ্ট দিত- আল্লাহ জাহান্নামে তাদের অবস্থা ও আযাব প্রত্যক্ষ করাবেন। 

প্রথম সম্বোধন 

সেটি হবে জান্নাতবাসীর পক্ষ থেকে। কেননা, তারা জান্নাতের সুখ-শান্তি উপভোগ করতে থাকবে। আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্যরূপে পাবে। কারণ, জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য, জান্নাতের সুখ ও জাহান্নামের শাস্তি সত্য।জান্নাতবাসী সেখানে দুনিয়াতে তাদের দোষারোপ ও মিথ্যা প্রতিপন্নকারী ব্যক্তিদের ব্যাপারে পরস্পর জিজ্ঞাসা করবে। যারা নির্বিঘ্নে ও নিশ্চিন্তে দুনিয়ায় জীবনযাপন করত, জান্নাত-জাহান্নামকে অসত্য সাব্যস্ত করত। সৎ ও অসৎ এর মাঝে পার্থক্য নির্ণয়ে অনাগ্রহী ছিল। জাহান্নামবাসীদের প্রতি জান্নাতবাসীর সেই সম্বোধন আল-কুরআনে এভাবে এসেছে, 

و وادئ أحب أن أحب التالي أن قد وجدنا ما وعدنارباحها 

ب اقلوات 

مؤتين بينهم أن لقت 

فهل وجدم اود آل على الليث ( الذين يصدون عن سبيل الله ويتمحوها عوجا وهم 

که الأعراف: 44 – 5 

بارو گورون 

“জান্নাতীরা জাহান্নামীদেরকে ডেকে বলবে, আমাদের সাথে আমাদের প্রতিপালক যে ওয়াদা করেছিলেন, তা আমরা সত্য পেয়েছি! অতএব, তোমরাও কি তোমাদের প্রতিপালকের ওয়াদা সত্য পেয়েছ? তারা বলবে, হ্যাঁ..! অতঃপর একজন ঘোষক উভয়ের মাঝখানে ঘোষণা করবে, আল্লাহর অভিসম্পাত জালেমদের ওপর। যারা আল্লাহর পথে বাধা দিত এবং তাতে বক্রতা অন্বেষণ করত। তারা পরকালের বিষয়েও অবিশ্বাসী ছিল।” (সূরা আ’রাফ ৪৪-৪৫) 

দ্বিতীয় সম্বোধন 

সেটি হবে আরাফবাসীর পক্ষ থেকে জান্নাতীদের প্রতি সম্বোধন। যাদের সৎকর্ম ও অসৎকর্ম বরাবর, তারা জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী আ’রাফে অবস্থান করবে। তারা জান্নাতীদেরকে তাদের চেহারার ঔজ্জ্বল্য ও জ্যোতি দেখে চিনে নেবে। এমনকি কুৎসিত ও বিভৎস চেহারা দেখে জাহান্নামীদেরকেও চিনে ফেলবে। তারা জান্নাতবাসীদের ডেকে সালাম বলবে। আল্লাহ বলেন, 

بيمه ونادوا 

وبينهما حجاب وعلى الأعراف رجال يعرف أحب الجنة أن ك عليك لميدوها وهو يطمعون یه 

“উভয়ের মাঝখানে একটি প্রাচীর থাকবে এবং আ’রাফের উপরে অনেক লোক থাকবে। তারা প্রত্যেককে তার চিহ্ন দেখে চিনে নেবে। তারা জান্নাতীদেরকে ডেকে বলবে, তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। তারা তখনও জান্নাতে প্রবেশ করবে না, কিন্তু প্রবেশ করার ব্যাপারে আগ্রহী হবে।” (সূরা আ’রাফ-৪৬) 

তৃতীয় সম্বোধন

 সেটি হবে আরাফবাসীর পক্ষ থেকে জাহান্নামীদের প্রতি। তারা যখন জাহান্নামের কঠিন শাস্তি ও জাহান্নামীদের দগ্ধ দেহগুলো প্রত্যক্ষ করবে, শাস্তির কঠিন দৃশ্য ও তাদের রক্ত ও দুর্গন্ধযুক্ত। পুঁজ ভক্ষণ অবলোকন করবে, তখন প্রতিপালকের কাছে ফরিয়াদ করে বলতে থাকবে, হে আল্লাহ! আমাদেরকে এ সকল জালিমদের অন্তর্ভুক্ত করবেন না।

অতঃপর তারা জাহান্নামীদের প্রতি তিরস্কারের সুরে বলতে থাকবে, দুনিয়ায় অনিষ্টের পক্ষে তোমাদের অবস্থান তো আজ তোমাদের কোনোই উপকার করতে পারেনি। তোমাদের ধন সম্পদ ও প্রভাব-প্রতিপত্তি সবই নির্বিকার হয়েছে। তোমরা তো আজ সম্মিলিত আযাবে নিপতিত। আল-কুরআনের ভাষায়, 

با وإدارقت أ هتر تلقاء أكبر الارقالو ا لاعلا مع القوم 

أما أغنى 

افي رجايع نهر بيمه 

الليمين ( ونادي أحিদেعن معلومات تتكبرون ( هؤلاء الذين 

أميتاله اله برمة ذو الجنة لاخوف عليكوولا أنتونيه الأعراف: 

 “যখন তাদের দৃষ্টি জাহান্নামীদের ওপর পড়বে, তখন বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এ জালেমদের সাথী করবেন। না! আ’রাফবাসীরা যাদেরকে তাদের চিহ্ন দ্বারা চিনবে, তাদেরকে ডেকে বলবে, তোমাদের দলবদল ও ঔদ্ধত্য তোমাদের কোনো কাজে আসেনি। এরা কি তারাই; যাদের সম্পর্কে তোমরা কসম খেয়ে বলতে যে, আল্লাহ এদের প্রতি অনুগ্রহ করবেন না। প্রবেশ কর জান্নাতে। তোমাদের কোনো আশঙ্কা নেই এবং তোমরা দুঃখিত হবে না।” (সূরা আ’রাফ ৪৭ ৪৯) 

চতুর্থ সম্বোধন

 সেটা হবে নিদারণ লজ্জাজনক সম্বোধন। সেটা আযাবে নিপতিত অবস্থায় জাহান্নামীদের আর্তনাদ। যখন ফুটন্ত পানি তাদের দেহে ঢালা হবে, যাকুমের সেই কণ্টক ফল ভক্ষণ করে যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকবে, চিৎকার করে কাঁদতে থাকবে। 

সেসময় তারা জান্নাতবাসীদের ডেকে তাদের কাছে নির্মল পানি ও উৎকৃষ্ট খাদ্য কামনা করবে। জান্নাতীগণ প্রতিউত্তরে বলবে, তোমরা বরং আগুনেই দগ্ধ হতে থাক! তোমরাই তো সীমালঙ্ঘন করেছ, জীবনের মূল্যবান মুহূর্তগুলো নষ্ট করেছ, হেলায়-ফেলায় সময় অতিবাহিত করেছ, পরকালকে মিথ্যারোপ করেছ! সুতরাং তোমরাই চির ক্ষতিগ্রস্ত। আল-কুরআনের ভাষায় 

و وادئ أحب التارأب ألجة أن أفيضوا علينا من الماء أو ما 

الذين أخوة 

ق ال قالوا إن اله مهما على الكفرين 

مانتو 

اهر 

الكيو النياق يوم 

ويتولوا ليبا و لقاء يومه ها وا او يايا يجدون @ که 

 “জাহান্নামীরা জান্নাতীদেরকে ডেকে বলবে, আমাদের ওপর সামান্য পানি নিক্ষেপ কর অথবা আল্লাহ তোমাদেরকে যে রুযী দিয়েছেন, তা থেকেই কিছু দাও। তারা বলবে, আল্লাহ এই উভয় বস্তু কাফেরদের জন্যে নিষিদ্ধ করেছেন, তারা স্বীয় ধর্মকে তামাশা ও খেলা বানিয়ে নিয়েছিল এবং পার্থিব জীবন তাদেরকে ধোকায় ফেলে রেখেছিল। অতএব, আমি আজকে তাদেরকে ভুলে যাব; যেমন তারা এ দিনের সাক্ষাতকে ভুলে গিয়েছিল এবং যেমন তারা আয়াতসমূহকে অবিশ্বাস করত।” (সূরা আ’রাফ ৫০-৫১)

 আল্লাহ আমাদেরকে সকল ফেতনা ও ভ্রষ্টতা থেকে রক্ষা করে দয়া ও ক্ষমার চাদরে আবৃত করে নিন..! আমীন..! 

জাহান্নামীদের বাসনা,

 “আমাদের ওপর সামান্য পানি নিক্ষেপ কর অথবা আল্লাহ তোমাদেরকে যে রুযী দিয়েছেন, তা থেকেই কিছু দাও।” 

ইবলিসের পরিণাম 

ইবলিস (শয়তান) হলো সকল অনিষ্টের মূল, সকল আশা-ভরসা ব্যর্থকারী, সকর্মীদের চিরশত্রু, অপরাধীদের সহযোগী। যে তাকে অনুসরণ করবে, সে ধ্বংস। যে তার বিরুদ্ধাচারণ করবে, সে চিরসফল। 

* কে এই শয়তান?

 * কী তার কাহিনী?

 * কেয়ামতের দিন কী হবে শয়তানের ভাষণ?

 * সে তার অনুসারীদের কী বলবে? 

ভূমিকা

 কুরআনুল কারীমে শয়তানের নাম ৮৮ বার বর্ণিত হয়েছে। উদ্দেশ্য, তার প্রতারণা ও শত্রুতা সম্পর্কে সতর্ক করা। তার কুপরিকল্পণা ও পদক্ষেপসমূহ সম্পর্কে সচেতন করা। 

কেয়ামতের দিন শয়তানের পরিণতি হবে সর্বভয়াবহ। আল্লাহ তা’লা আমাদেরকে শয়তানের চক্রান্ত বর্ণনা করে তার প্রতি শত্রুতা পোষণের আদেশ করে বলেছেন, 

“নিশ্চয় শয়তান তোমাদের শত্রু; অতএব তাকে শত্রু রূপেই গ্রহণ কর।” (সূরা ফাতির-৬)

 এমনকি নবীগণ পর্যন্ত স্বীয় সন্তান ও বংশধরকে শয়তান সম্পর্কে সতর্ক করে গেছেন। ইয়াকুব আ, তার সন্তান ইউসুফ 

আ. কে লক্ষ্য করে বলছিলেন, 

وإن الطن للإني عده يوسف:5 

“নিশ্চয় শয়তান মানুষের শত্রু” (সূরা ইউসুফ-৫)। 

কাহিনীর সূত্রপাত

 শয়তান জ্বিনজাতির অন্তর্গত। পৃথিবীতে মানুষের পূর্বে জ্বিনদের বসবাস ছিল। তারা বিশ্বময় অরাজকতা আর খুনাখুনি ছড়িয়ে ছিল। অতঃপর আল্লাহ তা’লা ফেরেশতাদের বাহিনী প্রেরণ করে তাদেরকে সমুদ্রের বিভিন্ন দ্বিপদেশে বিতাড়িত করে দিয়েছিলেন। তখন ফেরেশতাগণ ইবলিসকে বন্দি করে নিয়েছিল। পরবর্তীতে নিজেকে সে অতি-সংশোধিত প্রকাশ করলে ফেরেশতাগণের সঙ্গী হয়ে সে এবাদত করত। অতঃপর আল্লাহ যখন আদমকে সৃষ্টি করে সকল ফেরেশতাকে তাকে সেজদার আদেশ করেছিলেন, তখন তাদের মাঝে বিদ্যমান। ইবলিস তাকে সেজদা না করে বরং অহংকার প্রকাশ করে বলেছিল, 

“আমি কি এমন ব্যক্তিকে সেজদা করব, যাকে আপনি মাটির দ্বারা সৃষ্টি করেছেন?” (সূরা ইসরা-৬১)

 ফলে আল্লাহ তা’লা তাকে অভিশাপ করে স্বীয় রহমত থেকে বিতাড়িত করেছিলেন। পরবর্তীতে স্বীয় অহংকারে অনুতপ্ত না হয়ে ও প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা না চেয়ে বরং আদম ও তার সন্তানদের প্রতি সে চরম প্রতিহিংসা ও বিদ্বেষ পোষণ করল। কেয়ামত পর্যন্ত আগত সকল আদমসন্তানকে পথভ্রষ্ট করে তাদেরকে জাহান্নামে নিয়ে যেতে মনস্থ করল। বিস্তারিত বিবরণ আল্লাহ কুরআনে এভাবে বর্ণনা করেছেন,  “আর আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, এরপর আকার-অবয়ব, তৈরী করেছি। অতঃপর আমি ফেরেশতাদেরকে বলেছি, আদমকে সেজদা কর। তখন সবাই সেজদা করেছে, কিন্তু ইবলীস; সে সেজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। আল্লাহ বললেন, আমি যখন নির্দেশ দিয়েছি, তখন তোকে কীসে সেজদা করতে বারণ করল? সে বলল, আমি তার চাইতে শ্রেষ্ঠ। আপনি আমাকে আগুন দ্বারা সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে সৃষ্টি করেছেন। মাটির দ্বারা। বললেন, তুই এখান থেকে যা। এখানে অহংকার করার কোনো অধিকার তোর নেই। অতএব তুই বের হয়ে যা। তুই হীনতমদের অন্তর্ভুক্ত। সে বলল, আমাকে কেয়ামত দিবস পর্যন্ত অবকাশ দিন। আল্লাহ বললেন, তোকে সময় দেওয়া হলো। সে বলল, আপনি আমাকে যেমন উদভ্রান্ত করেছেন, আমিও অবশ্য তাদের জন্যে আপনার সরল পথে বসে থাকব। এরপর তাদের কাছে আসব তাদের সামনের দিক থেকে, পেছন দিক থেকে, ডান দিক থেকে এবং বাম দিক থেকে। আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না। আল্লাহ বললেন, বের হয়ে যা এখান থেকে লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়ে। তাদের যে | কেউ তোর পথে চলবে, নিশ্চয় আমি তোদের সবার দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করে দিব।” (সূরা আ’রাফ ১১-১৮)

 অতঃপর সেই ইবলিস আদম ও তার স্ত্রীকে প্ররোচনা দিয়ে জান্নাত থেকে বের করেছিল। এভাবে আদমসন্তানকেও সে জান্নাত থেকে বের করে অদ্যাবধি পথভ্রষ্ট ও প্ররোচিত করছে। 

শয়তানের প্রতি আমাদের শত্রুতা পোষণ

 এ কারণেই আল্লাহ তা’লা আমাদেরকে তার প্রতি চরম শত্রুতা পোষণের আদেশ করেছেন। তার অনুগত হওয়া থেকে বারণ করেছেন। আল্লাহ বলেন, 

و إ ليطن لك عدو واه فاطر:6 

“শয়তান তোমাদের শত্রু; অতএব তাকে শত্রু রূপেই গ্রহণ কর।” (সূরা ফাতির-৬)

 অন্য আয়াতে, 

“হে বনী আদম, আমি কি তোমাদেরকে বলে রাখিনি যে, শয়তানের এবাদত করো না, সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু?” (সূরা ইয়াছিন-৬০)। 

শয়তান সৃষ্টিতে প্রজ্ঞা

 কল্যাণ ও অকল্যাণ সবই আল্লাহর সৃষ্টি। এতদুভয় সৃজন করে তিনি মানুষের সামনে দু’টি পথ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, 

“শপথ প্রাণের এবং যিনি তা সুবিন্যস্ত করেছেন, তাঁর। অতঃপর তাকে তার অসৎকর্ম ও সৎকর্মের জ্ঞান দান করেছেন। যে নিজেকে শুদ্ধ করে, সেই সফলকাম হয় এবং যে নিজেকে কলুষিত করে, সে ব্যর্থ মনোরথ হয়।” (সূরা শামস ৭-১০) 

অন্য আয়াতে বলেন, 

 “তখন যে ব্যক্তি সীমালংঘন করেছে; এবং পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দিয়েছে, তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সামনে দন্ডায়মান হওয়াকে ভয় করেছে। এবং খেয়াল-খুশী থেকে নিজেকে নিবৃত্ত রেখেছে, তার ঠিকানা হবে জান্নাত।” (সূরা নাযিআত ৩৭-৪১)

 ইবলিস মানুষকে চ্যালেঞ্জ করে তাদেরকে পথভ্রষ্ট করার 

অঙ্গীকার করেছে। 

تمت علي بن أځتن إلى يؤير لقيمة 

وقال أيت هذا الذي 

إلا قليلا و الإسراء: 62 

الأختي 

“সে বলল, দেখুন তো, এ না সেই ব্যক্তি, যাকে আপনি আমার চাইতেও উচ্চ মর্যাদা দিয়ে দিয়েছেন। যদি আপনি আমাকে কেয়ামত দিবস পর্যন্ত সময় দেন, তবে আমি সামান্য সংখ্যক ছাড়া তার বংশধরদেরকে সমূলে নষ্ট করে দেব।” (সূরা ইসরা 

– 

– 

যেন সে বলছে, যে মানুষকে আপনি সম্মান দিয়েছেন ও তাকে সেজদা করতে বলছেন, অচিরেই তারা দুনিয়াতে গিয়ে বিশৃঙ্খলা করবে, খুনাখুনি-হানাহানি করবে। আমাকে সুযোগ দিন! আমিই তাদেরকে অনুপ্রেরণা দেব ও প্ররোচিত করব! সে মুহূর্তে সঙ্গে সঙ্গে তার চ্যালেঞ্জ প্রত্যাখ্যান করে আল্লাহ তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করতে পারতেন। কিন্তু তিনি প্রজ্ঞা অবলম্বন করে মানুষের ঈমানের পরীক্ষা করতে তাকে কেয়ামত পর্যন্তের জন্য অবকাশ দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, 

يعكر الفقير ويأمركم بالفحشاء والله يوم وفضلا والله واسع عليه ) البقرة: ۲۱۸ 

هو الشي مغفرة 

“শয়তান তোমাদেরকে অভাব-অনটনের ভীতি প্রদর্শন করে এবং অশ্লীলতার আদেশ দেয়। পক্ষান্তরে আল্লাহ তোমাদেরকে নিজের পক্ষ থেকে ক্ষমা ও অধিক অনুগ্রহের ওয়াদা করেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সুবিজ্ঞ।” (সূরা বাকারা-২৬৮) 

বান্দাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ 

শয়তান মানুষকে ধীরে ধীরে পথভ্রষ্টতার দিকে নিয়ে যায়। ছোট গুনাহ থেকে বড় গুনাহের দিকে নিয়ে যায়। এভাবে পর্যায়ক্রমে তাকে শিরিক পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। কারণ, শিরিক হলো জাহান্নাম অবধারিত হওয়ার প্রধান উপকরণ। আল্লাহ বলেন, “কোন রাসুল না পাঠানো পর্যন্ত আমি কাউকেই শাস্তি দান করি 

” (সূরা ইসরা-১৭)। 

শয়তানের পদক্ষেপ

 শয়তান ধীর পদক্ষেপে মানুষকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়। ছোট অপরাধ থেকে বড় অপরাধের দিকে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে সে শিরক এ লিপ্ত হয়ে যায়, যার পরিণতি চিরস্থায়ী জাহান্নাম। আল্লাহ বলেন, “এবং শয়তানের পদাংক অনুসরণ করো না।নিশ্চিতরুপে সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।” (সূরা বাক্বারা-২০৮) 

অন্য আয়াতে বলেন, 

طوي 

و يأيها الذين آمنوا لاتواځطوير آليط ومن ي 

النور: ۲۱ 

الشيطان فإنه يأمر باقتناء 

“হে ঈমানদারগণ, তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। যে কেউ শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে, তখন তো শয়তান নির্লজ্জতা ও মন্দ কাজেরই আদেশ করবে।” (সূরা নূর-২১)।

 এর চেয়ে সুস্পষ্ট কথা আর কী হতে পারে?!! 

ইবলিসের সিংহাসন

 নবী করীম সা, সংবাদ দিয়েছেন যে, ইবলিসের আরশ সমুদ্রে। সেখান থেকেই মানুষকে পথভ্রষ্ট ও দিকভ্রান্ত করতে সে তার দলবল ও বাহিনী পাঠায়। সে তার সহযোগীদের নেতৃত্ব দেয়। সফলদের পুরস্কৃত করে।  শয়তানের কাছে তার এক সহযোগী এসে বলে, আজ আমি এমন এমন করেছি, সে বলে, তুমি কিছুই করনি! অপরজন এসে বলে, আমি এরকম এরকম করেছি! সে বলে, তুমি কিছুই করতে পারনি! অন্যজন বলে, আজ আমি অমুক ও তার স্ত্রীর মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করে এসেছি। শয়তান তাকে কাছে ডেকে নিয়ে বলে, তুমিই পেরেছ!” (মুসলিম) 

সুতরাং জেনে রাখা উচিত, মানুষের মাঝে সৃষ্ট সকল প্রকার ঝগড়া-বিবাদ ও গোস্বা-কলহের মূল ইন্ধনদাতা শয়তান। সুতরাং সবসময় তার অনিষ্ট হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা ও তার চক্রান্ত সম্পর্কে সজাগ দৃষ্টি রাখা উচিত। 

শয়তানের দল

 শয়তানের অনুসারী ও তার দলবলের পরিণতি হলো জাহান্নাম। শয়তান সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, 

و إ المميط كوع اوه مما إما يدعوأحبه وليكو و من 

أحب السعيره فاطر: 6 

“শয়তান তোমাদের শত্রু; অতএব তাকে শত্রুরূপেই গ্রহণ কর। সে তার দলবলকে আহবান করে যেন তারা জাহান্নামী হয়।” (সূরা ফাতির-৬) 

অন্যত্র বলেন, 

و أوليك زي آليط ألا إن حزب الشيطن و الخبيرون نه المجادلة: ۱۹| 

“তারা শয়তানের দল, সাবধান, শয়তানের দলই ক্ষতিগ্রস্ত।” (সূরা মুজাদালা-১৯) 

প্রশ্ন,

 ইবলিস তো আগুনের তৈরি, তবে আগুনের মাধ্যমে 

কীরূপে তাকে শাস্তি প্রদান করা হবে?

 উত্তরঃ শয়তানের মূল সৃষ্টি হলো আগুন। কিন্তু এখন সে আগুন নয়। কেননা, মানুষ মাটির তৈরি, কিন্তু মাটির মাধ্যমেও মানুষকে শাস্তি দেওয়া যায়। কোনো মানুষ মাটিচাপা পড়লে অবশ্যই যন্ত্রণাবশতঃ শ্বাসরুদ্ধ হয়ে সে মৃত্যুবরণ করবে। তেমনি মাটি দিয়ে আঘাত করলে সে ব্যথা পাবে। এমনকি শক্ত মাটি দিয়ে আঘাত করলে তার মৃত্যুও হতে পারে। তেমনি শয়তানের মূল সৃষ্টি আগুন থেকে এবং কেয়ামতের দিন জাহান্নামের এই আগুন দ্বারাই তাকে শাস্তি দেওয়া হবে। তবে 

বর্তমানে সে আগুন নয়; বরং তার স্বয়ংসম্পূর্ণ দেহ রয়েছে। রয়েছে তার মুখ।

নবী করীম সা. একদা নামাযে ছিলেন। হঠাৎ তাঁকে বিরক্ত করতে শয়তান এলো, নবী করীম সা. তাকে দেখে বললেন, আল্লাহর কাছেই আমি তোর অনিষ্টতা হতে আশ্রয় চাই! অতঃপর বললেন, আমি তোকে আল্লাহর অভিশাপ দিচ্ছি (তিনবার)। একথা বলে তিনি হাত প্রসারিত করলেন, (মনে হচ্ছিল কী যেন ধরছেন)। নামায শেষে সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল, নামাযে আপনি কী যেন বলছিলেন, আপনাকে তো নামাযে কখনো এরকম বলতে শুনিনি! আবার হাতও প্রসারিত করছিলেন!? তিনি বললেন, আল্লাহর দুশমন ইবলিস আমার মুখ। দগ্ধ করতে আগুনের মশাল নিয়ে এসেছিল। তাকে দেখে আমি বললাম, তোর অনিষ্টতা হতে আমি আল্লাহর আশ্রয় চাই! তোর। অনিষ্টতা হতে আমি আল্লাহর আশ্রয় চাই! তোর অনিষ্টতা হতে আমি আল্লাহর আশ্রয় চাই! অতঃপর বললাম, আমি তোকে আল্লাহর অভিশাপ দিচ্ছি! আমি তোকে আল্লাহর অভিশাপ দিচ্ছি! অতঃপর সে অবিলম্ব পালাতে চাইলে নবীজী তাকে স্বহস্তে পাকড়াও করে তার গলাটিপে ধরলেন। নবীজী বলেন, এমনকি আমি আমার হাতে তার জিহ্বার শীতলতা অনুভব করলাম। যদি আমার ভাই সুলায়মানের দোয়া না থাকত, তবে অবশ্যই সে আজ গ্রেফতার হতো এবং মানুষ তাকে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পেত।” (মুসলিম-১২৩৯)

 বুঝা গেল, জ্বিন-শয়তান এখন আগুন নয়, যদি আগুন হতো তবে নবীজী তার জিহবার শীতলতা অনুভব করতেন না এবং মানুষকে দেখানোর উদ্দেশ্যে তাকে আবদ্ধ করার কথা বলতেন না।

 অন্যত্র নবীজী বলেন, “নিশ্চয় শয়তান মানুষের রগ-রেশায় চলাফেরা করে।” (বুখারী-১৯৩৩) 

যদি শয়তান আগুনই হতো, তবে মানুষ তো সে আগুনের পুড়ে ভষ্ম হয়ে যেত। 

শয়তানের ভাষণ

 যখন দুনিয়ার সমাপ্তি ঘটবে, কেয়ামত সংঘটিত হয়ে যাবে, মিযান স্থাপন করা হবে, আমলনামা বিতরণ করা হবে, মহান পালনকর্তা সৃষ্টির বিচারকার্য সম্পাদনের উদ্দেশ্যে অবতরণ করবেন, সকল সৃষ্টিকে তার যথাযথ প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়া হবে, জান্নাতবাসী জান্নাতে এবং জাহান্নামবাসী জাহান্নামে যাওয়ার চূড়ান্ত ফায়সালা হবে, ঠিক তখন শয়তান দাঁড়িয়ে ছোট্ট একটি ভাষণ দেবে, এ ভাষণের পর জাহান্নামবাসীর আর কিছু বলার থাকবে না। কী বলবে শয়তান সে ভাষণে? সে ভাষণটিই আল্লাহ তা’লা কুরআনুল কারীমে এভাবে বর্ণনা করেছেন, 

وعد الحق 

لما قضى الأمر إ آله وعد 

وقال الي 

وما كان لي عليمرین شطن 

وعدم ألف إلا أن دور فاستجبلى فلا تلوموني ولوموا أنفكرا أنا 

كفر بما 

إلى 

ه وما أنتم بمصرخ 

مخ أشروني من قبل إثر الطليين لهم عذاب أليري که إبراهيم: 22 

“যখন সব কাজের ফায়সালা হয়ে যাবে, তখন শয়তান বলবে, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে সত্য ওয়াদা দিয়েছিলেন এবং আমি তোমাদের সাথে ওয়াদা করেছি, অতঃপর তা ভঙ্গ করেছি। তোমাদের ওপর তো আমার কোনো ক্ষমতা ছিল না, কিন্তু এতটুকু যে, আমি তোমাদেরকে ডেকেছি, আর তোমরা আমার কথা মেনে নিয়েছ। অতএব, তোমরা আমাকে ভৎর্সনা করো না; বরং নিজেদেরকেই ভৎর্সনা কর। আমি তোমাদের উদ্ধারে সাহায্যকারী নই। এবং তোমরাও আমার উদ্ধারে সাহায্যকারী নও। ইতিপূর্বে তোমরা আমাকে যে আল্লাহর শরীক করেছিলে, আমি তা অস্বীকার করি। নিশ্চয় যারা জালেম তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” (সূর ইবরাহীম-২২)

 হ্যাঁ..! সে তার অনুসারীদের বলবে, “আমাকে ভৎর্সনা করো!’ কী আশ্চর্য! তবে কাকে ভৎর্সনা করবে? কে তাদেরকে অশ্লীল কাজের দিকে আহ্বান করেছে? কে তাদেরকে রক্তপাতে উস্কিয়ে দিয়েছে? কে তাদের জন্য হারামকাজ সৌন্দর্যমণ্ডিত করে উপস্থাপন করেছে? কে তাদেরকে অসৎকর্মে উৎসাহ দিয়েছে? উত্তর আসবে, বরং নিজেদেরকেই তোমরা ভৎর্সনা কর!’ 

অতঃপর শয়তান তাদেরকে 

সেই ঘোষণা শুনিয়ে দেবে, যা শুনে তাদের পরিতাপ আরো বৃদ্ধি পাবে। সে নিজেকে আল্লাহর অংশীদার সাব্যস্ত করা থেকে মুক্ত ঘোষণা করে বলবে, “ইতিপূর্বে তোমরা আমাকে যে আল্লাহর শরীক করেছিলে, আমি তা অস্বীকার করি।” “আমার অনুসরণ বিন্দুমাত্র তোমাদের উপকারে আসবে না” কেবল তোমাদের সকর্ম ছাড়া। সর্বশেষ কথা হবে তার “নিশ্চয় যারা জালেম তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” 

এভাবেই তার ভাষণ সমাপ্ত হবে। এই হলো কাফের সরদারের পরিণতি। এই হলো অপরাধীদের গডফাদারের সমাপ্তি।

বিশ্বসঘাতকতা, 

ইবলিসের পক্ষ থেকে তার অনুসারীদের জন্য কোনোই প্রতিশ্রুতি নেই; সে তো কেবল তাদের অভিশাপ করবে এবং তাদের থেকে নিজেকে মুক্ত ঘোষণা করবে। 

জান্নাত 

জান্নাত হলো প্রতিযোগিদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। মুমিনদের একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। সকল প্রেমিকের প্রেমসূত্র। সকল উপাসনাকারীদের একমাত্র বাসনা। কতজন তাকে পেতে যন্ত্রণার শাস্তি ভোগ করেছে। কত বিপদসঙ্কুল পথ পাড়ি দিয়েছে। তা হলো শহীদ ও সঙ্কর্মশীলদের ঠিকানা। উজ্জ্বল জ্যোতির্ময় এক। পরিবেশ। সুগন্ধিতে ভরা চারপাশ। ফুলে-ফলে সুশোভিত চারিদিক। নিষ্ঠাবান আবিদগণ তাতে বিলাসপূর্ণ জীবনযাপন করবে। সেখানে পানাহার করবে, মল-মূত্র ত্যাগ করবে না। শুধুই হাসবে, কখনো কাঁদবে না। চিরকাল অবস্থান করবে, ছেড়ে যাবে না। অনন্ত অসীমকাল সেখানে জীবিত থাকবে, কখনো মৃত্যুবরণ করবে না। সেখানে তাদের চেহারা হবে আলোকিত হাস্যোজ্জ্বল। 

* তবে কী সেই জান্নাত? 

* কী তার বৈশিষ্ট্য? 

* জান্নাতবাসী কারা?

 * সেখানে যাওয়ার উপায়? 

জান্নাতের নামসমূহ

 জান্নাতের উৎসাহপ্রদান

 জান্নাতের পথসমূহ

 সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশকারী

 সর্বশেষ জান্নাতে প্রবেশকারী 

জান্নাতে পুরুষদের নেতাবর্গ

 জান্নাতে নারীদের নেত্রীবর্গ 

জান্নাতীদের জান্নাতে প্রবেশের বিবরণ

 জান্নাতের স্তরসমূহ

 জান্নাতের রক্ষীবৃন্দ

 জান্নাতের ভূমি ও বাড়ীসমূহ

জান্নাতে বাড়ীর কক্ষসমূহ

 জান্নাতের সুবাস 

জান্নাতের বৃক্ষ ও তার ফল

 জান্নাতীদের খাদ্য 

জান্নাতীদের পানিয়।

 জান্নাতের নদীসমূহ।

 জান্নাতের পানপাত্র জান্নাতীদের পোশাক ও শোভা 

জান্নাতে মুমিনদের ছোট শিশুরা

 জান্নাতের সংখ্যাগরিষ্ঠ অধিবাসী

জান্নাতে মুসলিম সম্প্রদায়ের অবস্থান

 জান্নাতীদের সেবক।

 জান্নাতে নারী সম্প্রদায়।

 দুনিয়া ও আখেরাতের স্ত্রী

 জান্নাতের মার্কেট

 আমার তো এক বন্ধু ছিল

 পালনকর্তার দর্শনলাভ

 জান্নাতীদের বাসনা

 মৃত্যুকে জবাই 

জান্নাতের নামসমূহ 

(১) “দারুস সালাম” (শান্তির জগত) অর্থাৎ যেখানে বিপদ। বলতে কিছু নেই।

 (২) “দারুল খুলদ” (চিরস্থায়ী জগত) অর্থাৎ যেখানে কোনো। মৃত্যু নেই, বৃদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা নেই।। 

(৩) “দারুল মুক্কামা” (স্থায়ী বসবাসের জগত)। অর্থাৎ যেখান থেকে স্থানপরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। 

(৪) “জান্নাতুল মাওয়া” (আশ্রয়ের জান্নাত)। অর্থাৎ কবর, হাশর, বিচার.. ইত্যাদি শেষে জান্নাতই মুমিনদের আশ্রয়স্থল।

 জান্নাতের অন্যান্য নামগুলো হলো, 

(৫) “জান্নাতু আদন” (মনোরম বসবাসের জান্নাত)।

 (৬) “দারুল হায়াওয়ান” (চিরবসবাসের জগত)।

 (৭) “জান্নাতুল ফেরদাউস” (ফুলে-ফলে সুশোভিত মনোমুগ্ধকর বাগিচা)।।

 (৮) “জান্নাতুন্নাঈম” (অনুগ্রহভরা জান্নাত)।

 (৯) “আল-মাক্কামুল আমীন” (নিরাপদ স্থান) 

(১০) “মাক্কআদু সিদক” (যোগ্য আসন) । আল্লাহ বলেন, 

“খোদাভীরুগণ থাকবে জান্নাতে ও নিঝরিণীতে। যোগ্য আসনে, সর্বাধিপতি সম্রাটের সান্নিধ্যে।” (সূরা ক্বামার ৫৪-৫৫)।

নবী করীম সা. বলেন, “আল্লাহ বলেন, আমি আমার বান্দাদের জন্য এমন সব ভোগবিলাস প্রস্তুত রেখেছি যা কোনো চক্ষু কোনোদিন প্রত্যক্ষ করেনি, কোনো কর্ণ সে সম্পর্কে শুনেনি এবং কোনো হৃদয়ে তার কল্পণা উদয় হয়নি। আল্লাহর কালামে সে ইঙ্গিতই রয়েছে- “কেউ জানে না তার জন্যে কৃতকর্মের কী কী নয়ন-প্রীতিকর প্রতিদান লুকায়িত আছে।” (সূরা সাজদা-১৭) 

* জান্নাতের কী সেই নামসমূহ? 

* সর্বপ্রথম কোন দল জান্নাতে প্রবেশ করবে? কী তাদের বৈশিষ্ট্য?

* সর্বশেষ কারা জান্নাতে প্রবেশ করবে?

 * জান্নাতে সর্বনিম্নস্তরপ্রাপ্ত কে? আর সর্বোচ্চস্তরপ্রাপ্ত কে? 

* জান্নাতের মার্কেট কী?

 * পালনকর্তার কাছে জান্নাতীদের শুভাগমন এবং সেখানে তাদের চিরস্থায়ী নিবাস… 

ভূমিকা

 যে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে, সে দুনিয়া ও তাতে দেখা সকল নেয়ামত ও ভোগ-বিলাসের কথা ভুলে যাবে। 

 নবী করীম সা. বলেন, “দুনিয়াতে সর্বোন্নত জীবনযাপনকারী জাহান্নামীকে নিয়ে আসা হবে, তাকে জাহান্নামে একটু ঘুরিয়ে নিয়ে এসে বলা হবে, হে আদমসন্তান, তুমি কি কখনো কল্যাণ দেখেছ? কখনো সুখ-শান্তি উপভোগ করেছ? সে বলবে, আল্লাহর শপথ, না হে প্রতিপালক। পক্ষান্তরে দুনিয়াতে সর্বনিম্নমানের জীবনযাপনকারী জান্নাতীকে জান্নাতের পাশে একটু ঘুরিয়ে নিয়ে এসে বলা হবে, হে আদমসন্তান! তুমি কি কখনো অভাব-অনটন দেখেছ? দুর্বিসহ জীবনযাপন প্রত্যক্ষ করেছ? সে বলবে, আল্লাহর শপথ, না হে প্রতিপালক, অভাব কাকে বলে কখনো। আমি দেখিনি! কোনোসময় দুর্বিসহ জীবনের সম্মুখীন হইনি!” (মুসলিম-৭২৬৬)।

 সাহাবীগণ জান্নাতের জন্য উদগ্রীব ছিলেন। সর্বদা জান্নাতের চিন্তায় ব্যস্ত থাকতেন। একদা জনৈক নবীজীকে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল, জান্নাতে কি ঘোড়া থাকবে? নবীজী বললেন, 

 তোমাকে যদি আল্লাহ জান্নাতে প্রবেশ করান, তবে জান্নাতে লালবর্ণের মোতিখচিত দ্রুতগামী বাহন তোমাকে যেথা ইচ্ছা নিয়ে যাবে। 

তা পাওয়ার পর আর সে অশ্ব কামনা করবে না। অপর ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল, জান্নাতে কি উট থাকবে? নবীজী তখন প্রথমজনের মতো উত্তর না দিয়ে বললেন, 

আল্লাহ তা’লা যদি তোমাকে জান্নাতে প্রবিষ্ট করান, তবে সেখানে মনোচাহিদাপূরক এবং নয়ন-প্রীতিকর সবকিছুই তুমি পাবে।” (তিরমিযী-২৫৪৩) 

অন্য একদিন জনৈক বেদুইন এসে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল, আমি অশ্ব পছন্দ করি, জান্নাতে কি অশ্ব থাকবে? নবীজী উত্তরে বললেন,

তোমাকে যদি জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়, তবে সেখানে তোমার জন্য মোতিখচিত দু’ডানা বিশিষ্ট অশ্ব থাকবে, যেখানেই তোমার যেতে ইচ্ছে হয়, সেখানেই সে তোমাকে বহন করে উড়ে যাবে।” (তিরমিযী-২৫৪৪) 

দোয়া,

হে আল্লাহ! আমরা আপনার কাছে জান্নাত চাই জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাই! 

জান্নাতের উৎসাহপ্রদান 

মানুষের মন যখনই কোনো কিছুর প্রতি আকৃষ্ট হয়, তখন সে তা অর্জনে সচেষ্ট হয়। আল্লাহ তা’লা জান্নাতের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন। মানুষের জন্য তা সুসজ্জিত করেছেন। জান্নাতের দিকে মানুষকে আহবান করেছেন। তার প্রতি মানুষকে উৎসাহ প্রদান করেছে্ন।একদা নবী করীম সা. সাথীদের উদ্দেশ্যে বলছিলেন, “আছে কি জান্নাতের জন্য প্রস্তুত কেউ? নিশ্চয় জান্নাত এমন জগত, যার কল্পণা কারো হৃদয়ে উদয় হয়নি! কা’বার প্রতিপালকের শপথ, নিশ্চয় তা আলোকজ্জ্বল চমকপ্রদ জগত, সুগন্ধিময় পরিবেশ, সুশোভিত প্রাসাদসমগ্র, বহমান নদীকুল, অসংখ্য পাকা ফলমূল, আবেদনময়ী সুন্দরী স্ত্রীবর্গ, মূল্যবান অলংকারসমগ্র, সুখ-শান্তি ও বিলাসিতায় ভরপুর চিরস্থায়ী উন্নত ও নিরাপদ আবাস। সকলেই বলল, আমরা প্রস্তুত আছি হে আল্লাহর রাসূল! বললেন, বল ‘ইনশাআল্লাহ’ (আল্লাহ চাহেন তো) অতঃপর জিহাদের বিবরণ দিয়ে তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করলেন। (ইবনে হিব্বান-৭৩৮) 

নবী করীম সা. বলেন, “আল্লাহ বলেন, আমি আমার বান্দাদের জন্য এমন সব ভোগবিলাস প্রস্তুত রেখেছি যা কোনো চক্ষু কোনোদিন প্রত্যক্ষ করেনি, কোনো কর্ণ সে সম্পর্কে শুনেনি এবং কোনো হৃদয়ে তার কল্পণা উদয় হয়নি। আল্লাহর কালামে সে দিকেই ইঙ্গিত রয়েছে- “কেউ জানে না তার জন্যে। কৃতকর্মের কী কী নয়ন-প্রীতিকর প্রতিদান লুকায়িত আছে।” (সূরা সাজদা-১৭) (বুখারী-৩০৭২)। 

যাদের পার্শ্ব শয্যা থেকে পৃথক

 আল্লাহ বর্ণনা করেছেন যে, জান্নাতীগণ জান্নাত পাওয়ার জন্য আমল করবে, পরিশ্রম করবে।

সাহল বিন সা’দ রা. বর্ণনা করে বলেন, আমি নবী করীম সা. এর একটি বৈঠকে শেষপর্যন্ত উপস্থিত ছিলাম যেখানে তিনি জান্নাতের বিবরণ শুনিয়েছেন। হাদিসের শেষাংশে তিনি বলেন, নবী করীম সা. বলেন, “এমনসব ভোগবিলাস প্রস্তুত রয়েছে, যা কোনো চক্ষু কোনোদিন প্রত্যক্ষ করেনি, কোনো কর্ণ সে সম্পর্কে শুনেনি এবং কোনো হৃদয়ে তার কল্পণাও উদয় হয়নি। অতঃপর নিম্নোক্ত আয়াত পাঠ করেন, “তাদের পার্শ্ব শয্যা থেকে আলাদা থাকে। তারা তাদের পালনকর্তাকে ডাকে ভয়ে ও আশায় এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করে। কেউ জানে না তার জন্যে কৃতকর্মের কী কী নয়ন-প্রীতিকর প্রতিদান লুকায়িত রয়েছে।” (সূরা সাজদা ১৬-১৭) 

 জান্নাতীদের বিবরণ দিতে গিয়ে নবীজী বলেন, “জান্নাতী কোনো লোকের নখ থেকে সামান্য পরিমাণ যদি দুনিয়াতে উদয় হয়ে যায়, তবে আসমানসমূহ ও যমিনের মধ্যস্থলগুলো সুশোভিত হয়ে উঠবে। জান্নাতী কোনো লোকের হাতে পরিহিত বালাসমগ্র। যদি দুনিয়াতে প্রকাশ হয়, তবে সূর্যের আলো নিষ্প্রভ হয়ে যাবে, ঠিক যেমন সূর্যের আলোর সামনে তারকারাজীর আলো নিষ্প্রভ হয়ে যায়।” (তিরমিযী-২৫৩৮) 

মুমিনগণ সফল

 মুমিন বান্দাদের জন্য আল্লাহ তা’লা জান্নাতকে প্রতিনিয়ত সুসজ্জিত করছেন। 

নবী করীম সা. বলেন, “জান্নাতে আদনকে আল্লাহ নিজহাতে তৈরি করেছেন। তার ফল-ফলাদি নির্ধারণ করেছেন। তার নদীগুলোর প্রবাহপথ ঠিক করেছেন। অতঃপর তার দিকে তাকিয়ে বলেছেন, নিশ্চয় মুমিনগণ সফল হয়ে গেছে। আরো বলেন, আমার মর্যাদার শপথ, আমার পার্শ্ববর্তী এ জান্নাতে কোনো কৃপণের স্থান হবে না।” (আল মু’জামুল কাবীর-১২৭২৩)।

 নবী করীম সা. আরও বলেন, “তোমাদের কারো জন্য জান্নাতে লাঠি ধারণস্থল পরিমাণ জায়গা দু’টি দুনিয়া অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। তোমাদের কারো জন্য জান্নাতে ধনুক পরিমাণ জায়গা দু’টি দুনিয়া অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। জান্নাতে কোনো নারীর মস্তকাবরণ দু’টি দুনিয়া অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।” (মুসনাদে আহমদ-১০২৭০) 

 ইবনে আব্বাস রা. বলেন, “জান্নাতে নামছাড়া দুনিয়ার কোনো বস্তুই থাকবে না” (বায়হাকী)। 

আগ্রহ,

 আছে কি জান্নাতের জন্য প্রস্তুত কেউ? মুমিন মাত্রই জান্নাতের বিবরণ শুনে আমলে মনোনিবেশ করবে। 

জান্নাতের পথসমূহ 

কেবল খোদাভীরুগণই জান্নাতের বাসিন্দা হবে, যারা দুনিয়াতে আল্লাহর নিষিদ্ধ কাজসমূহ থেকে বেঁচে থাকত, আল্লাহর বিধিবিধান মেনে চলত। ইবাদতে সামান্য কিছু কষ্ট ও পরিশ্রম রয়েছে, যেগুলো বান্দার ঈমানকে সুদৃঢ় করে, প্রতিপালকের বিধানাবলীর গুরুত্ব বাড়িয়ে দেয়। ফলে সে অধিকতর আনুগত্যে লিপ্ত হতে চায়, অধিকতর হারাম থেকে বেঁচে থাকতে চায়। জান্নাতের অনেক পথ রয়েছে; কুরআন হাদিসের পাতায় পাতায় যার বিবরণ বর্ণিত. 

* কী সেই পথসমূহ? 

* শ্রেষ্ঠপথ কোনটি?

 * কীভাবে মানুষকে সে পথের দিকে আহ্বান করা যায়? 

ভূমিকা 

নবী করীম সা. বলেন, “জান্নাত কষ্টদায়ক বস্তুসমূহ দিয়ে বেষ্টিত এবং জাহান্নাম মনোবৃত্তিপূরক বস্তুসমূহ দিয়ে বেষ্টিত।” (মুসলিম ৭৩০৮)

 মুমিন মাত্রই প্রতিপালকের আদেশকে সে মনোচাহিদার উপরে রাখে। জান্নাত অর্জনে নবী করীম সা, অসংখ্য পথ ও পদ্ধতি বলে গেছেন। তন্মধ্যে কয়েকটি আমরা এখানে উল্লেখ করছি.. 

() আল্লাহর পথে জিহাদ (যুদ্ধ)

 জিহাদ ইসলামের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ও নবী রাসূলদের রীতি। যে ব্যক্তি ইসলামের জন্য জিহাদ না করে মৃত্যুবরণ করল, এমনকি তার অন্তরেও জিহাদের কোনো আগ্রহ ছিল না, সে একপ্রকার মুনাফেকী নিয়ে মৃত্যুবরণ করল। আল্লাহ তা’লা বলেন, 

“তোমাদের ওপর যুদ্ধ ফরয করা হয়েছে, অথচ তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়। পক্ষান্তরে তোমাদের কাছে হয়তো কোনো একটা বিষয় পছন্দসই নয়, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হয়তবা কোনো একটি বিষয় তোমাদের কাছে পছন্দনীয় অথচ তোমাদের জন্যে অকল্যাণকর। বস্তুতঃ আল্লাহই জানেন, তোমরা জান না।” (সূরা বাক্বারা-২১৬) মুজাহিদীন (যোদ্ধা)দের জন্য আল্লাহ জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। 

নবী করীম সা. বলেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে বের হলো, তার জন্য আল্লাহর প্রতিশ্রুতি- “যে আমার ওপর বিশ্বাস রেখে এবং আমার রাসূলদের সত্যায়ন করে কেবলই আমার পথে যুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে বের হলো, অবশ্যই আমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাব অথবা যে ঘর থেকে সে বেরিয়েছিল, সেখানে নিরাপদে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সহকারে পৌঁছে দেব।” ঐ সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, আল্লাহর পথে যে ব্যক্তি কোনো আঘাতপ্রাপ্ত হলো, কেয়ামতের দিন সে ওই আঘাত নিয়ে উঠবে, ক্ষতস্থান থেকে রক্ত ঝরতে থাকবে, মিশকের সুগন্ধি বের হতে থাকবে। ওই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, মুসলমানদের ওপর চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা না করলে আমি আল্লাহর পথে বের হওয়া প্রতিটি সৈনিক দলের সাথেই বের হয়ে যেতাম। কিন্তু সে সুযোগ না থাকায় আমি তাদেরকে বিভিন্ন সেনাদলে ভাগ করে পাঠিয়ে দেই। জানি, আমাকে ছেড়ে যাওয়া তাদের মনে পীড়া দেয়। ওই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, অবশ্যই আমি পছন্দ করি যে, আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে নিহত হই, অতঃপর আবার যুদ্ধ করে আবার নিহত হই, অতঃপর আবার যুদ্ধ করে আবার নিহত হই।” (মুসলিম ৪৯৬৭) 

() বিপদে ধৈর্যধারণ আল্লাহর ফায়সালায় সন্তুষ্টি 

এটিও বান্দাদের প্রতি আল্লাহর রহমতের বহিঃপ্রকাশ যে, তাদেরকে বিভিন্ন বিপদাপদ দিয়ে পরীক্ষা করে তাদের জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন। 

আল্লাহ বলেন, 

 “তোমাদের কি ধারণা, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ আল্লাহ এখনও দেখেননি তোমাদের মধ্যে কারা জেহাদ করেছে এবং কারা ধৈৰ্য্যশীল।” (সূরা আলে ইমরান-১৪২

 নবী করীম সা. বলেন, “মুমিনগণ সর্বদা তাদের দেহ ও সম্পদ নিয়ে বিপদে নিপতিত থাকে, শেষপর্যন্ত আল্লাহর সাথে সাক্ষাতকালে তার কোনো গুনাহ অবশিষ্ট থাকে না।” (আল মুস্তাদরাক-৭৮৭৯)

 সুতরাং যে ব্যক্তি অসুস্থতা, দরিদ্রতা, সন্তানদের মৃত্যু, গ্রেফতারি ইত্যাদি বিপদাপদে ধৈর্যের পরিচয় দেবে, অবশ্যই সেগুলো তার জন্য গুনাহের কাফফারা হবে। নেক আমল বৃদ্ধি পাবে। 

() সৎকাজের আদেশ অসৎকাজ থেকে নিষেধ

 এটি একটি কষ্টসাধ্য এবাদত। এ কাজের জন্য অনেক সময় কষ্ট ও দুর্ভোগের সম্মুখীন হতে হয়। প্রজ্ঞাবান লুকমান তার ছেলেকে উপদেশ দানকালে বলেছিলেন, 

ويبين أقم الصلوة وأمر بالمعروف وانه عن المنكر وأضرعلما أصاب إلك من عزم الأموره 

لقمان: ۱۷ 

“হে বৎস, নামায কায়েম কর, সৎকাজে আদেশ দাও, মন্দকাজে নিষেধ কর এবং বিপদাপদে সবর কর। নিশ্চয় এটা সাহসিকতার কাজ।” (সূরা লুকমান-১৭)। 

() ইসলামের বিভিন্ন কষ্টসাধ্য কাজ

 ইসলামের বিধিবিধানসমূহে গবেষণা করলে দেখা যায়, তাতে  পালনীয় প্রায় সকল এবাদতসমূহে যেমন, নামায, যাকাত, রোযা, হজ্জ্ব ইত্যাদি বান্দার ওপর কিছু কষ্ট আরোপিত হয়, চাপ প্রয়োগ হয়; কিন্তু এ সকল কষ্ট এবং পরিশ্রমের বিনিময়ে সে পুরস্কৃত হবে। ঈমান যত বৃদ্ধি পাবে, ততই তার পক্ষে এবাদতসমূহ পালন সহজ হয়ে যাবে। কেননা, নামায দুর্বল হৃদয় সম্পন্ন লোকদের জন্য অত্যন্ত কঠিন। আল্লাহ বলেন, 

ধৈৰ্য্যের সাথে সাহায্য প্রার্থনা কর নামাযের মাধ্যমে। অবশ্য তা যথেষ্ট কঠিন। কিন্তু বিনয়ী লোকদের পক্ষেই তা সম্ভব।” (সূরা বাক্কারা-৪৫)।

 এবং যাকাত, যা কৃপণ ব্যক্তিদের জন্য খুবই পীড়াদায়ক। তেমনি হজ্জ্ব অলস ব্যক্তিদের জন্য দুরূহ। বান্দা এ সকল এবাদতের ক্ষেত্রে যতটুকু অগ্রগামী হবে, ততটুকুই সে জান্নাতের নিকটবর্তী হতে থাকবে। পক্ষান্তরে এ সকল এবাদতে যতটুকু বিলম্ব ও অলসতার পরিচয় দেবে, ততটুকুই সে প্রতিপালকের অসন্তুষ্টি ও ক্ষতিগ্রস্ততার দিকে চলে যাবে। প্রায় সকল এবাদতই জান্নাতে গমনের পথ। যেমনটি আল্লাহ। বলেন, 

و وعد الله المؤمنين والمؤمنين جي تجري من تحتها الأو خلين فيها ومن 

طيبة في جني عدني ورون تي آل 

أ بو ذلك هو النمو العظيره 

التوبة: ۷۲ | 

“আল্লাহ ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কাননকুঞ্জের, যার তলদেশে প্রবাহিত হয় প্রস্রবণ। তারা সেগুলোরই মাঝে থাকবে। আর এসব কাননকুঞ্জে থাকবে পরিচ্ছন্ন বসবাসের ঘর। বস্তুতঃ এ সমুদয়ের মাঝে সবচেয়ে বড় হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি। এটিই মহান কৃতকার্যতা।” (সূরা তাওবা ৭২) 

দয়া,

 জান্নাতে গমনের জন্য আল্লাহ অসংখ্য পথ তৈরি করে রেখেছেন, যেন মানুষের পক্ষে সেগুলো অনুসরণ ও বাস্তবায়ণ সহজ হয়। 

সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশকারী 

জান্নাতীগণ সর্বসম্মানিত সম্প্রদায়। যে জান্নাতে প্রবেশ করবে, অবশ্যই সে চিরসফল। বান্দা জান্নাতে যতই তার স্তর উন্নীত করবে, ততই সেখানে তার মর্যাদা ও প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পাবে। 

* কে তাহলে সর্বপ্রথম জান্নাতে যাবে?

 * কোন সম্প্রদায় সর্বাগ্রে জান্নাতে প্রবেশ করবে? 

* আগে কে, দরিদ্ররা নাকি ধনী ব্যক্তিবর্গ? 

ভূমিকা 

জান্নাতের দিকে প্রতিযোগিতা হলো মুমিনদের প্রধান কাজ। একত্ববাদে। বিশ্বাসীদের প্রধান লক্ষ্য। সর্বপ্রথম 

 জান্নাতে প্রবেশ করবেন আমাদের নবী মোহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এটি হবে আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য সম্মান ও মর্যাদার বহিঃপ্রকাশ। সর্বপ্রথম তাঁর জন্যই জান্নাতের দরজা খোলা হবে। যেমনটি তিনি নিজেই বলেছেন, 

 “কেয়ামতের দিন সর্বাধিক অনুসারী হবে আমার! আমিই সর্বপ্রথম জান্নাতের ফটক উন্মোচন করব।” (মুসলিম-৫০৫) অন্য হাদিসে তিনি বলেন,  “জান্নাতের গেটে এসে আমি তা খুলতে বলব। রক্ষী জিজ্ঞেস করবে, কে তুমি? আমি বলব, মোহাম্মাদ! অতঃপর সে বলবে, আপনার জন্যই খোলার আদেশ হয়েছে; আপনার পূর্বে অন্য কারো জন্যে নয়!” (মুসলিম-৫০৭)। 

আমাদের উম্মতই সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করব

 কারণ, আমরাই সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত। জান্নাতের সর্বাধিক বসবাসকারী আমরাই। আমরাই কেয়ামতের দিন সকল উম্মতের ওপর সাক্ষ্যদান করব। পূর্ববর্তী নবীদের পক্ষে আমরা সাক্ষ্য দেব যে, তারা তাদের সম্প্রদায়ের কাছে দ্বীন পৌঁছে দিয়েছেন। 

 নবী করীম সা. বলেন, “আমরা পশ্চাদবর্তী ও কেয়ামতের দিন অগ্রবর্তী সম্প্রদায়। আমরাই সর্বাগ্রে জান্নাতে প্রবেশ করব।” (মুসলিম-২০১৭) 

উম্মতের মধ্যে সর্বপ্রথম প্রবেশ করবেন আবু বকর রা

আবু বকর রা, এর মর্যাদা, তাঁর নেতৃত্ব, দ্বীনের জন্য মহান ত্যাগ এবং আল্লাহর জন্য জান মাল ও জীবন উৎসর্গ এবং নবী করীম 

সা, এর প্রতি পরম ভালোবাসার পুরষ্কারস্বরূপ তাকে এ মর্যাদা দেওয়া হবে। তিনি ছিলেন নবীজীর হিজরতসঙ্গী। তাঁর জীবদ্দশায় ও মৃত্যুর পর তার প্রধান প্রতিবেশী।

নবী করীম সা. বলেন, “একদা জিবরীল এসে হাত ধরে নিয়ে গিয়ে আমাকে আমার উম্মতের জান্নাতে প্রবেশের দরজাটি দেখালেন। অতঃপর আবু বকর রা. বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমার মনে চাচ্ছে, আমিও যদি তখন আপনার সাথে থেকে তা প্রত্যক্ষ করতে পারতাম। তখন নবীজী বললেন, হে আবু বকর, তুমি হবে আমার উম্মতের মধ্যে সর্বাগ্রে জান্নাতে প্রবেশকারী।” (আবু দাউদ-৪৬৫৪) 

দরিদ্র মুহাজিরগণ সম্মিলিতভাবে সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে

 মুসলিম সম্প্রদায় সর্বাগ্রে কবর থেকে পুনরুত্থিত হবে, সর্বাগ্রে তারা হিসাব-নিকাশের জন্য দাঁড়াবে। তারাই সর্বাগ্রে আরশের ছায়ায় আশ্রয় নেবে, সর্বাগ্রে তাদের বিচারকার্য সমাধা করা হবে, সর্বাগ্রে তারা সিরাত অতিক্রম করবে, সর্বাগ্রে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। তবে এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ মানবসম্প্রদায় হলেন সাহাবীগণ। তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন মুহাজিরগণ, যারা দ্বীনকে সহযোগিতা করতে নিজেদের সম্পদ, পরিবার ও দেশকে পরিত্যাগ করেছিল।

আল্লাহ তা’লা বলেন, 

ه رهم 

ب 

و درجه ند آلي وأوليك هم الفاو و يمنيه ورضواني وجي لفيهاي مقيمري خلدين فيها 

أبدا إن الله عنده أجر عظيقه التوبة: 20 – 22 

“যারা ঈমান এনেছে, দেশত্যাগ করেছে এবং আল্লাহর রাহে নিজেদের জান ও মাল দিয়ে জেহাদ করেছে, তাদের বড় মর্যাদা রয়েছে আল্লাহর কাছে, আর তারাই সফলকাম। তাদের সুসংবাদ দিচ্ছেন তাদের প্রতিপালক স্বীয় দয়া ও সন্তোষের এবং জান্নাতের, সেখানে আছে তাদের জন্য স্থায়ী শান্তি। তথায় তারা থাকবে চিরদিন। নিঃসন্দেহে আল্লাহর কাছে আছে মহাপুরস্কার।” (সূরা তাওবা ২০-২২)। অন্যত্র বলেন, 

 “যারা আল্লাহর পথে গৃহত্যাগ করেছে, এরপর নিহত হয়েছে অথবা মারা গেছে; আল্লাহ তাদেরকে অবশ্যই উৎকৃষ্ট জীবিকা দান করবেন এবং আল্লাহ সর্বোৎকৃষ্ট রিযিকদাতা। তাদেরকে অবশ্যই এমন একস্থানে পৌঁছাবেন, যাকে তারা পছন্দ করবে। আর আল্লাহ জ্ঞানময়, সহনশীল।” (সূরা হজ্জ্ব ৫৮-৫৯)

নবী করীম সা. বলেন, “তোমরা কি জান, আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে কারা সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে? সবাই বলল, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন! বললেন, আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সর্বপ্রথম দরিদ্র মুহাজিরগণ জান্নাতে প্রবেশ করবে, যাদের জন্য সীমান্ত বন্ধ ছল, সর্বদা নিপীড়িত ছিল। মৃত্যুর সময় তাদের প্রয়োজন অপূর্ণ থেকে যেত! সুতরাং আল্লাহ তালা ফেরেশতাদের লক্ষ্য করে বলবেন, তাদের কাছে গিয়ে সালাম নিবেদন কর! ফেরেশতাগণ বলবে, হে প্রতিপালক, আমরা আপনার আসমানসমূহের বাসিন্দা, আপনার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি! আমাদেরকে তাদের কাছে গিয়ে সালাম নিবেদন করতে বলছেন! প্রতিপালক বলবেন, তারা ছিল আমার বান্দা, আমার এবাদত করত, কাউকে আমার সাথে শরীক করত না। তাদের জন্য সীমান্ত রুদ্ধ ছিল, সর্বদা নিপীড়িত ছিল। মৃত্যুর সময় তাদের প্রয়োজন অপূর্ণ থেকে যেত, পূরণ হতো না। অতঃপর ফেরেশতাগণ তার কাছে সকল দরজা দিয়ে প্রবেশ করে বলতে থাকে “তোমাদের সবরের কারণে তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আর তোমাদের এ পরিণামগৃহ কতই না চমৎকার।” (সূরা রা’দ-২৪)। 

সর্বাগ্রে জান্নাতে প্রবেশকারীদের বৈশিষ্ট্য 

নবী করীম সা. বলেন, “সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশকারী দলের চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল ও আলোকিত হবে। জান্নাতে তারা থুথু নিক্ষেপ করবে না, নাক ঝাড়বে না, মলত্যাগ। করবে না। তাদের পানপাত্র হবে স্বর্ণের। চিরুনী হবে স্বর্ণরূপা মিশ্রিত। তাদের ধূপধার হবে অতি সুগন্ধিকাষ্ঠের। দেহসুবাস হবে মিশকের। তাদের প্রত্যেকের জন্য থাকবে দু’জন করে স্ত্রী; অতিসৌন্দর্যে মাংসের ভেতরে তাদের মস্তিষ্ক পর্যন্ত দেখা যাবে। সেখানে তাদের পরস্পর কোনো ভেদাভেদ ও প্রতিহিংসা থাকবে না। সকলের অন্তর হবে একই আত্মার ন্যায়। সকাল-সন্ধ্যা তারা আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করবে।” (বুখারী-৩১৪৯)। 

প্রশ্ন 

পানাহার করার পরও কেন জান্নাতীদের মল-মূত্র 

ত্যাগের প্রয়োজন হবে না? 

উত্তরঃ জান্নাতের সকল খাদ্যই অতিশয় সুস্বাদু; যা খেতে কোনো ধরণের কষ্ট বা পরিশ্রম হবে না এবং তা থেকে দেহনির্গত কোনো বর্জও তৈরি হবে না; বরং জান্নাতের আহারকৃত খাদ্য রক্ত-মাংসে মিশ্রিত হয়ে সুগন্ধি ছড়াতে থাকবে।  একদা আহলে কিতাবের একব্যক্তি নবী করীম সা. এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, হে আবুল কাসেম, আপনি তো মনে করেন, জান্নাতবাসী পানাহার করবে! নবীজী বললেন, হ্যাঁ..! জান্নাতী একজন ব্যক্তিকে পানাহার ও যৌনমিলনে দুনিয়ার একশতজন ব্যক্তির ক্ষমতা দেওয়া হবে। সে বলল, পানাহার করলে তো মল-মূত্র ত্যাগের প্রয়োজন হয়; অথচ জান্নাতে তো কষ্টদায়ক কিছু থাকবে না! উত্তরে নবীজী বললেন, আহারের পর তাদের প্রয়োজন তাদের দেহের প্রতিটি রগরেশায় মিশে যাবে, সেখান থেকে মিশকের সুঘ্রাণ বের হতে থাকবে।” (ইবনে হিব্বান ৭৪২৪) 

জান্নাতে প্রবেশকারী প্রথম তিনব্যক্তি

নবী করীম সা. বলেন, “জান্নাতে প্রবেশকারী তিন ধরণের ব্যক্তিকে আমার সামনে উপস্থিত করা হয়েছে- (১) শহীদ (২) কৃতদাস, যে প্রতিপালকের এবাদতের পাশাপাশি আপন মনিবকেও সন্তুষ্ট করেছে (৩) পরিবার-প্রীত দরিদ্র সৎচরিত্রবান।” (ইবনে হিব্বান-৪৩১২)

========= 

মর্যাদাদান,

 শ্ৰেষ্ঠনবী মুহাম্মাদ সা. তিনিই সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবেন। 

সর্বশেষ জান্নাতে প্রবেশকারী 

আমল অনুযায়ী জান্নাতীদের জান্নাতে প্রবেশ অগ্র-পশ্চাত হবে। পূর্বেই আলোচিত হয়েছে, সর্বপ্রথম প্রবেশ করবেন নবী মোহাম্মাদ সা.।। 

* সর্বশেষ জান্নাতে প্রবেশকারী কে? 

* কী তার কাহিনী? 

ভূমিকা 

জান্নাত হলো মহা সুখ-শান্তির জগত; যেখানে রোগী তার রোগ ভুলে যাবে, বিপদগ্রস্ত তার বিপদ ভুলে যাবে, দরিদ্র তার দারিদ্র্য ভুলে যাবে, বন্দি তার বন্দিত্ব ভুলে যাবে, নিকৃষ্ট তার নিকৃষ্টতা ভুলে যাবে, নিপীড়িত তার নিপীড়ন ভুলে যাবে। সেখানে সম্পদ সঞ্চয়ের কোনো লিপ্সা থাকবে না। হীন পদোন্নতির বাসনা থাকবে না। অসুস্থতার ভয় থাকবে না। বন্দিত্বের আশঙ্কা থাকবে না। ঘর পুনর্নির্মাণের বাসনা থাকবে না। কোনো দুশমন থাকবে না। দুশ্চিন্তা থাকবে না; শুধুই সুখ আর সুখ, সর্বত্রই শান্তির জয়জয়কার! সালাম আর সালাম! সর্বনিম্নশ্রেণীর জান্নাতী ব্যক্তির 

সংবাদ শুনেই অনুমান করা যায়, সর্বোচ্চ স্তরপ্রাপ্ত জান্নাতীর মর্যাদা কেমন! 

সর্বশেষ জান্নাতে প্রবেশকারীর কাহিনী 

 নবী করীম সা. বলেন, “সর্বশেষ জান্নাতে প্রবেশকারী ব্যক্তিটি (জাহান্নাম থেকে বের হওয়ার উদ্দেশ্যে) একবার চলবে তো একবার হোঁচট খাবে, আরেকবার আগুন তাকে ঝলসে দেবে.. এভাবে যখন সে জাহান্নাম অতিক্রম করে ফেলবে, তখন পেছনে তাকিয়ে বলবে, কল্যাণময় সেই সত্তা, যিনি তোর অনিষ্ট হতে আমাকে মুক্তি দিয়েছেন! আল্লাহ আমার ওপর যে অনুগ্রহ করেছেন, তা পূর্ববর্তী পরবর্তী কারো ওপর করেননি! অতঃপর তার জন্য একটি বৃক্ষ প্রকাশ করা হবে। তা দেখে সে বলবে, হে প্রতিপালক, আমাকে একটু ওই বৃক্ষের নিকটবর্তী করুন, তার ছায়ায় একটু আশ্রয় নেব, তার প্রবাহিত পানি থেকে সামান্য পান করব! আল্লাহ তাকে বলবেন, হে আদমসন্তান, যদি আমি তোমার চাওয়া পূরণ করি, তবে কি আবারও কিছু চাইবে? সে বলবে, হে প্রতিপালক! এভাবে সে প্রতিপালকের কাছে অন্যকিছু না চাওয়ার প্রতিশ্রুতি করবে। প্রতিপালকও তাকে অনুমতি দেবেন, কারণ সে এমনকিছু দেখেছে যা দেখার পর আর ধৈর্য্য ধরতে পারবে না। অতঃপর তাকে সেই বৃক্ষের নিকটবর্তী করলে তদতলে সে আশ্রয় নেবে, তার প্রবাহিত পানি সে পান করবে। অতঃপর তার সামনে দ্বিতীয় আরেকটি বৃক্ষ প্রকাশ করা হবে, যা প্রথমটির তুলনায় উৎকৃষ্ট ও অধিকতর দৃষ্টিনন্দন। সে বলবে, হে প্রতিপালক, ঐ যে বৃক্ষ..! যদি তার থেকে পান করতে পারতাম..! তার ছায়ায় আশ্রয় নিতে পারতাম..! আর কিছু চাইব না হে প্রতিপালক! প্রতিপালক বলবেন, হে আদমসন্তান, তুমি কি ইতিপূর্বে ওয়াদা করনি যে আর কিছুই চাইবে না? প্রতিপালক বলবেন, যদি তোমাকে এই বৃক্ষের নিকটবর্তী করি, তবে আর কিছু চাইবে না তো? সে প্রতিপালকের কাছে আর কিছুই চাইবে না বলে ওয়াদাবদ্ধ হবে। প্রতিপালকও তাকে অনুমতি দেবেন, কারণ সে এমনকিছু দেখেছে যা দেখার পর আর ধৈর্য্য ধরতে পারবে না। অতঃপর তাকে সে বৃক্ষের নিকটবর্তী করা হলে তদতলে সে আশ্রয় নেবে এবং তার প্রবাহিত পানি সে পান করবে। অতঃপর তার সামনে জান্নাতের ফটকের কাছে তৃতীয় আরেকটি বৃক্ষ প্রকাশ করা হবে, যা পূর্বের দু’টি অপেক্ষা অধিক সুন্দর ও অধিকতর দৃষ্টিনন্দন। সে বলবে, হে প্রতিপালক! আমাকে একটু এই বৃক্ষের নিকটবর্তী করুন, তার ছায়ায় একটু আশ্রয় নেব, তার প্রবাহিত পানি থেকে সামান্য পান করব! আর কিছু চাইব না হে প্রতিপালক! প্রতিপালক বলবেন, যদি তোমাকে এই বৃক্ষের নিকটবর্তী করি, তবে আর কিছু চাইবে না তো? সে প্রতিপালকের কাছে ওয়াদাবদ্ধ হবে যে, আর কিছুই চাইবে না। প্রতিপালকও তাকে অনুমতি দেবেন, কারণ সে এমনকিছু দেখেছে যা দেখার পর সে। আর ধৈর্য্য ধরতে পারবে না। অতঃপর তাকে বৃক্ষের নিকটবর্তী করা হলে সে জান্নাতবাসীদের আওয়াজ শুনতে পাবে। সে বলবে, হে প্রতিপালক! আমাকে তাতে প্রবেশ করান! প্রতিপালক বলবেন, হে আদমসন্তান! আমার কাছে চাইতে তোমাকে কে বারণ করছে?! আমি যদি তোমাকে দুনিয়া ও তদসদৃশ অন্যটি দেই, তুমি কি সন্তুষ্ট হবে? সে বলবে, হে প্রতিপালক, জগতসমূহের পালনকর্তা হওয়া সত্ত্বেও আপনি আমার সাথে ঠাট্টা করছেন?! অতঃপর হাদিসের বর্ণনাকারী ইবনে মাসউদ রা. হেসে দিয়ে বললেন, তোমরা জিজ্ঞেস করবে না কেন আমি হাসছি? সবাই বলল, কেন হাসছেন? বললেন, এভাবে নবী করীম সা. ও হেসে = 

দিয়ে আমাদের জিজ্ঞেস করেছিলেন “তোমরা জিজ্ঞেস করবে না। কেন আমি হাসছি?” নবীজী বললেন, ‘জগতসমূহের পালনকর্তা হওয়া সত্ত্বেও আপনি আমার সাথে ঠাট্টা করছেন?!’ এ কথাটি শুনে প্রতিপালকের হাসির দরুন (আমি হাসছি)! প্রতিপালক। বলবেন, আমি কারো সাথে ঠাট্টা করি না, আমি যা চাই, তাই করি! অতঃপর তাকে বলা হবে, আমি যদি তোমাকে দুনিয়ার বাদশাহদের মধ্যে একজনের সম্পূর্ণ রাজত্বের সমপরিমাণ দেই, তুমি সন্তুষ্ট হবে? সে বলবে, আমি সন্তুষ্ট হে প্রতিপালক! প্রতিপালক বলবেন, তোমাকে তা দিলাম, সাথে তদসদৃশ আরও, তদসদৃশ আরও, তদসদৃশ আরও এবং তদসদৃশ আরও দিলাম..! পঞ্চমবারের মাথায় সে বলবে, আমি সন্তুষ্ট হে প্রতিপালক! প্রতিপালক বলবেন, এগুলো তোমাকে দিলাম, সাথে তদসদৃশ আরও দশগুণ বাড়িয়ে দিলাম। সেখানে তোমার মন যা চায়, নয়ন প্রীত হয়.. সবই পাবে! সে বলবে, আমি সন্তুষ্ট হে। প্রতিপালক!” (মুসলিম-৪৮১)

 অপর বর্ণনায়, “অতঃপর প্রতিপালক বলবেন, হে বান্দা, চাও! সে বলবে, হে প্রতিপালক আমাকে জান্নাতীদের অন্তর্ভুক্ত করুন! আল্লাহ তা’লা বলবেন, যাও! তাদের সাথে গিয়ে মিলিত হও! অতঃপর সে দ্রুতপদে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যখন মানুষের নিকটবর্তী হবে, তখন তার জন্য মুক্তাখচিত একটি প্রাসাদ প্রকাশ করা হবে। তা দেখে সে সেজদায় লুটিয়ে পড়বে। তাকে বলা হবে, মাথা উঠাও! কী হলো তোমার! সে বলবে, আমি প্রতিপালককে দেখে ফেলেছি। তাকে বলা হবে, মাথা উঠাও! এটি তো কেবল তোমার একটি ঘর। অতঃপর এক ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে তাকে দেখেও সে সেজদায় লুটিয়ে পড়তে চাইবে। বলা হবে, কী হলো তোমার! সে বলবে, কোনো মহান ফেরেশতার সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হলো। সে বলবে, আমি তো কেবল তোমার একজন রক্ষী, তোমার কৃতদাসদের একজন। অতঃপর সে সামনে চলতে থাকবে, তার জন্য প্রাসাদ উন্মুক্ত করা হবে। দেখবে, সে তো এক মণিমুক্তাময়, যার দরজা, যার। চৌকাঠ, জানালা, চাবি.. সবই হলো মণিমুক্তার। এই হলো সর্বনিম্নস্তরের জান্নাতীর মূল্যায়ন।” (আল মু’জামুল কাবীর ৯৭৬৩) 

সর্বোচ্চ স্তরের জান্নাতী

হাদিসের শেষাংশে নবীজী বলেন, “আর সর্বোচ্চ স্তরের জান্নাতীদের অবস্থা হলো, যাদের আতিথেয়তা আল্লাহ নিজহাতে তৈরি করেছেন। অতঃপর মোহরাঙ্কিত করেছেন, যা কোনো চক্ষু কোনোদিন দেখেনি, কোনো কর্ণ সে সম্পর্কে শুনেনি এবং কোনো হৃদয়ে যার কল্পণাও কখনো উদয় হয়নি।” (মুসলিম)  নবী করীম সা. আরও বলেন, “সর্বনিম্ন স্তরের জান্নাতী ব্যক্তি একহাজার বৎসর ভ্রমণ করে তার রাজ্যসীমার সূচনা ও সমাপ্তি প্রত্যক্ষ করবে। আর সর্বোচ্চ স্তরের জান্নাতী ব্যক্তি সকাল সন্ধ্যা আপন প্রতিপালকের দর্শন লাভ করবে।” (তিরমিযী) 

অনুগ্রহ, 

আল্লাহর দয়া তাঁর ক্রোধের অগ্রগামী, তাওবার দরজা উন্মুক্ত; ফলে অপরাধীদের কোনো অজুহাতও আর গৃহীত হবে না। 

জান্নাতী পুরুষদের নেতা 

আমল অনুপাতে জান্নাতীদের স্তরে তারতম্যের পাশাপাশি আল্লাহর কাছেও তাদের মর্যাদা ব্যবধানময় হবে। 

* সর্বোচ্চ মর্যাদাপ্রাপ্ত কারা?

 * কে হবেন মধ্যবয়সী জান্নাতীদের নেতা? 

* যুবক জান্নাতীদের প্রধানই বা কে? 

ভূমিকা 

সর্বোচ্চ স্তরে সমাসীন হবেন নবী রাসূলগণ। তারাই সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানব সম্প্রদায়। সত্যের আহবায়ক। পৃথিবীবাসীর প্রতি আল্লাহর বার্তাবাহক। 

মধ্যবয়সী জান্নাতীদের নেতা 

আবু বকর ও উমর রা.। উভয়েই নবী করীম সা. এর জীবদ্দশায় তাঁর প্রধান সহযোগী ছিলেন। মৃত্যুর পরও রাসূলের পাশেই 

তাদের কবর হয়েছে। 

নবী করীম সা. বলেন, “আবু বকর ও উমর হলো নবী রাসূলগণ ব্যতীত পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল মধ্যবয়সী জান্নাতীদের নেতা।” (ইবনে হিব্বান-৬৯০৪) 

১. আবু বকর ও উমর রা. কীভাবে মধ্যবয়সী 

জান্নাতীদের নেতা হবেন? অথচ জান্নাতে প্রবেশকারী সকলেরই বয়স হবে তেত্রিশ। সকলেই হবেন যুবক।

 উত্তরঃ এখানে মধ্যবয়সী বলতে ত্রিশ থেকে চল্লিশ বছর বয়সের মধ্যে যে সকল মুসলমান মৃত্যুবরণ করেছিল, তারা জান্নাতে প্রবেশ করলে তাদের নেতা হবেন আবু বকর ও উমর রা.। আর যুবক অবস্থায় (অনূর্ধ্ব ত্রিশ) মৃত্যুবরণ করে জান্নাতে প্রবেশ করলে তাদের নেতা হবেন হযরত হাসান ও হুসাইন রা.। জান্নাতে নবী করীম সা. উমরের জন্য নির্মিত প্রাসাদ প্রত্যক্ষ করেছেন। অনিন্দ সুন্দর সেই প্রাসাদ! চার পাশে নদ-নদী প্রবাহিত! বৃক্ষমালা সারিবদ্ধভাবে রোপিত! হ্যাঁ. তাঁর সততা, দ্বীনের জন্য তাঁর আত্মত্যাগ, তার এবাদত ও খোদাভীরুতার দরুন সত্যিই উমর বিন খাত্তাব রা. সেই সুসংবাদ পাওয়ার যোগ্য! 

 নবী করীম সা. বলেন, “আমি জান্নাতে প্রবেশ করে স্বর্ণখচিত একটি প্রাসাদ দেখতে পেলাম। বললাম, কার জন্য এটি? তারা বলল, এক কুরায়শী ব্যক্তির! হে ইবনুল খাত্তাব, তাতে আমি প্রবেশ করতাম, কিন্তু তুমি ঈর্ষান্বিত হবে ভেবে করিনি। উত্তরে উমর রা. বললেন, আপনার ওপরও আমি ঈর্ষা করব হে আল্লাহর রাসূল?” (বুখারী-৬৬২১) 

জান্নাতী যুবকদের নেতা

 তারা হলেন হযরত আলী ও ফাতেমা রা. এর দুইপুত্র হাসান ও হুসাইন রা.। দুনিয়াতে তাদের ত্যাগ-তিতিক্ষা ও দ্বীনের খাতিরে আত্মোৎসর্গমূলক অবদানের জন্যই আল্লাহ তা’লা তাদেরকে সেই সম্মানে ভূষিত করবেন। 

যেমনটি নবী করীম সা. বলেছেন, “হাসান ও হুসাইন জান্নাতী যুবকদের সরদার।” (তিরমিযী-৩৭৬৮)। 

জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশব্যক্তি

 নবী করীম সা. আপন সঙ্গীদের মধ্যে দশজন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে তাদেরকে জান্নাতের সুসংবাদ শুনিয়েছেন। ইসলামের জন্য তারা ছিলেন সর্বদা অগ্রগামী, জিহাদ ও ত্যাগে তারা ছিলেন আদর্শ। তাই বলে এটা উদ্দেশ্য নয় যে, বাকী সাহাবীগণ জান্নাতে যাবে না; বরং সকল সাহাবীর ক্ষেত্রেই সুসংবাদ বর্ণিত হয়েছে। যেমন, বদরযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ৩১৩ জন সাহাবীর ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে, 

 নবী করীম সা. বলেন, “তোমার কী মনে হয়, হয়ত বদরে অংশগ্রহণকারী যুদ্ধাদেরকে আল্লাহ বলে দেবেন যে, তোমাদের যতটুকু মনে চায় আমল কর, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিলাম।” (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা-৩২৩৪৬)

 তেমনি ঐতিহাসিক হুদায়বিয়ার সন্ধি সম্পাদনকালে যে ১৪০০ সাহাবী বৃক্ষের নীচে নবীজীর হাতে যুদ্ধের জন্য বায়আত গ্রহণ করেছিলেন, তাদের ব্যাপারে নবী করীম সা. বলেন, । 

 “লাল উষ্ট্রীবাহী লোকটি ব্যতীত বৃক্ষের নীচে যারাই ছিল, সকলেই জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (তিরমিযী-৩৮৬৩)। 

তবে এই দশজনের মর্যাদা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে তাদের নাম উল্লেখ করে নবীজী তাদের জান্নাতী হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন,  তিনি বলেন- “দশজন জান্নাতে যাবে- আবু বকর জান্নাতে যাবে, উমর জান্নাতে যাবে, উসমান জান্নাতে যাবে, আলী জান্নাতে যাবে, যুবাইর জান্নাতে যাবে, তালহা জান্নাতে যাবে, আব্দুর রহমান বিন আউফ জান্নাতে যাবে, সা’দ জান্নাতে যাবে, সাইদ বিন যাইদ। জান্নাতে যাবে এবং আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ জান্নাতে যাবে।” (আবু দাউদ-৪৬৫১) 

প্রত্যয়ন, 

কুরআন-সুন্নাহে স্পষ্ট উল্লেখ ব্যতীত নির্দিষ্ট কাউকে জান্নাতী বলে সাক্ষ্য দেওয়া যাবে না। 

জান্নাতী নারীদের নেত্রীবর্গ 

মুমিন পুরুষ ও মুমিনা নারী সকলের জন্যই আল্লাহ তা’লা জান্নাত তৈরি করেছেন। দুনিয়াতে পুরুষরা যেমন দিনের বেলায় রোযা পালন করে এবং শেষরাত্রিতে আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে, তেমনি নারীরাও..! 

* কোনো নারীর জন্য কি নবীজী। 

জান্নাতের সাক্ষ্য দিয়েছেন?

 * তারা কারা? 

ভূমিকা

 দুনিয়াতে বহু নারী আমলে পুরুষদের অগ্রগামী হয়েছেন! এবাদত, নুসরত, আল্লাহর পথে ব্যয় ও জ্ঞানচর্চায় পুরুষদের ছাড়িয়ে গেছেন! বরং ইতিহাস অধ্যয়ন করলে লক্ষ্য করা যায় যে, শ্রেষ্ঠ সব আমলের মূলেই রয়েছে নারীর অবদান। সর্বপ্রথম যিনি মক্কায় বসবাস করেছেন, জমজমের পানি পান করেছেন, সাফা-মারওয়া পর্বতদ্বয়ে সাঈ করেছেন, তিনি একজন নারী! ‘হাজেরা’, ইসমাইল আ. এর সম্মানিত মাতা। সর্বপ্রথম যিনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন ও নবীজীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন, তিনি হলেন একজন নারী; উম্মুল মুমিনীন খাদিজাতুল কুবরা রা.। সর্বপ্রথম যাঁকে আল্লাহর পথে শাস্তি দিয়ে শহীদ করা হয়েছিল, তিনিও নারী; আম্মার বিন ইয়াসির রা, এর মাতা। সুমাইয়া রা.। নবী করীম সা, কতিপয় নারীর ব্যাপারেও জান্নাতের সুসংবাদ শুনিয়েছেন। তারা কারা? 

উম্মুল মুমিনীন খাদিজাতুল কুবরা রা

তিনি হলেন সকল মুমিন-মুমিনা’র মাতা, সতী নারীদের আদর্শ, খোদাভীরু মহিলাদের সরদার। জ্ঞান-বুদ্ধি, প্রজ্ঞা ও ত্যাগে যিনি ছিলেন অতুলনীয়। তার সম্পর্কে নবী করীম সা. বলেন, 

 “খাদিজাকে জান্নাতে একটি মোতিখচিত বাড়ীর সুসংবাদ দাও! সেখানে কোনো হৈ-হুল্লোড় নেই, কান্তি-পরিশ্রম কিছু নেই।” (বুখারী-১৬৯৯) 

আবু হুরায়রা রা. বলেন, “একদা জিবরীল আ. নবীজীর কাছে এসে বলতে লাগলেন, হে আল্লাহর রাসূল, ওই যে খাদিজা খাদ্য ও পানিয় নিয়ে আপনার কাছে আসছেন। তিনি এলে তাকে তার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সালাম বলবেন এবং জান্নাতে এমন একটি মোতিখচিত প্রাসাদের সুসংবাদ দেবেন যেখানে কোনো হৈ-হুল্লোড় নেই এবং ক্লান্তি ও পরিশ্রম নেই।” (মুসলিম ৬৪২৬) 

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা,

 তিনি হলেন আবু বকর সিদ্দীক রা. এর কন্যা। নবী করীম সা. এর প্রিয়তম স্ত্রী। স্বয়ং আল্লাহ তা’লা কুরআনুল কারীমে যার সচ্চরিত্র ও পরিবত্রতার ঘোষণা দিয়েছেন। নবী করীম সা. বলেন, “পুরুষদের মধ্যে অসংখ্য ব্যক্তি পুর্ণতা অর্জন করেছে, তবে মহিলাদের মধ্যে কেবল ইমরানের স্ত্রী মারিয়াম এবং ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া। পক্ষান্তরে সকল নারীদের ওপর আয়েশা’র মর্যাদা সকল খাদ্যের ওপর ছারীদ (রুটি ও গোশতের সমন্বয়ে তৈরী মণ্ডবিশেষ) এর মর্যাদাসদৃশ।” (বুখারী-৩২৩০) সেটি ছিল নবী করীম সা. এর প্রিয় খাদ্য। 

আয়েশা রা. কে উদ্দেশ্য করে নবীজী বলেছিলেন, সন্তুষ্ট হবে কি যদি দুনিয়াতে ও আখেরাতে তুমি আমার স্ত্রী হিসেবে থাক? বললেন, হ্যাঁ.. আল্লাহর শপথ! বললেন, তবে তুমি দুনিয়া ও আখেরাতে আমারই স্ত্রী থাকবে।” (ইবনে হিব্বান-৭০৯৫) 

ফাতেমা রা.

 তিনি হলেন নবী করীম সা. এর কন্যা, তাঁর সর্বাধিক স্নেহের পাত্রী, তাঁর কলিজার টুকরা, তাঁর চাচাতো ভাই আলী রা. এর স্ত্রী, হাসান ও হুসাইন রা. এর মাতা। 

নবীজী বলেন, “নিশ্চয় সে এক ফেরেশতা, এই রাত্রির পূর্বে আর পৃথিবীতে আসেনি। সে প্রতিপালকের অনুমতি চেয়ে। আমাকে সালাম নিবেদন করতে এসেছে, সুসংবাদ দিচ্ছে, নিশ্চয় ফাতেমা জান্নাতে সকল নারীদের নেত্রী এবং হাসান ও হুসাইন জান্নাতী সকল যুবকের নেতা।” (তিরমিযী-৩৭৮১)। 

ইমরানের স্ত্রী মারিয়াম মুযাহিমতনয়া আসিয়া 

তারা হলেন পূর্ববর্তী উম্মতসমূহের শ্রেষ্ঠ রমণী। তারা ঈমান, আনুগত্য এবং আল্লাহর জন্য ধৈর্যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। 

মারিয়াম হলেন ঈসা আ. এর মাতা। আল্লাহ তা’লা কুরআনুল কারীমে তাঁর ঘটনা উল্লেখ করে তাঁকে সম্মানিত করেছেন। অপরদিকে মুযাহিম-তনয়া আসিয়া হলেন ফেরাউনের পত্নী। কঠিন আযাবের সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও তিনি ঈমানের ওপর অবিচল ছিলেন। মৃত্যুর সময় তিনি বলেছিলেন, 

“হে আমার পালনকর্তা, আপনার সন্নিকটে জান্নাতে আমার জন্যে একটি গৃহ নির্মাণ করুন, আমাকে ফেরাউন ও তার দুষ্কর্ম থেকে উদ্ধার করুন এবং আমাকে যালেম সম্প্রদায় থেকে মুক্তি দিন।” (সূরা তাহরীম-১১) 

 ইবনে আব্বাস রা. বলেন, “একদা নবী করীম সা, মাটিতে চারটি রেখা এঁকে বললেন, জানো এগুলো কী? সবাই বলল, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন! বললেন, নিশ্চয় জান্নাতের শ্রেষ্ঠ নারীগণ হলেন খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ, ফাতেমা বিনতে মোহাম্মাদ, মারইয়াম বিনতে ইমরান ও ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া বিনতে মুযাহিম। যার সংবাদ স্বয়ং আল্লাহই আল-কুরআনে উল্লেখ করেছেন, 

“হে আমার পালনকর্তা, আপনার সন্নিকটে জান্নাতে আমার জন্যে একটি গৃহ নির্মাণ করুন, আমাকে ফেরাউন ও তার দুষ্কর্ম থেকে উদ্ধার করুন এবং আমাকে যালেম সম্প্রদায় থেকে মুক্তি দিন।” (সূরা তাহরীম-১১) (আল মুস্তাদরাক)

 আসিয়া বিনতে মুযাহিম ও মারিয়াম বিনতে ইমরান আ. এর ব্যাপারে আল্লাহ বলেন, 

وضرب الله مثلا للذين ؛ اما قرأت فرعون إقالت رب ابن لي عندك بيتا في الجنة وتجني من فرعون وعملاء ونجني من القوي الليبيين في ومريم بنت عمران التي أحصنت فرجها ففنا فيه من روحنا وصدقت بكلمتي بها وكتبه وكانت من القنيين ( که التحريم: ۱۱ – ۱۴ 

“আল্লাহ তা’লা মুমিনদের জন্যে ফেরাউন-পত্নীর দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন। সে বলল, হে আমার পালনকর্তা, আপনার সন্নিকটে জান্নাতে আমার জন্যে একটি গৃহ নির্মাণ করুন, আমাকে ফেরাউন ও তার দুষ্কর্ম থেকে উদ্ধার করুন এবং আমাকে যালেম সম্প্রদায় থেকে মুক্তি দিন। আর দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন এমরান-তনয়া মারিয়মের, যে তার সতীত্ব বজায় রেখেছিল। অতঃপর আমি তার মধ্যে আমার পক্ষ থেকে জীবন ফুকে দিয়েছিলাম এবং সে তার পালনকর্তার বাণী ও কিতাবকে সত্যে পরিণত করেছিল। সে ছিল বিনয় প্রকাশকারীনীদের একজন।” (সূরা তাহরীম ১১-১২) 

এই হলো সত্যের ওপর আমৃত্যু অবিচল থাকা আদর্শ নারীদের স্মৃতিকথা। ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া ছিলেন একজন নিষ্ঠাবান মুমিনা, আর ফেরাউন ছিল প্রতাপশালী জালেম শাসক। কিন্তু কখনই স্বামীর কুফুরী তাকে আপন প্রতিপালকের আনুগত্য থেকে বিরত রাখতে পারেনি। যেন মানুষ বুঝতে পারে যে, আল্লাহ হলেন চির-ন্যায়বান। একজনের অপরাধের দরুন অন্যকে দোষারোপ করবেন না। তিনি প্রতিপালকের কাছে তার সান্নিধ্য অর্জনের দোয়া করেছিলেন, ফেরাউনের দুষ্কর্ম ও অনিষ্ট থেকে রক্ষা করে জান্নাতে তার জন্য একটি বাড়ী প্রস্তুত রাখার আশা ব্যক্ত করেছিলেন। দয়াময় আল্লাহও তার দোয়া ও কামনা কবুল করে নিয়েছিলেন। অপরদিকে ইমরান-তনয়া মারিয়ম আ.। যিনি প্রতিপালককে ভয় করেছিলেন, ফলে আল্লাহও তাঁকে ও তাঁর সন্তান ঈসাকে সম্মানিত করেছিলেন। 

সুতরাং ওহে সম্মানিত মা বোন..! স্নেহের কন্যাগণ..! আসুন, তাদের অনুসরণ করে আমরাও উভয় জগতে সফলতা অর্জনে সচেষ্ট হই! 

সৌভাগ্যশীল নারীবৃন্দ,

 জান্নাত পুরুষ-নারী সকলের ঠিক..! তবে কত মুমিনা নারী পুরুষদের অগ্রগামী হয়েছে..! 

জান্নাতীদের জান্নাতে প্রবেশের বিবরণ 

জান্নাত হলো সর্বোন্নত নিবাস। সুমহান আশ্রয়। পরম সৌভাগ্য, যার পর কোনো দুর্ভাগ্য নেই। পরম শান্তি, যার পর।  কোনো ক্লান্তি নেই। সকল  ক্লান্তি ও পরিশ্রম ভুলে গিয়ে। সন্তুষ্টচিত্তে তারা তাতে প্রবেশ করবে। 

* কীভাবে জান্নাতের দিকে নেয়া হবে? 

* তাদের সৌন্দর্য ও দৈহিক দৈর্ঘ্যরে বিবরণ কী?

 * জান্নাতের দরজাসমূহের আয়তন কতটুকু? 

* প্রবেশকালে কি জন-জটের সম্মুখীন হবে? 

ভূমিকা

 জান্নাতীদের জান্নাতের প্রবেশের বিবরণ আল্লাহ এভাবে দিয়েছেন, 

ويق الذين اتقوا ربه إلى الجنية ما حتى إذا جاء وها وفتحت أبوها وقال له خزنتهاسكو عليه طب فدوها 

الزمر: ۷۳ 

لدين ( 

“যারা তাদের পালনকর্তাকে ভয় করত তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন তারা উন্মুক্ত দরজা দিয়ে জান্নাতে পৌঁছুবে এবং জান্নাতের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে, তোমাদের প্রতি সালাম, তোমরা সুখে থাক, অতঃপর সদাসর্বদা বসবাসের জন্যে তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর।” (সূরা যুমার ৭৩) 

দরজাসমূহের প্রশস্ততা

 প্রবেশকারীদের সংখ্যাধিক্য দরজাসমূহের সুপ্রশস্ততা কামনা করে। জান্নাতের দরজাসমূহের সুপ্রশস্ততার বিবরণ দিতে গিয়ে নবী করীম সা. বলেন, “জান্নাতের কপাটসমূহের দুই কপাটের মাঝে সত্তর বৎসর ভ্রমণস্থলের ব্যবধান। জান্নাতে পানির সমুদ্র থাকবে, থাকবে শরাবের সমুদ্র, দুধের সমুদ্র, মধুর সমুদ্র.. সেগুলো থেকে শাখারূপে নদ-নদী ছড়াবে।” (আল-মাছানী ইবনে আসেম) 

 অন্যত্র নবীজী বলেন, “ঐ সত্তার শপথ, যার হাতে 

 আমার প্রাণ, নিশ্চয় জান্নাতের কপাটসমূহের দুই কপাটের  দূরত্বসম ব্যবধান। অথবা মক্কা এবং বাসরা’র দূরত্বসম ব্যবধান।” (মুসলিম-৫০২) 

দরজা দিয়ে প্রবেশের বিবরণ

 সকল জান্নাতবাসী হবে একই আত্মার মতো, সবাই হবে একই বিশ্বাসে বিশ্বাসী, তাদের মাঝে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না, প্রতিহিংসা থাকবে না। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হাতে হাত ধরে তারা জান্নাত প্রবেশ করবে। 

নবী করীম সা. বলেন, “আমার উম্মতের সত্তরহাজার অথবা সাতলক্ষ লোক (বর্ণনাকারী সন্দিহান) জান্নাতে প্রবেশ করবে। 

একে অন্যের হাত ধরে তারা জান্নাতে ঢুকবে। তাদের চেহারা হবে পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল।” (বুখারী-৬১৭৭) 

সকলেই একসাথে একসারিতে প্রবেশ করবে। 

জান্নাতের দরজাসমূহ

 আল্লাহ তা’লা বলেন, 

جير عدن فتح لهم الأوبن به ص: ۵۰ 

“তথা স্থায়ী বসবাসের জান্নাত; তাদের জন্যে তার দ্বার উন্মুক্ত রয়েছে।” (সূলা ছাদ-৫০) 

জান্নাতের রয়েছে আটটি দরজা

 দরজাসমূহের সুপ্রশস্ততা ও বিশালতা সত্ত্বেও তার দরজা হবে একাধিক। নবী করীম সা. বলেন, “জান্নাতের রয়েছে আটটি দরজা। তন্মধ্যে একটি হলো ‘রাইয়ান ফটক’; কেবল রোযাদারগণই সে ফটক দিয়ে প্রবেশ করবে।” (বুখারী-৩০৮৪) 

অন্যত্র নবীজী বলেন, “আল্লাহর রাস্তায় যে ব্যক্তি জোড়া বস্তু (অশ্ব, উট, কৃতদাস ইত্যাদি) সাদাকারূপে দান করল, কেয়ামতের দিন তাকে ডেকে বলা হবে, হে আল্লাহর বান্দা, এই হলো কল্যাণের দরজা..! নামাযীদেরকে নামাযের দরজা দিয়ে ডাকা হবে। মুজাহিদীনকে জিহাদের ফটক থেকে ডাকা হবে। রোযাদারদেরকে ‘রাইয়ান’ গেট থেকে আহ্বান করা হবে। সাদকাকারীদেরকে সাদকার জন্য নির্ধারিত দরজা থেকে ডাকা হবে। আবু বকর রা. বললেন, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হে আল্লাহর রাসূল! একজনকে সকল দরজা থেকে আহ্বানে কোনো অসুবিধে নেই তো! একজনকে সকল দরজা থেকে ডাকা হবে কি? নবীজী বললেন, হ্যাঁ.. আমি আশা করছি তুমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে!” (বুখারী-১৭৯৮)। 

প্রশ্ন 

, যে ব্যক্তি সকল এবাদত পালন করবে, তাকে কি 

সকল দরজা থেকে আহ্বান করা হবে? 

উত্তরঃ যে আমলটি তার থেকে অধিক ও সুচারুরূপে পালিত হবে, তাকে সেই দরজা থেকেই আহ্বান করা হবে।সেটি নামায হোক, রোযা হোক কিংবা অন্য কোনো এবাদত! 

প্রবেশকালে তাদের বয়স

 জান্নাতীগণ সুপরিণত বয়স অর্থাৎ তেত্রিশ বছর বয়সী অবস্থায় জান্নাতে প্রবেশ করবে। এ বয়সে তাদের যৌবন ও শক্তি-সামর্থ্য সুপরিণত হয়। 

 নবীজী বলেন, “জান্নাতীগণ কেশবিহীন দেহ, দাড়িবিহীন চেহারা ও চোখে সুরমা লাগানো অবস্থায় জান্নাতে প্রবেশ করবে। তারা হবে তেত্রিশ বছরের পরিণত যুবক।” (তিরমিযী-২৫৪৫) 

চিরযুবক, কখনো বৃদ্ধ হবে না 

.. 

 নবী করীম সা. বলেন, “জান্নাতীগণ কেশবিহীন দেহ, দাড়িবিহীন চেহারা ও চোখে সুরমা লাগানো অবস্থায় জান্নাতে প্রবেশ করবে। 

তাদের যৌবন বিলীন হবে না এবং তাদের পোশাক কখনো নোংরা হবে না।” (তিরমিযী-২৫৩৯)

 দেহ, আকৃতি ও সৌন্দর্যে কখনোই বার্ধক্যের ছাপ পড়বে না। কাপড় ময়লাযুক্ত হবে না; সর্বদা সুন্দর ও অপরিবর্তিত থাকবে। 

তাদের দৈর্ঘ্য 

জান্নাতীদের দেহগুলো দৈর্ঘ্য-প্রস্থে পরিপূর্ণ থাকবে, সুন্দর ও সুগঠনশীল দেহের অধিকারী হবে। 

নবী করীম সা. বলেন, “জান্নাতীগণ কেশবিহীন দেহ, দাড়িবিহীন চেহারা ও চোখে সুরমা লাগানো অবস্থায় জান্নাতে প্রবেশ করবে। তারা হবে তেত্রিশ বছরের পরিণত যুবক; ঠিক যেমন আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছিল, তার দৈর্ঘ্য ছিল ষাট এবং প্রস্থ ছিল সাত হাত।” (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা-৩৪০০৬)। তাদের চক্ষু হবে সুরমাযুক্ত, ত্বক হবে অতিমসৃণ, বর্ণ হবে শুভ্রতাসমৃদ্ধ, কেশগুচ্ছ হবে কোমল ও কুঁকড়ো। বয়সে তারা হবে তেত্রিশের পরিণত যুবক। দৈর্ঘ্য হবে ষাট ও প্রস্থ হবে সাত। হাত। যেন জান্নাতের নেয়ামতসমূহ উত্তমরূপে ভোগ করতে পারে। পূর্ণরূপে স্বাদ গ্রহণ করতে পারে। 

সৌন্দর্য,

 জান্নাতীদের সুখ বেড়ে যাবে, তাদের সুদর্শন চেহারা ও সুগঠিত দেহবয়বে..! 

জান্নাতের স্তরসমূহ 

জান্নাতের রয়েছে অনেকগুলো স্তর। আমল অনুযায়ী নির্ধারিত স্তরে তাদের নিবাস হবে। আল্লাহ বলেন, 

 “আর যারা তাঁর কাছে আসে ঈমানদার হয়ে এমতাবস্থায় যে সে সৎকর্ম সম্পাদন করেছে, তাদের জন্যে রয়েছে সুউচ্চ মর্তবা” (সূরা ত্বাহা-৭৫)।

অন্যত্র আল্লাহ বলেন, 

ولا يتوی ون من أنفق من قبل الفتح وقتل أوليك أعظم درجة الذين أنفو من بعد وقتلوا و وعد الله الحين وآله ماتملون 

بين الحديد: ۱۰ | 

“তোমাদের মধ্যে যে মক্কা বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে ও জেহাদ করেছে সে সমান নয়। এরূপ লোকদের মর্যাদা বড় তাদের অপেক্ষা, যারা পরে ব্যয় করেছে ও জেহাদ করেছে। তবে আল্লাহ উভয়কে কল্যাণের ওয়াদা দিয়েছেন। তোমরা যা কর, আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত।” (সূরা হাদীদ-১০)। 

* তবে কী সেই স্তরসমূহ?

* ব্যবধান কীরূপ?

 * স্তর উন্নীত করার উপায় কী? 

ভূমিকা

 জান্নাত হলো বিভিন্ন স্তর। মর্যাদা ও সুখ স্বাচ্ছন্দ্যের দিক থেকে সেগুলোতে অনেক ব্যবধান থাকবে। মুমিনগণ তাদের ঈমান ও তাকওয়ার ভিত্তিতে বিভিন্ন স্তরে উন্নীত হবে।

নবী করীম সা. বলেন, “নিশ্চয় জান্নাতবাসী তাদের উপরের স্তরের জান্নাতীদের ঘরসমূহ দেখতে পাবে, যেমন দুনিয়াতে তোমরা পূর্ব ও পশ্চিম দিগন্তে তারকারাজি দেখতে পাও! কৃত আমল অনুপাতে তাদের স্তরে এরকম তারতম্য হবে। সবাই বলল, হে আল্লাহর রাসূল, ওগুলো কি নবী রাসূলদের স্তর যেখানে অন্য কেউ পৌঁছুতে পারবে না? উত্তরে বললেন, ওই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, আল্লাহর ওপর ঈমান আনয়নকারী এবং রাসূলদের সত্যায়নকারী সকল ব্যক্তিবর্গই এ স্তরে পৌছুবে।” (বুখারী-৩০৮৩)। 

জান্নাতের একশত স্তর

 নবী করীম সা. সংবাদ দিয়েছেন যে, জান্নাতের একশটি স্তর রয়েছে। প্রতিটি স্তরের মাঝে বিস্তর ব্যবধান।নবীজী বলেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আনবে, নামায কায়েম করবে এবং রমযানের রোযা পালন করবে, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো আল্লাহর অধিকার হয়ে যাবে। চায় সে আল্লাহর পথে যুদ্ধ করুক কিংবা জন্মস্থানে বসে থাকুক! সকলেই বলল, হে আল্লাহর রাসূল, মানুষকে এ সম্পর্কে অবহিত করব? তিনি বললেন, নিশ্চয় জান্নাতে একশটি স্তর রয়েছে যেগুলো মুজাহিদীন (আল্লাহর পথের যুদ্ধাদের) জন্য তৈরি করেছেন। প্রতিটি স্তরের মাঝে আসমান-জমিনের ব্যবধান। তোমরা আল্লাহর কাছে চাইলে জান্নাতুল ফেরদাউস। চেয়ো! কারণ, সেটি হলো মধ্যবর্তী সর্বোচ্চ স্তরের জান্নাত। তার ওপর আমি আল্লাহর আরশ দেখেছি, যা থেকে জান্নাতের নিঝরিণীসমূহ প্রবাহিত।” (বুখারী-২৬৩৭) 

প্রশ্ন

 জান্নাতুল ফেরদাউস একইসাথে কীভাবে মধ্যবর্তী ও 

সর্বোচ্চস্তরের জান্নাত হতে পারে? 

উত্তরঃ এখানে মধ্যবর্তী বলতে সকল জান্নাতের মধ্যস্থলে অবস্থিত এবং অন্যান্য জান্নাতের তুলনায় তার স্তর উঁচু। কারণ, তার ছাদ হলো আল্লাহর আরশ। 

জিজ্ঞাসা 

এসকল উঁচুস্তরসমূহ কি কেবলই মুজাহিদীনের জন্য? 

উত্তরঃ উঁচুস্তরসমূহ কেবল মুজাহিদীনের জন্যই নয়; বরং সকল সফলকাম মুমিনদের জন্যও..! নবীজী বলেন, 

“জান্নাতে একশতটি স্তর রয়েছে, প্রতিটি স্তরের মাঝে একশত বছর ভ্রমণস্থলের ব্যবধান।” (তিরমিযী-২৫২৯) 

জান্নাতের অসংখ্য কানন

 হারেসা বিন ছুরাকা একজন আনসারী তরুণ সাহাবী। তার একটি চমৎকার ঘটনা বর্ণিত রয়েছে। উহুদের যুদ্ধে মুসলমানদের সাথে তিনিও অংশগ্রহণ করেছিলেন। যুদ্ধ শুরুর কিছুপূর্বে তিনি একটি কূপ থেকে পানি পান করতে গেলেন, হঠাৎ একটি তীর এসে তার গলদেশে আঘাত করলে সাথে সাথে তিনি শহীদ হয়ে যান। যুদ্ধশেষে নবীজী সঙ্গীদের নিয়ে যখন মদীনায় ফিরে এলেন, তখন হারেসা’র মাতা নবীজীর কাছে আসল, তিনি বয়োবৃদ্ধ, বয়সের ভারে হাড়গুলো নরম হয়ে গেছে, চলনে কষ্ট হচ্ছে। ছেলের মৃত্যুতে তিনি নিদারুণ ব্যথিত। তিনি এসে নবীজীকে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, হারেসার পরিণাম সম্পর্কে আমাকে বলুন, যদি সে জান্নাতে গিয়ে থাকে, তবে আমি সবর করব অন্যথায় অচিরেই আল্লাহ দেখবেন আমি কী করি! (অর্থাৎ আহাজারি ও রোনাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারি করে তুলব, মৃতের জন্য কান্নাকাটির বিষয়টি তখন পর্যন্ত নিষিদ্ধ ছিল না) নবীজী তাকে বললেন,“ধিক তোমার! তুমি কি পাগল হয়ে গেছ! সে তো একটি জান্নাত। নয়.. আটটি জান্নাত..! আর তোমার ছেলে জান্নাতুল ফেরদাউস লাভ করেছে!” (বুখারী-২৬৫৮) 

ন্যায়বিচার,

 মুমিনগণ তাদের আমল অনুপাতে জান্নাতের স্তরে উন্নীত হবে। 

জান্নাতের রক্ষীগণ 

জান্নাতের জন্য আল্লাহ তা’লা অসংখ্য রক্ষীও তৈরি করেছেন। 

* কারা সেই রক্ষী?

 * তারা কি ফেরেশতা?

 * তাদের সংখ্যা?

 * কী তাদের দায়িত্ব? 

ভূমিকা

জান্নাতের রক্ষী হিসেবে আল্লাহ তা’লা ফেরেশতাদের নিযুক্ত করেছেন। তারা জান্নাতীদেরকে সম্ভাষণ জানাবে, সংবর্ধনা দেবে। আল্লাহ বলেন, 

را حق إذا جاء وها 

ويق الذين اتقوا ربه إلى ألجت وحث أبوها وقال له ځنهال عليه طب فدوها 

و الزمر: ۷۳ 

ځليين 

“যারা তাদের পালনকর্তাকে ভয় করত তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন তারা উন্মুক্ত দরজা দিয়ে জান্নাতে পৌঁছাবে এবং জান্নাতের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে, তোমাদের প্রতি সালাম, তোমরা সুখে থাক, অতঃপর সদাসর্বদা বসবাসের জন্যে তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর।” (সূরা যুমার ৭৩) 

 নবী করীম সা. বলেন, “কেয়ামতের দিন আমি জান্নাতের ফটকের কাছে এসে তা খুলতে বলব, রক্ষী বলবে, কে তুমি? বলব, আমি মোহাম্মাদ! সে বলবে, আপনার জন্যই খোলার আদেশ হয়েছে; আপনার পূর্বে অন্য কারো জন্যে নয়!” (মুসলিম-৫০৭)

 বুঝা গেল, জান্নাতের অসংখ্য রক্ষী রয়েছে। পাশাপাশি নবী করীম সা. এর মর্যাদার বিষয়টিও স্পষ্ট হয়েছে। কেয়ামতের দিন তিনিই হবেন সকল বনী আদমের সরদার। 

তাদের সংখ্যা

 ফেরেশতাদের সঠিক সংখ্যা সম্পর্কে আল্লাহ ব্যতীত কেউ অবগত নয়। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, জান্নাতের অগণিত রক্ষী রয়েছে। সেখানে অবিরাম তারা তাদের দায়িত্ব পালন করে যাবে। কখনই তারা আল্লাহর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করবে না। 

তাদের দায়িত্ব

 তাদের দায়িত্ব হবে অনেক; কেউ কেউ জান্নাতীদের ইস্তেকবাল (সম্ভাষণ) ও সংবর্ধনা প্রদানের কাজে নিয়োজিত থাকবে। কেউ জান্নাতের দরজা উন্মোচনের কাজে থাকবে। কেউ কেউ জান্নাতীদের সেবায় তাদের দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। 

মর্যাদা দান,

 সম্মানিত ফেরেশতাবৃন্দ মুমিনদের সেবায় নিয়োজিত থাকবে, মুমিনদের জন্য এতো এক বিরাট মর্যাদার বিষয়..! 

জান্নাতের ভিত্তি এবং অবকাঠামো 

জান্নাতীগণ পরম সুখ ও অগণিত ভোগ বিলাসে মত্ত থাকবে। বহমান নিঝরিণী, পাকা ফল-মূল, মোতিখচিত তাবু, স্বর্ণরূপার ঘর.. সুখময় হোক তাদের জান্নাতী জীবন..! 

* জান্নাতে ঘরবাড়ীর ভিত্তি কী হবে?

* জান্নাতে নির্মিত পাথরগুলো কীসের হবে? 

ভূমিকা 

সাহাবীগণ প্রায়ই নবীজীর কাছে জান্নাতের বিবরণ চাইতেন, নবীজীও তাদেরকে জান্নাতের বিবরণ শুনাতেন।আবু হুরায়রা রা. বলেন, আমরা বললাম হে আল্লাহর রাসূল! যখন আমরা আপনার কাছে থাকি, তখন আমাদের অন্তর নম্র থাকে, আখেরাত আমাদের সামনে থাকে। কিন্তু যখনই আপনার থেকে পৃথক হয়ে যাই, দুনিয়া আমাদের কাছে ভালো লাগতে থাকে, স্ত্রী-সন্তানের সাহচর্য উপভোগ্য মনে হয়। তিনি বললেন, আমার কাছে থাকাবস্থায় তোমাদের যে অবস্থা থাকে, তা যদি সবসময় থাকত তবে তো ফেরেশতাগণ এসে তোমাদের হাত ধরে মুসাফাহা করত। ঘরে থাকাবস্থায় তোমাদের দ্বারা যদি অপরাধ না হয়, তবে আল্লাহ এমন সম্প্রদায় নিয়ে আসবেন, যারা অপরাধ করবে, যেন আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করে দেন। (সহীহ ইবনে হিব্বান-১৬/৭৩৮৭) 

জান্নাতের ভিত্তি

আবু হুরায়রা রা. বলেন, আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, আমাদেরকে জান্নাত ও তার বসত সম্পর্কে বলুন, তিনি বলতে লাগলেন, একটি ইট স্বর্ণের এবং আরেকটি ইট রূপার। যার প্রলেপ হবে ঘনসুগন্ধিযুক্ত কস্তুরী। যার পাথরগুলো হবে মণিমুক্তা ও মোতিখচিত। যার মাটি হবে জাফরান। যে তাতে প্রবেশ করবে, সে চিরসুখী; কখনই সে বিতৃষ্ণ হবে না। চিরকাল বসবাস করবে, কখনই মৃত্যুবরণ করবে না। পোশাক কখনই ময়লাযুক্ত হবে না। যৌবনে কখনই ভাটা পড়বে না।” (সহীহ ইবনে হিব্বান-১৬/৭৩৮৭) 

 নবীজী আরও বলেন, “নিশ্চয় জান্নাতের দেওয়ালের একটি ইট স্বর্ণের, অপরটি রূপার (স্থাপিত থাকবে)” (আল-বাছু ওয়াল্লুশুর বায়হাকী- ২৪৬) 

পরম সুখ, 

জান্নাতের ভিত্তি স্বর্ণরূপা, মণিমুক্তা ও মোতিখচিত.. যাতে জান্নাতীদের আরাম-আয়েশ দৃষ্টিনন্দন হয়। 

জান্নাতের কক্ষ তাবুসমগ্র 

জান্নাতে থাকবে সুশোভিত প্রাসাদ ও অট্টালিকা। আল্লাহ বলেন, 

و لكن الذين قوات الفرق بين فقهار بنية تجري من تحتها 

أنه وعد له لايخله آله الميعادن که الزمر:20 

“কিন্তু যারা তাদের পালনকর্তাকে ভয় করে, তাদের জন্যে নির্মিত রয়েছে প্রাসাদের ওপর প্রাসাদ। এগুলোর তলদেশে নদী প্রবাহিত। আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আল্লাহ প্রতিশ্রুতির খেলাফ করেন না।” (সূরা যুমার-২০)। 

* প্রাসাদের আকৃতি কীরূপ?

 * কারা তাতে বসবাস করবে?

 * তাবুসমূহ কোথায় স্থাপিত হবে? 

ভূমিকা

 সৎকর্মীদের পুরস্কার আল্লাহ বিনষ্ট করবেন না। তাদের জন্য প্রস্তুত থাকবে সুউচ্চ বাড়ী। একটির ওপর একটি। যার তলদেশে নদ-নদী প্রবাহিত হবে। আল্লাহ বলেন, 

و أقولك ولا أولكر بالی تقر عندنا فى إلا من ءامن 

ماعلوا وهم في المحترفين 

ص كا ولك له جراء الضعيف 

وعمل و اموت ( که سبأ: ۳۷ 

“তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তোমাদেরকে আমার নিকটবর্তী করবে না। তবে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, তারা তাদের কর্মের বহুগুণ। প্রতিদান পাবে এবং তারা সুউচ্চ প্রাসাদে নিরাপদে থাকবে।” (সূরা সাবা-৩৭)

 সৎকর্ম অনেক..! যে ব্যক্তি টাকা ব্যয় করে মসজিদ নির্মাণ করবে, কুরআন বিতরণ করবে, এতিমের ভরণপোষণ করবে, সন্তানকে হাফেজ, আলেম ও আল্লাহর পথের আহ্বায়করূপে গড়ে তুলবে, তার সম্পদ ও সন্তানই তার উপকারে আসবে। বরং সৎকর্মের প্রতিফল দশগুণ থেকে সাতশতগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে দেওয়া হবে। প্রতিদানস্বরূপ তাকে জান্নাত দেওয়া হবে। সেখানে সে মনোচাহিদা অনুযায়ী পরম সুখে জীবনযাপন করবে। 

প্রাসাদগুলোর বাসিন্দানের বৈশিষ্ট্য

 তাদের কৃতকর্মের বিবরণ নবী করীম সা. এভাবে দিয়েছেন,  “নিশ্চয় জান্নাতে এরকম অনেক প্রাসাদ থাকবে যেগুলো ভেতর। থেকে বাইরে এবং বাইরে থেকে ভেতরে দেখা যাবে। এগুলো আল্লাহ তালা প্রস্তুত করেছেন ওই সকল ব্যক্তিদের জন্য, যারা খাদ্যদান করবে, অধিক পরিমাণে সালাম বিনিময় করবে এবং মানুষের নিদ্রামুহূর্ত শেষরাত্রিতে আল্লাহর এবাদত করবে।” (ইবনে হিব্বান-২/২৬২)। 

অর্থাৎ জান্নাতে কিছু প্রাসাদ থাকবে এরকম, যেগুলো হবে অত্যন্ত স্বচ্ছ ও পরিষ্কার। এগুলো আল্লাহ তৈরি করেছেন তাদের জন্যে, যারা কথাবার্তায় বিনম্র হবে, মানুষের প্রতি দয়াশীল হবে, মানুষকে কষ্ট দেবে না, মনে আঘাত করবে না, কেউ কষ্ট দিলে সৎচরিত্র দিয়ে তার মন জয় করে নেবে। তেমনি যারা অপরকে খাদ্যদান করবে, ধনী-গরীব, মিসকীন ও সাধারণ-অসাধারণ সকলকে খাবার দেবে। শেষরাত্রিতে যখন সকল মানুষ গভীর নিদ্রায় আচ্ছন্ন থাকে, তখন আল্লাহর এবাদতে মশগুল থাকবে, আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি ও ক্ষমাপ্রার্থনা করবে। 

জিজ্ঞাসা 

জান্নাতীগণ কীভাবে তাদের বসত চিনবে? 

উত্তরঃ জান্নাতীগণ জান্নাতে প্রবেশের পরপরই নিজ নিজ বাসস্থান চিনে ফেলবে। যেমনটি আল্লাহ তা’লা বলেন, 

“যারা আল্লাহর পথে শহীদ হয়, আল্লাহ কখনই তাদের কর্ম বিনষ্ট করবেন না। তিনি তাদেরকে পথপ্রদর্শন করবেন এবং 

তাদের অবস্থা ভালো করবেন। অতঃপর তিনি তাদেরকে জান্নাতে দাখিল করবেন, যা তাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন।” (সূরা মুহাম্মাদ ৪-৬) 

অর্থাৎ জান্নাতে প্রবেশের পর তাদেরকে তাদের বাসস্থান জানিয়ে দেবেন। 

 নবী করীম সা. বলেন, “মুমিনগণ ‘সিরাত অতিক্রম করার পর জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী একটি সেতুতে তাদের আবদ্ধ করা হবে, সেখানে তাদের পারস্পরিক সোস ও দুনিয়াতে তাদের পাওনা পরিশোধ করা হবে। পরিশেষে সকলেই যখন স্বচ্ছ ও ত্রুটিমুক্ত হয়ে যাবে, তখন তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। ওই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, জান্নাতীগণ তাদের বাসস্থান চিনতে পারবে, ঠিক যেমন দুনিয়াতে তাদের ঘরসমূহ চিনে থাকে।” (বুখারী-৬১৭০) 

জান্নাতের তাঁবুসমূহ

বসবাসস্থল একাধিক ও ভিন্নভিন্ন হলে বসবাসকারী আনন্দ পায়, কোনোসময় স্বর্ণরোপাখচিত প্রাসাদে আবার কোনোসময় শরাবের নদ-নদীসমূহের পাশে নির্মিত তাবুতে পরিবার ও বান্ধবদের নিয়ে আনন্দ-ফুর্তিতে মগ্ন থাকবে। তাবুগুলো প্রাসাদের ভেতরে নয়; বরং সম্পূর্ণ পৃথক স্থানে নির্মিত হবে। 

নবীজী বলেন, “নিশ্চয় মুমিনের জন্য জান্নাতে মোতিখচিত তাবু নির্মিত হবে, যার দৈর্ঘ্য হবে ষাট মাইল। সেখানে মুমিনের একাধিক পরিবার থাকবে, এক পরিবার অন্য পরিবারকে দেখতে পাবে না।” (মুসলিম-৭৩৩৭)। 

তিনি আরও বলেন, 

“নিশ্চয় তাবু হবে মোতিখচিত, যার দৈর্ঘ্য হবে ষাট মাইল, তাবুর প্রতিটি পার্শ্বে মুমিনের ভিন্নভিন্ন পরিবার থাকবে, যাদেরকে অন্য পরিবারগণ দেখতে পাবে না।” (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা ১৩/১০)

 দুনিয়াতে আরব বেদুইনদের নির্মিত তাবু চতুষ্কোণ ও মোটা চাদরে নির্মিত হয়। তাঁবুর বিবরণ কুরআনেও বর্ণিত হয়েছে, 

– 

“তাঁবুতে অবস্থানকারিণী হুরগণ।” (সূরা আর-রাহমান-৭২) অবশ্যই জান্নাতের সেই সুউচ্চ মনোমুগ্ধকর তাঁবুগুলোতে পালঙ্ক ও ফার্নিচার থাকবে..! 

জান্নাতের পালঙ্ক সোফা

 জান্নাতের সুসজ্জিত চৌকাঠ, দৃষ্টিনন্দন পালঙ্ক, সুশোভিত সোফা দেখে মুমিন তুষ্ট হয়ে যাবে। কুরআনুল-কারীমে আল্লাহ তা’লা  এসব কিছুরই প্রশংসনীয় বিবরণ উল্লেখ করেন, 

“তথায় থাকবে উন্নত ও সুসজ্জিত আসন, সংরক্ষিত পানপাত্র, সারি সারি গালিচা এবং বিস্তৃত বিছানো কার্পেট।” (সূরা গাশিয়া ১৩-১৬) 

সম্মান,

মানুষের রুচিবোধ ও স্বভাব যেমন ভিন্নরকম, তেমনি জান্নাতের প্রাসাদ ও তাঁবুগুলোও ভিন্নরকম থাকবে। 

জান্নাতের সুঘ্রাণ 

জান্নাতের সুবাস ও সুগন্ধি জান্নাতের বাইরে পর্যন্ত অনুভূত হবে। মুমিনগণ অনেক দূর থেকেই জান্নাতের সুঘ্রাণ পাবেন। কতিপয় অপরাধী জান্নাত তো দূরে থাক, জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না। 

* কোন অপরাধ জান্নাতের সুঘ্রাণ থেকে বঞ্চিত করে?

 * তাহলে কি তারা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না? 

* তারা কি চিরকাল জাহান্নামে থাকবে? 

ভূমিকা

 নবী করীম সা, কতিপয় অপরাধের বিবরণ দিয়েছেন, যাতে লিপ্ত ব্যক্তিরা জান্নাতের সুঘ্রাণ পর্যন্ত পাবে না। যেমন, মদ্যপ, খোটাদানে অভ্যস্ত .. ইত্যাদি। তারা কাফের নয়; বরং অপরাধের দরুন তাদের জন্য এ এক চরম হুমকি। বিচার ও শাস্তি শেষে তারা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারে ঠিক; তবে জান্নাতের সুঘ্রাণ থেকে বঞ্চিত থেকে যাবে। 

জান্নাতের সুঘ্রাণ হতে বঞ্চিত অপরাধী 

() মদ্যপ

 মদ হলো সকল অপরাধের মূল। সকল অশ্লীলতার জনক। দুনিয়াতে যে মদপান করবে, আখেরাতে সে জান্নাতের শরাব থেকে বঞ্চিত। হবে। দুনিয়াতে যে মদপান করবে, আখেরাতে আল্লাহ তাকে ত্বীনাতুল খাবাল’ পান করাবেন। 

 “জিজ্ঞেস করা হলো, ত্বীনাতুল খাবাল’ কী? বললেন, জাহান্নামীদের দেহনির্গত পুঁজ।” (মুসনাদে আহমদ)। মদ্যপ কেয়ামতের দিন জান্নাতের সুবাস পাবে না। তবে যদি মৃত্যুর পূর্বে তাওবা করে নেয় এবং আল্লাহ তার তাওবা কবুল করে থাকেন, তাহলে ভিন্ন কথা..! 

() মানুষকে প্রহারে অভ্যস্ত বস্ত্রবাহী নগ্ন নারী

 নবী করীম সা. বলেন, “আমার উম্মতের জাহান্নামী দু’টি দল এখনো আমি দেখিনি; একদলের সাথে ষাঁঢ়ের লেজসদৃশ চাবুক থাকবে, যা দিয়ে তারা মানুষকে প্রহার করবে। অপরদল বস্ত্রবাহী নগ্ন নারী সম্প্রদায়, যারা নিজেরাও হেলেদুলে থাকবে এবং অন্যদেরও আকৃষ্ট করবে, তাদের মাথা হবে একপেশে লম্বা স্কন্ধবিশিষ্ট উষ্ট্রীর কুঁজের মতো; জান্নাত দূরের কথা, জান্নাতের সুঘ্রাণও তারা পাবে। না, অথচ জান্নাতের সুগন্ধি তো এত এত দূর থেকেই অনুভব করা যায়।” (মুসলিম-৫৭০৪) উপরোক্ত হাদিসে নবীজী অন্যায়ভাবে মানুষকে প্রহার করা থেকে সতর্ক করেছেন। 

 তেমনি সতর্ক করছেন নারী সম্প্রদায়কেও, যারা আল্লাহর। 

আদেশ পর্দা ছেড়ে দিয়ে নিজেদের অর্ধনগ্ন দেহগুলো প্রদর্শন করে থাকে। 

() জিম্মিকে নির্যাতন

 জিম্মি হলো, যার জিম্মাদারী (নিরাপত্তার দায়িত্ব) মুসলিমগণ গ্রহণ করেছেন। সে খৃষ্টান হোক কিংবা ইহুদী। তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা যাবে। না, তাকে নির্যাতন করা যাবে , তার অধিকার খর্ব করা যাবে না।

নবী করীম সা. বলেন, “. তবে কেউ যদি জিম্মীকে নির্যাতন করে, তার অধিকার খর্ব করে, সামর্থ্যের ঊর্ধ্বে তার ওপর। চাপিয়ে দেয় কিংবা অন্যায়ভাবে তার কাছ থেকে কিছু ছিনিয়ে নেয়, তবে কেয়ামতের দিন আমি নিজে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেব। অতঃপর নবীজী স্বীয় বক্ষের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, জেনে রেখ, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তার রাসূল কর্তৃক নিরাপত্তা প্রদানকৃত ব্যক্তিকে হত্যা করল, তার ওপর আল্লাহ জান্নাতের। সুঘ্রাণ পর্যন্ত হারাম করে দেবেন; অথচ জান্নাতের সুঘ্রাণ তো সত্তর বৎসর ভ্রমণ দূরত্ব স্থল থেকেও অনুভব করা যায়।” (সুনানুল কুবরা-৯/২০৫) 

() পিতামাতার অবাধ্যতা

 পিতা-মাতার অবাধ্যতা একটি চরম গর্হিত অপরাধ। আল্লাহ তা’লা নিজের অধিকারের সাথে সাথে পিতা-মাতার অধিকার জুড়ে দিয়ে বলেছেন, 

وقضى ربك ألا تعبدوا إلا إياه وبالوالدين إځان الإسراء: 23 

“তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারো এবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার কর।” (সূরা ইসরা-২৩)

 অন্য আয়াতে আল্লাহ নিজের কৃতজ্ঞতার পাশাপাশি পিতা-মাতার। কৃতজ্ঞতা আদায়েরও আদেশ করেছেন, 

أن آشلي ولوالديك إلى الميرة 

لقمان: ۱۶ 

“নির্দেশ দিয়েছি যে, আমার প্রতি ও তোমার পিতা-মাতার প্রতি কুতজ্ঞ হও!” (সূরা লুকমান-১৪)

 পিতা-মাতার আনুগত্য উভয়জগতে সৌভাগ্যশীল হওয়ার পথ। 

নবী করীম সা. বলেন, “যে চায় তার রিযিকে বরকত হোক এবং তার সুনাম বৃদ্ধি পাক; সে যেন আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখে।” (বুখারী-১৯৬১)। 

() খোটাদানকারী কৃপণ

 পর্যাপ্ত ধন-সম্পদ থাকা সত্ত্বেও দান খয়রাতে। সংকোচ বোধকারীকে ‘কৃপণ’ বলা হয়। যে মেহমানের আপ্যায়নে অনিহা দেখায়, আত্মীয়দেরকে অবহেলা করে, সেই প্রকৃত কৃপণ। ব্যয়কুণ্ঠতা এক মারাত্মক ব্যাধি। পক্ষান্তরে খোটাদানকারী দান করার পর বারবার দানের কথা বলে। বারবার তা স্মরণ করিয়ে দানপ্রাপ্তকে ছোট করে।  নবী করীম সা. বলেন, “তিন ধরণের ব্যক্তি জান্নাতের সুঘ্রাণপ্রাপ্ত হবে না; অথচ জান্নাতের সুবাস তো পাঁচশত বছর দূর থেকেই অনুভব করা যায়- পিতা-মাতার অবাধ্য, মদ্যপ এবং খোটাদানকারী কৃপণ।” (তাহযীবুল আছার-১৫৬৬)। 

প্রশ্ন

  এক হাদিসে সত্তর বছর দূরত্ব এবং অন্য হাদিসে পাঁচশত বছর দূরত্বের কথা বলা হয়েছে; এতদুভয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য কী করে সম্ভব? 

উত্তরঃ জান্নাতের সুঘ্রাণ পাওয়া ব্যক্তির ঈমান ও আমলের সাথে সম্পৃক্ত। কেউ কেউ বহু দূর থেকেই সুঘ্রাণ পেয়ে যাবে, আবার অনেকে খুব কাছে গিয়ে সুঘ্রাণ পাবে। এটি ব্যক্তির ঘ্রাণশক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়। আল্লাহ আমাদের সকলকে জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত করুন..! 

প্রার্থনা,

 আল্লাহ সকলকে জাহান্নাম থেকে বাঁচিয়ে জান্নাতবাসীর অন্তর্ভুক্ত করুন..! 

জান্নাতের বৃক্ষ ফলমূল 

জান্নাতের সবুজ শ্যামল দৃশ্য এবং হাজারো স্বাদ ও বর্ণসম্বলিত ফল-মূল জান্নাতীর চোখ জুড়িয়ে দেবে। স্বয়ং আল্লাহ তা’লা 

জান্নাতের ফল-মূলের প্রশংসা করে বলছেন, 

“যারা ডান দিকে থাকবে, তারা কত ভাগ্যবান! তারা থাকবে কাঁটাবিহীন বদরিকা বৃক্ষে এবং কাঁদি কাঁদি কলায়, দীর্ঘ ছায়ায়, প্রবাহিত পানিতে এবং প্রচুর ফল-মূলে।” (সূরা ওয়াকিআ ২৭ ৩১) অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, 

قوات أقاي دكة الرحمن: ۶۸ 

“উভয় উদ্যানই ঘন শাখা-পল্লববিশিষ্ট।” (সূরা আররাহমান-৪৮) আরও বলেন, 

فيهما فكه ونخل وما هو الرحمن: ۹۸ 

“তথায় আছে ফল-মূল, খর্জুর ও আনার।” (সূরা আররাহমান ৬৮) 

জান্নাতের বৃক্ষসমূহ হবে সুবিস্তর ছায়াদার ও দৃষ্টিনন্দন। 

নবীজী বলেন, “নিশ্চয় জান্নাতে একটি বৃক্ষ এমন, আরোহী যা একহাজার বৎসর পর্যন্ত চলেও অতিক্রম করতে পারবে না। চাইলে এই আয়াতটি পাঠ কর- “সুদীর্ঘ ছায়াবিশিষ্ট” (সূরা 

ওয়াকিআ-৩০) (বুখারী-৪৮৮১) 

বারা বিন আযিব রা. নিম্নোক্ত আয়াত পাঠ করলেন, “তার বৃক্ষছায়া তাদের ওপর ঝুঁকে থাকবে এবং তার ফলসমূহ তাদের আয়ত্তাধীন রাখা হবে।” (সূরা ইনসান-১৪) এবং বললেন, জান্নাতবাসী সেই বৃক্ষের ফল-মূল দাঁড়িয়ে, বসে, শুয়ে.. যেকোনো অবস্থায় চায়- খেতে পারবে।” (আল-বাছু ওয়াল্লুশুর। বায়হাকী-২৭৩) 

স্বাদ,

 দুনিয়াতে আহার করি ক্ষুধা নিবারণকল্পে, তবে আখেরাতে ভোজন কেবলই স্বাদ ও ভোগের নিমিত্তে। 

জান্নাতীদের খাদ্য 

জান্নাতীদের জন্য ফল-মূল ও পাখির গোশত তৈরি থাকবে। সেখানে তারা যা খেতে চাইবে, তাই পাবে। সুদর্শন বালকবৃন্দ খাদ্য নিয়ে তাদের আশপাশে প্রদক্ষিণ করতে থাকবে। 

* খাদ্যের প্রকৃতি কীরূপ?

 * প্রকারগুলো কী কী?

 * আহারের পর দেহে কীরূপ প্রতিক্রিয়া অনুভূত হবে? 

ভূমিকা 

সুস্বাদু খাদ্য জীবনকে সুন্দর ও রঙিন করে তুলে। সুস্বাস্থ্য অর্জিত হয়। জান্নাতের খাদ্যগুলো হবে অধিক সুস্বাদু ও নয়ন প্রীতিকর। সরবরাহ ও পরিবেশনের দায়িত্বে নিয়োজিত সুশ্রী বালকদের দেখে খাদ্যের প্রতি আকর্ষণ আরো বেড়ে যাবে। 

জান্নাতের ফলমূল

 আল্লাহ বলেন, 

“এবং প্রচুর ফল-মূল, যা শেষ হবার নয় এবং নিষিদ্ধও নয়।” (সূরা ওয়াকিআ ৩২-৩৩)

 একদা নবী করীম সা. সূর্যগ্রহণের নামায পড়ছিলেন। নামায শেষে বললেন, “নিশ্চয় চন্দ্র-সূর্য আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দু’টি নিদর্শন। যা কারো মৃত্যু বা জীবনপ্রাপ্তিকে কেন্দ্র করে গ্রহণ হয় না; যখন। তোমরা তা দেখতে পাও, তখন আল্লাহকে স্মরণ কর। সবাই বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা দেখলাম আপনি নামাযে হাত বাড়িয়ে কী যেন ধরতে চাচ্ছিলেন, এরপর কী মনে করে যেন হাত পেছনে নিয়ে আসলেন। উত্তরে তিনি বললেন, তখন আমি জান্নাত দেখছিলাম, সেখান থেকে একগুচ্ছ ফল নিতে চাচ্ছিলাম। যদি নিতে পারতাম, তবে কেয়ামত পর্যন্ত তোমরা তা থেকে আহরণ করতে পারতে।” (বুখারী-১০০৪) জান্নাতে বৃক্ষের ফল-মূল তাদের হাতের কাছে থাকবে। আল্লাহ বলেন, 

وداني ليه طاولت طواليلاه 

الإنسان: ۱۶ 

“তার বৃক্ষছায়া তাদের ওপর ঝুঁকে থাকবে এবং তার ফলসমূহ তাদের আয়ত্তাধীন রাখা হবে।” (সূরা ইনসান-১৪) 

তাদের শ্বাসপ্রশ্বাস হবে তাছবিহ 

জান্নাতীগণ সর্বদা তাছবিহ-তাহমিদ (ছুবহানাল্লাহ ও আলহামদুলিল্লাহ) পাঠ করবে। সেখানে পানাহার করবে, তবে মল-মূত্র ত্যাগ করবে না।নবী করীম সা. বলেন, “জান্নাতীগণ জান্নাতে খাবে, পান করবে; তবে মল-মূত্র ত্যাগ করবে না, নাক ঝাড়বে না। এক ঢেকুরে তাদের খাদ্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গে প্রবাহিত হয়ে মিশকের সুগন্ধি ছড়াবে। শ্বাস-নিশ্বাসের মতো তারা তাছবিহ-তাহমিদ পাঠ করবে।” (মুসলিম-৭৩৩৩)

 জান্নাতীগণ সর্বদা তাছবিহ-তাহমিদ পাঠ করবে, আল্লাহর প্রতি তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে। এজন্য অতিরিক্ত কষ্ট করতে হবে না, বরং শ্বাস-নিশ্বাসের মতোই সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুখ থেকে বের হতে থাকবে। 

জান্নাতীদের প্রথম খাদ্য

 কী হবে মুমিনদের প্রথম খাদ্য? 

 আব্দুল্লাহ বিন সালাম রা. বলেন, আমি যখন ইসলাম গ্রহণে আগ্রহী হলাম, তখন নবী করীম সা. এর কাছে এসে বললাম, আমি আপনাকে কিছু প্রশ্ন করতে চাই। তিনি বললেন, যা মনে উদয় হয়, জিজ্ঞেস কর! বললাম, জান্নাতীদের প্রথম খাদ্য কী হবে? (দীর্ঘ হাদিসের শেষাংশে) নবীজী উত্তরে বলেন, মাছের কলিজা সংলগ্ন অতিরিক্ত অংশ।” (মুসনাদে আহমদ-১২৩৮৫)। 

সাওবান রা. বলেন, “একবার আমি নবী করীম সা. এর সন্নিকটে দাঁড়িয়ে ছিলাম, এমনসময় এক ইহুদী পণ্ডিত এসে বলল, তোমার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক হে মুহাম্মাদ! একথা শুনে আমি তাকে স্বজোরে ধাক্কা দিলাম, এমনকি সে পড়ে যাবার উপক্রম হলো। সে বলল, আমাকে ধাক্কা দিচ্ছ কেন? বললাম, তুমি হে আল্লাহর রাসূল’ বলতে পার না? ইহুদী বলল, তার পরিবার তাকে যে নাম দিয়েছে, সে নামেই তো আমি ডাকলাম! নবীজী বললেন, আমার পরিবারের দেওয়া নাম হলো মোহাম্মাদ! ইহুদী বলল, আমি আপনাকে কিছু প্রশ্ন করতে এসেছি। নবীজী বললেন, আমি যদি উত্তর দেই, তবে কি তোমার কোনো উপকারে আসবে? সে বলল, আমি দুই কান দিয়ে শুনব! একথা শুনে নবীজী তার লাঠি দিয়ে ইহুদীকে গুঁতো দিয়ে বললেন, জিজ্ঞেস কর! ইহুদী বলল, যেদিন পৃথিবীকে পরিবর্তিত করা হবে অন্য পৃথিবীতে, সেদিন মানুষ কোথায় থাকবে? নবীজী বললেন, সেসময় তারা সিরাত-এর পেছনে ঘোর অন্ধকারে অবস্থান করবে। ইহুদী বলল, সর্বপ্রথম কাদেরকে (সিরাত পার হওয়ার পর জান্নাতে প্রবেশের) অনুমতি দেওয়া হবে? বললেন, দরিদ্র মুহাজিরদেরকে! ইহুদী বলল, জান্নাতে প্রবেশের পর সর্বপ্রথম প্রদেয় উপঢৌকন কী হবে? বললেন, মাছের কলিজা সংলগ্ন অতিরিক্ত অংশ! বলল, অতঃপর তাদের খাদ্য কী হবে? বললেন, জান্নাতের ষাঁড় জবাই হবে, তারা তার অঙ্গের গোশত ভক্ষণ করবে। বলল, তাদের পানিয় কী হবে? বললেন, ছালছাবীল ঝর্ণা থেকে। সে বলল, আপনি সত্যই বলেছেন!” (মুসলিম-৭৪২)। 

প্রশ্ন 

মল-মূত্র যদি না-ই ত্যাগ করে, তবে এতসব খাদ্য 

যাবে কোথায়?

 উত্তরঃ জান্নাতে অপবিত্র ও আবর্জনা বলতে কিছুই থাকবে না। আহারকৃত খাদ্য এক ঢেকুরে সারা দেহে ছড়িয়ে মিশকের সুঘ্রান ছড়াবে। 

 নবী করীম সা. বলেন, “জান্নাতী একজনকে পানাহার ও যৌনচাহিদা পূরণে একশতজনের সম-ক্ষমতা দেওয়া হবে। তখন এক ইহুদী বলল, পানাহার করলে তো মল-মূত্র ত্যাগের প্রয়োজন হয়! তখন নবীজী বললেন, এক ঢেকুরে তাদের খাদ্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গে প্রবাহিত হয়ে মিশকের সুগন্ধি ছড়াবে।” (মুসলিম ৭৩৩৩) 

প্রস্তুতকৃত খাদ্য

 খাদ্য বা পানিয় তৈরির কষ্ট করতে হবে না। 

ইবনে মাসউদ রা. বলেন, “জান্নাতে তুমি পাখির দিকে তাকাবে, মনে মনে তা আহারের সংকল্প করলে সাথে সাথে তা ভূনা হয়ে তোমার সামনে চলে আসবে।” (মুসনাদে বাযযার) 

নাম অভিন্ন, স্বাদ ভিন্ন 

জান্নাতের খাদ্যের একটি ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য হলো, জান্নাতী ব্যক্তি একদিন এক ফল খাবে, একরকম স্বাদ পাবে, অন্যদিন একই ফল খাবে তো ভিন্ন স্বাদ অনুভব করবে। কত সুন্দর বিবরণ দিয়েছেন আল্লাহ কুরআনে, 

نور الزين امووو الصلحي أن لهجتي تجرى من 

مرة مما قالو هذا الذي 

لما يرويها من 

تحتها لأنه 

وهم 

زقنا من قبل وأثوابه تيها ولهم فيها أزوج طق 

فيهاخوت ( که البقرة: 25 

“আর হে নবী, যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজসমূহ করেছে, আপনি তাদেরকে এমন জান্নাতের সুসংবাদ দিন, যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবহমান থাকবে। যখনই তারা খাবার হিসেবে কোনো ফল প্রাপ্ত হবে, তখনই তারা বলবে, এ তো অবিকল সে ফলই যা আমরা ইতিপূর্বে লাভ করেছিলাম। বস্তুতঃ তাদেরকে একই প্রকৃতির ফল প্রদান করা হবে। এবং সেখানে তাদের জন্য শুদ্ধচারিনী রমণীকুল থাকবে। আর সেখানে তারা অনন্তকাল অবস্থান করবে।” (সূরা বাক্বারা-২৫)

 দেখতে অভিন্ন, স্বাদ ভিন্ন!! 

চিরস্থায়ী খাদ্য 

কোনোসময় সেখানে খাদ্যের ঘাটতি দেখা দেবে না। আল্লাহ 

বলেন, 

“খোদাভীরুদের জন্য প্রতিশ্রুত জান্নাতের অবস্থা এই যে, তার নিম্নে নিঝরিণীসমূহ প্রবাহিত হয়। তার ফলসমূহ চিরস্থায়ী এবং ছায়াও। এটা তাদের প্রতিদান যারা সাবধান হয়েছে এবং কাফেরদের প্রতিফল অগ্নি।” (সূরা রা’দ-৩৫)

 অন্যত্র আল্লাহ বলেন, 

“এটা আমার দেওয়া রিযিক যা শেষ হবার নয়।” (সূরা ছাদ ৫৪) 

আরও বলেন, 

“এবং প্রচুর ফল-মূলে, যা শেষ হবার নয় এবং নিষিদ্ধও নয়।” (সূরা ওয়াকিআ-৩২-৩৩) 

হে আল্লাহ! আমাদেরকে জান্নাতবাসী করুন..! 

জ্ঞান, 

মানুষের চাহিদা বিচিত্র, 

তাই জান্নাতেও তাদের জন্য আল্লাহ সেরকমই ব্যবস্থা রেখেছেন! 

জান্নাতীদের পানিয় 

জান্নাতীদের ভোগ-বিলাসে পূর্ণতা দেবে তাদের পানিয়। খাদ্য সুস্বাদু পানিয় চায় যা আহারকে পরিপূর্ণ করে তুলে, খাদ্যের হজমক্রিয়া সহজ করে দেয়। আল্লাহ তা’লা জান্নাতীদের পানীয়ের বিবরণ দিয়ে মানুষকে তা লাভে উৎসাহ দিয়েছেন। 

* কী হবে তাদের পানিয়? 

* কী মিশ্রিত হবে তা? 

* পানপাত্রের ধরণ কী হবে? 

ভূমিকা

 কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তালা মুমিনদের পান করার বিবরণ দিয়ে বলেছেন, 

و إن الأبراريشون من كأس كان مزاجها كافران عينا يشرب بها عباد اله يفجرونها تفجيراثه الإنسان: 5-6 | 

“নিশ্চয়ই সৎকর্মশীলরা পান করবে কাফুর মিশ্রিত পানপাত্রে। এটি একটি ঝর্ণা, যা থেকে আল্লাহর বান্দাগণ পান করবে- তারা একে প্রবাহিত করবে।” (সূরা ইনসান ৫-৬)। 

যখন ইচ্ছা তারা তা পান করতে পারবে। অর্থাৎ যেদিকে ইচ্ছা সেদিকেই তারা নদীর গমনপথ তৈরি করে দিতে পারবে। আল্লাহ বলেন, 

“তাদেরকে সেখানে পান  করানো হবে ‘যানজাবীল’ মিশ্রিত পানপাত্র। এটা জান্নাতস্থ সালসাবীল’ নামক একটি ঝর্ণা।” (সূরা ইনসান ১৭-১৮)

 একবার কাফুর মিশ্রিত, আরেকবার যানজাবীল (আদা) মিশ্রিত শরাব তাদেরকে পান করতে  দেওয়া হবে।কারণ, আদা হলো ঝাল আর কাফুর হলো মিষ্টি (ঝাল নিবারক)। সুঘ্রাণযুক্ত হওয়ায় সাধারণত মানুষ আদা মিশ্রিত পানিয় পান করতে পছন্দ করে। 

পবিত্র পানিয় 

আল্লাহ বলেন, 

** 

“তাদের পালনকর্তা তাদেরকে পান করাবেন ‘পবিত্র শরবত।” (সূরা ইনসান-২১) 

হ্যাঁ.. এমন পবিত্র শরবত, যা তাদের পেট ও আত্মাকে হিংসা বিদ্বেষ ও অশ্লীলতা থেকে পবিত্র করে দেবে।

 আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা. বলেন, “স্ত্রীর সাথে বসে থাকা অবস্থায় জান্নাতী ব্যক্তির কাছে পানপাত্র নিয়ে আসা হলে তা থেকে সে পান করবে এবং স্ত্রীকে লক্ষ্য করে বলবে, তুমি তো আমার চোখে আগের চেয়ে সত্তর গুণ অধিক সুন্দর হয়ে গেছ!” (ইবনে আবি শাইবা)। 

জান্নাতের ঝর্ণাসমূহ

 জান্নাতের অপার সৌন্দর্যের বহিঃপ্রকাশ হলো, তাতে অবস্থিত। মনোমুগ্ধকর নদ-নদী ও ঝর্ণাসমূহ, যা থেকে বিভিন্ন স্বাদের ও বিভিন্ন বর্ণের শরাব প্রবাহিত হতে থাকবে। জান্নাতের ঝর্ণাসমূহের বিবরণ আল্লাহ তা’লা এভাবে দিয়েছেন, 

“নিশ্চয় খোদাভীরুগণ বাগান ও নিঝরিণীসমূহে থাকবে।” (সূরা হিজর-৪৫) 

মুমিনদের উৎসাহ প্রদানকল্পে কুরআনের একাধিক স্থানে এর বিবরণ এসেছে। আল্লাহ বলেন, 

الجزيين ماء ا رب إلا 

وأقبل الك 

و إ المتقين في جين ويون 

في كانوا قليلا بين الليل ما يهجو و وبالأسحارهم 

مخنيث يسعون ، و في أمولهتح للآبل والموم) الذاريات: ۱۰ 

 “খোদাভীরুগণ জান্নাতে ও প্রস্রবণে থাকবে! এমতাবস্থায় যে, তারা গ্রহণ করবে যা তাদের পালনকর্তা তাদেরকে দেবেন। নিশ্চয় ইতিপূর্বে তারা ছিল সৎকর্মপরায়ণ, তারা রাত্রির সামান্য অংশেই নিদ্রা যেত, রাতের শেষ প্রহরে তারা ক্ষমাপ্রার্থনা করত এবং তাদের ধন-সম্পদে প্রার্থী ও বঞ্চিতের হক ছিল।” (সূরা যারিয়াত ১৫-১৯) 

সালসাবিল ঝর্ণা

 এমনকি কতিপয় ঝর্ণার নামও আল্লাহ কুরআনে উল্লেখ করেছেন, 

و عيافيهات سلسيلان الإنسان: ۱۸ 

“এটা জান্নাতস্থ ‘সালসাবীল’ নামক একটি ঝর্ণা।” (সূরা ইনসান 

১৮) 

অন্যত্র বলেন, 

و عياشرب بها عباد اير يفجرونها تفجيراية الإنسان: 6 

“এটা একটা ঝরণা, যা থেকে আল্লাহর বান্দাগণ পান করবে, তারা একে (যেথা ইচ্ছা) প্রবাহিত করবে।” (সূরা ইনসান-৬)

 এ সকল ঝরণা থেকে স্বচ্ছ ও সুমিষ্ট পানিবিশিষ্ট নদীসমূহ প্রবাহিত হবে.. 

* তবে জান্নাতের নদীসমূহ কী? 

* পানির প্রকারগুলো কী? 

* কীভাবে তা থেকে পান করবে? 

বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসছে ইনশাল্লাহ.. 

পরম সুখ,

 যা লাভে কোনো কষ্ট করতে হবে না, যার রঙ ও স্বাদ হবে ভিন্ন..! 

জান্নাতের নদীসমগ্র 

জান্নাতে থাকবে অসংখ্য নদী-নালা। যেগুলো আল্লাহ তা’লা কুরআনে উল্লেখ করেছেন, মানুষকে তার দিকে উৎসাহিত করেছেন। 

* নদীর প্রকারগুলো কী?

 * নদীগুলোর রঙ কী হবে? 

* নদীগুলোর নাম কী? 

ভূমিকা 

আল্লাহ বলেন, 

“আর হে নবী! যারা ঈমান এনেছে এবং সকাজসমূহ করেছে, আপনি তাদেরকে এমন জান্নাতের সুসংবাদ দিন, যার পাদদেশে 

নহরসমূহ প্রবহমান। যখনই তারা খাবার হিসেবে কোনো ফল প্রাপ্ত হবে, তখনই তারা বলবে, এতো অবিকল সে ফলই যা। আমরা ইতিপূর্বে লাভ করেছিলাম। বস্তুতঃ তাদেরকে একই প্রকৃতির ফল প্রদান করা হবে। এবং সেখানে তাদের জন্য শুদ্ধচারিনী রমণীকুল থাকবে। আর সেখানে তারা অনন্তকাল অবস্থান করবে।” (সূরা বাক্বারা-২৫)

 অন্য আয়াতে বলেন, 

“বলুন, আমি কি তোমাদেরকে এসবের চাইতেও উত্তম বিষয়ের সন্ধান বলবো?- যারা পরহেযগার, আল্লাহর নিকট তাদের জন্যে রয়েছে বেহেশত, যার তলদেশে প্রস্রবণ প্রবাহিত- তারা সেখানে থাকবে অনন্তকাল। আর রয়েছে পরিচ্ছন্ন সঙ্গিনীগণ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি। আর আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি সুদৃষ্টি রাখেন।” (সূরা আলে ইমরান-১৫) 

প্রকৃতই সেখানে নদী থাকবে, যেগুলো প্রাসাদের তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত থাকবে। 

প্রবাহিত পানি 

আল্লাহ বলেন, 

“এবং প্রবাহিত পানিতে” (সূরা ওয়াকিআ-৩১)

 অর্থাৎ তার পানি কোনো গর্ত ও নীচু ভূমিতে নয়; বরং সমতল ভূমিতে জমিনের ওপর দিয়ে স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হতে থাকবে। 

নদীর প্রকারসমূহ 

“খোদাভীরুদেরকে যে জান্নাতের ওয়াদা দেওয়া হয়েছে, তার অবস্থা নিম্নরূপঃ তাতে আছে পানির নহর, নির্মল দুধের নহর যার স্বাদ অপরিবর্তনীয়, পানকারীদের জন্যে সুস্বাদু শরাবের নহর এবং পরিশোধিত মধুর নহর। তথায় তাদের জন্যে আছে রকমারি ফল-মূল ও তাদের পালনকর্তার ক্ষমা। খোদাভীরুগণ কি তাদের মতো, যারা জাহান্নামে থাকবে অনন্তকাল এবং যাদেরকে পান করতে দেওয়া হবে ফুটন্ত পানি অতঃপর তা তাদের নাড়িভুড়ি ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দেবে?!” (সূরা মুহাম্মাদ-১৫) 

দুনিয়াতে দুধের স্বাদ পরিবর্তিত হয়ে টক হয়ে যায়। কিন্তু জান্নাতে দুধের স্বাদ কখনো পরিবর্তিত হবে না।

দুনিয়াতে বেশিসময় একস্থলে জমাট থাকার কারণে পানির ঘ্রাণ নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু জান্নাতে পানির স্বাদ ও ঘ্রাণ কখনই নষ্ট হবে না।

দুনিয়ার মদ হয় বিশ্রী ও দুর্গন্ধযুক্ত, তবে জান্নাতের শরাব হবে সুপেয়, সুমিষ্ট ও সুগন্ধিযুক্ত।

 দুনিয়ার মধুতে অনেক কাঁটা বা ছোট ছোট দানাবিশিষ্ট ময়লা থাকে, কিন্তু জান্নাতের মধু হবে নির্মল স্বচ্ছ ও পরিষ্কার।। জান্নাতের শরাবে কোনো নেশা হবে না। মাথা ঝিমঝিম করবে না।

কোথেকে প্রবাহিত সকল নদী?

জান্নাতের সকল নদী উঁচু থেকে প্রবাহিত। 

  নবী করীম সা.বলেন, “নিশ্চয় জান্নাতে একশটি স্তর রয়েছে, যেগুলো আল্লাহ তা’লা মুজাহিদদের জন্য তৈরি করেছেন। প্রতিটি স্তরের মাঝে আসমান ও জমিনের মধ্যস্থল পরিমাণ ব্যবধান। তোমরা আল্লাহর কাছে চাইলে জান্নাতুল ফেরদাউস চেয়ো! কারণ, তা জান্নাতের মধ্যবর্তী ও সর্বোচ্চ জান্নাত। ঠিক তার ওপরেই আল্লাহর আরশ, সেখান থেকেই জান্নাতের। নদীগুলো প্রবাহিত।” (বুখারী-২৬৩৭)। 

দুনিয়ায় প্রবাহিত চারটি নদী জান্নাতের 

নবী করীম সা. বলেন, “ছাইহান, জাইহান, ফুরাত ও নীল এ সবকটিই জান্নাতের নদী!” (মুসলিম-৭৩৪০)।

অন্য হাদিসে বলেন, “সিদরাতুল মুনতাহা’র মূল থেকে জান্নাতের চারটি নদী প্রবাহিত- নীল, ফুরাত, সাইহান ও জাইহান।” (মুসলিম) 

প্রশ্ন

 এ সকল নদী তো দুনিয়াতে প্রবাহিত, তবে কীরূপে 

সেগুলো জান্নাতের নদী হয়?

 উত্তরঃ উদ্দেশ্য হলো, এ সকল নদীর পানির উৎস জান্নাত। ঠিক যেমন অধিকাংশ নদ-নদীর পানির উৎস বৃষ্টি। বৃষ্টিও তো আসমান থেকেই বর্ষিত হয়। এই নদীগুলোর পানি জান্নাত থেকে সিঞ্চিত। 

জান্নাতের সর্ববৃহৎ নদী হলো কাউসার

 কাউসার হলো সেই নদী, যেখান থেকে হাউয়ে পানি সরবরাহ হবে। 

* কাউসার নদীর পানির কী বৈশিষ্ট্য? 

* তাতে মনোমুগ্ধকর ও নয়ন-প্রীতিকর কী রয়েছে? 

আল্লাহ বলেন, 

و إني أعطيك أكون له الكوثر:۱ 

“আমি আপনাকে দান করেছি ‘কাউসার’ (সূরা কাউসার-১) কেয়ামতের দিন বিশাল হাউয স্থাপন করা হবে। কাউসার নদী থেকে সেই হাউযে পানি সরবরাহ করা হবে। 

কাউসার নদীর বৈশিষ্ট্য

কাউসার হলো জান্নাতের একটি নদী। জান্নাতের নদীসমগ্রের সৌন্দর্য ও তার স্বাদ কোনো চক্ষু কখনো প্রত্যক্ষ করেনি, কোনো কর্ণ সে সম্পর্কে শুনেনি এবং কোনো হৃদয়ে তার ধারণা উদয় হয়নি। 

আনাছ রা. বলেন, “একদা রাসূল সা. আমাদের সামনে বসা ছিলেন, হঠাৎ তিনি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে গেলেন, কিছুক্ষণ পর হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় মাথা উঠালেন। জিজ্ঞেস করলাম, কেন হাসছেন হে আল্লাহর রাসূল? বললেন, সবেমাত্র আমার ওপর একটি সূরা অবতীর্ণ হলো। অতঃপর পড়লেন (সূরা কাউসার) “পরম করুণাময় আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি। নিশ্চয় আমি আপনাকে কাওসার দান করেছি। অতএব আপনার পালনকর্তার। উদ্দেশ্যে নামায পড়ুন এবং কোরবানী করুন। যে আপনার শত্রু, সেই তো লেজকাটা, নির্বংশ।” (সূরা কাউসার) অতঃপর বললেন, তোমরা কি জানো ‘কাউসার’ কী? বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন! বললেন, সেটি হলো একটি নদী, যার প্রতিশ্রুতি আল্লাহ তা’লা আমাকে দিয়েছেন। এতে আছে অসংখ্য কল্যাণ। তা হলো একটি জলাশয়, কেয়ামতের দিন সেখানে আমার উম্মত উপনীত হবে। যার পানপাত্র সংখ্যা আকাশে তারকারাজির মতো অধিক। কিছুলোক সেখানে বাধাগ্রস্ত হবে। আমি বলব, হে প্রতিপালক, তারা তো আমারই উম্মত! প্রতিপালক বলবেন, আপনি জানেন না আপনার মৃত্যুর পর তারা কী কাণ্ড ঘটিয়েছে!” (মুসলিম-৯২১) 

দুই পার্শ্ব হবে সুউচ্চ গোলাকার মণিমুক্তার

 ডান ও বামপার্শ্বগুলো হবে সুউচ্চ গোলাকার মণিমুক্তার।

নবী করীম সা. বলেন, একদা আমি জান্নাতে ঘুরছিলাম, হঠাৎ আমার সামনে একটি নদী প্রকাশ করা হলো যার দুই পার্শ্ব সুউচ্চ গোলাকার মণিমুক্তার। দুনিয়াতে আমাদের দেখা মুক্তা, তবে জিজ্ঞেস করলাম, হে আখেরাতের মুক্তা হবে আরো বড় আরো সুন্দর জিবরীল- এটা কী? বললেন, এটিই হলো সেই কাউসার যা আল্লাহ তা’লা আপনাকে দান করেছেন। অতঃপর তিনি তার মাটিতে মৃদু আঘাত করলে সেখান থেকে মিশক (কস্তুরী) বের হলো।” (বুখারী) 

প্রবাহিত হবে মোতি মুক্তার ওপর.

করীময় ভূমির ওপর মণিমুক্তার অবস্থান তার শোভা ও সৌন্দর্য বহুগুণে বাড়িয়ে দেবে। 

নবী করীম সা. বলেন, “কাউসার হলো জান্নাতের একটি নদী। যার দুইপার্শ্ব হলো স্বর্ণের। যার প্রবাহ মণিমুক্তার ওপর, যার ভূমি মিশক অপেক্ষা উৎকৃষ্ট। যার পানি মধু অপেক্ষা মিষ্ট এবং বরফের চেয়েও সাদা।” (তিরমিযী-৩৩৬১) 

কাউসারে উটপাখি সদৃশ অনেক পাখি থাকবে

 কাউসারের আশপাশে অসংখ্য পাখি প্রদক্ষিণ করতে থাকবে। যা দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। পাখিগুলো দেখতে হবে অতিশয় মনোমুগ্ধকর। 

আনাছ রা. বলেন, “একদা নবী করীম সা. কে জিজ্ঞেস করা হলো, কাউসার কী?” তিনি বললেন, তা একটি নদী, আল্লাহ আমাকে তা দান করেছেন, যার পানি দুধের চেয়ে সাদা, মধুর চেয়ে মিষ্টি, যাতে উটের দীর্ঘ গলাসদৃশ অনেক পাখি থাকবে। উমর বললেন, এগুলোর গোশত তো অনেক সুস্বাদু! নবীজী বললেন, ওগুলোর গোশত আরও অধিক সুস্বাদু হবে।” (মুসনাদে আহমদ-১৩৩৩০) 

নদীর পাশে স্থাপিত হবে অসংখ্য দৃষ্টিনন্দন তাঁবু।নবী করীম সা. বলেন, “একদা আমি জান্নাতে প্রবেশ করে হঠাৎ নিজেকে একটি নদীর ধারে আবিষ্কার করলাম, যার উভয় পার্শ্ব সুউচ্চ গোলাকার মণিমুক্তার তৈরি। অতঃপর আমি প্রবাহিত পানির নিম্নভূমিতে মৃদু আঘাত করলে সেখান থেকে সুগন্ধিময় মিশক বের হলো। বললাম, হে জিবরীল! কী এটা? বললেন, 

এটা হলো সেই কাউসার, যা আল্লাহ তা’লা আপনাকে দান। করেছেন।” (মুসনাদে আহমদ-১২০২৭)

 কাউসার থেকে প্রবাহিত সেই হাউয থেকে নবী করীম সা. পান করবেন অতঃপর তাঁর উম্মত পান করবে। আল্লাহ তা’লা আমাদের সকলকে সেখানে উপনীত হয়ে পানি পান করার তাওফিক দিন..! 

== 

প্রসঙ্গত, 

দুনিয়াতেও আল্লাহ জান্নাতের চারটি নদী দিয়েছেন, সাইহান, জাইহান, নীল, ফুরাত! 

জান্নাতের পানপাত্র 

সুন্দর ও সুশোভিত পাত্র পানে ভিন্নস্বাদ তৈরি করে। পানে আকৃষ্ট করে তুলে। পানিয়ের পাশাপাশি পাত্রও যখন উৎকৃষ্ট হবে, তখন স্বাদেও ভিন্নরকম অনুভূতি সৃষ্টি করবে। 

* কী সেই পানপাত্র? 

* কোন প্রকারের? 

* কিসের তৈরি? 

পানপাত্র জান্নাতীদের আশপাশে প্রদক্ষিণ করবে পাত্র নেয়ার জন্য উঠে যেতে হবে না; বরং পানপাত্রই জান্নাতী ব্যক্তির কাছে চলে আসবে। আল্লাহ বলেন, 

وطاف عليهم بصحاف تین ذهب وأكواب وفيها ما تشتهيه الأنف وتل اي وأنت فيهاځلون نكهة الزخرف: ۷۱ 

“তাদের কাছে পরিবেশন করা হবে স্বর্ণের থালা ও পানপাত্র এবং তথায় রয়েছে মনে যা চায় এবং নয়ন যাতে তৃপ্ত হয়। তোমরা তথায় চিরকাল অবস্থান করবে।” (সূরা যুখরুফ-৭১) 

এই সুখ-শান্তি কখনই শেষ হবার নয়; অনন্ত অসীমকাল তারা সেখানে পরম সুখে জীবনযাপন করতে থাকবে। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, 

“তাদেরকে পরিবেশন করা হবে রূপার পাত্রে এবং স্ফটিকের মতো পানপাত্রে। রূপালি স্ফটিক পাত্রে, পরিবেশনকারীরা তা পরিমাপ করে পূর্ণ করবে।” (সূরা ইনসান ১৫-১৬) 

পাত্রের প্রকার

 আল-কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে কখনো তাদের পানপাত্র ছোট আবার কখনো বড় বলা হয়েছে। কখনো। ছোট গ্লাস আবার কখনো জগ বর্ণিত হয়েছে। 

পাত্রের ধরণ

 জান্নাতীদের পানপাত্র হবে স্বর্ণ-রূপার তৈরি। একারণেই দুনিয়াতে পুরুষদের জন্য স্বর্ণ-রূপার ব্যবহার হারাম। 

 নবী করীম সা. বলেন, “তোমরা রেশম ও রেশমী বস্ত্র পরিধান করো না। স্বর্ণ-রূপার পাত্র দিয়ে পান করো না। স্বর্ণ-রূপার তৈরি প্লেটে খাবার খেয়ো না; কারণ, বিধর্মীদের জন্য সেগুলো দুনিয়াতে, আর আমাদের জন্য আখেরাতে।” (বুখারী-৫১১০) 

 অন্যত্র নবীজী বলেন, “যে ব্যক্তি রূপার পাত্র দিয়ে পান করবে, সে যেন নিজের পেটে জাহান্নামের আগুন ভর্তি করবে।” (বুখারী-৫৩১১) 

অভিজ্ঞতা,

 সুন্দর পানপাত্র পানে ভিন্ন আকর্ষণ তৈরি করে 

জান্নাতীদের পোশাক 

পোশাক হলো ব্যক্তির সৌন্দর্যবর্ধক। সুস্থ্য হৃদয়ের বহিঃপ্রকাশ। জান্নাতীদের ত্বক ও পোশাক হবে অতিসুন্দর ও সুদর্শন, যা ব্যক্তির সৌন্দর্যকে বহুগুনে বৃদ্ধি করে দেবে। 

* পোশাকের ধরণ কী হবে?

 * পোশাকের প্রয়োজন হবে কি? 

* পোশাকে পরস্পর তারতম্য 

হবে কি? 

ভূমিকা

 আল্লাহ তা’লা জান্নাতীদের পোশাকের বিবরণ দিতে গিয়ে বলেছেন, 

“নিশ্চয় খোদাভীরুগণ নিরাপদ স্থানে থাকবে, উদ্যানরাজি ও নিঝরিণীসমূহে। তারা পরিধান করবে চিকন ও পুরু রেশমীবস্ত্র, মুখোমুখি হয়ে বসবে।” (সূরা দুখান ৫১-৫৩)

 অন্য আয়াতে বলেন, 

ج عني تجري من تحته لأنهكون فيها من أساورین 

ل 

هو أول ده ویلسون ثيابا ځان شنبر واستبرق مكين فيها على الأيك يعملوا وكنت مرتفقا ايه الكهف: ۳۱ 

“তাদেরই জন্যে আছে বসবাসের জান্নাত। তাদের পাদদেশে প্রবাহিত হয় নহরসমূহ। তাদের তথায় স্বর্ণ-কংকনে অলংকৃত করা হবে এবং তারা পাতলা ও মোটা রেশমের সবুজ কাপড় পরিধান করবে এমতাবস্থায় যে, তারা সিংসাহসনে সমাসীন হবে। চমৎকার প্রতিদান এবং কত উত্তম আশ্রয়।” (সূরা কাহফ-৩১)

 আল্লাহ তা’লা আরও বলেন, 

“তারা প্রবেশ করবে বসবাসের জান্নাতে। তথায় তারা স্বর্ণনির্মিত, মোতিখচিত কংকন দ্বারা অলংকৃত হবে। সেখানে তাদের পোশাক হবে রেশমের।” (সূরা ফাতির-৩৩) 

পোশাকের ধরণ

 জান্নাতীদের বস্ত্র হবে পাতলা ও মোটা রেশমের সবুজ কাপড়ের তৈরি। নবী করীম সা. ও সাহাবীদের অন্তর সর্বদা জান্নাতের দিকে আকৃষ্ট থাকত। জান্নাত পাওয়ার জন্য উদগ্রীব থাকত। একদা নবী করীম সা. এর কাছে একটি রেশমী চাদর উপহার এলে তিনি সেটিকে উল্টিয়ে উল্টিয়ে দেখছিলেন। সৌন্দর্য ও কোমলতা দেখে মুগ্ধ হয়ে বলেছিলেন, চাদরটি কি তোমাদের মুগ্ধ করেছে? সকলেই বলল, হ্যাঁ.. হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন, 

 ঐ সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, নিঃসন্দেহে জান্নাতে সাদ এর হাতরুমালও এর চেয়ে উৎকৃষ্ট।” (বুখারী-৩৫৯১)। এখানে সা’দ বলতে নবীজী সাদ বিন মুয়ায রা. কে উদ্দেশ্য করেছেন, যিনি খন্দক যুদ্ধের পর শহীদ হয়েছিলেন। 

কাপড় নোংরা হবে না

 জান্নাতীদের কাপড় অধিক সময় ধরে পরিধানের দরুন ময়লা, নোংরা ও পুরাতন হবে না। 

নবী করীম সা. বলেন, “যে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে, সে চিরসুখে থাকবে। তার কাপড় কখনই নোংরা হবে না। যৌবনে 

ভাটা পড়বে না।” (মুসলিম-৭৩৩৫) 

জান্নাতের বিছানা

এতসব নেয়ামতের পাশাপাশি তাদের কক্ষগুলোতে বিছানো থাকবে সুপ্রশস্ত বিছানা। থাকবে না মৃত্যুর ভয়, অসুস্থ হওয়ার দুশ্চিন্তা, চেহারাগুলো হবে হাস্যোজ্জ্বল, দেহগুলো হবে পূর্ণ শক্তিময়। চারপাশে থাকবে সুশ্রী সেবকদল। কী নয়ন-প্রীতিকর পরিবেশ! জান্নাতের বিছানাগুলো হবে অত্যধিক সুন্দর ও কোমল। অধিক। ব্যবহারে এর সৌন্দর্য ও কোমলতা বিনষ্ট হবে না।। যার বিবরণ দিতে গিয়ে আল্লাহ বলেন, 

“আর থাকবে সমুন্নত শয্যায়” (সূরা ওয়াকিআ-৩৪) 

নবী করীম সা. বলেন, “তার উচ্চতা হবে জমিন থেকে আসমান সমতুল্য, উভয়ের মাঝে ব্যবধান হবে পাঁচশত বছরের পথ বরাবর।” (তিরমিযী-৩২৯৪)। আল্লাহ বলেন, 

“তারা তথায় রেশমের আস্তরবিশিষ্ট বিছানায় হেলান দিয়ে বসবে। উভয় উদ্যানের ফল তাদের নিকট ঝুলবে।” (সূরা আর রাহমান-৫৪) 

প্রতিদান,

 যে ব্যক্তি দুনিয়াতে হারাম পোশাক ত্যাগ করল, আখেরাতে জান্নাতের পোশাকই তার জন্য যথেষ্ট..! 

জান্নাতে মুমিনদের শিশুগণ 

দুনিয়াতে কেউ মারা যায় শৈশবে, কেউ যুবক হয়ে, আবার কেউ বার্ধক্যে উপনীত হয়ে। যৌবনকালে বা বৃদ্ধ হয়ে মারা গেলে কেয়ামতের দিন তাদের হিসাব নেয়া হবে; তবে যদি শৈশবে মারা যায়? 

* কী হবে আখেরাতে তার পরিণাম?

 * হিসাব হবে কি? 

* নাকি পিতা-মাতার সাথে গিয়ে মিলিত হবে? 

ভূমিকা 

আল্লাহ তা’লা পরম দয়ালু। দয়া তাঁর ক্রোধের অগ্রগামী। সহনশীলতা তাঁর গোস্বার অগ্রবর্তী। ক্ষমা ও মাগফেরাত তাঁর কাছে শাস্তি ও আযাব অপেক্ষা অধিক পছন্দনীয়। মুমিনদের যে সব শিশুসন্তান প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পূর্বেই মারা যায়, তারা জান্নাতী হবে। জান্নাতে তাদের পরিবার পরিজনের সাথে গিয়ে মিলিত হবে। আল্লাহ তা’লা বলেন, 

“যারা ঈমানদার এবং যাদের সন্তানরা ঈমানে তাদের অনুগামী, আমি তাদেরকে তাদের পিতৃপুরুষদের সাথে মিলিত করে দেব এবং তাদের আমল বিন্দুমাত্রও হ্রাস করব না। প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃতকর্মের জন্য দায়ী।” (সূরা তুর-২১)

একদা ইবনে উমর রা. নিম্নোক্ত আয়াত পাঠ করলেন, 

“প্রত্যেক ব্যক্তি তার কৃতকর্মের জন্য দায়ী; কিন্তু ডানদিকস্থরা” (সূরা মুদ্দাছছির ৩৮-৩৯)

 অতঃপর বললেন, তারা হলো মুসলিমদের শিশু সন্তানগণ, তারা আপন কৃতকর্মের জন্য দায়ী হবে না; বরং পিতৃপুরুষদের সাথে গিয়ে মিলিত হবে।” (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা)

 নবী করীম সা. বলেন, “কোনো মুসলিমের যদি প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পূর্বেই তিনটি সন্তান মারা যায়, তবে আল্লাহ মৃত সন্তান ও পিতাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। বলবেন, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর! তারা বলবে, পিতা-মাতা না আসা পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করব না! পিতা-মাতা না আসা পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করব না! পিতা-মাতা না আসা পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করব না! অতঃপর বলা হবে, তোমরা তোমাদের পিতা-মাতাকে নিয়েই জান্নাতে প্রবেশ কর।” (মুসনাদে আহমদ-১০৬২২)

নবী করীম সা. বলেন, মুসলিম দম্পতির যদি তিনটি সন্তান মারা যায়, তবে পিতা-মাতাকে আল্লাহ স্বীয় কৃপায় জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। তারা বলল, যদি দু’জন মারা যায় হে আল্লাহর রাসূল! বললেন, দু’জন মারা গেলেও! তারা বলল, যদি একজন মারা যায় হে আল্লাহর রাসূল! বললেন, এমনকি একজন মারা গেলেও! নবীজী একথাও বললেন যে, এমনকি মায়ের পেট থেকে জন্মের পূর্বেই পতিত বাচ্চা নাভি দিয়ে টেনে ধরে তার মাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে।” (আল মুজামুল কাবীর ৩০০) 

জিজ্ঞাসা 

মুমিনদের মৃত শিশুসন্তানরা এখন কোথায় আছে? 

উত্তরঃ তারা এখন হযরত ইবরাহীম আ. এর তত্ত্বাবধানে আছে। যেমনটি নবী করীম সা. বলেন, 

 “মুসলিমদের সন্তানগণ জান্নাতে আছে, ইবরাহীম আ, তাদের। তত্ত্বাবধান করছেন।” (মুসনাদে আহমদ-৮৩২৪) 

কৃপা,

 মৃত সন্তান পিতা-মাতার জন্য কৃপার পাত্র হবে, কেয়ামতের দিন সে পিতা-মাতার পক্ষে সাক্ষ্য দেবে। 

জান্নাতের সংখ্যাগরিষ্ঠ অধিবাসী 

জান্নাতীগণ তাদের আমল ও বৈশিষ্ট্যের গুণে জান্নাতে প্রবেশ করবে। সাথে থাকবে আল্লাহর দয়া ও করুণা। নবী করীম সা. জান্নাতের সংখ্যাগরিষ্ঠ অধিবাসীদের বিবরণ দিয়ে গেছেন। 

* তারা কারা?

 * কেন তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ হবে? 

ভূমিকা

 জান্নাতে প্রবিষ্ট অধিকাংশই হবে হতদরিদ্র ও জীর্ণশীর্ণ ব্যক্তিবর্গ, দুনিয়াতে যাদের কোনো মূল্যায়ন ছিল না; তবে এবাদত, স্বভাব চরিত্র এবং পরিপূর্ণ উপাসনায় তারা ছিলেন আল্লাহর প্রিয়পাত্র।  নবী করীম সা. বলেন, “আমি কি তোমাদেরকে জান্নাতীদের বৈশিষ্ট্য বলব? প্রত্যেক দুর্বল, বিনয়ী; যদি আল্লাহর নামে কোনো শপথ করে বসে, তবে অবশ্যই আল্লাহ তাদের শপথ পূরণ করবেন। আমি কি তোমাদেরকে জাহান্নামীদের বৈশিষ্ট্য বলব? প্রত্যেক রূঢ়, ধনী কৃপণ এবং অহংকারী!” (বুখারী-৪৬৩৪)  নবী করীম সা. বলেন, “একদা আমি জান্নাতের ফটকে দাঁড়ালাম। দেখলাম অধিকাংশ অধিবাসীই দরিদ্র মিসকীন। ধনী ব্যক্তিবর্গ বাধাপ্রাপ্ত হবে (দরিদ্রদের পর জান্নাতে প্রবেশ করবে)। জাহান্নামবাসীকে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার আদেশ হবে।” (বুখারী-৪৯০০)। 

 অন্য হাদিসে বলেন, “একদা আমি জান্নাতে প্রবেশ করে দেখলাম, অধিকাংশ অধিবাসীই দরিদ্রদের থেকে।” (বুখারী ৩০৬৯) 

জিজ্ঞাসা 

জান্নাতে কারা সংখ্যাগরিষ্ঠ হবে, পুরুষ নাকি নারী? 

উত্তরঃ 

আবু হুরায়রা রা, এর সামনে একবার কতিপয় সাহাবী এ নিয়ে আলাপরত ছিলেন। আবু হুরায়রা রা. বললেন, আবুল কাসেম সা, কি বলে যাননি যে, “জান্নাতে গমনকারী প্রথম দল পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল ও জ্যোতির্ময় হবে। তৎপরবর্তী দল আকাশে প্রজ্বলিত নক্ষত্ররাজির মতো চমকপ্রদ থাকবে। সেখানে প্রত্যেক ব্যক্তির দু’জন করে স্ত্রী থাকবে, অতিশয় সৌন্দর্যে গোশতের ভেতরে তাদের গোছার হাড় পর্যন্ত দেখা যাবে। জান্নাতে কোনো অবিবাহিত থাকবে না।” (মুসলিম-৭৩২৫)

 বুঝা গেল, জান্নাতে মহিলাদের সংখ্যা পুরুষের দ্বিগুণ হবে।জান্নাতে মুমিন নারীদের সুখ, সৌন্দর্য ও মর্যাদা হুরদের চেয়েও অধিক হবে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে ইনশাআল্লাহ। 

প্রশ্ন 

অপর হাদিসে জাহান্নামে নারীদের সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ার 

বিষয়টি স্পষ্টরূপে বর্ণিত হয়েছে! এতদুভয়ের মাঝে সামঞ্জস্য কী করে সম্ভব? 

উত্তরঃ মূলত দুনিয়াতে পুরুষদের চেয়ে নারীদের সংখ্যাই বেশী। হাদিসে এসেছে, কেয়ামতের পূর্বমুহূর্তে নারীদের সংখ্যা এত বেশী হবে যে, পঞ্চাশজন মহিলার দায়িত্বভার একজন পুরুষ গ্রহণ করবে। বর্তমান সমাজে নারী জন্মের হার দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্প্রতি কোনো কোনো দেশে প্রতি পাঁচ নারীর বিপরীতে একজন পুরুষ গণ্য। এভাবেই সৃষ্টির ইতিহাসে নারীসম্প্রদায় অধিক থাকবে। অতঃপর দুনিয়ার অর্ধেক পুরুষ এবং অর্ধেক নারী যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখনও সেখানে নারীদের সংখ্যা অধিকই থেকে যাবে। এভাবে জাহান্নামেও নারীদের সংখ্যা বেশি হয়ে যাবে। “জাহান্নামে নারীদের সংখ্যা বেশী হবে” কথা দ্বারা নারী সম্প্রদায়কে অপমান করা উদ্দেশ্য নয়; বরং নারীদের অপরাধে লিপ্ত হওয়া পুরুষদের তুলনায় অধিক ক্ষতিকর বিধায় এভাবে বলা হয়েছে। 

বুদ্ধিদীপ্ত বাণী,

 জীবনে সম্পদশালী হলেই প্রকৃত সফলকাম হবে না, কারণ, সম্পদশালীরা জান্নাতে প্রবেশকালে বাধাগ্রস্ত হবে। 

মুসলিমদের কতজন জান্নাতে

জান্নাত হলো সকল মুমিনের চিরআশ্রয়। সেখানে তারা সুখ ভাগাভাগি করে নেবে। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোক জান্নাতে 

অবস্থান করবে। 

* কোন সম্প্রদায় সংখ্যায় অধিক হবে?

 * মুসলিম সম্প্রদায়ের পরিমাণ কত হবে? 

ভূমিকা

 আমাদের নবী মোহাম্মাদ সা. এর সাথে অসংখ্য মুসলমান জান্নাতে প্রবেশ করবে; যাদের সঠিক সংখ্যা কেবল আল্লাহই ভালো জানেন। 

নবী করীম সা. বলেন, “আমার সামনে সকল উম্মতকে পেশ করা হলো। অতঃপর এক নবী উম্মতকে নিয়ে অতিক্রম করল, অপর নবী কয়েকজনকে নিয়ে অতিক্রম করল। আরেক নবী দশজনকে নিয়ে অতিক্রম করল। আরেক নবী পাঁচজনকে নিয়ে অতিক্রম করল। আরেকজন নবী কেবল একাই অতিক্রম করল। অতঃপর আমি এক সুবিশাল জনসমাবেশের দিকে তাকালাম। বললাম, হে জিবরীল, এরা কি আমার উম্মত? বললেন, না! বরং উপরের দিকে তাকান! দেখলাম, সেখানেও সুবিশাল জনসমাবেশ। বললেন, ওরাই আপনার উম্মত! তাদের সম্মুখভাগ থেকে সত্তর হাজার বিনা-হিসাব ও বিনা-শাস্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করবে। জিজ্ঞেস করলাম, কেন? বললেন, কারণ আরোগ্য লাভে তারা আগুন দিয়ে ছেক দিক না, ঝাড়ফুক চাইত না, অশুভ লক্ষণ বিশ্বাস করত না, কেবল আল্লাহর ওপরই ভরসা করত।” (বুখারী-৫৩৭৮) 

উকাশাতোমায় অগ্রগামী হয়েছে 

 উপরোক্ত হাদিস বর্ণনা শেষ করলে ‘উকাশা বিন মিহসান রা.’ দাঁড়িয়ে বললেন, দোয়া করুন আল্লাহ যেন আমাকেও সেই সত্তর হাজারের অন্তর্ভুক্ত করেন। নবীজী দোয়া করলেন, হে আল্লাহ, তাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন! অতঃপর দ্বিতীয় আরেকজন। দাঁড়িয়ে বলল, দোয়া করুন আল্লাহ যেন আমাকেও সেই সত্তর হাজারের অন্তর্ভুক্ত করেন! তখন নবীজী বললেন, উকাশা তোমার অগ্রগামী হয়েছে।” (বুখারী-৫৩৭৮) 

আশি কাতার

 জান্নাতে উম্মতের সংখ্যাধিক্যের বিবরণ দিতে গিয়ে নবীজী বলেন, 

 “জান্নাতবাসী কেয়ামতের দিন একশ বিশ কাতার হবে। তন্মধ্যে তোমরাই হবে আশি কাতার।” (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা একদা নবীজী আপন সাহাবীদের লক্ষ্য করে বললেন, “ওই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, আমি আশা করি তোমরা জান্নাতের এক চতুর্থাংশ হবে। একথা শুনে সাহাবীগণ খুশিতে ও আনন্দে তাকবীর ধ্বনি দিলেন। নবীজী বললেন, আমি আশা করি তোমরা জান্নাতের একতৃতীয়াংশ হবে। একথা শুনে আবারো তারা তাকবীর দিলেন। অতঃপর বললেন, আশা করি তোমরা জান্নাতের অর্ধেক হবে। একথা শুনে আবারো তারা তাকবীর ধ্বনি দিলেন। অতঃপর তিনি কেয়ামতের দিন অন্যান্য উম্মতের তুলনায় এই উম্মতের পরিমাণ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, কেয়ামতের দিন তোমরা সাদা ষাঁড়ের দেহে একটি কালো লোমসদৃশ হবে অথবা কালো ষাঁড়ের দেহে একটি সাদা লোমসদৃশ হবে।” (বুখারী-৩১৭০)

 সকল উম্মতের মধ্যে সত্যায়নের দিক থেকে নবী করীম সা. এর প্রাধান্যের দিকটি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, 

 “জান্নাতের ব্যাপারে সর্বপ্রথম আমিই সুপারিশ করব। আমি যতটুকু সত্যায়িত হয়েছি কোনো নবী ততটুকু সত্যায়িত হয়নি। 

সেদিন এমন নবীও থাকবে, যাকে কেবল একজন লোক সত্যায়ন করেছে।” (মুসলিম-৫০৬)। 

ফায়দা

 নবী মুহাম্মাদ সা. এর অনুসারী অধিক হওয়ার রহস্য, 

উম্মতের মাঝে পূর্ববর্তী নবীদের অবস্থানের তুলনায় নবী মুহাম্মাদ সা. এর অবস্থান খুবই অল্প; এমনকি একথা বলারও সুযোগ নেই যে, পূর্ববর্তী নবীদের উম্মত সংখ্যায় কম ছিল। পূর্ববর্তী অনেক নবীর অধিক উম্মত হওয়ার বিষয়টি 

আল্লাহ নিজেই বলেছেন, 

 “যেমন করে তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা তোমাদের চেয়ে বেশী ছিল শক্তিতে এবং ধন-সম্পদের ও সন্তান-সন্ততির অধিকারীও ছিল বেশী।” (সূরা তাওবা-৬৯)

 মূল কারণ হলো (আল্লাহই অধিক অবগত) আল্লাহর রাসূলের মু’জেযা পবিত্র আল-কুরআনের কল্যাণেই তা সম্ভব হয়েছে। কারণ, এ কুরআন কেবল ওহি-ই নয়; এ তো মানুষের সকল সমস্যার সমাধানকারী ও অন্তরাত্মা জয়কারী এক অলৌকিক গ্রন্থ, যা মানুষের সকল সমস্যার সমাধান দিয়ে তাদের সৌভাগ্যশীল করেছে। কেয়ামত পর্যন্ত তার এই অলৌকিকত্ব অব্যাহত থাকবে। সে দিকে ইঙ্গিত করেই নবী করীম সা. বলেন,  “সকল নবীকেই আল্লাহ একটি প্রামাণ্য দিয়েছিলেন, যা দেখে মানুষ তার ওপর ঈমান আনত। আর আমাকে যা দেওয়া হয়েছে তা আল্লাহর প্রেরিত ওহি। তাই, আশা করি কেয়ামতের দিন আমিই সর্বাধিক অনুসারীপ্রাপ্ত হব।” (বুখারী-৪৬৯৬) 

প্রতিযোগিতা, 

উকাশা’র সৎসাহস ও দূরদর্শিতার ফল, অন্যদের ওপর তার অগ্রগামিতা..! 

জান্নাতীদের সেবক 

জান্নাতবাসীর অপার ভোগবিলাস ও অসীম সুখসাচ্ছন্দ্যে নতুনমাত্রা যোগ করবে তাদের সেবকবৃন্দ। তাদের দেখে জান্নাতীদের নয়ন প্রীত হবে। অন্তরাত্মা তুষ্ট হয়ে যাবে। 

* কারা জান্নাতীদের সেবক?

 * সেবকদের বৈশিষ্ট্য কী হবে? 

ভূমিকা

 জান্নাতীদের সেবায় তাদের আশপাশে প্রদক্ষিণ করতে থাকবে অতিসুশ্রী কোমলমতি কিশোরবৃন্দ। মনে হবে, তারা যেন মণিমুক্তার তৈরি। আল্লাহ বলেন, 

“সুরক্ষিত মোতিসদৃশ কিশোররা তাদের সেবায় ঘুরাফেরা করবে।” (সূরা তুর-২৪)

 অন্য আয়াতে বলেন, 

 “তাদের কাছে ঘোরাফেরা করবে চির কিশোরগণ। আপনি তাদেরকে দেখে মনে করবেন যেন বিক্ষিপ্ত মণিমুক্তা।” (সূ ইনসান-১৯)

 জান্নাতেই তাদের সৃজন হবে। 

জিজ্ঞাসা 

সেবকদের সংখ্যা কত? 

উত্তরঃ অনেক…!

 আব্দুল্লাহ বিন আমর রা. বলেন, “একজন জান্নাতীর সেবায় একহাজার সেবক নিয়োজিত থাকবে। প্রত্যেকের স্বতন্ত্র দায়িত্ব থাকবে, যা অন্য সেবকদের থাকবে না।” (যুহদ, ইবনুল মুবারক) 

। 

। 

– 

– 

– 

– 

– 

– 

পরম সুখ, 

জান্নাতের সুউচ্চ প্রাসাদ, নয়নাভিরাম দৃশ্য, মনোমুগ্ধকর নদীনালা, সুন্দরী আবেদনময়ী হুর.. প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তাদের জন্য এ যে বিরাট সম্মান..! 

জান্নাতে নারীগণ

জান্নাত হলো নারী-পুরুষ উভয়েরই ভোগ-বিলাসের স্থান। আল্লাহ তা’লা বলেন, = “আল্লাহ ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কাননকুঞ্জের, যার তলদেশে প্রবাহিত হয় প্রস্রবণ। তারা সেগুলোরই মাঝে থাকবে। আর এসব কাননকুঞ্জে থাকবে পরিচ্ছন্ন ঘর। বস্তুতঃ এ সমুদয়ের মাঝে সবচেয়ে বড় হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি। এটিই মহান কৃতকার্যতা।” (সূরা তাওবা-৭২)

 নবী করীম সা. থেকে বর্ণিত অসংখ্য হাদিসে জান্নাতী পুরুষদের দৈহিক সৌন্দর্যের বিবরণ বর্ণিত হয়েছে। যেন তাদের থেকে স্ত্রীগণও সমান তৃপ্তি পায়, সুখ ও আনন্দ লাভ করে। তেমনি জান্নাতী নারীদের সৌন্দর্যেরও বিবরণ এসেছে। যেন তাদের দেখে পুরুষদের নয়ন প্রীত হয়। পরিপূর্ণ সুখী দাম্পত্য জীবন লাভ করতে পারে। 

* জান্নাতী নারীদের কী বৈশিষ্ট্য? 

* জান্নাতে কি তাদের আকৃতির পরিবর্তন ঘটবে?

 * সেখানে কার মর্যাদা বেশী হবে, হুর নাকি মুমিন নারী? 

ভূমিকা 

আল্লাহ তা’লা কুরআনুল কারীমে জান্নাতী হুরদের সৌন্দর্যের বিবরণ দিয়ে তাদের বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ রূপ-লাবণ্যের প্রশংসা করেছেন। কিন্তু সেখানে মুমিন নারীদের সৌন্দর্য ও রূপ-লাবণ্য হুরদের চেয়েও অধিক হবে। কারণ, কেবল ভোগ বিলাসের উপকরণরূপে সৃষ্ট হুরদের স্তর কখনই দুনিয়াতে এবাদতকারী, নামায-রোযা পালনকারী, রাত্রিবেলায় তাহাজ্জুদ আদায়কারী এবং হারাম থেকে বিরত মুমিন নারীদের স্তরের সমান হতে পারে না। যতগুলো বৈশিষ্ট্য হুরদের দেওয়া হবে, এর চেয়ে বেশি মুমিনা নারীদেরকে দেওয়া হবে। 

 নবীজীর স্ত্রী উম্মে সালামা রা. একদা আল্লাহর রাসূলকে জিজ্ঞেস করলেন, “দুনিয়ার মুমিন নারী উত্তম নাকি হুর? উত্তরে নবীজী বললেন, দুনিয়ার মুমিনা নারী হুরদের চেয়ে উত্তম হবে। ঠিক যেমন দেহের নীচের অদৃশ্য কাপড়ের তুলনায় উপরের দৃশ্যমান কাপড় মূল্যবান হয়। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, কীসের বিনিময়ে তাদের এ মূল্যায়ন? বললেন, আল্লাহর জন্য তাদের নামায, তাদের রোযা ও এবাদতের দরুন! তাদের চেহারায় আল্লাহ একপ্রকার জ্যোতি দিয়ে দেবেন। তাদের দেহ হবে সাদা ধবধবে রেশমের ন্যয়, কাপড় হবে সবুজ, অলঙ্কারগুলো হবে। পিতম বর্ণের, তাদের ধুপাদারগুলো হবে মোতিখচিত, তাদের চিরুনী হবে স্বর্ণখচিত। তারা বলতে থাকবে, শুন, আমরাই চিরস্থায়ী বসবাসকারী, কখনই মৃত্যুবরণ করব না। শুন, আমরাই চিরসুখী, কখনই ক্ষতিগ্রস্ত হব না। শুন, আমরাই অনন্তকালের বাসিন্দা, কখনই প্রস্থান করব না। আমরাই চিরসন্তুষ্ট। অভিনন্দন, যাদের জন্য আমরা এবং আমাদের জন্য যারা।” (তাবারানী মুজামুল আওসাত) 

এসকল মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের বিবরণ শুনে মুমিনা নারীদেরকে অবশ্যই অধিক আমলের দিকে মনযোগী হওয়া উচিত। কল্যাণকর কাজ ও অধিক পরিমাণে এবাদতে আত্মনিয়োগ করা উচিত। 

জান্নাতে নারীদের আরও যেসকল বৈশিষ্ট্যের বিবরণ এসেছে, () সুন্দরী,

 আল্লাহ বলেন, 

“এরূপই হবে এবং আমি তাদেরকে আনতলোচনা স্ত্রী দেব।” (সূরা দুখান-৫৪)

 মুমিনগণ জান্নাতে দুনিয়ার স্ত্রীর সাথে নতুন করে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হবে। তাদের উভয় চোখ হবে অতিসুন্দর। চেহারা হবে অতি লাবণ্যময়। হবে পূর্ণযৌবনা কোমল দেহের অধিকারী। 

(২) কামিনী ও সমবয়স্কা, 

Contents 

যা তাদের স্বামীদের জন্য অতি প্রিয় ও সুখকর হবে। আল্লাহ বলেন, 

كير 

و إنا أنشأنه إنشاء @ عاه أبكارا مما أثرابا اليمين ( که الواقعة: ۳۰ – ۳۸ 

“আমি জান্নাতী রমণীগণকে বিশেষরূপে সৃষ্টি করেছি। 

অতঃপর তাদেরকে করেছি। চিরকুমার। কামিনী ও সমবয়স্কা। ডানদিকের লােকদের জন্য।” (সূরা ওয়াকিআ ৩৫-৩৮) তারা হবে পূর্ণযৌবনা। x fbh’ওঁ ‘«jC f$< : -< x 5-4 —& Ejk .” f; &#3 আcÖST & I q LI Seng “Wh postos jX-5 frögjë kV 38 #B ২ ; &ি&fw #x«ZE 4 ‘«5 ৭িdx 5-42xk 

jhk#frS #B <\$& —&#E “IE a & আয়েশা রা. বর্ণনা করে বলেন, একদা নবী করীম সা. এর কাছে এক আনসারী বৃদ্ধা এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল, দোয়া করুন আল্লাহ যেন আমাকে জান্নাত দান করেন! অতঃপর নবীজী রসিকতার সুরে বললেন, কোনাে বৃদ্ধা জান্নাতে প্রবেশ 

926 

www.QuranerAlo.com 

Contents 

করবে না। একথা শুনে বৃদ্ধা অতিশয় দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে ফিরে গেল। ভাবল, বাস্তবেই সে জান্নাতে যেতে পারবে না। অতঃপর নবীজী নামায পড়ে ঘরে ফিরে এলে আয়শা রা. বললেন, আপনার কথায় আজ আমি অনেক কষ্ট ও আঘাত পেয়েছি! নবীজী বললেন, হ্যাঁ.. যা বলেছি তাই ঠিক! নিশ্চয় তাদেরকে আল্লাহ পূর্ণ যুবতী বানিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।” (আবু নুআইম)। হ্যাঁ.. বৃদ্ধাদের যৌবন ফিরিয়ে এনে তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করানাে হবে। 

(৩) সেখানে তাদের ঋতুস্রাব হবে না। আল্লাহ তা’লা বলেন, 

“সেখানে তাদের জন্য থাকবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন স্ত্রীগণ।” (সূরা নিসা-৫৭) অর্থাৎ জান্নাতে তারা হবেন ঋতুস্রাব ও প্রসবােত্তর স্রাব থেকে মুক্ত ও পবিত্র। মল-মূত্রের ঝামেলা থেকে নিষ্কৃতিপ্রাপ্ত। তাদের। আচরণও হবে অত্যন্ত কোমল ও আবেদনময়; যেখানে কোনাে অশ্লীলতা কিংবা নােংরামি পরিলক্ষিত হবে না। 

(৪) তারা স্বামীদেরকে শ্রেষ্ঠ সুদর্শনরূপে দেখবে 

92

www.QuranerAlo.com 

Contents 

এটি হবে তাদের দাম্পত্য জীবনের পূর্ণতা। আল্লাহ বলেন, 

وعندهم قصر الطرف عينه الصافات: 48 

“তাদের কাছে থাকবে নত, আয়তলােচনা তরুণীগণ।” (সূরা সাফফাত-৪৮) অর্থাৎ কেবল তারা স্বামীদেরকেই দেখবে, অন্যদের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করবে না। তাদের প্রতি আসক্ত হবে না। স্বামীকেই সে শ্রেষ্ঠ সুদর্শন পুরুষরূপে পাবে। 

(৫) দৈহিক সৌন্দর্য। সুন্দর চেহারার পাশাপাশি তাদের দেহকেও আল্লাহ তা’লা নিখুঁত ও নিষ্কলুষ করে দেবেন। আল্লাহর বাণী, 

و النبأ: ۳۱ – 

و إن للمتقين مهارای حدایق وأعتباء وكواعب اترابا 

“পরহেযগারদের জন্যে রয়েছে সাফল্য। উদ্যান, আঙ্গুর, সমবয়স্কা, পূর্ণযৌবনা তরুণী।” (সূরা নাবা ৩১-৩৩) 

(৬) স্বামীদের প্রতি নমনীয় 

জান্নাতে নারীগণ তাদের স্বামীদের প্রতি অতিসহনশীল হবে, অনমনীয় হবে না। তাদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লাহ বলেন, 

928 

www.QuranerAlo.com 

Contents 

عوا أترابا ) في الواقعة: ۳۷ 

“কামিনী, সমবয়স্কা।” (সূরা ওয়াকিয়া-৩৭) 

(৭) সমবয়স্কা ও পূর্ণযৌবনা আল্লাহর বাণী, 

به 

و فيه قصر الطرف ليطيه إن قبله ولا جا 

الرحمن: 56 

“তথায় থাকবে আনতনয়ন রমণীগণ, কোনাে জিন ও মানব পূর্বে যাদের ব্যবহার করেনি।” (সূরা আররাহমান-৫৬) 

(৮) ত্বক হবে অতিমসৃণ। তাদের দেহের বিবরণ দিতে গিয়ে আল্লাহ বলেন, 

وكأنه الياقوت والمرجان 

| ০ : ৯। ৪ “প্রবাল ও পদ্মরাগ সদৃশ রমণীগণ।” (সূরা আর রাহমান ৫৮) 2fEn”BEix১৭ fh} B1 +3 f [c3f1<1*44 5 cS” fwth – [B1 .k | * f1 N & 

4 ; মা &B1 46 

929 

www.QuranerAlo.com 

Contents 

xkfts ” =”j..kxi« » « n!,35.8684 

| ‘rg ‘« k»3 h* ‘«8qX¥b নবী করীম সা. বলেন, “জান্নাতে গমনকারী প্রথম দল পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল ও জ্যোতির্ময় হবে। তৎপরবর্তী দল আকাশে প্রজ্বলিত নক্ষত্ররাজির মতাে চমকপ্রদ হবে। সেখানে প্রত্যেক ব্যক্তির দু’জন করে স্ত্রী থাকবে, অতিশয় সৌন্দর্যে গােশতের ভেতরে তাদের গােছার হাড় পর্যন্ত দেখা যাবে।” (মুসলিম ৭৩৩০) 

(৯) সচ্চরিত্রবান নারীগণ তাদের সচ্চরিত্রের বিবরণ দিতে গিয়ে আল্লাহ বলেন, 

و فيه خيرات حسانة 

الرحمن: ۷۰ 

“সেখানে থাকবে সচ্চরিত্রা সুন্দরী রমণীগণ।” (সূরা আর রাহমান-৭০) 

(১০) তাদের চেহরায় থাকবে জ্যোতি ও ঔজ্জ্বল্য 2 N3 E & II &5 3 +3 fe৮ ‘«f&< –$+ ; মা 

16k th৬৭ ‘«9[ RÉ tuh »lék2 su 2»k নবী করীম সা. বলেন, “জান্নাতী কোনাে রমণী যদি পৃথিবীতে উদয় হতাে, তবে পৃথিবীর চারপাশ আলােকিত হয়ে উঠত। 

930 

www.QuranerAlo.com 

Contents 

আকাশ বাতাস তার সুগন্ধিতে ভরে উঠত। তার মস্তকাবরণ। নিঃসন্দেহে দুনিয়া ও তাতে অবস্থিত সকল কিছু থেকে উত্তম।” (বুখারী-৬১৯৯) 

| AI ঈশ্বত ; মা 

که الرحمن: ۵۸ 

وانه الياقوت والمرجان 

U4f _85_8 {f}u «o\ $EC[ ✓ > ” [&ièg $ +be88x;-*1g try-qk& * i5 •+u.b+k 

| BE a h’ ‘«8qX | E “প্রবাল ও পদ্মরাগ সদৃশ রমণীগণ” এর ব্যাখ্যায় নবী করীম সা. বলেন, “স্বামী তার চেহারার গণ্ডদেশে তাকাবে, তাকে আয়নার থেকেও স্বচ্ছ ও পরিস্কার দেখতে পাবে। নিশ্চয় রমণীর সামান্য অলংকার (প্রকাশিত হলে) পৃথিবীর পুরাে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য আলােকিত করে তুলবে। দেহে সত্তরটি বস্ত্র পরিহিত থাকবে; তদুপরি অতিষয় সৌন্দর্যে গােশতের ভেতরে তাদের গােছার হাড় পর্যন্ত দেখা যাবে।” (আল মুস্তাদরাক-৩৭৭৪)। 

ন্যায়বিচার, খােদাভীরু ও সচ্চচরিত্রা নারী, জান্নাতী হুর অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। 

931 

www.QuranerAlo.com 

Contents 

ইহ-পরকালের সহধর্মিণী 

দুনিয়াতে মুমিনের স্ত্রী যদি সৎ ও স্বামীভক্ত হয় এবং স্বামীও তাকে ভালােবাসে, 

* তবে সেই স্ত্রী কি তার সাথে 

জান্নাতে থাকবে? * তাদের স্তরে কী তারতম্য হবে? 

ভূমিকা দুনিয়াতে মুমিনের স্ত্রী জান্নাতেও তার স্ত্রী হিসেবেই থাকবে। তবে সেখানে তাদের উভয়ের রূপ-সৌন্দর্যকে আল্লাহ হাজারাে গুণ বাড়িয়ে দেবেন। স্বামী যদি উন্নত স্তরে হয়, তবে স্ত্রীকেও আল্লাহ তা’লা সেই স্তরে পৌঁছে দেবেন, পক্ষান্তরে স্ত্রী যদি উন্নত মর্যাদা পায়, তবে স্বামীকেও সেই মর্যাদায় ভূষিত করবেন। যেমনটি আল্লাহ তালা বলেন, 

932 

www.QuranerAlo.com 

Contents 

ا من لحم اباه وأوجه ورته والكيكه 

قى الدارقه 

عليگر بماصبر في 

باپ ( 

عدني ي 

فوج يوت عليهمین 

২৪ – FY :-c|| “তা হচ্ছে বসবাসের বাগান। তাতে তারা প্রবেশ করবে এবং তাদের সৎকর্মশীল বাপ-দাদা, স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানেরা। ফেরেশতারা তাদের কাছে আসবে প্রত্যেক দরজা দিয়ে। বলবে, তােমাদের সবরের কারণে তােমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হােক। আর তােমাদের এ পরিণাম-গৃহ কতই না চমৎকার।” (সূরা রা’দ ২৩-২৪) 

কতই না উত্তম পরিণামগৃহ। সুউচ্চ জানাতে প্রবেশের পর সেখানে স্থায়ী সুখ-শান্তিতে বসবাস করবে। ভােগ-বিলাসের উপকরণগুলাে প্রতিনিয়তই নতুন ও আধুনিক হতে থাকবে। সেখানে প্রতিপালক তাদেরকে তাদের বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন। ও পিতৃপুরুষদের সাথে মিলিয়ে দেবেন। ফলে তাদের অন্তরাত্মা শীতল হবে। ফেরেশতাগণ প্রত্যেক দরজা দিয়ে প্রবেশ করে তাদেরকে সম্ভাষণ জানাবে। চিরস্থায়ী শান্তির বার্তা দিতে থাকবে। বলবে, দুনিয়াতে তােমাদের সৎকর্ম ও আল্লাহর জন্য কষ্ট-ক্লেশের প্রতিদানস্বরূপ তােমরা চিরসুখে বসবাস করতে 

933 

www.QuranerAlo.com 

Contents 

থাক। তােমাদের পরিণামগৃহ কতই না চমৎকার। তােমাদের 

পুরস্কার কতই না মহান। ফেরেশতাদের সাথে মানুষের সেই প্রীতিকর সম্পর্ক নতুন নয়; বরং দুনিয়াতে অবস্থানকালেই তারা সেই সৎ বান্দাদের জন্য দোয়া করত। তাদের ক্ষমা ও স্তরবৃদ্ধি প্রার্থনা করত। আল্লাহ বলেন, 

هو الذين يحيو العرش ومن حوله. يسون مد ريه ويومئون به ويستغفرون للذين ، او را وسعت كل شيء ممم وعلما فاغفر للبنين تابوا وأبو سيلك وقهم عذاب ألجيريه 

غافر: ۷ 

“যারা আরশ বহন করে এবং যারা তার চারপাশে আছে, তারা তাদের পালনকর্তার সপ্রশংস পবিত্রতা বর্ণনা করে, তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং মুমিনদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলে, হে আমাদের পালনকর্তা, আপনার রহমত ও জ্ঞান সবকিছুতেই পরিব্যাপ্ত। অতএব, যারা তওবা করে এবং আপনার পথে চলে, তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং জাহান্নামের আযাব। থেকে রক্ষা করুন।” (সূরা গাফির-৭)। 

জান্নাতীগণ ব্যস্ত থাকবে 

934 

www.QuranerAlo.com 

Contents 

হ্যাঁ.. তবে কষ্ট ও ক্লান্তিকর কাজে নয়; বরং চির সুখ-শান্তি ও সুন্দরী স্ত্রীদের নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। আল্লাহ তা’লা বলেন, 

و إن أصحاب الجنة اليوم في شغل فهو : هو وأروجهم في ظلل على الأراہ موتی که پس: 55 – 56 | 

“এদিন জান্নাতীরা আনন্দে মশগুল থাকবে। তারা এবং তাদের স্ত্রীরা উপবিষ্ট থাকবে ছায়াময় পরিবেশে আসনে হেলান দিয়ে।” (সূরা ইয়াছিন ৫৫-৫৬) অন্য আয়াতে বলেন, 

و الذين ءامنو ایا وائو مييين ( آوا الجنة أن ووجبروت ( که الزخرف: ۹۹ – ۷۰ 

“তােমরা আমার আয়াতসমূহে বিশ্বাস স্থাপন করেছিলে এবং তােমরা আজ্ঞাবহ ছিলে। জান্নাতে প্রবেশ কর তােমরা এবং তােমাদের স্ত্রীগণ সানন্দে।” (সূরা যুখরুফ ৬৯-৭০)। 

| যেসব নারী দুই স্বামীর সংসার করেছে, তাদের কী 

পরিণতি হবে? উত্তরঃ একই প্রশ্ন উম্মে হাবীবা রা. (নবীজীর স্ত্রী) করেছিলেন, 

935 

www.QuranerAlo.com 

Contents 

f [c622 *#ko W® th0rAqtqf8n gx oil i T5 st: *# *#33 EW5 3 +8 ২৪ ; Elko g#B_ 

0 5-5tf0g«f B( ১xess | f1 [5 3 [^ ti৮৭eth@8 ‘rS – d jS /$x হে আল্লাহর রাসূল, দুনিয়াতে যে নারীর দু’জন স্বামী ছিল। সে এবং তার উভয় স্বামী যখন জান্নাতে যাবে, তখন সে কার স্ত্রী হবে? প্রথমজনের, নাকি দ্বিতীয়জনের? উত্তরে নবীজী বললেন, দুনিয়াতে যে স্বামী তার সাথে অধিক সচ্চরিত্রবান ছিল, সে তার স্ত্রী হিসেবে থাকবে। অতঃপর বললেন, হে উম্মে হাবিবা, সৎচরিত্রবানগণ উভয়জগতের কল্যাণ হাতিয়ে নিয়েছে।” (আবদ বিন হুমাইদ) 

প্রতিশ্রুতি পূরণ, দ্বীনের বিষয়ে যদি তারা পরস্পর সহযােগী হয়, তবে জান্নাতে আল্লাহ অবশ্যই তাদেরকে মিলিত করবেন। 

936 

www.QuranerAlo.com 

Contents 

জান্নাতের মার্কেট 

জান্নাতে সুখ ও ভােগের উপকরণ থাকবে অনেক। খাদ্য, পানিয়, পােশাক ও সজ্জার পাশাপাশি প্রতিনিয়ত তারা নতুন নতুন। উপভােগ্য বিষয় দেখতে । পাবে। তন্মধ্যে একটি হলাে জান্নাতের মার্কেট.. 

* কী সেই জান্নাতের মার্কেট? * তাতে কীসের কেনাবেচা হবে? * উপভােগ্য কী থাকবে তাতে? চাহিদাপূরক সকলকিছু সেখানে পাওয়া যাবে কি? 

ভূমিকা জান্নাতে তাদের অগণিত বিনােদন ও সম্ভোগের পাশাপাশি তাদের জন্য সেখানে মার্কেট ও সম্মিলনের ব্যবস্থা করা হবে। কারণ, দুনিয়ার সমাজে আমরা দেখে থাকি, অনেক লােকই 

937 

www.QuranerAlo.com 

Contents 

বাজার ও মার্কেটে গিয়ে মানুষদের সাথে সাক্ষাত ও দীর্ঘ আলাপচারিতা পছন্দ করে। 

মার্কেটের শােভা দুনিয়ার সাধারণ মার্কেটগুলাের মতাে নয়; 27 « gh- 18 + F £ মz«#3 0-11 ; মা II &–37665 ES –bbs.k] .<€W U-z5 id dT ***s..f;”I3545#* YES bb] [ …rty 

JJ R rs i troboj BHTE RİOR PES kit নবী করীম সা. বলেন, “নিশ্চয় জান্নাতে একটি মার্কেট থাকবে, জান্নাতীগণ প্রত্যেক জুমুআয় সেথায় একত্রিত হবে। অতঃপর উত্তর দিক থেকে একপ্রকার সুবাতাস বয়ে তাদের চেহারা ও বস্ত্রগুলাে ছুঁয়ে যাবে। ফলে তাদের সৌন্দর্য ও শােভা আরাে বেড়ে যাবে। এভাবে পরিবারের কাছে ফিরে এলে তারা বলতে থাকবে, আল্লাহর শপথ, তােমরা তাে পূর্বের চেয়ে অধিক সুন্দর ও সুদর্শন হয়ে গেছাে! উত্তরে তারা বলবে, আল্লাহর শপথ, তােমরাও পূর্বের তুলনায় অনেক সুন্দরী ও সুদর্শনা হয়ে গেছাে!” (মুসলিম-৭৩২৪) 

মার্কেট করতে তারা উদগ্রীব থাকবে 

938 

www.QuranerAlo.com 

Contents 

-$11 ; &${fbie “$; löfti£ x$ū4 $- cu cliq ‘í … “i Idoq to ${cłaq ; SIưB • TE É Širi 

ÍB $FÖĞto De Xlb d&#8 f€$- Svenn i on 31$ žífW 11 – Thore $ ‘« #i»8 Ağhakū.1-db bkk. Í ÑD+B É sh ‘< Ñ hū.fcg wií. Í joğ ‘«•! Nbj ‘«b? 2%’«b? 4 ‘«?h”\ Æru-bín 3..ujo kî na ss vi töö’«! – Ed 

B…k föl ith* $-$bkhởi f€…”¿i .’11!4bUfe ; qnx 25 W?fbie $; .1 5 Eeli 5 rst , -i3- S 8- Thơ-3 

#S O&CS$s & EdỮUgo Ah 8h3-3 e^e5 Aği e$0x2.1 KfWiv; BÉ XX $ 1.3 6+d; Bobl i Bu($* hxči BöreŪ trañÜ itü eğl # ..kšñEe” i “GÖZ ; TEC E 455 ót Yox< tìr 6 FW ; Tžko å lc zuhf« alik!,jä… 2 iấco. to’« di k ego taciti «1-2 bcí$ kų& <I{eí” Îxr6K B«ĻI &–İ- iè’3k k#+5 s et station be!ğs Ġ! PELEKA k Pf»Tbt; I* Bbí látk – 

939 

www.QuranerAlo.com 

Contents 

২i H 53+.+#g f6•”r« E-dy sxss | f36 8…6k)”b°C ‘« #hau eSI d fW1«f 136 ‘rs= ১h fj.৪ x$S 1[” 3gp ! ‘« >h | Ek ‘5<II &5 *50 4 মা 164II –$csS 1.5 >$E @ xk ‘« E +—& 5 / 84 Vil cCS !Si« * 885 *59836 Y4h/AF fW Xx;”Sb fY P4hEO f5ঐ- a ; » 

| $kf- 38–31faul h! একদা সাইদ ইবনুল মুছাইয়িব রহ. আবু হুরায়রা রা. এর সাথে সাক্ষাৎ করলে আবু হুরায়রা রা. তাকে লক্ষ্য করে বললেন, আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি, জান্নাতের মার্কেটে তিনি যেন আমাদেরকে একত্রিত করে দেন! সাইদ বললেন, জান্নাতে কি মার্কেট থাকবে? বললেন, হ্যাঁ..! নবী করীম সা. সংবাদ দিয়েছেন, “জান্নাতীগণ যখন জান্নাতে প্রবেশ করে তাদের কৃতকর্ম অনুযায়ী মর্যাদাপ্রাপ্ত হবে, তখন এক সপ্তাহ অন্তরন্তর তাদেরকে আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। তাদের সামনে। আল্লাহর আরশ প্রকাশ করা হবে। অতঃপর জান্নাতের কোনাে একটি কাননে পালনকর্তা তাদের সামনে অতি উজ্জ্বলরূপে প্রকাশ হবেন। অতঃপর তাদের সামনে কিছু জ্যোতির্ময়, কিছু মােতিখচিত, কিছু মুক্তাখচিত, কিছু মণিখচিত, কিছু স্বর্ণখচিত আর কিছু রূপাখচিত উপবেশনস্থল বসানাে হবে। তাদের সর্বনিম্ন 

940 

www.QuranerAlo.com 

Contents 

স্তরের ব্যক্তি (সেখানে নিম্নশ্রেণীর বলতে কেউ থাকবে না) কস্তুরী ও কাফুর মাখা মৃদু উঁচুস্থলে থাকবে। তারা চেয়ারে বসা লােকদেরকে তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠস্থলে বসে আছে ভাববে না। আবু হুরায়রা বলেন, অতঃপর আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল, আমরা কি প্রতিপালককে দেখতে পাব? বললেন, হ্যাঁ! সূর্য ও পূর্ণিমার চাঁদ দেখতে তােমাদের কোনাে অসুবিধা হয়? বললাম, না। বললেন, তেমনি তােমাদের প্রতিপালককে দেখতেও তােমাদের কোনাে অসুবিধা হবে না। সে মজলিসে বসা প্রত্যেককেই আল্লাহ উত্তমরূপে সম্বােধন করবেন। এমনকি একজনকে বলবেন, হে অমুক, স্মরণ আছে, তুমি অমুক দিন। এমন এমন কাজ করেছিলে? এভাবে তার কিছু অপরাধের কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন। সে বলবে, হে প্রতিপালক, আপনি তাে আমাকে ক্ষমাই করে দিয়েছেন! বলবেন, হ্যাঁ.. ক্ষমার কারণেই তাে আজ তুমি এ স্তরে পৌঁছুতে পেরেছ! এভাবে কথাবিনিমিয় চলতে থাকবে; এমনসময় মেঘমালা ওপর থেকে তাদের আচ্ছন্ন। করে ফেলবে, অতঃপর তাদের ওপর এমন উত্তম ও মনােমুগ্ধকর বৃষ্টি বর্ষণ হবে, যার সুঘ্রাণ ইতিপূর্বে কোনােদিনই তারা পায়নি। অতঃপর আল্লাহ তা’লা বলবেন, তােমাদের জন্য তৈরি শ্রেষ্ঠত্বের প্রাসাদগুলােতে (মার্কেট) যাও! সেখান থেকে যা চাও উপভােগ কর! অতঃপর আমাদেরকে একটি মার্কেটে আনা হবে, ফেরেশতাগণ যাকে বেষ্টন করে রাখবেন; এত মনােমুগ্ধকর ও নয়নাভিরাম প্রাসাদসমগ্র ইতিপূর্বে কোনাে চোখ প্রত্যক্ষ 

941 

www.QuranerAlo.com 

Contents 

করেনি, কোনাে কর্ণ ওগুলাে সম্পর্কে শুনেনি এবং কোনাে হৃদয়েও সেগুলাের কল্পণা উদয় হয়নি। অতঃপর আমাদের জন্য মনােচাহিদাপূরক বস্তুসমূহ নিয়ে আসা হবে; সেখানে ক্রয়-বিক্রয় বলতে কিছুই থাকবে না। সে মার্কেটে জান্নাতবাসী পরস্পর সাক্ষাতে লিপ্ত হবে। অতঃপর উঁচুস্তরপ্রাপ্ত একব্যক্তি নিচুস্তরের (সেখানে নিচুস্তর বিশিষ্ট কেউ থাকবে না) ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাত করলে তার পরিহিত বস্ত্র দেখে সে অভিভূত হবে। তাদের কথাবার্তা শেষ হতে না হতে তাকেও এর চেয়ে উৎকৃষ্ট পােশাক পরিয়ে দেওয়া হবে। কারণ, জান্নাতে অনুতাপ বলতে কিছু নেই। অতঃপর ঘরে। ফিরে এলে স্ত্রীগণ আমাদেরকে দেখে বলতে থাকবে, শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন গ্রহণ কর! তুমি তাে পূর্বের তুলনায় উত্তম ও উৎকৃষ্ট রূপে ফিরে এসেছ! সে বলবে, হ্যাঁ.. আজ আমরা প্রতিপালকের সাক্ষাত লাভ করেছিলাম। আর তা লাভ করার পর আমাদের তাে এরকম উৎকৃষ্ট রূপে ফিরে আসাটাই বাঞ্ছনীয়।” (ইবনে হিব্বান-৭৪৩৮)। 

প্রজ্ঞা, প্রতিপালক জানেন যে, মানুষের রুচিবােধ বৈচিত্রময়, তাই ভােগ-বিলাসের উপকরণসমূহেও তাদের জন্য বৈচিত্র রেখেছেন। 

942 

www.QuranerAlo.com 

Contents 

আমার তাে এক বন্ধু ছিল। 

জান্নাতীগণ চিরসুখে জীবন যাপন করতে থাকবে, সেখানে। মনােচাহিদাপূরক সকলকিছুই তারা প্রাপ্ত হবে। 

* সেখানে কি দুনিয়াকে স্মরণ করবে? * জাহান্নামীদের খোঁজ নেবে কি? * তাদের পরস্পর বাক্যালাপ 

কীরূপ হবে? 

ভূমিকা জান্নাতীগণ পরস্পর আলাপচারিতায় লিপ্ত হবে। গল্পের আসর জমাবে। কখনাে কখনাে দুনিয়াতে সংঘটিত বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলােচনা করবে। সেখানে তারা জাহান্নামীদের স্মরণ করবে। জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য তারা প্রতিপালকের কৃতজ্ঞতা আদায় করবে। 

বন্ধুর গল্প। জান্নাতীগণ পরস্পর সাক্ষাতে মিলিত হবে। একে অপরকে দেখতে যাবে। দুনিয়াতে সংঘটিত বিষয় নিয়ে আলােচনা করবে। 

943 

www.QuranerAlo.com 

Contents 

দুনিয়াতে তাদের সঙ্গে থাকা বন্ধুদের সম্পর্কে জানতে চাইবে। জান্নাতে তারা উন্নত বিছানা ও নরম সােফায় বসে গল্পগুজবে মেতে উঠবে। এমনকি তাদের কেউ কেউ এমন ব্যক্তি সম্পর্কে আলােচনা উঠাবে, যে পরকাল অবিশ্বাস করত, আল্লাহর সাক্ষাতলাভ ও হিসাব-নিকাশ অস্বীকার করত। কুরআনুল কারীমে তাদের এ আলাপচারিতা এভাবে ফুটে উঠেছে 

و قبل بعضه على بعض يتساءلون ( قال قابل تي مانى كات 

أو امتا و رابا و ما أا 

لين الدين 

يقول أو 

إلى قريه 

الصافات: ۵۰ – ۵۳ | 

الميريون ( 

“অতঃপর তারা একে অপরের দিকে মুখ করে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। তাদের একজন বলবে, আমার এক সঙ্গী ছিল। সে বলত, তুমি কি বিশ্বাস কর, আমরা যখন মরে যাব এবং মাটি ও হাড়ে পরিণত হব, তখনও কি আমরা প্রতিফলপ্রাপ্ত হব?” (সূরা সাফফাত ৫০-৫৩) তখনই তারা বুঝতে পারবে যে, সে লােকটি জান্নাতে নেই। তখন কতিপয় মুমিন জাহান্নামে তার অবস্থান দেখতে চাইবে। যেমনটি আল্লাহ বলবেন, 

وقال هل أنتطلعونه كه الصافات: ۵۶ 

“তােমরা কি তাকে উঁকি দিয়ে দেখতে চাও?” (সূরা সাফফাত ৫৪) 

944 

www.QuranerAlo.com 

Contents 

বন্ধুর পরিণাম তখন সে এবং তার সাথীগণ জাহান্নামে তাকাবে। দেখবে, সে জাহান্নামের অগ্নির স্তরসমূহে উলট পালট খাচ্ছে, দগ্ধ হচ্ছে, চিৎকার করে পরিত্রাণদাতাকে ডাকছে; কিন্তু কেউ তাকে পরিত্রাণ দিতে আসছে না। তার চতুর্পার্শ্বে থাকবে বিষধর অগ্নি সাপসমূহ। আল্লাহ বলেন, । 

وطلع اه في سواء الجحيه 

الصافات: 55 

“অতঃপর সে উঁকি দিয়ে দেখবে এবং তাকে জাহান্নামের মাঝখানে দেখতে পাবে।” (সূরা সাফফাত-৫৫)। হ্যাঁ.. তাকে সে জাহান্নামের মধ্যস্থলে দেখবে। চামড়াগুলাে তার পুড়ে কালাে হয়ে গেছে। অঙ্গগুলাে কেটে পড়ছে। চরম শাস্তিতে দিনযাপন করছে। এটাই হলাে সীমালঙ্ঘনকারীদের শাস্তি। এটাই অহংকারীদের পরিণতি! তখনই জান্নাতী ব্যক্তিটি আনন্দে নেচে উঠবে, প্রতিপালকের প্রশংসা করে বলবে, 

من 

و قال أل إن كد لدين و ولولا يقمة ربي لك المحضرين ( أفما ت بمييين و إلا موتنا الأولى وما تح 

لمثل هذا فليعمل 

بمعبين : إن هذا لهو النمو العظير العيون ( که الصافات: ۵۹ – ۱۱ 

945 

www.QuranerAlo.com 

Contents 

“আল্লাহর শপথ, তুমি তাে আমাকে প্রায় ধ্বংসই করে দিয়েছিলে। আমার পালনকর্তার অনুগ্রহ না হলে আমিও যে। গ্রেফতারকৃতদের সাথেই উপস্থিত হতাম। এখন আমাদের আর মৃত্যু হবে না, আমাদের প্রথম মৃত্যু ছাড়া এবং আমরা শাস্তি প্রাপ্তও হব না। নিশ্চয় এটি মহাসাফল্য। এমন সাফল্যের জন্যে 

পরিশ্রমীদের পরিশ্রম করা উচিত।” (সূরা সাফফাত ৫৬-৬১) 

সুযােগ, জীবন হলাে এক মহা সুযােগ, যা দ্বিতীয়বার আর আসবে না; সুতরাং এ মূল্যবান জীবনকে অসৎ সঙ্গে নষ্ট করে দিয়াে না! 

946 

www.QuranerAlo.com 

Contents 

প্রতিপালকের দর্শনলাভ 

জান্নাতে প্রতিপালকের দর্শনলাভ হবে মুমিনদের সর্বোচ্চ আকাঙ্খ, মহান অনুগ্রহ এবং চূড়ান্ত বাসনা। এ অনুগ্রহের সামনে জান্নাতের কৃপা তুচ্ছ মনে হবে। আল্লাহ আমাদেরকে সে অনুগ্রহ লাভের তাওফিক দিন! 

* তবে কখন মুমিনগণ প্রতিপালকের দর্শন লাভ করবে? * এ বিষয়ে প্রমাণগুলাে কী কী? * কী পরিতুষ্টি? 

ভূমিকা আল্লাহ তা’লা আল-কুরআনে বলেছেন, একান্ত অনুগত। মুমিনগণই কেবল প্রতিপালকের দর্শনলাভে ধন্য হবে। আল্লাহ 

বলেন, 

زياده يونس: 21 

والذين أخو 

947 

www.QuranerAlo.com 

Contents 

“যারা সৎকর্ম করেছে তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ এবং তার চেয়েও বেশী কিছু।” (সূরা ইউনুস-২৬) অন্য আয়াতে বলেন, 

ووجوه يومياضة » إلى ربها ناظر يوم القيامة: 22 – 23 | 

“সেদিন অনেক মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হবে। তারা আপন। প্রতিপালকের দিকে তাকিয়ে থাকবে।” (সূরা কিয়ামাহ ২২-২৩)। 11H8) & P #9 zi9 fuস্ট & & P 

সুসXP ANS/Aw650-j2qSckSe9 ৩৫ .wge-iss : – +80p uস- – he) ) 

| 245 &€e8) MX8.1682 

والذين أسوأ 

أين وزيادة ولا يرهق وهقت ولاله 

أولا أحب المتهم فيهاځلون ( که يونس: 26 | 

নবী করীম সা. বলেন, “জান্নাতীগণ জান্নাতে প্রবেশ করার পর আল্লাহ বলবেন, তােমরা কি এমন কিছু চাও, যা তােমাদের | সুখকে অনেক বাড়িয়ে দেবে? তারা বলবে, আপনি কি আমাদের চেহারা উজ্জ্বল করেননি?! আমাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাননি?! জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেননি?! অতঃপর প্রতিপালক পর্দা উঠিয়ে দেবেন। সেদিন মুমিনদের সর্বভােগ্য বিষয় হবে পালনকর্তার দর্শন। অতঃপর নবীজী এই আয়াত পাঠ করলেন, 

948 

www.QuranerAlo.com 

Contents 

“যারা সৎকর্ম করেছে তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ এবং তার চেয়েও বেশি। আর তাদের মুখমণ্ডল আবৃত করবে না মলিনতা কিংবা অপমান। তারাই হলাে জান্নাতবাসী, এতেই তারা বসবাস করতে থাকবে অনন্তকাল।” (সূরা ইউনুস-২৬)। 

আল্লাহর দর্শনলাভে সাহাবীদের অতি আগ্রহ সাহাবীগণই হচ্ছেন উম্মতের শ্রেষ্ঠাংশ, সৎকর্মীদের আদর্শ। আল্লাহর মহব্বতে যাদের অন্তর ছিল পূর্ণ। ’41¥ EfCix Tqn#T~« 1+ 5 & Hilighe, Bi ix3 tghữ Hö3f€do 50*<!is-ağ ** ! kbbs Gs » 

xū_HB35€ di lön i anxo 

| E e” “BAbi মাখ্রা iqx১২ মা কতিপয় সাহাবী নবী করীম সা. কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল, কেয়ামতের দিন আমরা কি প্রতিপালককে। দেখতে পাব? উত্তরে নবীজী বললেন, পূর্ণিমার রাত্রিতে চাঁদ দেখতে তােমাদের কোনাে কষ্ট হয়? বলল, না হে আল্লাহর রাসূল! বললেন, স্বচ্ছ আকাশে সূর্য অবলােকন করতে তােমাদের অসুবিধা হয়? বলল, না হে আল্লাহর রাসূল! বললেন, তেমনি প্রতিপালককেও তােমরা সেখানে দেখতে পাবে।” (মুসলিম ৪৬৯) 

949 

www.QuranerAlo.com 

Contents 

জিজ্ঞাসা কখন তারা প্রতিপালকের দর্শন লাভ করবে? উত্তরঃ 

1$ & Tige3 

اللذين أخوات زیاد يونس: 21 

f9xbtk ¥¥ht৭ht fy #g #g ff [b & ; মা k41 e k 4S5j fkX5$$ d«TT C5 A+9# ; [ Ah’ ‘« ‘X’5 #B r^ CW 6 fé t] «T f/ -S$ ! 1 A kískt >&^iè’* Xß ú xtb* 

fbxk-3^ >i. Uğiès ‘<.LF& নবী করীম সা. পাঠ করলেন, “যারা সৎকর্ম করেছে তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ এবং তারও চেয়ে বেশী।” (সূরা ইউনুস-২৬)। অতঃপর বললেন, জান্নাতীগণ জান্নাতে এবং জাহান্নামীগণ। জাহান্নামে প্রবেশ করার পর এক ঘােষকের ঘােষণা ভেসে আসবে, হে জান্নাতবাসী, আল্লাহর কাছে তােমাদের একটি প্রতিশ্রুতি রয়েছে, আল্লাহ তােমাদের জন্য সেটি পূর্ণ করতে চান! তারা বলবে, সেটা কী? তিনি কি আমাদের মীযান ভারী করেননি! আমাদের চেহারা উজ্জ্বল করেননি! আমাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাননি! জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেননি! অতঃপর প্রতিপালক পর্দা সরিয়ে দেবেন। মুমিনদের সেদিন সর্বোৎকৃষ্ট 

950 

www.QuranerAlo.com 

Contents 

বিষয় হবে পালনকর্তার দর্শন। এটিই সংযুক্ত কৃপা।” (তিরমিযী 

৩১০৫) 

আল্লাহর চিরসন্তুষ্টি ও তাঁর দর্শনলাভ। E: +353 fex #$ fig & ৭ ; মা xor U65 pkk -Bb1 eñhf€; BDE Çgū 33″ Eğiq $Aší$$ ; BBÆ BU « S$å 13K k !iáí$*h Aff fS9; “ISE a ‘«f0$ || + * hx-4551 E a ‘« 

C$ÝCHA W & Pseö uth নবী করীম সা. বলেন, “নিশ্চয় আল্লাহ তা’লা জান্নাতীদের লক্ষ্য করে বলবেন, হে জান্নাতবাসী! সকলেই বলবে, আমরা উপস্থিত হে প্রতিপালক! বলবেন, তােমরা কি সন্তুষ্ট আছ? তারা বলবে, কেনই বা সন্তুষ্ট হব না! অথচ আপনি আমাদেরকে যা দিয়েছেন আপনার কোনাে সৃষ্টিকেই তা দেননি! তিনি বলবেন, আমি তােমাদেরকে এর চেয়ে উত্তম বস্তু দেব! তারা বলবে, হে প্রতিপালক, এর চেয়ে উত্তম কী? বলবেন, তােমাদের ওপর আমি আমার সন্তুষ্টিকে স্থায়ী করে দিলাম, আর কখনাে তােমাদের ওপর অসন্তুষ্ট হব না।” (বুখারী-৬১৮৩)। 

নামাযীগণ আল্লাহর দর্শনলাভের অধিক হকদার 

| 951 

www.QuranerAlo.com 

Contents 

নবী করীম সা. প্রায়ই সাহাবীদের নিয়ে জান্নাতের আলােচনা করতেন, প্রতিপালকের দর্শন সম্পর্কে তাদের অন্তর আকৃষ্ট করতেন। বলতেন, যারা ফজর ও আসরের নামায নিয়মিতভাবে উত্তমরূপে আদায় করবে, তারা প্রতিপালকের দর্শন লাভের উপযুক্ত হবে। 

htn 4g ‘B-5957I&ie6:59.4d1 2 [[EW ‘ –6 hট-«635 »5 €-Ez Ah-শুধু A& ; 5 

VöökiñF,Is »ë flf}} 51 ^,435 –selvão জারীর রা. বলেন, পূর্ণিমার রাত্রিতে আমরা নবী করীম সা. এর সান্নিধ্যে বসা ছিলাম, তিনি চন্দ্রের দিকে তাকিয়ে বললেন, নিশ্চয় তােমরা প্রতিপালককেও এভাবে স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করবে। তাকে দেখতে তােমাদের কোনাে অসুবিধা হবে না। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বের নামাযদ্বয়কে তােমরা উত্তমরূপে আঁকড়ে ধর। কখনই যেন নামাযদ্বয় তােমাদের থেকে ছুটে না যায়।” (বুখারী-৫৪৭) অর্থাৎ নিদ্রা কিংবা ব্যস্ততা দিয়ে যেন শয়তান তােমাদেরকে নামাযদ্বয় থেকে বিমুখ না করে ফেলে। 

952 

www.QuranerAlo.com 

Contents 

আল্লাহর দর্শনলাভই জান্নাতের সর্বোৎকৃষ্ট কৃপা 

– €d ‘«—এN jx6k »l 2+5 ‘«—এম ২ ; মা lih S&..Kh LI & “ièg-şJBF B Bt kê g buo kî by lekar 

– +0» B1 x3+ নবী করীম সা. বলেন, “রূপাখচিত দু’টি জান্নাত থাকবে, যার। পানপাত্র ও তদস্থলে অবস্থিত সকলকিছুই হবে রূপার। স্বর্ণখচিত দু’টি জান্নাত থাকবে, যার পানপাত্র ও তদস্থলে অবস্থিত সকলকিছুই হবে স্বর্ণের। তাদের এবং প্রতিপালকের মাঝখানে থাকবে শুধুই তাঁর অহংকার ও মহত্বের আবরণ। এটি হবে জান্নাতে আদনে।” (বুখারী-৪৫৯৭) 

সর্বোচ্চস্তরের জান্নাতী সকাল-সন্ধ্যা প্রতিপালকের দর্শনলাভ করবে। 

Qú $*!* **ūərş’utR+B fes $82 ; !! 

F#flcóx hl] &iè’Q. ġö$ uit!$} b’Zï£ $15 নবী করীম সা. বলেন, “সর্বনিম্নস্তরের জান্নাতপ্রাপ্ত ব্যক্তি একহাজার বৎসর পর্যন্ত অতিক্রম করে তার রাজ্য ও বিলাসােপকরণের সূচনা ও প্রান্তসীমা দেখতে পাবে। আর সর্বোচ্চস্তরের জান্নাতপ্রাপ্ত ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা প্রতিপালকের দর্শনলাভ করবে।” (তিরমিযী-২৫৫৩) 

953 

www.QuranerAlo.com 

Contents 

উপভােগ্য, আল্লাহর শপথ, জান্নাতে যদি প্রতিপালকের দর্শনলাভ না হতাে, তবে আল্লাহওয়ালাদের সকল স্বাদ বিস্বাদে পরিণত হতাে। 

954 

www.QuranerAlo.com 

Contents 

জান্নাতীদের বাসনা। 

সেখানে জান্নাতীদের কোনাে চাওয়াই অপূর্ণ থাকবে না। তাদের কামনা বাসনা সেখানে রুচিবােধের ভিন্নতার কারণে বৈচিত্রময় হবে। তন্মধ্যে.. 

কৃষিকাজে আসক্তি দুনিয়াতে মানুষ বেঁচে থাকার তাগিদে খাদ্যোপকরণ অবলম্বন। করে। কৃষিকাজে প্রচুর শ্রম ও সময় ব্যয় করে। কিন্তু জান্নাতে কষ্ট-ক্লেশ বলতে কিছুই থাকবে না। সেখানে খাদ্যোপকরণ হিসেবে কৃষিকাজের প্রয়ােজন। হবে না। তবে একব্যক্তি জান্নাতে কৃষিকাজে আগ্রহী হবে.. কী তার বিবরণ..! fড় ‘« fWh 65″ : all kg-W S -4*big $ ‘1 E ; 8িdk0xh-dq #3 fey«ch++ 6ি1$! 

955 

www.QuranerAlo.com 

Contents 

6iab!Shedi Hdj – S$.$5B+ 4 15 S55 r# 

XE “b 361 8 iK66-ToÝ 4* 3” *$ toriqb&as | 18 ; 8ি3 || E 1×55 6/8′ 

LE TÖÖÄT * &176 nuk dij * .. alboxhakus 

আবু হুরায়রা রা. বলেন, একদা নবী করীম সা. সাহাবীদের সামনে আলােচনা করছিলেন, তাদের মাঝে এক বেদুইন ছিল। নবীজী বললেন, নিশ্চয় জান্নাতে একব্যক্তি প্রতিপালকের কাছে কৃষিকাজের অনুমতি চাইলে প্রতিপালক বলবেন, তােমার চাহিদাগুলাে কি পূরণ হচ্ছে না? সে বলবে, অবশ্যই পূরণ হচ্ছে। হে প্রতিপালক! তবে আমার কৃষিকাজের আগ্রহ হচ্ছে! অতঃপর সে বীজ বপন করবে। চোখের পলকেই বীজ উৎপন্ন হয়ে বড় হয়ে যাবে, পেকে পাহাড়সম রূপ ধারণ করবে। প্রতিপালক বলবেন, কী হলাে হে আদমসন্তান! কোনােকিছুই তােমাকে পরিতৃপ্ত করছে না! ওই বেদুইন নবীজীর বিবরণ শুনে বলল, আল্লাহর শপথ, ব্যক্তিটি নিশ্চয় কুরাইশ কিংবা আনসারী হবে! কারণ, তারাই কৃষিকাজে অভ্যস্ত! আর আমরা তাে কৃষিকাজে অভ্যস্ত নই! বেদুইনের কথা শুনে নবীজী হেসে দিলেন।” (বুখারী-২২২১)। 

সন্তান কামনা। 

956 

www.QuranerAlo.com 

Contents 

জান্নাতে মুমিনদের সাথে তাদের পরিবার-পরিজন সকলকে একত্র করে দেওয়া হবে। তথাপি কোনাে কোনাে মুমিন সেখানে সন্তান কামনা করলে মুহূর্তের মধ্যে তার স্ত্রী গর্ভবতী হয়ে সন্তান প্রসব করবে। সেখানে সন্তানের জন্য দশমাস দশদিন অপেক্ষা করতে হবে না। সন্তান প্রসবেও স্ত্রীর কোনাে কষ্ট হবে না। 

W Ñ“ Fesứ B CNW $ku-& 

ti II 

| #g Ne &g নবী করীম সা. বলেন, “কোনাে মুমিন যদি জান্নাতে সন্তান কামনা করে, তবে সন্তান গর্ভধারণ, প্রসব ও বেড়ে উঠা তার চাওয়া অনুযায়ী মুহূর্তের মধ্যে সম্পাদন হবে।” (ইবনে হিব্বান ৭৪০৪) 

ক্ষমতা, জান্নাত হলাে পূর্ণ উপভােগের স্থল, সেখানে মুমিনগণ যা চাইবে, তাই পাবে। 

95

www.QuranerAlo.com 

Contents 

মৃত্যুকে জলাঞ্জলি। 

MONDAINE 

জান্নাতীদের চক্ষুশীতলকারী বস্তু হবে সেখানে তাদের চিরকাল বসবাস। যেখানে কখনাে তারা আর মৃত্যুর সম্মুখীন হবে না, ধ্বংস হবে। 

, অসুস্থ হবে না এবং চিন্তিতও হবে না। 

* কীভাবে চিরকাল থাকবে? * মৃত্যুর কী দশা হবে? 

ভূমিকা দুনিয়াতে একটি চিন্তাই মানুষকে ধন সম্পদ ও ভােগ-বিলাস থেকে নিবৃত করে ফেলে, আর তা হলাে মৃত্যু। এ দুনিয়া তাে চিরকাল ভােগ করা যাবে না। 

তবে জান্নাতের ভােগ-বিলাস চিরস্থায়ী। আল্লাহ বলেন, 

958 

www.QuranerAlo.com 

Contents 

للذين اتقوا عند ربهم 

قوقل أؤنم 

بخير من دال جت تجري من تحتها الأهلي فيها أو مطهر وبرضوا من ل وله بصير بالعبادی که آل عمران: 15 | 

“বলুন, আমি কি তােমাদেরকে এসবের চাইতেও উত্তম বিষয়ের সন্ধান বলব? যারা পরহেযগার, আল্লাহর নিকট তাদের জন্যে। রয়েছে জান্নাত, যার তলদেশে প্রস্রবণ প্রবাহিত- তারা সেখানে। থাকবে অনন্তকাল। আর রয়েছে পরিচ্ছন্ন সঙ্গিনীগণ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি। আর আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি সুদৃষ্টি রাখেন।” (সূরা আলে ইমরান-১৫) 

চিরকাল বসবাস আল্লাহ তা’লা বলেন, 

تجري من تحتها 

و أولي جزاؤهر متنفر تين به وج 

آل عمران: ۱۳۹ 

الأهلدين فيها ويع أجر العملين 

“তাদেরই জন্য প্রতিদান হলাে তাদের পালনকর্তার ক্ষমা ও জান্নাত, যার তলদেশে প্রবাহিত হচ্ছে প্রস্রবণ যেখানে তারা থাকবে অনন্তকাল। যারা (পুণ্যের) কাজ করে তাদের জন্য কতই না চমৎকার প্রতিদান।” (সূরা আলে ইমরান-১৩৬) অন্য আয়াতে বলেন, 

959 

www.QuranerAlo.com 

Contents 

ل دين فيها مادام الشموت 

که هود: ۱۰۸ | 

ي ود 

ا 

وأما الذين شي وأقفي 

عطاء 

والأرض إماشاء 

“আর যারা সৌভাগ্যবান তারা জান্নাতের মাঝে, সেখানেই থাকবে, যতদিন আসমান ও জমিন বর্তমান থাকবে। তবে তােমার প্রভু। অন্য কিছু ইচ্ছা করলে ভিন্ন কথা। এ দানের ধারাবাহিকতা কখনাে ছিন্ন হওয়ার নয়।” (সূরা হূদ-১০৮) 3p je5f0..15 22*866!fil #3 f [‘« ; মা 

| lyw & #f;E 5 নবী করীম সা. বলেন, “যে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে, কখনই সে মৃত্যুবরণ করবে না। চিরসুখে থাকবে, ক্ষতিগ্রস্ত হবে। না। কখনই তার কাপড় নােংরা হবে না। যৌবনে ভাটা পড়বে না।” —SA& c# »86ed “T~3-SAT&bfq5bf54; মা –94 & 5 C# dR46 x64A««& c# 35 “fil 

I 5.8qIE dj C#*#326 »3 

و ونزعنا ما في صدورهمين غير تجري من تحته اهو وقالوا الحمد لله الذي هدا لهذا وماا انهتدي لولا أن هدا اله لقد 

960 

www.QuranerAlo.com 

Contents 

ا بالحق ووا أن تلك الحته ورموها بماك 

الأعراف: ۶۳ 

جات ش تعملون ( 

নবী করীম সা. আরও বলেন, “ঘােষকের ঘােষণা ভেসে আসবে, তােমরা চিরকাল সুস্থ থাকবে, কখনই অসুস্থ হবে না! তােমরা অনন্তকাল জীবিত থাকবে, কখনই মৃত্যুবরণ করবে না! তােমাদের যৌবন চিরকাল থাকবে, কখনই তােমরা বৃদ্ধ হবে না! চিরসুখে বসবাস করবে, কখনই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না! এটিই আল্লাহর বাণীর সত্যায়ন.. “তাদের অন্তরে যা কিছু দুঃখ ছিল, আমি তা বের করে দেব। তাদের তলদেশ দিয়ে নিঝরিণী। প্রবাহিত হবে। তারা বলবে, আল্লাহর কৃতজ্ঞতা, যিনি আমাদেরকে এ পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন। আমরা কখনও পথ পেতাম 

, যদি আল্লাহ আমাদেরকে পথ প্রদর্শন না করতেন। আমাদের প্রতিপালকের রাসূল আমাদের কাছে সত্যকথা নিয়ে এসেছিলেন। আওয়াজ আসবে, এটি জান্নাত। তােমরা এর উত্তরাধিকারী হলে তােমাদের কর্মের প্রতিদানে।” (সূরা আ’রাফ ৪৩) (মুসলিম-৭৩৩৬) 

মৃত্যুকে জবাই 

শিশুর মৃত্যু হলে তার জীবন শেষ হয়ে যায়, ব্যবসায়ীর মৃত্যু হলে তার ব্যবসা বিনষ্ট হয়ে যায়। অসুস্থের মৃত্যু হলে আরােগ্য থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়। পৃথিবীতে সকলেই মৃত্যু আস্বাদন 

961 

www.QuranerAlo.com 

Contents 

করবে। মৃত্যু ছােট-বড় চেনে না। ধনী-দরিদ্রের পার্থক্য বুঝে না। মৃত্যুর দরজা দিয়ে সকলকেই প্রবেশ করতে হবে। তবে । জান্নাতে মৃত্যু বলতে কিছুই থাকবে না। #3 #3 fff [ ht_hvqf8f [b d& T ; মা ; H| -513#B fxbtébtbUy / 2 “\x ti f6$x6bt5o2u €..”-3bY6J£ *-*ia’j –+& 

€.3″3D& J.aঠ –ieg -+5 €-613ht h4f€$x^2 «8b7 #ß $€$xĞb!Oro uebe[‘D2 11 

| EqE 02 « by 

ক 

که 

وأبي هريو الحرة إذ فى الأمور في عقلة ولا يؤمو 

| F৭:২৯ নবী করীম সা. বলেন, “জাহান্নামীরা জাহান্নামে এবং জান্নাতীগণ জান্নাতে প্রবেশের পর মৃত্যুকে নিয়ে আসা হবে। দেখতে সাদা কালাে বর্ণমিশ্রিত ভেড়াসদৃশ হবে। অতঃপর এক ঘােষক ঘােষণা করবে, হে জান্নাতবাসী, চিনতে পেরছ এটা কী? অতঃপর তারা চোখ উঠিয়ে ভালাে করে লক্ষ্য করে দেখে বলবে, হ্যাঁ..! এটা হলাে মৃত্যু। অতঃপর ঘােষণা করবে, হে জাহান্নামবাসী, চিনতে পেরছ এটা কী? অতঃপর তারা চোখ উঠিয়ে ভালাে করে লক্ষ্য করে দেখে বলবে, হ্যাঁ..! এটা হলাে মৃত্যু। অতঃপর তাকে ধরে জবাই করে দেওয়া হবে। ঘােষণা করা হবে, হে জান্নাতবাসী, 

| 962 

www.QuranerAlo.com 

Contents 

চিরকাল বসবাস কর, আজকের পর কোনাে মৃত্যু নেই। ওহে জাহান্নামবাসী, অনন্তকাল শাস্তি ভােগ কর, আজকের পর কোনাে মৃত্যু নেই। এটিই হলাে আল্লাহর বাণীর সত্যায়ন.. “আপনি। তাদেরকে পরিতাপের দিবস সম্পর্কে হুশিয়ার করে দিন যখন। সব ব্যাপারে মীমাংসা হয়ে যাবে। এখন তারা অসাবধানতায় আছে এবং তারা বিশ্বাস স্থাপন করছে না।” (সূরা মারিয়াম-৩৯) (মুসনাদে আহমদ-১১০৮১) একথা শুনার পর জান্নাতীদের খুশি ও আনন্দের সীমা থাকবে না। পক্ষান্তরে জাহান্নামবাসীরও দুঃখ ও পরিতাপের সীমা রইবে না। 

963 

www.QuranerAlo.com 

Contents 

দর্শন, জান্নাত ও জাহান্নামবাসী সকলেই মৃত্যুকে জবাইকৃত দেখবে, যেন অনন্তকাল বসবাস তারা নিশ্চিত বুঝতে পারে। 

Leave a Reply

Address
304 North Cardinal St.
Dorchester Center, MA 02124

Work Hours
Monday to Friday: 7AM - 7PM
Weekend: 10AM - 5PM