ভুল উত্তরঃ ধর্ষণ কেন হয়? LostModesty



অনেকে বলেনা যে মানুষ তার ব্রেইনের ১০ শতাংশ ব্যবহার করতে পারে? বাকী ৯০ শতাংশ অব্যবহৃতই থাকে…। শুনেছেন না ?
.
একদম নির্জলা মিথ্যে এই ব্যাপারটি অনেকের মুখেই শুনেছি। কখনো যাচাই বাছাই করার প্রয়োজনবোধ করিনি। কিছুদিন আগে ভুল ভাংলো । ভুল না ভাংলেও আমার তেমন কোনো ক্ষতি হতোনা। ছাপোষা আমি এই তথ্য দিয়ে কী করব? আদার বেপারী হয়ে জাহাজের খোঁজ নাইবা নিলাম।
.
ধর্ষণ কেন হয়?
এই প্রশ্নের ভুলভাল উত্তর জানলে হবেনা। অত্যন্ত মৌলিক এই প্রশ্নের উত্তরের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে আমার মা বোনদের সম্মান রক্ষার বিষয়টি।
এই প্রশ্নের উত্তর জানলে তবে না ধর্ষণ বন্ধের প্ল্যান ওফ একশ্যান ঠিক করে নেওয়া যাবে। উত্তর যদি ভুল হয়, তাহলে আমরাও ভুল সমাধানের পেছনে দৌড়ে বেড়াবো। টি টুয়েন্টির স্লগ ওভারে লোপ্পা লোপ্পা হাফভলি বল করার মতো।
ধর্ষণ আদৌ কখনো কমাতে পারবনা।
ধর্ষণ কেন হয় এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর না জানলে আমাদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে।
.
মানুষের ফিতরাহ এমন সে সফলদের অনুসরণ করতে চায়। সফলরা যে পথে চলে সফলতা পেয়েছে সে পথ তাদের টানে দুর্নিবার আকর্ষণে।
.
পাশ্চাত্যের বস্তুগত উন্নতি দেখে চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়া বিশ্ব অন্ধভাবে অনুকরণ, অনুসরণ করেছে পাশ্চাত্যকে। আগপিছ কিছু না ভেবেই ডিরেক্ট কপিপেস্ট করেছে পাশ্চাত্যের জীবনবোধ, দর্শন, রাষ্ট্র সমাজ পরিচালনা পদ্ধতি। পাশ্চাত্য যাই বলেছে যেটা করতে বলেছে আসমানী ওহীর মতো মাথা পেতে নিয়েছে বাকী বিশ্ব। যারা মেনে নিতে চায়নি, তাদেরকে জোর করে মানতে বাধ্য করা হয়েছে। কখনো পারমানবিক বোমা, কখনো ড্রোন হামলা, কখনো কুটিল ষড়জন্ত্রের মাধ্যমে পাশ্চাত্য তাদের মতবাদ চাপিয়ে দিয়েছে।
.
নারীদের প্রতি সহিংসতা বিশেষ করে যৌন সহিংসতা, ধর্ষণ কীভাবে বন্ধ করা যায়? এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে পাশ্চাত্য বলল- পুরুষের আধিপত্যশীল মনোভাব দূর করতে হবে, নারীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে, পুরুষের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে, নারী পুরুষের মধ্যে বন্ধুত্বসুলভ মেলামেশার ব্যবস্থা করতে হবে বেশি বেশি, পতিতালয় খুলতে হবে বেশি বেশি।
.
সফলদের অন্ধভাবে অনুসরণ করার সহজাত প্রবৃত্তি থেকে বাকী বিশ্ব মেনে নিয়েছে এগুলো। আমল করেছে পাশ্চাত্যের ফর্মুলায়।
.
পাশ্চাত্য নারীমুক্তির যে তরীকা বাতলে দিয়েছিল সেটা কোনো দেশেই কোনো স্থানেই নারীদের মুক্তি দিতে পারেনি। বরং যে দেশ যতোবেশি তাদের তরীকায় আমল করেছে সে দেশে নারীরা ততোবেশি নির্যাতিত হয়েছে, ধর্ষণের শিকার হয়েছে। প্রতি ৯৮ সেকেন্ডে একজন আমেরিকানকে যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়, [http://tinyurl.com/k8ehojc ], প্রতি ৬ জন নারীর মধ্যে ১ জন এবং প্রতি ৩৩ জন পুরুষের মধ্যে একজন তাদের লাইফটাইমে একবার হলেও ধর্ষণের শিকার হয়।[http://tinyurl.com/nm3gp5o ]
.
বাংলাদেশ কি এখন তার নিকট ইতিহাসের মধ্যে সবচাইতে বেশি সেকুল্যার না? সবচাইতে বেশি পাশ্চাত্যের অনুসরণ করছেনা ? চেতনা, ফ্রি মিক্সিং, ফ্রি সেক্স, পতিতা গমনের সুবিধা,লিটনের ফ্ল্যাট নারীর ক্ষমতায়ন, নারী শিক্ষা, পুরুষদের মানসিকতা পরিবর্তনের চেষ্টা, বস্তুগত উন্নয়ন, ফ্লাইওভার,রাস্তাঘাট স্মরণকালের ইতিহাসের মধ্যে সবচাইতে বেশি হচ্ছে না । কিন্তু তারপরেও কেন এতো ধর্ষণ হচ্ছে। দুই আড়াই বছরের শিশুও ধর্ষণ হচ্ছে? ধর্ষণ হচ্ছে প্রৌঢ়া বা বৃদ্ধারাও?
.
পাশ্চাত্য শুধু তত্ত্ব কপচিয়ে গিয়েছে কিন্তু সেই তত্ত্ব যে সফল হবে, নারীদের মুক্ত করবে সেই প্রমাণ রাখতে তারা চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এই যে বছরের পর বছর জুড়ে তাদের তরীকায় বিশ্ব আমল করে যাচ্ছে নারীদের ওপর যৌন নির্যাতন কমেছে? আমরা কেন তাহলে পাশ্চাত্যের জীবন দর্শন নিয়ে প্রশ্ন তুলবোনা? কেন তাদের এই মাতব্বরি মেনে নিব? কোন দুঃখে আমরা এরকম ফেল্টুস এক সভ্যতার অনুসরণ করব?

তাহলে সমাধান কী ? ধর্ষণ কীভাবে কমবে? কোন তরীকায় আমল করতে হবে?
.
ধর্ষণের সমাধান করতে হলে অবশ্যই আগে সঠিকভাবে বের করতে হবে ধর্ষণের কারণগুলো। এই ভিডিওতে আমরা তেমনি একটা কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছি।
.
আর সমাধান?
.
পড়ুন-http://tinyurl.com/y4llbybc
#ধর্ষণ #LostModesty

source

Leave a Reply