ভ্যালেন্টাইনের আসল অর্থ



শব্দের সাথে কল্পনার সম্পর্কটা মজার। অনেক শব্দ শোনামাত্র আমাদের কল্পনা জগতে কিছু ছবি ভেসে ওঠে। লাল, আকাশ, কাক – এ শব্দগুলো শোনার সাথে সাথে আমাদের কল্পনায় ফুটে ওঠে সুনির্দিষ্ট কিছু ছবি। এগুলো সহজে বদলায় না। আবার আনন্দ, বেদনা, স্বপ্ন, হতাশা – একথাগুলোর সাথে সুনির্দিষ্ট কোন ছবি যুক্ত থাকে না। অনেক সময় ভাসা ভাসা ভাবে একাধিক ছবি ঘুরেফিরে বেড়ায়। অনেক সময় মনের আয়নায় ফুটে ওঠে কিছু স্মৃতি। অনেক সময় ছবি আর স্মৃতিসহ আরো নানা কিছুর বিক্ষিপ্ত মিশেল।
.
ভালোবাসা…
শব্দটা শুনলে আমাদের মাথায় কোন ছবিগুলো ফুটে ওঠে? ঠিক কোন ধরণের দৃশ্য, স্মৃতি কিংবা ফ্যান্টাসি আমরা শব্দটার সাথে অ্যাসোসিয়েট করি? সন্তানের প্রতি মায়ের ভালোবাসা? আধো আধো বোলের টলোমলো পায়ের মেয়ের দিকে তাকানো বাবার বুকের ভেতরের অনুভূতিটা? মায়া-মমতা, দায়িত্ব, বিশ্বাস আর শ্রদ্ধার ভিত্তির ওপর দাঁড়ানো স্বামী-স্ত্রীর পবিত্র ভালোবাসা? স্রষ্টার জন্য ভালোবাসা? ঐ মানুষটার জন্য ভালোবাসা যার কথা কবরে আমাকে জিজ্ঞেস করা হবে? যিনি আমাদেরকে দেখেননি কিন্তু আমাদের জন্য রক্ত ঝরিয়েছেন, অশ্রু ঝরিয়েছেন? সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
.
“ভালোবাসা” শব্দটা শুনলে কি আমাদের মাথায় এসব ছবি ভেসে ওঠে?
.
নাকি ফুটে ওঠে ভালোবাসার একটা টেকনিকালার, হাই ডেফিনেশান ছবি? যে ভালোবাসা প্রথম চোখাচোখি, ক্যান্ডেল লাইট ডিনার, দেশি-বিদেশি লোকেশানে শ্যূট করা ছন্দে ছন্দে নাচ আর আধুনিক “কমপ্লিকেইটেড রিলেশানশিপের” নানা অলিগলিতে সীমাবদ্ধ? উত্তরটা মনে হয় আমাদের সবারই জানা। ভালোবাসা শব্দটার অনেক রকম অর্থ হয়। কিন্তু আজ আমরা যখন এ শব্দটা শুনি তখন বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই একটা সংকীর্ণ, সীমাবদ্ধ ছবি আমাদের সামনে ফুটে ওঠে। ভালোবাসার এ সংজ্ঞা আমরা শিখেছি বছরের পর বছর ধরে দেখা বলিউড-হলিউড মুভি, বাংলা নাটক-সিনেমা-টেলিফিল্ম আর সার্বিকভাবে মিডিয়া ও আধুনিক শিল্পের মাধ্যমে। জগতের হুমায়ুন, নাবোকভ, ভানসালি, আর ফারুকিরা, কিশোর কুমার, লেনন আর উডি অ্যালেন আর করন জোহররাসহ আরো অনেকে দশকের পর দশক ধরে আমাদের মাথার ভেতরে খোদাই করে দিয়েছে ভালোবাসার এ “আধুনিক” সংজ্ঞা।
.
অন্যদিকে আমরাও খুশি মনে একে মেনে নিয়েছি। শুধু মেনে নেয়াতে থেকে থাকিনি, এ সীমিত “ভালোবাসা”-কেই আমরা অনেকে জীবনের মহান ও পবিত্র লক্ষ্যগুলোর একটি বানিয়ে নিয়েছি। কৈশোর ও যৌবনে পদার্পনের সময় এ “ভালোবাসা” পাবার আকাঙ্ক্ষা আমাদের কয়জনের জীবনে কম্পাস হিসাবে কাজ করে না? যদি আমরা ২০ বছরের কম বয়েসী এক হাজার মানুষের ওপর জরিপ চালাই, তাহলে কয়জন পাওয়া যাবে যাদের মাথায় এ “ভালোবাসা” পাবার, আর খোঁজার ইচ্ছে জেকে বসে নেই? আমাদের সমাজে এখন কতোজন তরুণ পাওয়া যাবে যারা কোন না কোনভাবে এ “ভালোবাসা”র পেছনে ছুটছে না? যারা কোন রিলেশানশিপ নিয়ে ব্যস্ত অথবা তৈরি করতে উদগ্রীব না?
.
মানুষ যেমন মরে গেলে পচে যায়, বেঁচে থাকলে বদলায়, তেমনি ভাবে আধুনিক মানুষের আরেক সত্য হল – মানুষ জন্মায়, বড় হয় তারপর প্রেম করে, কাউকে না পেলে প্রেম খুজে ফিরে। অর্থাৎ প্রেমের ছায়া, “ভালোবাসা”র মেঘ আমাদের চিন্তার জগতে ক্রম বিরাজমান। মাঝেমধ্যে ভুলে থাকলেও কখনই ক্ষুধার কথা পুরোপুরি আমাদের চিন্তার জগত থেকে হারিয়ে যায় না, ঠিক তেমনিভাবেই আধুনিক মানুষের মন থেকে প্রেমের নেশা কখনো পুরোপুরি হারায় না।
.
কিন্তু আমাদের চিন্তার জগত চির-উপস্থিত আধুনিক এ “ভালোবাসা” আসলে কী? সব উইন্ডো ড্রেসিং, রং-বেরঙ্গের র‍্যাপিং এর নিচে কী আছে? আমরা যে ঘটা করে ভালোবাসা দিবস পালন করি, আধুনিক এ “ভালোবাসা”-কে জীবন ধারনের মৌলিক চাহিদা মনে করি এর উৎস কোথায়? পেছনের ইতিহাস কী? বর্তমান বাস্তবতা কী? ইসলাম আমাদের দুটো জিনিসের কথা জানিয়েছে। ভালোবাসা আর যিনা। আমরা কীভাবে দুটোকে এক করে ফেললাম? কী আছে আধুনিক মানুষের ভালোবাসাচিন্তার পেছনে?
.
#KnowYourDeen

source

Leave a Reply