মৃত্যু । Death



উত্তরার দুই গ্যাং। নাইনস্টার আর ডিসকো বয়েয। সদ্য কিশোর গ্যাংস্টারদের “গ্যাঞ্জামে” নিহত হয়েছে নাইন স্টার গ্যাংয়ের ক্লাস নাইনে পড়া আদনান কবির। আদনান মাথার পেছনে হকিস্টিক দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। রগ কেটে দেওয়া হয়েছে। স্ক্রু দিয়ে পেট ফুটো করে দেওয়া হয়েছে। কাজটা যারা করেছে তার মধ্যে বেশির ভাগই আদনানের সমবয়েসী, অনেকেই সহপাঠী।
.
জিপিএ-৫ পাবার পর বাবা-মার কাছে নতুন মডেলের বাইকের আবদার করেছিল ১৭ বছর বয়েসী ফারদিন মুগ্ধ। বাবা রাজি না হওয়ায়। কেরোসিন ঢেলে বাবা-মার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় মুগ্ধ। ৫ দিন পর মারা যান মুগ্ধের বাবা।
.
পরকীয়ার কারনে প্রেমিকের পরামর্শে গোপালগঞ্জের জান্নাতুল কুলসুম ফেরদাউস শ্বাসরোধ করে হত্যা করে নিজে দুই সন্তানকে। সোনারগাও-এর সেলিনা আক্তার প্রেমিকের সাথে পালিয়ে যাবার আগে নিজের দুই মাসের মেয়ে মনিরাকে গলা টিপে হত্যা করে পুকুরে ডুবিয়ে যায়। রামপুরার বনশ্রী এলাকায় পরকীয়ার কারনে শ্বাসরোধ করে স্কুল পড়ুয়া দুই সন্তানকে হত্যা করে মাহফুজা।
.
সম্প্রতি এক জরিপে দেখা যায় ঢাকায় স্কুলগামী শিশুদের ৭৭% নিয়মিত পর্নওগ্রাফি দেখে। শুধু তাই না
আর তাদের পছন্দের পর্নোগ্রাফি হল দেশী ভিডিও, যেখানে অংশগ্রহনকারীরা হল তাদের মতোই স্কুল অথবা কলেজ ছাত্র-ছাত্রী।
.
আর ইয়াবা ঐশীর কথা তো আমরা সবাই জানি।
.
এই উদাহরণগুলোকে কিছুটা এক্সট্রিম বলা যেতে পারে। কিন্তু এক্সট্রিম উদাহরনগুলোকে বাদ দিলেও আমাদের সমাজ ক্রমাগত ধর্ষন, শিশু নির্যাতন, ডিভোর্স, পরিবারে ভাঙ্গন, পিতা-মাতাকে বৃদ্ধ নিবাসে পাঠানো, মাদকাসক্তি ইত্যাদি বাড়ছে একথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে হত্যা, মোবাইলে ভিডিও করতে করতে হত্যা, ঘোষণা দিয়ে আত্মহত্যা, আত্মহত্যা প্রচেষ্টার ভিডিও ফেইসবুকে আপলোড করার মতো বিষয়গুলোও ঢুকছে। আমাদের অপরাধগুলো আর অপরাধে সীমাবদ্ধ নেই, উদ্বেগজনক ভাবে স্যাইডিস্টিক টেন্ডেসি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা সব অর্থেই একটা নৈতিকতার ক্রাইসিসের মধ্যে অবস্থান করছি।
.
একই সাথে এটাও সত্য যে আমাদের দেশের মানুষের মাথা পিছু উপার্জন বৃদ্ধি পেয়েছে। কনযামশান বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে যতো মানুষ টেলিভিশান দেখতো এখন তারচেয়ে অনেক বেশি মানুষ টেলিভিশান দেখে। মানুষের হাতে হাতে মোবাইল, আর মোবাইলে মোবাইলে ইন্টারনেট। আমাদের জীবনযাত্রার মান বেড়েছে, আর কমেছে মনুষ্যত্ব।
.
এর পেছনে কারন কি? রাজনৈতিক, আর্থ-সামাজিক, সাইকোলজিকাল বিভিন্ন ব্যাখ্যা হয়তো দেওয়া যায়। আপনারা খুজলে এমন অনেক ব্যাখ্যা পাবেন। কিন্তু এই সমস্যা কি শুধু বাংলাদেশে? হিন্দুস্তানের কি অবস্থা? ইউরোপের? চীনে? জাপানে? সারা বিশ্বে? সব জায়গায় কিন্তু একই রাজনৈতিক, কিংবা আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট বিদ্যমান না। কিন্তু এই প্যাটার্নগুলো প্রায় সব সমাজেই লক্ষণীয়। কেন? সভ্যতার এই সংকটের কারন কি?
.
আসলে প্রশ্ন করা উচিৎ, যখন একটা সমাজ মানব অস্তিত্ব সম্পূর্ণ ভাবে বস্তুর মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করে, যখন ভোগ এবং উপযোগ দিয়ে জীবনের হিসেবনিকেশ মেলানোটাই জীবনের উদ্দেশ্য হয়ে যায়, যখন সবাই প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে যখন বসতুবাদ ও ভোগবাদকে আদর্শ হিসেবে গ্রহন করা হয় – তখন কি এমনটা হওয়াটাই স্বাভাবিক না?
.
যখন আপনি দুনিয়াকে সামনে রেখে নৈতিকতার মানদণ্ড তৈরি করার চেষ্টা করবেন, যখন দুনিয়াই হবে সবকিছু তখন কি এমনটাই হবার কথা না? যখন মানব অস্তিত্বের অর্থ ও উদ্দেশ্যকে আপনি পার্থিব সীমানায় বেধে ব্যাখ্যা করার চেস্টা করবেন, তখন – কিছুদিন মাত্র দুনিয়াতে বেঁচে আছি, যা করার করে নেই, যা মজা লুটার, লুটে নেই – এই দর্শনে পৌছানোই কি লজিকাল না?
.
মনুষ্যত্ব বা মানবতা মানুষের প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্য। কিন্তু কোন সভ্যতা, কোন সংস্কৃতি, কোন শাসনব্যবস্থা, কোন সমাজ যদি মানুষের প্রকৃতিকেই বদলে দেয় তাহলে? যদি দুনিয়াতে যার আগমন মুসাফির হিসেবে তাকে দোলনা থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এটাই বোঝানো হয় যে এই সফরটাই সব – যদি আপনি মানুষের কম্পাসটাকেই বদলে দেন তাহলে কি তার মাঝে বিভিন্ন ভাবে বিকৃতি কিংবা বিচ্যুতির ম্যানিফেস্টেশান হবার কথা না?
.
ঠিক এ ঘটনাটাই কি আমাদের সাথে ঘটে নি? আমরা কি দুনিয়াকে পাওয়াকেই আমাদের অস্তিত্বের মূল লক্ষ্য বানিয়ে ফেলিনি? আমরা কি আমাদের অস্তিত্বের অর্থকেই ভুলে যাই নি?
.
নব্বই দশকের দিকে হজ্জের মৌসুমে মিনা, আরাফাত এবং মুযদালিফাতে হাজিদের জন্য মালবাহী গাড়িতে করে বড় বড় বরফের টুকরো বিক্রি করা হত। অনেক মানুষ এই কাজের সাথে যুক্ত ছিল। তারা এসব জায়গাতে টানা গাড়িতে করে বরফ নিয়ে ঘুরে বেড়াতো।
.
আচ্ছা ধরুন যদি এরকম কেউ তার প্রতিটা সেকেন্ডের সুযোগ না নিয়ে বরফগুলো নিয়ে কোন এক জায়গায় বসে থাকে, তাহলে কি হবে? বরফগুলো গলতে শুরু করবে। একসময় পুরো বরফগু গলে তরল পানি হয়ে যাবে। বিনিয়োগ করা অর্থ, মূলধন, লাভ সবই নিঃশেষ হয়ে যাবে। যখন বরফ গলে মাটির সাথে মিশে যাবে তখন সে কেবল নিরর্থক বিলাপ আর আফসোসই করতে পারে। কিন্তু এই সম্পদ ফিরে পাবার আর কোন উপায় তার থাকবে না।
.
আমাদের জীবন, আমাদের সময় হল এই বরফের মত। আপনি যদি একে বুদ্ধিমত্তার সাথে কাজে না লাগান তাহলে এটি নিষ্ফল পানির ফোঁটার মত পথে-প্রান্তরে, অলি-গলিতে হারিয়ে যাবে যা আপনি আর কখনও ফিরে পাবেন না। আপনার জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া প্রতিটি সেকেন্ড কবরে সমাহিত হচ্ছে, আর একে ফিরে পাবার আর কোন উপায় নেই।
.
আসুন একটু চিন্তা করার চেষ্টা করি আসলে আমাদের অস্তিত্বের অর্থ কি। আসুন একটু ভাবার চেষ্টা করি কোন নিশ্চিত পরিণতির দিকে প্রতি মূহুর্তে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। যদি আমরা দুনিয়াকেই আমাদের ধ্যান-জ্ঞান-উদ্দেশ্য বানিয়ে নেই তাহলে সম্পূর্ণ বরফ গলে যাবে, আর আমাদের অবস্থা হবে নালা-নর্দমায় মিশে যাওয়া বরফগলা পানির মতো।
.
আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন –
‘তোমরা বেশী বেশী করে সকল আনন্দের স্বাদ বিনষ্টকারী মৃত্যুর কথা স্মরণ কর’।
[তিরমিযী, ইবনু মাজাহ]
.
_________________
.
#RememberDeath
#KnowYourDeen
#সংগৃহীত
#ওহী (The Way To Enter Jannah)

ওহী অফিসিয়াল ফেসবুক পেজঃ facebook.com/ohee.hadis
ওহী অফিসিয়াল গ্রুপঃ facebook.com/group/ohee.hadis

source

Leave a Reply