শয়তানের ৬টি উদ্দেশ্য



এক শত্রু আপনার পিছু নিয়েছে। এক প্রতারক, মিথ্যেবাদী, কৌশলী শত্রু। আমাদের স্বাভাবিক প্রবণতা হল শত্রুকে খাটো করে দেখার। তুচ্ছতাচ্ছিল্য কিংবা হেয় করার। কিন্তু এ শত্রুর ক্ষেত্রে এমন করার সুযোগ নেই। সে আপনার চেয়ে জ্ঞানী, বেশি বুদ্ধিমান, বেশি ধৈর্যশীল। চরম অধ্যবসায়ী, অত্যন্ত অভিজ্ঞ। আপনি নিজেকে যতোটা চেনেন সে আপনাকে কমসেকম ততোটুকুই চেনে। এবং হয়তোবা কিছুটা বেশিও, কারণ হাজার হাজার বছর ধরে সে গবেষণা করে যাচ্ছে আপনার ও আমার প্রকৃতি সম্পর্কে। তীক্ষ্ণ চোখে সে অনুসরণ করেছে আমাদের সহজাত দুর্বলতা আর শক্তিগুলোকে। আর নিজের ব্যাপারে আমরা নিজেদের সাথে মিথ্যে বলি। এটা বাস্তবতা বোঝার ক্ষেত্রে অনেক সময় বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। সে এ সমস্যা থেকে মুক্ত। আপনি তাড়াহুড়ো প্রবণ, সে ধীর স্থির। যুদ্ধ চলছে এ নিয়ে আপনি বেখবর আর সে ক্রমাগত আপনার পেছনে লেগেই আছে। দুনিয়াতে আসার প্রথম মুহুর্ত থেকে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত সে আপনার পেছনে লেগে থাকবে। হাল ছাড়বে না। বার বার সে ফিরে আসবে। না। সে ওঁত পেতে থাকে, পাকা শিকারির মতো জাল বিছিয়ে আপনার ভুলের জন্য অপেক্ষা করে। ধৈর্য ধরে। সে আপনাকে তার মুঠো থেকে বের দিতে চায় না। তার সাথেই সে আপনাকে নিয়ে যেতে চায় তার অন্তিম ও চিরন্তন গন্তব্যে। সে ও তার গোত্র আপনি এমন অবস্থান থেকে দেখে যেখানে আপনি তাদেরকে দেখেন আপনি তাকে দেখতে পান না, ছুতে পারেন না। কিন্তু যদি খেয়াল করেন তবে তার অস্তিত্ব অনুভব করতে পারবেন। সে আপনাকে উৎসাহ দেবে, উদ্বুদ্ধ করবে, প্রলুব্ধ করবে, সে আপনাকে পথ দেখাবে, আপনাকে প্রতিশ্রুতি দেবে এবং সে আপনাকে বোকা বানাবে, পরিত্যাগ করবে। সে আপনাকে বিশ্বাস করাবে সে আপনার বন্ধু, কিন্তু আপনার এবং আমার ধ্বংসকেই সে তার অস্তিত্বের একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বানিয়ে নিয়েছে। সে হল আপনার ও আমার চিরশত্রু, প্রকাশ্য শত্রু, আর-রাজীম ইবলিস।
.
সে বলল, ‘আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, সে কারণে অবশ্যই আমি তাদের জন্য আপনার সোজা পথে বসে থাকব। ‘তারপর অবশ্যই তাদের নিকট উপস্থিত হব, তাদের সামনে থেকে ও তাদের পেছন থেকে এবং তাদের ডান দিক থেকে ও তাদের বাম দিক থেকে। আর আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না’। [আল-ক্বুরআন, সুরা আল-আ’রাফ, আয়াত ১৬ ও ১৭]
.
কীভাবে ইবলিস আপনার কাছে আসবে? কীভাবে আপনাকে সিরাতুল মুস্তাক্বিম থেকে বিচ্যুত করবে?

.
#KnowYourEnemy
#KnowYourDeen

source

Leave a Reply