ফেসবুক এ আপনার পন্য/সেবার বিজ্ঞাপন দিবেন কেন ?

ফেসবুক এ আপনার পন্য/সেবার বিজ্ঞাপন দিবেন কেন ?

রেডিও , টেলিভিশন থেকেও কার্যকারী বিজ্ঞাপন ।

তাও অনেক কম খরচ এ ।

ফেসবুক এর কথা জানেন না এমন কেউ বাংলাদেশ এ আছে বলে মনে হয়না ।

ইন্টারনেটের সুবিশাল জগত এর ৮০% লোক এর বাস এখানে । ফেসবুক মার্কেটিং ছাড়া ডিজিটাল যুগ এ ভাল ব্যবসা করা সম্ভব নয় । একটা সময় ছিল ফেসবুক এ একটা ফ্রি পেজ খুললেই ভাল প্রচার প্রসার, বেচাকেনা , সাপোর্ট দিয়ে গ্রাহক এর মন জয় করা , নিয়মিত কাস্টমার এ পরিণত করা সম্ভব ছিল ।

দুঃখের বিষয় হলেও সত্য সে দিন আর নেই । প্রতিযোগিতা অনেক বেড়ে গেছে , ফেসবুক নতুন আপডেট এ বিজনেস পেজ গুলার ভিউ প্রিওরিটি কম করে দিয়েছে । আপনার যদি লক্ষ লক্ষ লাইক ও থাকে , তারপর ও আপনার পোস্ট ৪ ভাগ এর ১ ভাগ মানুষ এর নিউজ ফিড এ যাবে কি  সন্দেহ আছে । তাই ফেসবুক পেইড অ্যাড অনেকটা বাধ্যতামূলক বলা চলে ।

তবে গুড নিউজ ইজ !, ফেসবুক অ্যাড এর খরচ যেমন একদম কম , তেমনি আপনি ইচ্ছামত আপনার কাস্টমারদের খুঁজে বেড় করতে পারবেন । যেমন,

ধরে নিলাম একজন একজন জুয়েলারি (গয়না) দোকান মালিক চাচ্ছেন তার গহনার অ্যাড দিতে ।  কিন্তু ছোট দোকান হয়ে টিভিতে এত টাকা খরচ করা যেমন সম্ভব নয়, তেমনি লাভ ও নাই! । কারণ টিভিতে অ্যাড দিলে মানুষ রিমোট খুঁজে , আগ্রহ, গ্রহণযোগ্যতা পায়না । তাছাড়া দূর এর জেলা থেকে এত পথ পারি দিয়ে কেউ আপনার দোকান এ আসবেনা ।

এবার আসুন দেখি এই ব্যবসায়ীর কি দরকার ,

  • নিজ প্রতিষ্ঠান বা দোকান এর  ১০-২০ কিলোমিটার এর ভেতর অ্যাড দিয়ে খরচ কমায়ে আনা।
  • ছোট শিশু, অথবা বৃদ্ধ নয়, সম্পদশালী গহনা প্রিয় মেয়েদের কাছে অ্যাড পৌঁছে দেয়া ।
  • যথাসম্ভব কম খরচ এ বেশী ক্রেতার কাছে অ্যাড প্রচার করা।
  • অনলাইন এ দ্রুত যোগাযোগ রক্ষা করে নতুন গ্রাহক পাওয়া এবং ধরে রাখা ।
  • Website এর মাধ্যমে পণ্যের ছবি ও তথ্য দিয়ে রাখা । মেয়েরা যেন ঘরে বসে গহনা পছন্দ করতে পারে !
  • নিজেকে বিশ্বস্ত করে তোলা ।
  • ইত্যাদি
  • ইত্যাদি —– !

এধরনের আরও অনেক কিছুই ফেসবুক অ্যাড এর মাধ্যমে করা সম্ভব । ডিজিটাল মার্কেটিং এ জগতে অনেক ফিচার রয়েছে । সঠিক ভাবে প্রয়োগ করতে পারলে, আপনি সফল হবেন ইনশাআল্লাহ । ডিজিটাল মার্কেটিং  এর উজ্জ্বল ফিউচার ও চাহিদার কথা বিবেচনা করেই আমরা স্বল্পমূল্যে মার্কেটিং সার্ভিস চালু করেছি ।

ফেসবুক অ্যাড এর আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফিচার নিয়ে আজকের এই লেখা  ।

কম খরচ :

ফেসবুক অ্যাড এর রেট যেমন কম তেমনি আপনি ইচ্ছা মত যে কোন মূল্যের অ্যাড দিতে পারবেন, ৫০০ টাকার অ্যাড দিয়েও আপনি ফলাফল পরখ করে দেখতে পারেন ।  মাত্র ১০০ টাকা খরচ করে আপনি প্রায় ৪ হাজার ক্রেতার কাছে পৌঁছে যেতে পারেন ।

কার্যকারী :

ফেসবুক এর জনপ্রিয়তা সঙ্গে উন্নত টার্গেটিং ফিচার রয়েছে । এখন প্রতিটা  পদক্ষেপ সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে পারলেই আপনি অনেক বেশী লাভ এর মুখ দেখবেন । লোকাল বিজনেস এর ক্ষেত্রে এটা খুব কার্যকারী, যে কারণে ফেসবুক অ্যাড এর ৬২% ক্রেতা লোকান বিজনেসগুলা ।

আপনার গ্রাহক এখানে রয়েছে :

ফেসবুক এর জনসংখ্যা এত বেশি যে সব ধরনের মানুষ এখানে রয়েছে । আপনাকে শুধু তাদের কাছে মার্কেটিং করতে হবে ।

সুবিধা-মত টার্গেট করার সুযোগ :

কারা আপনার কাস্টমর হতে পারে ?

কারা আপনার সার্ভিস নিতে আগ্রহী ?

যেমন , আপনি খেলাধুলা সামগ্রী বিক্রয় করেন । ১২-২৫ বছর এর ছেলেরা আপনার ক্রেতা ।

অথবা , আপনি ইসলামিক বই পুস্তক বিক্রয় করেন । ধার্মিক মানুষ আপনার ক্রেতা ।

অথবা , আপনি শুধুমাত্র মেয়েদের পণ্য বিক্রয় করেন । এখানে মেয়েরা আপনার ক্রেতা ।

কাদের কাছে অ্যাড পৌঁছালে আপনার বিজনেস লাভবান হবে ??

চিন্তার কিছু নেই অ্যাড পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব আমাদের ।

দ্রুত :

ফেসবুক অ্যাড দ্রুত কার্যকারী । অ্যাড দিয়ে দ্রুত লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়া সম্ভব । যা দ্রুত আপনার ব্র্যান্ড  সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করবে ।

প্রতারণার সুযোগ নাই :

ফেসবুক অ্যাড এর যাবতীয় তথ্য প্রদান করে , কত ডলার খরচ করা হয়েছে , কত জন অ্যাড দেখেছে ,ক্লিক করেছে । কমেন্ট , লাইক , শেয়ার ইত্যাদি বিস্তারিত । অ্যাড এর ফলাফল যদি আশানুরূপ না আসে । তবে সমস্যা কোথায় তা নির্ণয় করে দ্রুত সমাধান করতে ও এনালিটিস্ক ব্যবহার করা হয়  ।

প্রয়োজনীয় বাটন :

আপনি কি চান গ্রহক আপনাকে ফোন করুক ?

অথবা Website এ ভিজিট করুক ?

অথবা ফর্ম পূরণ করুক ?

ফেসবুক পেজ ই পছন্দমত এ ধরনের কিছু বাটন অ্যাড করা যাবে ।

ভিডিও অ্যাড :

মানুষ পড়ার থেকে ভিডিও দেখতে পছন্দ করে । গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২১ সালের ভেতর ৮০% কন্টেন্ট হবে ভিডিও । ফেসবুক ভিডিও অ্যাড এর ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরন এর সুযোগ সুবিধা প্রদান করে ।

আরও বিজনেস! :

সোশ্যাল মিডিয়া অন্যান্য অ্যাড সার্ভিস গুলার মত নয় । আপনি অ্যাড দিয়ে আপনার পেজ এ যে ফলোয়ার (লাইক) পাবেন তাদের কাছে ফ্রিতে আবার অ্যাড দিতে পারবেন । তবে ভাল রিচ পেতে জনপ্রিয়তা ধরে রাখা দরকার হবে । তাছাড়া সোশ্যাল সিগন্যাল আপনার SEO Rank বৃদ্ধি করবে ।

গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি :

ফেসবুক এ আপনার পণ্যে ও সেবার সুনাম ধরে রাখতে পারলে মানুষ  ট্রাস্ট করবে, নির্ভয়ে নিয়মিত আপনার পণ্য কিনবে । তেমনি তারা অন্যদের কে আপনার কাছ থেকে পণ্য/ সেবা নেয়ার সুপারিশ করবে । আপনি ফ্রিতে অনেক কাস্টমর পাবেন ।

মোবাইল ফ্রেন্ডলি :

ইন্টারনেট এর ভবিষ্যৎ হল মোবাইল । ৮৪% মানুষ মোবাইল দিয়ে ফেসবুক ব্যবহার করে । তাই কাস্টমর যেখানেই থাকুক অ্যাড পৌঁছে যাবে !

শেষ কথা :

ফেসবুক অ্যাড এর সুবিধা বলে শেষ করা যাবেনা !! আপনি যদি এখন ও ফেসবুক অ্যাড থেকে দূরে থেকে থাকেন । এরমানে আপনি অনেক টাকা হারাচ্ছেন । সঠিক ডিজিটাল মার্কেটিং প্লান অনুযায়ী কাজ না করে ব্যবসায় হারবেন না  । ডিজিটাল মার্কেটিং এ প্রতিযোগীদের থেকে পিছায়ে পড়ার আগেই শুরু করুন ।

Leave a Reply